Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Showing posts with label দেশ. Show all posts
Showing posts with label দেশ. Show all posts

Friday, 9 January 2026

মোদির ফোন না পেয়ে ইগোতে আঘাত’, সেই কারণেই ভারতের উপর ৫০% শুল্ক—বিস্ফোরক দাবি মার্কিন বাণিজ্য সচিবের

 



Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক:
ভারতের উপর বিপুল মার্কিন শুল্ক চাপার নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনমনীয় অবস্থানই বড় কারণ—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। একটি পডকাস্টে তিনি জানান, ভারত–আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় সেই চুক্তি ভেস্তে যায়।

লুটনিকের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিতে সই করার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরাসরি ফোনালাপকে অপরিহার্য শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের কাছে মোদির ফোন এলেই বাণিজ্য চুক্তিতে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ত। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। ভারতীয় আধিকারিকরা এই শর্ত মানতে চাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর ফলেই শেষ পর্যন্ত ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। লুটনিকের দাবি, মোদির ফোন না পাওয়ায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অসন্তোষ বেড়ে যায় এবং সেই ‘ইগো’ থেকেই ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আলোচনা হলেও আর চুক্তি এগোয়নি।

এখানেই থামেননি মার্কিন বাণিজ্য সচিব। তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই এমন একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার ফলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির উপর ভবিষ্যতে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের উপর নতুন করে আরও শুল্কের বোঝা চাপার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

লুটনিকের কথায়, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ফোন না আসায় তিনি যথেষ্ট হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন। সেই অসন্তোষই শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে ভারত–আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে।

Tuesday, 6 January 2026

মাদুরোর মতো মোদীকেও কি তুলে নেবেন ট্রাম্প? প্রাক্তন মন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক

 


মাদুরোর মতো মোদীকেও কি তুলে নেবেন ট্রাম্প? প্রাক্তন মন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক

নয়াদিল্লি | Y BANGLA NEWS ডিজিটাল ডেস্ক:
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) নিয়ে মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) কড়া অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক ঝড় তুললেন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক প্রাক্তন মন্ত্রী।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ওই প্রাক্তন মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “মাদুরোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে ভবিষ্যতে কি ট্রাম্প মোদীর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারেন?” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

বিজেপির তরফে এই মন্তব্যকে “অযৌক্তিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা” বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “ভারতের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশি রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে এইভাবে তুলনা করা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।”

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, এই মন্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান এবং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যদিও কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্সির সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই ভারতের রাজনীতিতে এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ফের অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী, তড়িঘড়ি দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি

 


ফের অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী, তড়িঘড়ি দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি

নয়াদিল্লি | Y BANGLA NEWS ডিজিটাল ডেস্ক:
ফের অসুস্থ হয়ে পড়লেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। শনিবার সকালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে তড়িঘড়ি দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রের খবর, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্যেই সোনিয়া গান্ধীর কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। আপাতত তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছেন। যদিও তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা যাচ্ছে।

কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়মিতভাবে সোনিয়া গান্ধীর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও রাহুল গান্ধীও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বয়সজনিত ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে গত কয়েক বছর ধরে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে সোনিয়া গান্ধীকে। এর আগেও বিদেশে ও দেশেই চিকিৎসা করাতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

চিকিৎসকদের তরফে আনুষ্ঠানিক মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ হলে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ তকমা! ছত্তিশগড়ে মারধরের শিকার পুরুলিয়ার ৮ সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিক

 


বাংলায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ তকমা! ছত্তিশগড়ে মারধরের শিকার পুরুলিয়ার ৮ সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিক

বাংলায় কথা বলার অপরাধে ফের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ উঠল। বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ে পুরুলিয়ার ৮ জন সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। হামলার জেরে এক শ্রমিকের হাত ভেঙে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।

জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া মফস্বল থানার চেপড়ি গ্রামের বাসিন্দা শেখ জসিম প্রায় তিন মাস আগে ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলার কোতয়ালি থানার সুরজপুর এলাকায় একটি পাউরুটি কারখানায় কাজ শুরু করেন। প্রায় দু’মাস কাজ করার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। পরে কারখানায় আরও শ্রমিকের প্রয়োজন হওয়ায় মাস খানেক আগে তাঁর ভাই শেখ আলম, চেপড়ি গ্রামের শেখ বাবিন ওরফে শরিফুল, শেখ জুলফিকার, শেখ সাহিল, তেঁতলো গ্রামের আরবাজ কাজী এবং আড়শা থানার ভুরসু গ্রামের শেখ মিনাল ও শেখ ইসমাইল সেখানে কাজে যোগ দেন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই আটজন সুরজপুর এলাকার পেররী গ্রামে একটি পাউরুটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, রবিবার বিকেলে কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বচসা হয়। সেই সময় স্থানীয় কিছু বজরং দলের সদস্য কারখানায় পৌঁছায়। এরপর বাংলায় কথা বলার কারণে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দিয়ে লাঠিপেটা করা হয় বলে অভিযোগ।

এই হামলায় শেখ জসিম গুরুতর আহত হন এবং তাঁর একটি হাত ভেঙে যায় বলে পরিবারের দাবি। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় যোগাযোগ করেন। এরপর রায়পুর জেলার কোতয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটজনকেই উদ্ধার করে।

চেপড়ি গ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি শেখ ইকবাল জানান, রবিবার দুপুরে ছত্তিশগড় পুলিশের এক আধিকারিক ফোন করে ওই আটজনের নাম ও ঠিকানা জানতে চান। পরে পুরুলিয়া মফস্বল থানার আইসির সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারের তরফে প্রয়োজনীয় নথি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঘটনার জেরে আতঙ্কে রয়েছেন শ্রমিকদের পরিবার। তেঁতলো গ্রামের বাসিন্দা আরবাজ কাজীর বাবা সায়েদ কাজী বলেন, “আমি নিজেও ভিনরাজ্যে কাজ করি। ছেলেকে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি বলে মারধর করা হয়েছে শুনে খুব ভয় পাচ্ছি।”

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আড়শা ও পুরুলিয়া মফস্বল থানার তরফে প্রত্যেকের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকরা যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে বিষয়েও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।


Monday, 5 January 2026

মুস্তাফিজুর বিতর্কে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ, ‘হাসিনাকেও ফেরত পাঠান’—BCCI ও কেন্দ্রকে নিশানা ওয়েইসির




📰 Y বাংলা ডিজিটাল নিউজ  ব্যুরো 

মিনি নিলামে নাম থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলার সুযোগ না দিয়ে স্বদেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হল। এই ইস্যুতে এ বার সরব হলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁর প্রশ্ন, মুস্তাফিজুরকে ফেরানো হলে, একই যুক্তিতে কেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে না? এই সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

ওয়েইসির মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওয়েইসি বলেন,
“পহলেগামে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরেও আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে এশিয়া কাপে খেলেছি। তাহলে এখন হঠাৎ করে বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে ফেরানোর যুক্তি কী?”
তাঁর দাবি, খেলাধুলোর ক্ষেত্রে রাজনীতি ঢুকলে তা সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

বাংলাদেশি পেসারের প্রসঙ্গ টেনে ওয়েইসি শেখ হাসিনার দিকেও প্রশ্ন ছুড়েছেন। নাম না করে তিনি বলেন, “একজন বাংলাদেশি মহিলা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে রয়েছেন। বাংলাদেশ যখন তাঁকে ফিরিয়ে নিতে চাইছে, তখন তাঁকে কেন পাঠানো হচ্ছে না?” তাঁর মতে, এই বিষয়েও ভারতের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, দেশ ছাড়ার পর থেকেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। যদিও হাসিনা ও তাঁর পরিবারের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কোনও নিরপেক্ষ বিচার সম্ভব নয়। এই মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা নিয়েও ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী মতও সামনে এসেছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর-সহ একাধিক নেতা মনে করছেন, খেলাধুলোর সঙ্গে রাজনীতি মেশানো ঠিক নয়। তবে বোর্ডের দাবি, আগেভাগেই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে জানানো হয়েছিল, যাতে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্ত এখন আর নিছক ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই ইস্যুতে জড়িয়ে পড়েছে কূটনীতি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বার্তা—আর ওয়েইসির মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলল।

প্রশংসা একদিকে, শুল্ক চাপ অন্যদিকে—ভারত নিয়ে ট্রাম্পের দ্বিমুখী বার্তা

 


ব্যুরো রিপোর্ট:
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত একটি অডিও বার্তা ঘিরে আবারও আলোচনায় ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক। ওই অডিওতে মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত নীতি যদি আমেরিকার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

অডিও ক্লিপে ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে এসেছে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং সেই অসন্তোষের কথা দিল্লিকেও জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, আমেরিকার মনোভাব বুঝেই ভারত নাকি কিছু ক্ষেত্রে অবস্থান বদল করেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রসঙ্গে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করলেও, ট্রাম্পের বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট সতর্কতা। তিনি বলেন, মোদী বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন যে আমেরিকা সন্তুষ্ট নয় এবং সেই কারণেই সম্পর্ক রক্ষায় ভারতের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে একইসঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, বাণিজ্য ক্ষেত্রে আমেরিকা চাইলে খুব দ্রুত ভারতের উপর শুল্ক বাড়াতে পারে, যা ভারতের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমী দেশগুলির রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার আবহে, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি নতুন নয়। ভারত একদিকে শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রাখছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই দ্বৈত অবস্থান নিয়েই কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে।

অডিও বার্তায় বিশ্ব অর্থনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংকটজনক। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক চাপকে একসঙ্গে ব্যবহার করেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে চেয়েছেন তিনি।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই অডিও ক্লিপ ভারত–আমেরিকার বাণিজ্য আলোচনা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক কৌশলগত সমীকরণে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং একইসঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে অংশীদারিত্ব ধরে রাখা—এই ভারসাম্য রক্ষা করাই আপাতত ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

সোমবার ভোরে আচমকা ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল অসমের একাধিক এলাকা।

 



ব্যুরো রিপোর্ট:
সোমবার ভোররাতে আচমকা ভূকম্পনের জেরে কেঁপে ওঠে অসম। ভোর ৪টা নাগাদ মৃদু থেকে মাঝারি তীব্রতার কম্পনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। গভীর ঘুম ভেঙে বহু মানুষ বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

সিসমোলজি সূত্রে জানা গেছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.১। কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ব্রহ্মপুত্র নদীর দক্ষিণ তীরবর্তী মরিগাঁও জেলার কাছে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎসস্থল অবস্থিত।

ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে অসমের বিস্তীর্ণ এলাকায়। কামরূপ মহানগর, নগাঁও, কার্বি আংলং, হোজাই, ডিমা হাসাও, গোলাঘাট, জোরহাট, শিবসাগর, কাছাড়, করিমগঞ্জ, ধুবড়ি, গোলপাড়া-সহ একাধিক জেলায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। উত্তর অসমের দরং, সোনিতপুর, নলবাড়ি, বরপেটা, বাক্সা, কোকরাঝাড় ও লখিমপুরেও ভূকম্পনের ঝাঁকুনি টের পান বাসিন্দারা।

শুধু অসম নয়, এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতজুড়ে। মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের কিছু অংশ, ভুটানের মধ্যাঞ্চল এবং চিনের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও এই কম্পনের প্রভাব পড়ে বলে জানা যাচ্ছে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোথাও প্রাণহানি বা বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Friday, 2 January 2026

ধর্ষণের চেষ্টা! আত্মরক্ষায় কুঠারের কোপ—ধর্ষককে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণী




এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশ। ধর্ষণের চেষ্টা প্রতিহত করতে গিয়ে এক ব্যক্তিকে খুন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক ১৮ বছরের তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার বান্দা জেলার মুরওয়াল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বিকেল প্রায় সাড়ে ৩টে নাগাদ একটি বাড়ির ভিতর থেকে ৫০ বছর বয়সি সুখরাজ প্রজাপতির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত ছিল।

স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) রাজেন্দ্র সিং রাজাওয়াত জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই রাতেই ১৮ বছরের তরুণীকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি, খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র—একটি কুঠারও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় তরুণীর দাবি, সুখরাজ জোর করে তাঁর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। নিজেকে বাঁচাতেই ঘরে রাখা কুঠার দিয়ে তিনি আঘাত করেন। সেই আঘাতেই মৃত্যু হয় সুখরাজের।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার অভিযুক্ত তরুণীকে আদালতে তোলা হবে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।

📌 ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য, আত্মরক্ষার দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক।

উদ্যম আধার (Udyam Registration): ছোট ব্যবসার জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

 


🔴  ব্যবসায়ীদের জন্য জরুরি তথ্য 🔴

উদ্যম আধার (Udyam Registration): ছোট ব্যবসার জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

(জনস্বার্থে প্রচার)

আপনি কি দোকান, ছোট ব্যবসা, সার্ভিস সেন্টার, অনলাইন বিজনেস বা যেকোনো MSME পরিচালনা করেন?
তাহলে আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি হল উদ্যম আধার (Udyam Registration)
সরকারি স্বীকৃতি থেকে শুরু করে লোন, ভর্তুকি ও আইনি সুরক্ষা—সবকিছুর চাবিকাঠি এই এক রেজিস্ট্রেশন।


🎯 উদ্যম আধারের মূল উদ্দেশ্য কী?

✔️ ছোট ও মাঝারি ব্যবসাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া
✔️ MSME ব্যবসার উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা
✔️ সহজে ব্যাংক লোন ও সরকারি সুবিধা পাওয়া
✔️ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা


🏢 উদ্যম আধার কী কী কাজে লাগে?

✔️ MSME সার্টিফিকেট হিসেবে ব্যবহার
✔️ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিতে
✔️ সরকারি প্রকল্প ও ভর্তুকি (Subsidy) পেতে
✔️ সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে
✔️ দেরিতে পেমেন্ট পেলে আইনি সুরক্ষা পেতে
✔️ ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে


📄 উদ্যম আধার করতে কী কী লাগবে?

📌 কোনো কাগজ আপলোড করতে হয় না, শুধু তথ্য দিলেই হবে
✔️ আধার কার্ড (মালিক/প্রোপ্রাইটর)
✔️ PAN কার্ড
✔️ মোবাইল নম্বর (OTP ভেরিফিকেশন)
✔️ ব্যবসার নাম ও ঠিকানা
✔️ ব্যবসার কাজের ধরন (NIC কোড)
✔️ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য


📝 কিভাবে আবেদন করবেন? (সহজ স্টেপ)

1️⃣ সরকারি ওয়েবসাইটে যান: udyamregistration.gov.in
2️⃣ New Registration অপশনে ক্লিক করুন
3️⃣ আধার নম্বর দিন ও OTP দিয়ে ভেরিফাই করুন
4️⃣ PAN নম্বর দিলে অটো ভেরিফিকেশন হবে
5️⃣ ব্যবসার প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন
6️⃣ Submit করুন

🎉 সঙ্গে সঙ্গে মিলবে Udyam Registration Certificate


⚠️ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন

🔹 একবার রেজিস্ট্রেশন করলে লাইফটাইম ভ্যালিড
🔹 আগে Udyog Aadhaar থাকলেও নতুন করে Udyam করতে হবে
🔹 ঘরে বসে বা CSC সেন্টার থেকেও করা যায়
🔹 নতুন ও পুরনো—সব ব্যবসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য


📢 উপসংহার

উদ্যম আধার আপনার ব্যবসাকে দেয়—
✅ সরকারি স্বীকৃতি
✅ আর্থিক সুবিধা
✅ আইনি সুরক্ষা

👉 তাই ব্যবসা থাকলে দেরি না করে আজই Udyam Registration করুন।

✍️ @ Y BANGLA NEWS
📌 জনস্বার্থে প্রচার
👍 লাইক করুন | 💬 কমেন্ট করুন | 🔄 শেয়ার করুন
👉 যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আরও মানুষের কাছে পৌঁছায়

Tuesday, 30 December 2025

বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিক নিধনের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ অধীর চৌধুরী




 Y BANGLA NEWS ব্যুরো:

বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে লাগাতার অত্যাচারের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন রাজ্যের কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। এদিন নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অধীর।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ঠিক যে সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় অনুপ্রবেশ রোধ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন, সেই সময়েই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। বৈঠকে অধীর মোদীর সামনে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণেই বহু পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে হেনস্তা, মারধর এমনকী হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে।

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া একটি আর্জিপত্রে অধীর চৌধুরী ওড়িশার সম্বলপুরের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। সেখানে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুয়েল শেখ নামে এক যুবককে বাংলাদেশি সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গত ২৪ ডিসেম্বর ওই ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় মুর্শিদাবাদের আরও দুই যুবক মারধরের শিকার হন, যদিও তাঁরা কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।

অধীর চিঠিতে লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছেন এবং খেটে খাওয়ার অধিকার তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বাংলাভাষী হওয়ার কারণেই তাঁদের নির্দিষ্ট করে নিশানা করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাভাষী নাগরিক ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অধীর চৌধুরীর আবেদন, দেশের সব রাজ্য সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হোক, যাতে কোনও নিরীহ পরিযায়ী শ্রমিক ভাষার কারণে হেনস্তা বা সহিংসতার শিকার না হন। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, দেশের সংবিধান ও বহুত্ববাদী চরিত্রেরও পরিপন্থী।

🔴 ২০২৬ সালেই ফের ভারত–পাক সংঘাত? কাশ্মীর ঘিরে বড় সতর্কবার্তা মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের

 📲 ডিজিটাল নিউজ | Y BANGLA NEWS




Y BANGLA NEWS ব্যুরো:
২০২৬ সালেই ফের ভারত–পাকিস্তান সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না মার্কিন বিদেশনীতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (CFR)। কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে ফের উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলে তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

🗂️ ‘Conflicts to Watch in 2026’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা নতুন করে সামরিক সংঘর্ষের জন্ম দিতে পারে। এই সম্ভাবনাকে সিএফআর ‘মাঝারি মাত্রার ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী বছরেও অস্থির থাকার সম্ভাবনা প্রবল।


⚔️ অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ নয়, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের তরফে আগেই জানানো হয়েছে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি
গত মাসে দিল্লির লালকেল্লার অদূরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট করে বলেন—

“প্রয়োজনে ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর পথে হাঁটতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। অপারেশন সিঁদুর-১ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের যে কোনও অভিযানে সেনাকে আরও শক্তিশালী করবে।”


💥 পহেলগাম হামলা ও ভারতের প্রত্যাঘাত

📌 ২২ এপ্রিল, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
ভারতের কাছে ওই হামলায় পাকিস্তানের যোগসাজশের অকাট্য প্রমাণ আসে বলে দাবি করা হয়।

➡️ ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’
➡️ ৬ মে গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি জঙ্গিঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী।

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী,
🚀 ভারত কমপক্ষে ২৪টি মিসাইল ছোড়ে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে।


🚨 চার দিনের যুদ্ধ-উত্তেজনা, তারপর সংঘর্ষবিরতি

এর পর টানা চার দিন সীমান্তে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টা জবাবে ভারত পাকিস্তানের একাধিক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে আঘাত হানে

📅 ১০ মে শেষ পর্যন্ত দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর মধ্যস্থতাতেই নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ সংঘর্ষবিরতিতে পৌঁছয়।


🔎 ২০২৬ নিয়েই কেন বাড়ছে আশঙ্কা?

সব মিলিয়ে—
🔺 কাশ্মীরের অস্থির পরিস্থিতি
🔺 সাম্প্রতিক সামরিক অভিজ্ঞতা
🔺 অপারেশন সিঁদুর এখনও চালু থাকার ইঙ্গিত

এই সমস্ত কিছুর নিরিখেই ২০২৬ সালেও ভারত–পাক সম্পর্ক অগ্নিগর্ভ থাকতে পারে, এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে সিএফআর-এর রিপোর্ট।


📌 আপডেট পেতে চোখ রাখুন Y BANGLA NEWS-এ
👍 লাইক | 🔁 শেয়ার | 💬 মতামত জানান

Monday, 29 December 2025

উন্নাও গণধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তিতে আপাতত না, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

 


উন্নাও গণধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তিতে আপাতত না, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: উন্নাও গণধর্ষণ মামলায় প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার-এর সাজা স্থগিত করে জামিনের যে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্ট দিয়েছিল, তাতে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে এই মুহূর্তে সেঙ্গারের মুক্তি হচ্ছে না।

সোমবার সিবিআইয়ের আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বে বিচারপতি জে কে মহেশ্বরীঅগাস্টিন জর্জ মাসিহ—এই তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, মামলার বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে না।


🔍 কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

  • সাধারণত দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্তের মুক্তির নির্দেশ শুনানি ছাড়া স্থগিত করা হয় না

  • তবে এই মামলার ক্ষেত্রে “বিশেষ পরিস্থিতি” বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে

  • আপাতত সেঙ্গারকে মুক্তি দেওয়া যাবে না

  • সেঙ্গারকে নোটিস পাঠিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ


📌 পটভূমি

  • ২৩ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট সেঙ্গারের যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছিল

  • যুক্তি ছিল, তিনি ইতিমধ্যেই সাড়ে সাত বছরের বেশি কারাবাস করেছেন

  • এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই


⚖️ সিবিআইয়ের বক্তব্য

  • সিবিআইয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মামলাটিকে “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করেন

  • বলেন, “আমরা নির্যাতিতার কাছে দায়বদ্ধ”

  • জানান, আইন সংশোধনের পরে এই ধরনের অপরাধে ন্যূনতম সাজা ২০ বছর

  • যদিও বেঞ্চ স্পষ্ট করে, সংশোধনীটি অপরাধের পরে কার্যকর হওয়ায় তা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়


❗ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

  • দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ—অপরাধের সময় জনপ্রতিনিধি হলেও সেঙ্গারকে পকসো আইনে সরকারি কর্মচারী ধরা যাবে না—এ নিয়ে আপত্তি তোলে সিবিআই

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারকদের ছবি ছড়িয়ে ‘এই বিচারকদের চিহ্নিত করুন’ ধরনের প্রচারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বেঞ্চ

  • প্রধান বিচারপতির মন্তব্য:

    • “আদালত আইভরি টাওয়ারে বসে নেই”

    • “বিচার ব্যবস্থায় পর্যালোচনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া”

    • “আদালতকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন না—যুক্তি আদালতের ভিতরেই দিতে হবে”


📝 বর্তমান অবস্থা

➡️ কুলদীপ সিং সেঙ্গারের মুক্তি এই মুহূর্তে স্থগিত
➡️ পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় দেশজুড়ে নজর

চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড

চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড

চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু ১

ডিজিটাল ডেস্ক | রবিবার মধ্যরাত

আবারও চলন্ত ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। রবিবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশে চলন্ত টাটানগর–এর্নাকুলম এক্সপ্রেসে ভয়াবহ আগুন লাগে। এই দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের অনকাপল্লী জেলায়। রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ ট্রেনটি ইলামানচিলি রেল স্টেশনে ঢোকার সময় লোকো পাইলট আগুনের শিখা দেখতে পান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেন।

প্রথমে বি১ এসি কোচে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এম১ এসি কোচ এবং সংলগ্ন বি২ এসি কোচে। তিনটি কোচই আগুনে সম্পূর্ণভাবে ঝলসে যায়।

আগুনের ঘটনা বুঝতে পেরেই যাত্রীরা চেন টানতে শুরু করেন। ট্রেনের ভিতরে শুরু হয় আতঙ্ক, চিৎকার ও হুড়োহুড়ি। তবে রেলকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় ধীরে ধীরে সকল যাত্রীকে নিরাপদে ট্রেন থেকে নামানো হয়।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি কোচে ছিলেন ৮২ জন এবং অন্য কোচে ছিলেন ৭৬ জন যাত্রী। এক এক করে সকলকেই নিরাপদে নামানো সম্ভব হয়।

তবে ভয়াবহ আগুনের মধ্যে প্রাণ হাতে করে নামার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা বি১ কোচ থেকে নামার সময় এক যাত্রীর গায়ে আগুন ধরে যায়। তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় তাঁর।

মৃত যাত্রীর নাম চন্দ্রশেখর সুন্দরম। তিনি সেই বি১ কোচেই ছিলেন, যেখানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

টাটানগর থেকে এরনাকুলামের উদ্দেশে যাত্রা করছিল ট্রেনটি। মাঝপথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হলেও বাকি সকল যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে রেলের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Friday, 26 December 2025

ওড়িশায় পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে খুন

ওড়িশায় পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে খুন

ওড়িশায় পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে খুন, বিড়ি নিয়ে বচসার জের: পুলিশ

Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক | সম্বলপুর, ওড়িশা

ওড়িশার সম্বলপুরে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুয়েল শেখ বুধবার রাতে মারধরের শিকার হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, বাংলা বলার কারণেই তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। যদিও ওড়িশা পুলিশ এই দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, ভাষা বা বাংলাদেশি সন্দেহ নয়, বিড়ি নিয়ে বচসার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুয়েল শেখ সম্বলপুরের শান্তিনগর এলাকায় একটি নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েক জন শ্রমিক ওই প্রকল্পে কাজ করতেন। বুধবার রাতে কাজ সেরে ফেরার পথে ছ'জনের একটি দলের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়।

ওই দলের এক ব্যক্তি একটি বিড়ি চাইলে তা নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বচসা হাতাহাতিতে পরিণত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেই সময় জুয়েল শেখকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সম্বলপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশি পদক্ষেপ:
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছ'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওড়িশা পুলিশের নর্দান রেঞ্জের আইজি হিমাংশুকুমার লাল সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, “এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।”

এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়েছে। দলটি সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেছে, বিজেপির কথিত বাংলাবিরোধী প্রচারের ফলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।

তবে এই অভিযোগ প্রসঙ্গে ওড়িশা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তি বাঙালি না বাংলাদেশি—এই পরিচয়ের সঙ্গে হত্যার কোনও সম্পর্ক নেই। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বিড়ি নিয়ে ঝামেলা থেকেই এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

এদিকে নিহত শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মুর্শিদাবাদের তাঁর বাড়িতে যান সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানী বিশ্বাস। তিনি পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলাভাষীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মণিপুরে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

মণিপুরে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

মণিপুরে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, বেড়েছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ

ডিজিটাল ডেস্ক | মণিপুর | সর্বশেষ আপডেট

মণিপুরে অবৈধ অস্ত্রের চলাচল রুখতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্যের দুই জেলায় চালানো পৃথক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইম্ফল পশ্চিম জেলার লাম্বল ও হাওরাং কেইরেল এলাকায় লামসাং থানার আওতায় প্রথম দফার অভিযান চালানো হয়। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি যৌথ দল।

ইম্ফল পশ্চিম জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী:
  • ১টি সিঙ্গেল-ব্যারেল বন্দুক
  • ৩টি পিস্তল ও একাধিক ম্যাগাজিন
  • ৩টি বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল
  • ৭টি হোয়াইট ফসফরাস গ্রেনেড
  • ১টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রেনেড
  • ২৩টি মিনি ফ্লেয়ার কার্টিজ
  • ৮টি ১২-বোর কার্টিজ
  • বিভিন্ন ক্যালিবারের ২৮টি তাজা গুলি
  • ১টি খালি ৭.৬২ এসএলআর কার্টিজ কেস
  • ২টি বাওফেং ওয়্যারলেস রেডিয়ো (চার্জার-সহ)

উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলি কোথা থেকে এল এবং কারা এগুলি মজুত করেছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। পাশাপাশি, যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ওয়্যারলেস রেডিয়ো সেটগুলি সংগঠিত কার্যকলাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মনে করছেন আধিকারিকরা।

এর পাশাপাশি, মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলাতেও আরও একটি অভিযান চালানো হয়। থানজিং অরণ্যের পাদদেশে চালানো এই তল্লাশি অভিযানে ফের একাধিক অস্ত্র উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

চূড়াচাঁদপুর জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী:
  • ১টি আট ফুট লম্বা পাম্পি
  • ১২টি পাম্পি শেল
  • ৯টি খালি ৭.৬২×৩৯ কার্টিজ কেস
  • ১টি পরিবর্তিত এমপি৫ রাইফেল (গুলিভরা ম্যাগাজিন-সহ)
  • ১টি একনলা বন্দুক

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সমস্ত অস্ত্র ও বিস্ফোরক যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মণিপুরে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসছে। ফলে অবৈধ অস্ত্রের জোগান ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রশাসনের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে বলে নিরাপত্তা সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

Wednesday, 24 December 2025

‘বাহুবলি’ উৎক্ষেপণ বিলম্ব: ইতিহাস গড়ার পথে ISRO

LVM3 ‘বাহুবলি’ উৎক্ষেপণ বিলম্ব: ইতিহাস গড়ার পথে ISRO

LVM3 ‘বাহুবলি’ উৎক্ষেপণ বিলম্ব: ইতিহাস গড়ার পথে ISRO

ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট LVM3, যা ‘বাহুবলি’ নামেই বেশি পরিচিত, বুধবার সকালে ইতিহাস গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই রকেটের মাধ্যমেই মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে মার্কিন সংস্থা AST SpaceMobile-এর অত্যাধুনিক কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট BlueBird 6। তবে উৎক্ষেপণের ঠিক আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে সময় পরিবর্তন করে ISRO।

আগে উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট। শেষ মুহূর্তে তা পরিবর্তন করে করা হয় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। অর্থাৎ উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়া হয় ৯০ সেকেন্ড

কেন পিছোল উৎক্ষেপণ?

ISRO জানিয়েছে, উৎক্ষেপণপথের কাছাকাছি কক্ষপথে থাকা মহাকাশের জঞ্জাল এবং অন্যান্য স্যাটেলাইটের গতিপথের সঙ্গে সম্ভাব্য ‘কনজাংশন’ বা সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। সেই ঝুঁকি এড়াতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উৎক্ষেপণের সময় সামান্য পিছিয়ে দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রীহরিকোটা উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের উপর দিয়ে এখন হাজার হাজার সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইট ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় মহাকাশে সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে।

BlueBird 6: ভারতের রকেটে পাঠানো সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট

BlueBird 6 হল ভারতের রকেট দ্বারা উৎক্ষেপিত সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট। এর ওজন প্রায় ৬,১০০ কেজি। ISRO-র চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন জানিয়েছেন, “ভারতের মাটি থেকে এর আগে কখনও এত ভারী স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়নি।”

প্রায় ৪৩.৫ মিটার উচ্চতা এবং ৬৪০ টন ওজনের LVM3 রকেটই এই বিশাল স্যাটেলাইট বহনের জন্য উপযুক্ত। এই রকেট আগের সাতটি মিশনে ১০০ শতাংশ সাফল্যের রেকর্ড ধরে রেখেছে, যার মধ্যে ঐতিহাসিক চন্দ্রযান-৩-এর উৎক্ষেপণও রয়েছে।

LVM3-M6 মিশন ও ভারতের বাণিজ্যিক সাফল্য

এই উৎক্ষেপণটি LVM3-M6 নামে পরিচিত। এটি LVM3 রকেটের অষ্টম উড়ান এবং তৃতীয় বাণিজ্যিক মিশন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা আরও একবার প্রমাণিত হল।

মহাকাশ থেকে সরাসরি স্মার্টফোনে ইন্টারনেট

BlueBird 6 স্যাটেলাইটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর প্রায় ২,২০০ বর্গমিটার আকারের বিশাল অ্যারে অ্যান্টেনা, যা এখনও পর্যন্ত লো আর্থ অরবিটে সবচেয়ে বড়। এটি আগের প্রজন্মের স্যাটেলাইটের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ডেটা ক্ষমতা বহন করতে পারবে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই পরিষেবার জন্য Starlink বা OneWeb-এর মতো আলাদা গ্রাউন্ড টার্মিনালের প্রয়োজন হবে না। সাধারণ স্মার্টফোনেই সরাসরি মহাকাশ থেকে ৫জি মানের ব্রডব্যান্ড সিগন্যাল পাওয়া যাবে।

নীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

যদিও প্রযুক্তিগতভাবে এই মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভারত এখনও স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার অনুমোদন দেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে নীতি, নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন উঠে আসতে পারে।

নতুন যুগের দোরগোড়ায় বিশ্ব

সব মিলিয়ে, এই উৎক্ষেপণ শুধু ISRO-র জন্য নয়, গোটা বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। মহাকাশ থেকে সরাসরি স্মার্টফোনে ইন্টারনেট পৌঁছনো সম্ভব হলে, দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

Saturday, 20 December 2025

রেললাইনে থমকে গেল জীবনের মিছিল—রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় অসমে প্রাণ গেল ৮টি বন্য হাতির। উন্নয়ন আর প্রকৃতির সংঘর্ষে আবারও প্রশ্নের মুখে মানবিকতা।

অসমে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ৮ হাতির মৃত্যু, রেল–বন্যপ্রাণ সংঘর্ষে নতুন করে উদ্বেগ

অসমে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ৮ হাতির মৃত্যু, রেল–বন্যপ্রাণ সংঘর্ষে নতুন করে উদ্বেগ

অসমের হোজাই জেলায় শনিবার ভোররাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সাইরাং–নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি হাতির পালের সংঘর্ষে অন্তত ৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে একটি হাতির শাবক, যাকে পরে বন দফতরের কর্মীরা উদ্ধার করেন। ঘটনার জেরে উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রুটে রেল চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

রেল ও বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর প্রায় ২টা ১৭ মিনিট নাগাদ হোজাই জেলার কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাজধানী এক্সপ্রেসটি মিজোরামের সাইরাং (আইজলের কাছে) থেকে নয়াদিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল।

হোজাইয়ের কাছে আচমকাই রেললাইনের উপর উঠে আসে একটি হাতির দল। লোকো পাইলট দূর থেকেই হাতিদের দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক কষেন। কিন্তু ট্রেনের গতি বেশি থাকায় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, একের পর এক হাতি ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে।

সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রেনের ইঞ্জিন এবং পাঁচটি কোচ লাইনচ্যুত হয়ে যায়। রেললাইনের উপর ছড়িয়ে পড়ে হাতিদের দেহাংশ, ফলে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

৮ হাতির মৃত্যু, শাবক গুরুতর আহত

বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় মোট ৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই পালে মোট আটটি হাতিই ছিল এবং সংঘর্ষে অধিকাংশেরই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

একটি হাতির শাবক গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাবকটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

বন দফতর আরও জানিয়েছে, যে জায়গায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা ঘোষিত হাতির করিডর নয়। এই তথ্য সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, করিডরের বাইরেও কেন বারবার এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে।

যাত্রীদের প্রাণহানি হয়নি

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় কোনও যাত্রী হতাহত হননি। ট্রেন লাইনচ্যুত হলেও সমস্ত যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন।

রেল সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচের যাত্রীদের সাময়িকভাবে ট্রেনের অন্যান্য কোচের ফাঁকা বার্থে স্থান দেওয়া হয়েছে। ট্রেনটি গুয়াহাটিতে পৌঁছনোর পর অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত করে সব যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

রেল পরিষেবায় বড়সড় ব্যাঘাত

দুর্ঘটনার ফলে আপার অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়। লাইনচ্যুত কোচ সরানো এবং রেললাইন পরিষ্কারের কাজে রেল দুর্ঘটনা মোকাবিলা দল ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চলায় বহু ট্রেন বাতিল ও বহু ট্রেনের যাত্রাপথ পরিবর্তন করতে হয়।

ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু: ক্রমবর্ধমান সমস্যা

এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এল রেললাইন ও বন্যপ্রাণীর সংঘর্ষের ভয়াবহ বাস্তবতা। ভারতের দ্রুত বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক ক্রমশই বন্যপ্রাণের জন্য একটি বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠছে—বিশেষ করে হাতিদের ক্ষেত্রে।

সাম্প্রতিক একটি সরকারি সমীক্ষায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০০৯-১০ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৮৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

৭৭টি রেলপথ চিহ্নিত, নয়া পরিকল্পনা কেন্দ্রের

এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ১৪টি রাজ্যের মোট ৭৭টি রেলপথ চিহ্নিত করেছে, যেখানে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক, রেল মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার আওতায় আনা হয় মোট ১২৭টি রেলপথ, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩,৪৫২ কিলোমিটার

হাতির চলাচল, অতীত দুর্ঘটনার তথ্য এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে এর মধ্যে ৭৭টি রেলপথকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কী ধরনের কাঠামো তৈরি হবে

হাতির মৃত্যু কমাতে মোট ৭০৫টি বিশেষ কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ৫০৩টি র‍্যাম্প ও লেভেল ক্রসিং
  • ৭২টি সেতুর সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
  • ৬৫টি আন্ডারপাস
  • ২২টি ওভারপাস
  • ৩৯টি বেড়া, ব্যারিকেড বা ট্রেঞ্চ
  • ৪টি এক্সিট র‍্যাম্প

এই সমস্ত কাঠামোর মূল লক্ষ্য একটাই— হাতিদের নিরাপদে রেললাইন পার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া অথবা বিপজ্জনক এলাকাগুলি থেকে তাদের অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া।

অসমসহ হাতি-প্রধান রাজ্যগুলিতে অগ্রাধিকার

হাতির সংখ্যা বেশি এমন রাজ্যগুলিকে এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অসমে তৈরি হবে ১৩১টি লেভেল ক্রসিং ও র‍্যাম্প, মহারাষ্ট্রে ১২৫টি এবং উত্তরপ্রদেশে ৯২টি

২০১৭ সালের হাতি গণনা অনুযায়ী, কর্ণাটকে সবচেয়ে বেশি বন্য হাতি রয়েছে—৬,০৪৯টি। এরপরেই রয়েছে অসম (৫,৭১৯), কেরল (৫,৭০৬) এবং তামিলনাড়ু (২,৭৬১)।

নতুন করে প্রশ্ন বন–রেল সমন্বয় নিয়ে

হোজাইয়ের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বন দফতর ও রেল দফতরের মধ্যে সমন্বয় এবং আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু করিডর এলাকাতেই নয়, করিডরের বাইরেও আধুনিক সতর্কতা ব্যবস্থা, গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

নইলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Saturday, 13 December 2025

কেরলে ঐতিহাসিক ফল: তিরুঅনন্তপুরমে বিজেপির জয়ের পথ

কেরলে ঐতিহাসিক ফল: তিরুঅনন্তপুরমে বিজেপির জয়ের পথে

অবশেষে দক্ষিণে জয়ের পথ খুলছে! তিরুঅনন্তপুরমে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বিজেপি

কেরলের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়। দক্ষিণ ভারতে বিজেপির জন্য দীর্ঘদিনের বন্ধ দরজা খুলে যেতে চলেছে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে কেরলের স্থানীয় নির্বাচনের ফল। পাঁচ দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগম দখলের পথে বিজেপি। যা কেরলের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

যদিও তিরুঅনন্তপুরম বাদ দিলে রাজ্যের বাকি অংশে জয়জয়কার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর। বিপরীতে, স্থানীয় নির্বাচনেও কার্যত ধাক্কা খেল বাম নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ)।

উল্লেখ্য, গত ৯ ও ১১ ডিসেম্বর—দু’দফায় কেরলের পঞ্চায়েত ও পুরভোট অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে গণনা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইতিহাস গড়ে তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগম দখলের পথে গেরুয়া শিবির।

তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমে মোট ১০১টি আসনের মধ্যে ৫০টিতে এগিয়ে বিজেপি—ম্যাজিক ফিগার থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাম শিবির, যারা প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই পুরনিগম নিজেদের দখলে রেখেছিল। এলডিএফ এগিয়ে রয়েছে ২৬টি আসনে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এগিয়ে মাত্র ১৯টি আসনে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, স্থানীয় সাংসদ শশী থারুরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই তাঁর কেন্দ্রের পুরনিগমে বিজেপির এই ঐতিহাসিক সাফল্য। বিজেপির ‘অবিশ্বাস্য’ পারফরম্যান্সে থারুর নিজেও বিস্মিত।

শশী থারুর বলেন, “স্বীকার করতেই হবে বিজেপির এই জয় ঐতিহাসিক। একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট, রাজ্যজুড়ে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বইছে। গোটা রাজ্যে ইউডিএফের বিরাট সাফল্যই প্রমাণ করে, আগামী দিনে কেরলে বদল আসতে চলেছে।”

উল্লেখ্য, এর আগেই কেরলের ত্রিশূরে লোকসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তিরুঅনন্তপুরম লোকসভা কেন্দ্রে আগের নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল গেরুয়া শিবির। এবার পুরনিগম দখলের পথে। ফলে বিজেপির অন্দরে আশার সঞ্চার—হয়তো এবার কেরল এবং দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে তাদের জন্য নতুন রাস্তা খুলতে চলেছে।

রাজ্যজুড়ে ফলাফলের সারসংক্ষেপ

গ্রাম পঞ্চায়েত (মোট ৯৪১)

ইউডিএফ: ৪৭৩ | এলডিএফ: ৩৬৬ | এনডিএ: ২৬

ব্লক পঞ্চায়েত (মোট ১৫২)

ইউডিএফ: ৮১ | এলডিএফ: ৬৫ | এনডিএ: ০

জেলা পঞ্চায়েত (মোট ১৪)

ইউডিএফ: ৮ | এলডিএফ: ৬

পুরসভা (মোট ৮৭)

ইউডিএফ: ৫৫ | এলডিএফ: ২৮ | এনডিএ: ২

পুরনিগম (মোট ৬)

এলডিএফ: ৪ | ইউডিএফ: ১ | বিজেপি: ১

সব মিলিয়ে তিরুঅনন্তপুরমে বিজেপির উত্থান এবং রাজ্যের বাকি অংশে ইউডিএফের সাফল্য— কেরলের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফল যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেবে, সে বিষয়ে একমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ।

Saturday, 6 December 2025

উত্তরপ্রদেশে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ: রাজ্য সরকার চটিয়ে দিল ব্যাপক অভিযান

উত্তরপ্রদেশে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ: রাজ্য সরকার চটিয়ে দিল ব্যাপক অভিযান

উত্তরপ্রদেশে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ত্বরান্বিত — যোগী সরকারের নির্দেশে জেলা পর্যায়ে তল্লাশি, অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার তৈরির নির্দেশ

প্রকাশিত: স্থানীয় রিপোর্ট | বিভাগ: জাতীয় সংবাদ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলছে এমন এক সময়ে উত্তরপ্রদেশ সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে জেলা প্রশাসন ও সন্ত্রাসদমন শাখা রাজ্য জুড়ে তল্লাশি পরিচালনা করছে এবং অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের ঘোষণা ও উদ্দেশ্য

রাজ্য সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থে অবৈধভাবে অন্যদেশ থেকে প্রবেশকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উক্ত অভিযানের লক্ষ্য কেবল অপরিচিত বা অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা নয়, বরং যাঁরা এই অনুপ্রবেশকে সংগঠিতভাবে নিয়ে এসেছে তাদের শিকড় উন্মোচনও রাখা আছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা ও অভিযান

মুখ্যমন্ত্রী কয়েক দিন আগে সমস্ত জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন—জেলাভিত্তিক তালিকা তৈরি করতে হবে, কোথায় কোথায় সন্দেহজনক বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গার উপস্থিতি রয়েছে তা চিহ্নিত করতে হবে, এবং তাঁরা কোন কাজে জড়িত সেই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসদমন শাখা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দফতর তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

"জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও রকম আপস করা হবে না" — রাজ্য সরকারের বিবৃতির একটি অংশ।

গ্রেপ্তারি এবং প্রশাসনিক সন্দেহ

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই কয়েকজন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, অনুপ্রবেশ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় — বরং এটি সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে ঘটছে এবং রাজ্যজুড়ে বিস্তৃতি রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য সেই সংগঠিত শিকড় খুঁজে বের করে ভাঙা।

ডিটেনশন সেন্টার: অস্থায়ী শিবির তৈরির নির্দেশ

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করতে হবে। রাজ্য সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্য দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ওই অস্থায়ী শিবিরগুলিতেই রাখা হবে এবং যাচাই-প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআইআর প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রেক্ষাপট

দেশের কয়েকটি রাজ্যে—মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম চলছে। কেন্দ্রের ব্যাখ্যা, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ভুয়ো ভোটার শনাক্ত করা। এই প্রেক্ষাপটে উত্তরপ্রদেশ সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং এসআইআর-র নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আইনি ও মানবাধিকার বিষয়ে শঙ্কা

প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলেও বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও ডিটেনশনের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া, নথিপত্র যাচাই ও ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা বজায় রাখতে হবে। অনুপযুক্ত তদন্ত বা প্রকাশ্য অ্যাভির প্রক্রিয়া ভুল শনাক্তকরণ এবং বেসামরিকদের হয়রানির কারণ হতে পারে—এটি নিয়মিতভাবে মাথায় রাখা প্রয়োজন।

স্থানীয় প্রভাব ও জনজীবন

তল্লাশি অভিযান ও গ্রেপ্তার কর্মসূচির ফলে কিছু এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—বাজার, কর্মস্থল বা চলাচলে ব্যাঘাতের সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা ছড়াচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে শান্তিপূর্ণভাবে ও আইনি কাঠামোর মধ্যে রেখে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

সরকারি ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

  • জেলা পর্যায়ে সম্পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করে কেন্দ্রকে রিপোর্ট করা।
  • অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার স্থাপন এবং যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা।
  • সংগঠিত চক্রের শিকড়ের সন্ধান ও এখতিয়ারভুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।

ভোটার তালিকার এসআইআর চলাকালীন সময়ে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের তৎপরতা নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক ছড়িয়েছে। সরকারের দাবি—জাতীয় নিরাপত্তার কোনো আপস হবে না; আর পুনরায় বলা হচ্ছে, অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। অন্যদিকে আইনগত স্বচ্ছতা, মানবাধিকার রক্ষা ও যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়া বজায় রাখার দাবি করছেও সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ঘটনা ভবিষ্যৎ কালে কী প্রভাব ফেলে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।

Thursday, 20 November 2025

ভারতকে জ্যাভলিন ও এক্সক্যালিবার — আমেরিকার $93 মিলিয়ন অস্ত্রবিক্রয় অনুমোদন

ভারতকে জ্যাভলিন ও এক্সক্যালিবার — আমেরিকার $93 মিলিয়ন অস্ত্রবিক্রয় অনুমোদন

বিশ্ব সংবাদ: ভারতকে জ্যাভলিন ও এক্সক্যালিবার — আমেরিকার প্রায় $93 মিলিয়ন চুক্তি অনুমোদন

নিউজ ডেস্ক • নতুন দিল্লি / ওয়াশিংটন — ২০ নভেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (DSCA) মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানায় যে মার্কিন সরকার ভারতকে মোটামুটি ৯৩ মিলিয়ন ডলারের মূল্যমানের সামরিক সরঞ্জাম ও সেবা বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে—এতে রয়েছে ১০০টি FGM-148 জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল, ২৫টি লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট (CLU) এবং ২১৬টি এক্সক্যালিবার প্রিসিশন-গাইডেড আর্টিলারি রাউন্ড।

প্যাকেজের সংক্ষিপ্ত উপাত্ত:
  • ১০০ × FGM-148 Javelin anti-tank missiles (জ্যাভলিন)। 1
  • ২৫ × Lightweight Command Launch Units (CLU) — লঞ্চ ইউনিট।
  • ২১৬ × Excalibur precision-guided artillery rounds (এক্সক্যালিবার)।
  • চুক্তির মোট মূল্য প্রায় $93 মিলিয়ন, যার মধ্যে এক্সক্যালিবার পর্বের মূল্য প্রায় $47 মিলিয়ন হিসেবে আলাদা করা হয়েছে। 4
  • DSCA কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিফাই করেছে — এখন সংসদীয় পর্যালোচনার আনুষঙ্গিক সময়সীমা রয়েছে।

DSCA কেন বলছে এই বিক্রয় দরকার?

DSCA-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিক্রয়টি ভারতের সক্ষমতা বাড়াবে — বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবেলা, দেশীয় প্রতিরক্ষা শক্তি দৃঢ়তর করা এবং আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে নিরোধক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্য আছে। তারা দাবি করেছে যে এই সামগ্রীগুলি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করাতে কোনো বিশেষ সমস্যা হবে না এবং অঞ্চলটির মৌলিক সামরিক ভারসাম্য বদলাবে না।

কেন জ্যাভলিন ও এক্সক্যালিবার গুরুত্বপূর্ন?

জ্যাভলিন হল একটি ট্রান্সফার-অফ-টাইপ আনা-ফায়ার, টার্গেট-লক সিস্টেমযুক্ত হিট-টুশ (fire-and-forget) অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল, যা সরাসরি আর্মার্ড টার্গেট ধ্বংসে কার্যকর। সাম্প্রতিক ব্যবহারে — বিশেষত ইউক্রেনে — জ্যাভলিন বিভিন্ন ট্যাঙ্ক ও বাঙ্কার ধ্বংসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। এক্সক্যালিবার হল দীর্ঘস্রপ প্রিসিশন-গাইডেড আর্টিলারি রাউন্ড, যা গোলাবারুদ-ব্যবহারে লক্ষ্য-নির্দিষ্টতা বাড়ায় ও অনাকাঙ্ক্ষিত সাইড-ড্যামেজ কমায়। এই দু'রকমের সক্ষমতা রাজ্যকে স্থল যুদ্ধক্ষেত্রে ফোকাল ও নির্ভুল আঘাত করার সামর্থ্য দেয়।

চুক্তির কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরিপ্রেক্ষিত

এই অনুমোদনটি কতটা কৌশলগত তা বোঝার জন্য দুই দিক খুঁটিয়ে দেখতে হবে — (১) আমেরিকা-ভারত সম্পর্ক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের গভীরতা এবং (২) দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত-প্রতিপক্ষের সামরিক ভারসাম্যের সামঞ্জস্য। DSCA স্পষ্টভাবে জানিয়েছে এই বিক্রয় অঞ্চলীয় সামরিক ভারসাম্য বদলাবে না, যা একটি প্রাতিষ্ঠানিক সতর্কতা এবং কংগ্রেস ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেশীদের শান্ত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যায়।

তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে কিছু প্রশ্নও উঠতে পারে — যেমন রাশিয়া থেকে ক্রয়কৃত অস্ত্রের সঙ্গে চলমান সমন্বয়, তত্ত্বাবধান-প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যতে অংশীদারিত্বভিত্তিক উৎপাদন/কোপ্রোডাকশন-এর সম্ভাব্য আলোচনাসহ নানা বিষয়। অতীতের রিপোর্টে দেখা গেছে, ট্যারিফ ও বাণিজ্যগত মতানৈক্যের ফলে কিছু বড় আমেরিকান সামরিক চুক্তি নিয়ে উদ্বেগও দেখা গেছে; সেগুলোকে মাথায় রেখে এখনকার সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করতে হবে।

সরবরাহ-পরবর্তী সাপোর্ট ও প্রশিক্ষণ

DSCA-র নোটিফিকেশনে বলা হয়েছে যে চুক্তি কেবল অস্ত্র সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়—লাইফ-টাইম সাপোর্ট, নিরাপত্তা পরিদর্শন, অপারেটর প্রশিক্ষণ, লঞ্চ ইউনিটগুলোর রিফারবিশিং সার্ভিস ইত্যাদি সম্পর্কিত সেবা এই প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মানে ভারতকে কেবল সামগ্রী দেওয়া হবে না; দীর্ঘমেয়াদী অপারেশনাল সক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তিগত ও প্রশিক্ষণগত সহযোগিতাও থাকবে।

কোন ধাপ এখন বাকি?

  • DSCA-র নোটিফিকেশন কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে — সাধারণত এক নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ-সময় থাকায় কংগ্রেস যদি আপত্তি না করে, তারপরে চূড়ান্ত অনুমোদন ও চুক্তি ফাইনালাইজেশন হবে।
  • ভারত ও নির্মাতা সংস্থার (Lockheed Martin / RTX ইত্যাদি) মধ্যে সরবরাহ-শর্ত, ডেলিভারি-সময়রেখা ও সম্ভাব্য অফসেট/কো-প্রোডাকশন আলোচনা পরে চূড়ান্ত করা হবে।
বিশ্লেষণ: এই ধরনের ছোট-মধ্যম আকারের প্রতিরক্ষায়নিক প্যাকেজগুলো সাধারণত ইন্টারঅপারেবিলিটি বজায় রাখা, তৎক্ষণাৎ স্থল সামর্থ্য পুনর্গঠন বা ইনভেন্টরি পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে করা হয়—এবং একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক বার্তাও বহন করে।

রিপোর্টটি প্রস্তুত করার সময় ব্যবহার করা মূল সূত্র: DSCA-এর নোটিফিকেশন-সংক্রান্ত সংবাদ কভারেজ ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট। (প্রতিবেদন: নিউজ ডেস্ক) — প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫।

সূত্র (নির্বাচিত): India Today, Indian Express, Economic Times, Business Today, Moneycontrol। 14

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog