Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Tuesday, 30 December 2025

🔴 ২০২৬ সালেই ফের ভারত–পাক সংঘাত? কাশ্মীর ঘিরে বড় সতর্কবার্তা মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের

 📲 ডিজিটাল নিউজ | Y BANGLA NEWS




Y BANGLA NEWS ব্যুরো:
২০২৬ সালেই ফের ভারত–পাকিস্তান সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না মার্কিন বিদেশনীতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (CFR)। কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে ফের উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলে তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

🗂️ ‘Conflicts to Watch in 2026’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা নতুন করে সামরিক সংঘর্ষের জন্ম দিতে পারে। এই সম্ভাবনাকে সিএফআর ‘মাঝারি মাত্রার ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী বছরেও অস্থির থাকার সম্ভাবনা প্রবল।


⚔️ অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ নয়, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের তরফে আগেই জানানো হয়েছে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি
গত মাসে দিল্লির লালকেল্লার অদূরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট করে বলেন—

“প্রয়োজনে ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর পথে হাঁটতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। অপারেশন সিঁদুর-১ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের যে কোনও অভিযানে সেনাকে আরও শক্তিশালী করবে।”


💥 পহেলগাম হামলা ও ভারতের প্রত্যাঘাত

📌 ২২ এপ্রিল, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
ভারতের কাছে ওই হামলায় পাকিস্তানের যোগসাজশের অকাট্য প্রমাণ আসে বলে দাবি করা হয়।

➡️ ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’
➡️ ৬ মে গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি জঙ্গিঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী।

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী,
🚀 ভারত কমপক্ষে ২৪টি মিসাইল ছোড়ে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে।


🚨 চার দিনের যুদ্ধ-উত্তেজনা, তারপর সংঘর্ষবিরতি

এর পর টানা চার দিন সীমান্তে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টা জবাবে ভারত পাকিস্তানের একাধিক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে আঘাত হানে

📅 ১০ মে শেষ পর্যন্ত দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর মধ্যস্থতাতেই নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ সংঘর্ষবিরতিতে পৌঁছয়।


🔎 ২০২৬ নিয়েই কেন বাড়ছে আশঙ্কা?

সব মিলিয়ে—
🔺 কাশ্মীরের অস্থির পরিস্থিতি
🔺 সাম্প্রতিক সামরিক অভিজ্ঞতা
🔺 অপারেশন সিঁদুর এখনও চালু থাকার ইঙ্গিত

এই সমস্ত কিছুর নিরিখেই ২০২৬ সালেও ভারত–পাক সম্পর্ক অগ্নিগর্ভ থাকতে পারে, এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে সিএফআর-এর রিপোর্ট।


📌 আপডেট পেতে চোখ রাখুন Y BANGLA NEWS-এ
👍 লাইক | 🔁 শেয়ার | 💬 মতামত জানান

এখন অনলাইনে রেশন কার্ড ফ্যামিলি স্প্লিট

 


📌 বড় সুখবর! এখন অনলাইনে রেশন কার্ড ফ্যামিলি স্প্লিট 🔥

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য দপ্তর চালু করল রেশন কার্ড Family Split (Form-13) অনলাইন পরিষেবা
এখন থেকে পরিবারের রেশন কার্ড আলাদা করতে আর অফিসে দৌড়ঝাঁপের দরকার নেই—সব হবে ঘরে বসেই অনলাইনে।


📰 বাংলা নিউজ আপডেট

Form-13 চালু | দালাল ছাড়াই আবেদন | সম্পূর্ণ অনলাইন পরিষেবা

রাজ্য সরকারের খাদ্য দপ্তরের উদ্যোগে রেশন কার্ডের ফ্যামিলি স্প্লিট পরিষেবা পুরোপুরি অনলাইনে চালু হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই সহজে আলাদা রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে।


✅ রেশন কার্ড ফ্যামিলি আলাদা করার অনলাইন পদ্ধতি (West Bengal)

🔹 ধাপ–১

গুগলে যান 👉 food.wb.gov.in

🔹 ধাপ–২

👉 Citizen’s Home এ ক্লিক করুন
👉 Ration Card Related Corner নির্বাচন করুন

🔹 ধাপ–৩

👉 Apply Online অপশনে ক্লিক করুন

🔹 ধাপ–৪

👉 Login through Aadhaar নির্বাচন করুন
✔️ পরিবারের যেকোনো একজন সদস্যের আধার নম্বর দিন
✔️ OTP দিয়ে লগইন করুন


🔹 ধাপ–৫ : Form-13 নির্বাচন

👉 Service Type অপশনে
➡️ Splitting of Family (Form-13) সিলেক্ট করুন

📌 স্ক্রিনে বার্তা দেখাবে—
Splitting is allowed only for families with seven (7) or more members


🔹 ধাপ–৬ : গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

AAY রেশন কার্ডে Family Split করা যাবে না
✅ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭ জন বা তার বেশি হতে হবে


🔹 ধাপ–৭ : Aadhaar Verification

👉 পরিবারের একজন সদস্যের আধার নম্বর দিন
👉 OTP দিয়ে ভেরিফাই করুন


🔹 ধাপ–৮ : Family Members নির্বাচন

👉 বর্তমান পরিবারের সদস্যদের তালিকা দেখাবে
👉 যাদের আলাদা রেশন কার্ড করতে চান, তাঁদের নির্বাচন করুন

ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া—
1️⃣ Family Members
2️⃣ Select Beneficiaries
3️⃣ Aadhaar Verification
4️⃣ Upload Documents


🔹 ধাপ–৯ : ডকুমেন্ট আপলোড

প্রয়োজন অনুযায়ী—
✔️ আধার কার্ড
✔️ জন্মতারিখ / সম্পর্কের প্রমাণ
✔️ ঠিকানার প্রমাণ (যদি চাওয়া হয়)


🔹 ধাপ–১০ : Final Submit

👉 সব তথ্য ঠিক থাকলে Submit করুন
📌 একটি Acknowledgement / Reference Number পাবেন
👉 ভবিষ্যতে স্ট্যাটাস চেকের জন্য এটি সংরক্ষণ করুন


📌 অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

✔️ সম্পূর্ণ সরকারি ওয়েবসাইট
✔️ কোনো ফি লাগে না
✔️ দালাল বা এজেন্টের প্রয়োজন নেই
✔️ আবেদন অনুমোদনের পর নতুন আলাদা রেশন কার্ড ইস্যু হবে
✔️ আনুমানিক সময়: ১৫–৩০ দিন


👉 তথ্যটি উপকারী হলে
👍 LIKE করুন | 💬 COMMENT করুন | 🔁 SHARE করুন
যাতে আরও মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারেন 🙏

সীমান্ত, অনুপ্রবেশ ও ভোটার তালিকা নিয়ে অমিত শাহকে তীব্র পাল্টা মমতার

 


শিরোনাম: সীমান্ত, অনুপ্রবেশ ও ভোটার তালিকা নিয়ে অমিত শাহকে তীব্র পাল্টা মমতার

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য রাজ্য সরকার বিএসএফ-কে জমি দিচ্ছে না— কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়া বিধানসভা এলাকায় জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “রাজ্য যদি জমিই না দিত, তা হলে রেললাইন বা কয়লা প্রকল্পগুলো হল কীভাবে?”

এদিন দুপুরে হাওড়ার ডুমুরজলা থেকে হেলিকপ্টারে বাঁকুড়ায় পৌঁছে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চ থেকেই শাহের নাম না করে কড়া বার্তা দেন তিনি। মমতার কটাক্ষ, “আমরা চাইলে আপনাকে এক পা-ও বেরোতে দিতাম না।”

এর আগে মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে অমিত শাহ বলেছিলেন, বাংলার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ শুধু রাজ্যের নয়, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন। তিনি দাবি করেন, শক্ত সরকার এলেই অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব।

এই বক্তব্যের জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুধু বাংলাতেই অনুপ্রবেশ হয়? কাশ্মীরে হয় না?” একই সঙ্গে পহেলগামে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, “পহেলগামে কী ঘটেছিল, তখন আপনারা কী করছিলেন?”

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে প্রায় ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দফতরের মধ্যেই বিজেপির আইটি সেলের কর্মীরা বসে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, নামের ইংরেজি বানানে সামান্য অমিল থাকলেই ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।

এদিন রাজ্য সফরে এসে অমিত শাহ ‘স্বপ্নের বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার পাল্টা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “ভোট এলেই ওরা সোনার বাংলা গড়ার কথা বলে। কিন্তু সোনার বাংলা নয়, ওরা ধ্বংসের বাংলা গড়তে চায়।”

পাশাপাশি বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগও তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বাংলায় কথা বললেই পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ধরনের আচরণ শুধু বাংলার মানুষের প্রতি অবমাননাই নয়, দেশের সংবিধান ও বহুত্ববাদী চরিত্রেরও পরিপন্থী।

অমিত শাহের বঙ্গ সফরেও অটুট আদি-নব্য দ্বন্দ্ব, বৈঠক থেকে ব্রাত্য দিলীপ ঘোষ



অমিত শাহের বঙ্গ সফরেও অটুট আদি-নব্য দ্বন্দ্ব, বৈঠক থেকে ব্রাত্য দিলীপ ঘোষ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তিনদিনের বঙ্গ সফরেও রাজ্য বিজেপির আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সোমবার রাত আটটা নাগাদ সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে দলের সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেন শাহ। কিন্তু কোর কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সেই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার কোর কমিটি ও রাজ্য পদাধিকারীদের বৈঠকেও ডাক পাননি তিনি।

দলীয় সূত্রে অভিযোগ, শাহর এই রাজ্য সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বহু পুরনো ও আদি নেতাদের ডাকা হয়নি। একই সঙ্গে নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণাও হয়নি। ফলে দলের ক্ষমতাসীন ‘নব্য’ শিবিরের নেতারাই কার্যত শাহকে ঘিরে রাখছেন বলে বিজেপির অন্দরের একাংশের মত। বিক্ষুব্ধ ও ব্রাত্য আদি নেতাদের সিংহভাগকেই বৈঠকের বাইরে রাখা হয়েছে। শাহর সামনে যাতে সংগঠন নিয়ে কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ উঠে না আসে, সে কারণেই সায়েন্স সিটি থেকে শুরু করে হোটেলের বৈঠক—সব জায়গাতেই বাছাই করা নেতাদের উপস্থিত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

একদিকে গোষ্ঠীকোন্দল, অন্যদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা—এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ রাজ্য নেতৃত্বকে কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। কারণ, বাংলায় বিজেপির আদি-নব্য দ্বন্দ্ব নিয়ে যে শাহ নিজেও ওয়াকিবহাল, তা দলের অন্দরেই স্বীকার করা হয়।

রাজ্যে পৌঁছেই সোমবার রাতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি ছবি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি লেখেন,
“পশ্চিমবঙ্গ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। তিনদিনের সফরে কলকাতায় পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে কর্মী-সমর্থকদের ভালবাসায় অভিভূত।”

একই পোস্টে তিনি জানান, মঙ্গলবার কোর গ্রুপের বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক, পাশাপাশি কলকাতার দলীয় কর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি।

সোমবার রাতে কলকাতায় পা রেখেই বঙ্গ বিজেপির সংগঠনের হাল নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সল্টলেক পার্টি অফিসে রাজ্য পদাধিকারী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সঙ্গে দু’দফায় বৈঠক করেন তিনি। সেখানে উঠে আসে সংগঠনের দুর্বলতার চিত্র—প্রায় ৪০ শতাংশ বুথে এখনও কমিটি হয়নি। জেলায় জেলায় আদি-নব্য দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠীকোন্দলও অব্যাহত।

তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই শাহ বৈঠক থেকে বুথস্তরে জনসংযোগ বাড়ানো এবং সংঘবদ্ধভাবে মাঠে নামার বার্তা দেন। মতুয়া ভোট, এসআইআর বিতর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে শান্তনু ঠাকুরকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পথসভা, জনসভা ও রথযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।

রাতের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার সহ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। রাজ্য নেতারা সংগঠনের প্রস্তুতি, প্রচারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন শাহের সামনে। বৈঠকে শাহ আশাবাদী কণ্ঠে জানান, “সরকার গঠন হচ্ছেই।” একই সঙ্গে প্রচারে কোন কোন বিষয়কে সামনে আনতে হবে, তার দিকনির্দেশও দেন তিনি। অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প, কৃষি, সড়ক পরিবহণ, মহিলাদের ক্ষমতায়নের মতো বিকল্প উন্নয়ন মডেল তুলে ধরার কথা বলেন শাহ।

এদিকে ভোটের আগে অমিত শাহের বাংলা সফর নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন,
“নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের যাতায়াত নতুন নয়। ভোট এলেই ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করেন। কিন্তু নিট রেজাল্ট বাংলার মানুষই দেবে—বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।”

কুণাল ঘোষের ব্যাখ্যা,
“১) বাংলার প্রতি আর্থিক বৈষম্য, ২) বাংলাকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, ৩) বাংলা ভাষাকে অপমান, ৪) বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান, ৫) বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি বলে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা—এই সব কিছুর ফলেই বঙ্গবিরোধী বিজেপি প্রত্যাখ্যাত হবে।”

তাঁর কটাক্ষ,
“ওঁদের দলের অর্ধেক সংগঠনই নেই। ৩-৪টে গ্রুপে ভাগ হয়ে আছে। মানুষ কেন তাদের উপর আস্থা রাখবে?”
আরও ব্যঙ্গ করে কুণাল বলেন,
“বিজেপির আবার বাংলায় রণকৌশল কী? নেতারা আসবে, ঘুরবে, হোটেলে খরচা করবে, আর ভোটে হারবে।”

সূত্রের খবর, নির্বাচনী কৌশল ছাড়াও প্রচারের অভিমুখ কী হবে, তার প্রাথমিক দিকনির্দেশ শাহ দিয়ে যাবেন। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে এসআইআর ও সিএএ নিয়ে তিনি কী বলেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের বড় অংশের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা বিজেপিকে চাপে ফেলেছে। মতুয়া ঠাকুরবাড়ির দুই ভাই—বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ও বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের ভূমিকা ও বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই অবস্থায় মতুয়া ভোট ধরে রাখতে নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিশেষ বার্তা দিতে পারেন শাহ।

মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজনের পর হোটেলে নির্দিষ্ট কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক, বিকেলে সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বুধবার সায়েন্স সিটিতে কলকাতা মহানগরীর মণ্ডল, জোন, জেলা ও রাজ্যস্তরের নেতৃত্বদের নিয়ে সভা করবেন অমিত শাহ। তার আগে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে যাওয়ারও কর্মসূচি রয়েছে।

সব মিলিয়ে শাহর সফর ঘিরে একদিকে সাংগঠনিক বার্তা, অন্যদিকে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক তরজা—উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।

এসআইআর শুনানি ঘিরে হেনস্তার অভিযোগ, সুকান্তর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক



এসআইআর শুনানি ঘিরে হেনস্তার অভিযোগ, সুকান্তর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে হাতে ইনহেলার নিয়ে অপেক্ষা করছেন বয়স্ক মানুষ। কোথাও অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, কোথাও আবার ভাঙা হাত বা পা নিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্যজুড়ে এসআইআর (Special Intensive Revision) শুনানি কেন্দ্রগুলিতে এই ছবি এখন নিত্যদিনের। অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ, অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষমরা।

এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে হেনস্তার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টে বিতর্ক আরও উসকে দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর একটি মন্তব্যের ভিডিও সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।

ওই ভিডিওতে সুকান্ত মজুমদারকে বলতে শোনা যায়,
“ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে কীভাবে আসবেন, তখন অসুবিধা হবে না? যাদের ভোট দেওয়ার ইচ্ছা নেই, তারাই এসব কথা বলছে। ধরুন, আমার বাবা অসুস্থ মানুষ, তিনি ভোট দিতে যেতে পারেন না। তাই এসআইআর নিয়ে মাথা ঘামান না। আপনি যদি ভোট দিতে যেতে পারেন, তাহলে এসআইআর করাতে যেতে পারবেন না কেন—আমি এটা বুঝতে পারছি না।”

এই মন্তব্যের ভিডিও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে শেয়ার করেছে। এরপরই শাসক শিবিরের তরফে সুকান্তের বক্তব্যকে ‘অমানবিক’ ও ‘কটূক্তিপূর্ণ’ বলে আক্রমণ করা হয়।

তৃণমূলের বক্তব্য,
“এটা নাকি একজন জনপ্রতিনিধির ভাষা! বয়সের ভারে ন্যুব্জ, অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষকে শুনানির নামে হেনস্তা করছে নির্বাচন কমিশন। কেউ হুইলচেয়ারে বসে, কেউ অ্যাম্বুল্যান্সে শুয়ে শুনানিতে যাচ্ছেন। আর সেই দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের দেখে কটূক্তি করছেন বিজেপির মাতব্বর নেতা তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।”

শাসক দলের আরও কড়া প্রশ্ন,
“এরা আদৌ মানুষ? বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষকে সম্মান তো দূরের কথা, অন্যের অক্ষমতাকেও বিদ্রূপ করা হচ্ছে।”

এর আগে এসআইআর শুনানিতে সাধারণ মানুষের হেনস্তার অভিযোগে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এভাবে হেনস্তা বরদাস্ত করা হবে না।”

এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে সোমবার পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। ওই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন—পার্থ ভৌমিক, শশী পাঁজা, বাপি হালদার, পুলক হালদার এবং বীরবাহা হাঁসদা।

এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে একদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, অন্যদিকে শাসক-বিরোধীর রাজনৈতিক তরজা—সব মিলিয়ে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যু এখন ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া



প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

জীবন-মৃত্যুর সূক্ষ্ম সুতোয় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর অবশেষে হার মানলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চিকিৎসকরাই তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি বহু বছর ধরেই গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন খালেদা জিয়া। কিডনি, লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, আর্থ্রাইটিস, চোখের সমস্যা—সব মিলিয়ে শেষ কয়েক বছর তাঁর জীবন ছিল যন্ত্রণাবিদ্ধ। উন্নত চিকিৎসার আশায় লন্ডনে প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা চললেও আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও বয়সজনিত জটিলতা ও একাধিক অঙ্গের দুর্বলতার কারণে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাঝেমধ্যে চিকিৎসায় সামান্য সাড়া মিললেও শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার রাতেও তাঁর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মাকে দেখতে হাসপাতালে যান। তার আগে দলের দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে মায়ের আরোগ্য কামনায় প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, অবিভক্ত দিনাজপুরে। জন্মনাম ছিল খানুম পুতুল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করার পর তিনি বেগম খালেদা জিয়া নামে পরিচিত হন। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করার পর রাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৮১ সালে মেজর জিয়ার হত্যার পর দলের নেতৃত্বে উঠে এসে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি দু’দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন—১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয় বলে সমর্থকদের দাবি।

তবে পরবর্তীকালে আওয়ামি লিগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি ও খালেদা জিয়া দু’জনেই প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন। একাধিক মামলায় জর্জরিত হন তিনি, দীর্ঘদিন কারাবন্দিও ছিলেন। এরই মধ্যে ক্রমশ অবনতি হতে থাকে তাঁর শারীরিক অবস্থার।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপি রাজনীতিতে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল ফের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও বয়স ও অসুস্থতা তাঁর সক্রিয় নেতৃত্বকে আর সম্ভব করে তোলেনি।

অবশেষে দীর্ঘ এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। পদ্মাপাড়ের রাজনীতির আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল তারা। সমর্থক ও বিরোধী—সব মহলেই শোকের ছায়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এক দৃঢ়চেতা নেত্রী ও সংগ্রামী রাজনীতিক হিসেবে।

Monday, 29 December 2025

শিলিগুড়িতে বাংলার বৃহত্তম মহাকাল মন্দির: জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলান্যাস, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী




শিলিগুড়িতে বাংলার বৃহত্তম মহাকাল মন্দির: জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলান্যাস, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

নিউটাউন:
কিছুদিন আগেই শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই ঘোষণার বাস্তব রূপের দিনক্ষণ জানিয়ে দিলেন তিনি। সোমবার নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করা হবে

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,

“জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলান্যাস করব। মনে মনে উদ্বোধনের দিনও ঠিক করে ফেলেছি।”


🌄 উত্তরবঙ্গ সফরেই ঘোষণার সূচনা

চলতি বছরের অক্টোবরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল উত্তরবঙ্গ। সেই সময় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে একাধিকবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সফরের মাঝেই তিনি দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দিরে পুজো দেন। এরপরই শিলিগুড়িতে বাংলার সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দির তৈরির ঘোষণা করেন তিনি।


🛕 কেমন হবে শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির?

মুখ্যমন্ত্রীর আগের ঘোষণায় জানা গিয়েছিল—

  • শিলিগুড়িতে একটি কনভেনশন সেন্টার তৈরি হবে

  • তার পাশেই গড়ে উঠবে মহাকাল মন্দির

  • মন্দিরে থাকবে বাংলার সবচেয়ে বড় শিবমূর্তি

  • সরকার বিনামূল্যে জমি দেবে

  • মন্দির পরিচালনার জন্য গঠন করা হবে ট্রাস্টি বোর্ড

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়,

“শিলিগুড়িতে ডিএমকে একটা জমি দেখতে বলেছি। সেখানে কনভেনশন সেন্টার হবে। তার পাশেই মহাকাল মন্দির তৈরি করা হবে। করতে একটু সময় লাগবে, তবে পরিকল্পনা সম্পূর্ণ।”


📌 গুরুত্ব কী?

এই মহাকাল মন্দির শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে চলেছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

এবার জানুয়ারিতে শিলান্যাসের মাধ্যমে সেই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবের পথে এক ধাপ এগোতে চলেছে।

পুরুলিয়া , এসআইআর শুনানির আতঙ্কে প্রাণ গেল বৃদ্ধের? পুরুলিয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর



 Y বাংলা নিউজ পুরুলিয়া:


এসআইআর শুনানিতে সময়মতো পৌঁছতে পারবেন কি না—এই চিন্তাই কি প্রাণ কেড়ে নিল ৮২ বছরের বৃদ্ধের? এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরুলিয়ায়। এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই চরম মানসিক চাপে ছিলেন পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের আনাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌতালা গ্রামের বাসিন্দা দুর্জন মাঝি। সোমবার সকালে ব্লক অফিসে যাওয়ার জন্য টোটো খুঁজতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বাড়ির অদূরে আনাড়া–রুকনি রেললাইন থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মৃতদেহ।


📌 কী ঘটেছিল?

  • দুর্জন মাঝির নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল

  • এসআইআর প্রক্রিয়ায় তিনি যথাযথভাবে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন

  • তবুও ২৫ ডিসেম্বর তাঁর কাছে শুনানির নোটিস আসে

  • জানানো হয়, সোমবার দুপুর ১টায় পাড়া ব্লক অফিসে হাজির হতে হবে

  • বাড়ি থেকে ব্লক অফিসের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার, টোটোই ছিল একমাত্র ভরসা


😔 পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ

পরিবারের দাবি, নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন দুর্জন মাঝি। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছিলেন না। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ তিনি জানান, টোটো ডাকতে যাচ্ছেন। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

খোঁজ শুরু হয়। পরে দুর্জনের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রেলট্র্যাকের ধারে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।


🏛️ তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া

খবর পেয়ে দুর্জনের বাড়িতে যান—

  • টিএমসিপি জেলা সভাপতি কিরীটি আচার্য

  • পাড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি মনোজ সাহা

  • জেলা সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো

  • সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়

তাঁদের অভিযোগ,

“২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও, এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার পরও কেন একজন ৮২ বছরের বৃদ্ধকে শুনানিতে ডাকা হল? এটা স্পষ্ট হয়রানি।”

তাঁদের স্পষ্ট ঘোষণা, এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে


❗ প্রশ্নের মুখে এসআইআর প্রক্রিয়া

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—

  • প্রবীণ ও দরিদ্র মানুষদের জন্য এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা মানবিক?

  • অপ্রয়োজনীয় শুনানির নোটিস মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে না তো?

একটি শুনানির নোটিস—আর তার জেরে হারিয়ে গেল একটি প্রাণ। পুরুলিয়ার এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উন্নাও গণধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তিতে আপাতত না, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

 


উন্নাও গণধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তিতে আপাতত না, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: উন্নাও গণধর্ষণ মামলায় প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার-এর সাজা স্থগিত করে জামিনের যে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্ট দিয়েছিল, তাতে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে এই মুহূর্তে সেঙ্গারের মুক্তি হচ্ছে না।

সোমবার সিবিআইয়ের আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বে বিচারপতি জে কে মহেশ্বরীঅগাস্টিন জর্জ মাসিহ—এই তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, মামলার বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে না।


🔍 কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

  • সাধারণত দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্তের মুক্তির নির্দেশ শুনানি ছাড়া স্থগিত করা হয় না

  • তবে এই মামলার ক্ষেত্রে “বিশেষ পরিস্থিতি” বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে

  • আপাতত সেঙ্গারকে মুক্তি দেওয়া যাবে না

  • সেঙ্গারকে নোটিস পাঠিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ


📌 পটভূমি

  • ২৩ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট সেঙ্গারের যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছিল

  • যুক্তি ছিল, তিনি ইতিমধ্যেই সাড়ে সাত বছরের বেশি কারাবাস করেছেন

  • এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই


⚖️ সিবিআইয়ের বক্তব্য

  • সিবিআইয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মামলাটিকে “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করেন

  • বলেন, “আমরা নির্যাতিতার কাছে দায়বদ্ধ”

  • জানান, আইন সংশোধনের পরে এই ধরনের অপরাধে ন্যূনতম সাজা ২০ বছর

  • যদিও বেঞ্চ স্পষ্ট করে, সংশোধনীটি অপরাধের পরে কার্যকর হওয়ায় তা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়


❗ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

  • দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ—অপরাধের সময় জনপ্রতিনিধি হলেও সেঙ্গারকে পকসো আইনে সরকারি কর্মচারী ধরা যাবে না—এ নিয়ে আপত্তি তোলে সিবিআই

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারকদের ছবি ছড়িয়ে ‘এই বিচারকদের চিহ্নিত করুন’ ধরনের প্রচারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বেঞ্চ

  • প্রধান বিচারপতির মন্তব্য:

    • “আদালত আইভরি টাওয়ারে বসে নেই”

    • “বিচার ব্যবস্থায় পর্যালোচনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া”

    • “আদালতকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন না—যুক্তি আদালতের ভিতরেই দিতে হবে”


📝 বর্তমান অবস্থা

➡️ কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তি এই মুহূর্তে স্থগিত
➡️ পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় দেশজুড়ে নজর

হুমায়ুন কবীরের পুত্র গ্রেফতার, পাশে শুভেন্দু! নাম না করে মমতা–অভিষেককে নিশানা বিরোধী দলনেতার


ডিজিটাল ডেস্ক:
জন উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের পুত্র রবিন কবীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরের পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, “পুলিশ বেআইনি কাজ করেছে। সারা রাজ্যের আধিকারিকদের ভুলভাবে ব্যবহার করছে পিসি–ভাইপো।” তাঁর দাবি, হুমায়ুন কবীরের ছেলেকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কী অভিযোগে গ্রেফতার?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীরের পুত্র রবিন কবীরের বিরুদ্ধে এক পুলিশ কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। ওই কনস্টেবল হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রবিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।

ঘটনার পেছনের কাহিনি
যতদূর জানা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীরের এক নিরাপত্তারক্ষী ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি দিতে চাননি হুমায়ুন। তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে হাজির হন হুমায়ুনের পুত্র রবিন কবীর। অভিযোগ, এরপরই তিনি হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়কের বাড়ি থেকে হুমায়ুন কবীর বেরিয়ে গেলে সেখানে পৌঁছয় বিরাট পুলিশ বাহিনী। এরপরই হুমায়ুনের পুত্রকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে থানায় যান হুমায়ুন কবীর নিজেও এবং পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথা হয়।

বিরোধী শিবিরে ভিন্ন সুর
এই ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারীর আগেই মুখ খুলেছেন কংগ্রেস ও বিজেপির অন্যান্য নেতারাও। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “পুলিশ কেন গেল, কেন পুলিশের বিরুদ্ধে কেস হল—এ সব কিছুই তদন্তের পর জানা যাবে। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে, বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তিনি বলেন, “হুমায়ুন কবীরকে তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনার মাধ্যমে তাঁকে আরও প্রমিনেন্ট করে তোলা হচ্ছে।”

তবে শুভেন্দু অধিকারী একেবারেই উল্টো সুরে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, গোটা ঘটনাটিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পুলিশ বেআইনিভাবে কাজ করেছে।
কেন চর্চায় হুমায়ুন কবীর
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়েই একাধিক কারণে চর্চায় রয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বাবরি মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত মন্তব্য তাঁকে প্রথম আলোচনায় নিয়ে আসে। পরে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন তিনি এবং বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণাও করেন।
 রাজনৈতিকভাবে যখন তিনি সক্রিয় ও ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই তাঁর পুত্রের গ্রেফতারি ঘিরে নতুন করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog