পাকিস্তান-ঘেঁষা রাজনীতি কিংবা প্রকাশ্য ভারত-বিরোধিতা—এই দুই পথে শেষমেশ লাভের বদলে ক্ষতিই হয়, সেই বাস্তবতা হয়তো হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাংলাদেশের কট্টর ইসলামপন্থী দল জামাত-ই-ইসলামি। তাই আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে নিজেদের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টায় ভারত সম্পর্কে কিছুটা সংযত ও নরম সুরে কথা বলছে তারা—এমনই ইঙ্গিত মিলছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে।
সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জামাত প্রধান ড. শফিকুর রহমানের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। তাঁর বক্তব্য ছিল,
“ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে বিষয়টি কত রঙিন হয়, দেখুন না…”
এই মন্তব্যের পরই সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। সেই আবহেই আর ব্যাখ্যা না করে সম্মেলন ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন জামাত প্রধান—তা নিয়েই এখন কাটাছেঁড়া চলছে রাজনৈতিক মহলে ও সামাজিক মাধ্যমে।
শেখ হাসিনার জমানার পতনের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে, তার অন্যতম বড় ফল কট্টর ইসলামপন্থীদের পুনরুত্থান। সংখ্যালঘু নির্যাতন, হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ এবং হিংসাত্মক ঘটনার নেপথ্যে সবচেয়ে বেশি দায় চাপছে জামাত-ই-ইসলামির ওপর। হাসিনা সরকারের আমলে দলটির বিরুদ্ধে উগ্রতা ও হিংসায় মদতের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতেই ফের রাজনৈতিক মূলস্রোতে ফিরে আসে জামাত।
এই মুহূর্তে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে রয়েছেন। ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার তাঁকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানালেও ভারত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও অবস্থান নেয়নি। এই ইস্যুতে অতীতে ভারতের কড়া সমালোচনায় সরব ছিল জামাত।
তবে ভোট যত এগোচ্ছে, ততই সাবধানী হচ্ছে দলটি। দীর্ঘদিনের ভারত-বিরোধী ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা স্পষ্ট। এমনকি সংখ্যালঘু ভোট টানতে জামাত এবার প্রার্থী করেছে কৃষ্ণ নন্দী নামে এক হিন্দু মুখকে—যা তাদের রাজনীতিতে একেবারেই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ।
নির্বাচনী ইস্তেহারেও সুর বদলের ইঙ্গিত দিয়েছে জামাত। সেখানে ভারত-সহ ভুটান, নেপাল, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার কথা বলা হয়েছে।
আগামী ১২ তারিখ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ, শেখ হাসিনা অনুপস্থিত—এই পরিস্থিতিতে জামাতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়ার বিএনপি। যদিও বিএনপি তুলনামূলকভাবে কম কট্টর, ফলে জনসমর্থনের দিক থেকে তাদের পাল্লা ভারী বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
তাহলে কি এই বাস্তব সমীকরণ মাথায় রেখেই ভারত নিয়ে নরম সুরে কথা বলছে জামাত? ‘রঙিন’ শব্দের আড়ালে কি সম্পর্ক মেরামতির ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে? নাকি এটি নিছক কৌশলী ধোঁয়াশা?
উত্তর এখনও অধরা। তবে ভোটের মুখে জামাতের ভাষা ও ভঙ্গির এই বদল যে তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে দ্বিমত নেই।








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন