Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Saturday, 13 December 2025

এসআইআরের মাঝে রানাঘাটে মোদির সভা

এসআইআরের মাঝে ‘এক ঢিলে দুই পাখি’, রানাঘাটে মোদির জনসভা

নদিয়া:

বাংলা-সহ দেশের মোট ১২টি রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া। বাংলায় এই কাজ বর্তমানে শেষের পথে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। এরপর আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

তবে খসড়া তালিকায় কত সংখ্যক নাম বাদ পড়তে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এই আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে উদ্বাস্তু ও মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। বিশেষ করে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক অঞ্চলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বাস্তু পরিবারগুলির মধ্যে আশঙ্কা দানা বাঁধছে।

সম্প্রতি এই প্রসঙ্গেই বাঙালি বিজেপি সাংসদদের সতর্ক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসআইআর নিয়ে ‘সমঝে কথা বলার’ বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। মানুষের মনে, বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে যেন কোনও ভয় বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এই আবহেই রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘এক ঢিলে দুই পাখি’কে লক্ষ্য করে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২০ ডিসেম্বর নদিয়া জেলার রানাঘাট মহকুমার তাহেরপুরে একটি জনসভা করবেন তিনি। তাহেরপুর এলাকা উদ্বাস্তু গড় হিসেবেই পরিচিত। ফলে একযোগে মতুয়া এবং উদ্বাস্তু ভোটব্যাঙ্ককে নজরে রেখেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।

আরও খবর পড়ুন কেরলের স্থানীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক ফল। পাঁচ দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটি

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় মোট ১০টি জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে নরেন্দ্র মোদির। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই আলিপুরদুয়ার, দমদম এবং দুর্গাপুরে তিনটি জনসভা সেরে ফেলেছেন তিনি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাকি সাতটি জনসভা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এসআইআরের মাঝেই রানাঘাট থেকে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচনা হতে চলেছে।

ইতিমধ্যেই আগামী ২০ ডিসেম্বর তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতির কাজ। প্রশাসনিক ও দলীয় স্তরে তৎপরতা তুঙ্গে।

বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আগামী ২০ তারিখ প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে আসছেন। তাহেরপুরের মাঠে তিনি জনসভা করবেন। একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। বিহারের জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, গঙ্গা বাংলা হয়েও যায়। আমরা আশা করব, আগামী নির্বাচনে বিহারের মতোই বদল এখানেও দেখা যাবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ঠাকুরনগরের পাশাপাশি নদিয়ার রানাঘাট অঞ্চলও মতুয়াগড় হিসেবে পরিচিত। সুতরাং মতুয়া ভোটারদের মন বুঝতেই রানাঘাটকে বেছে নিয়ে বিজেপির প্রচারের সূচনা— এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

Monday, 8 December 2025

শীতে কাঁপছে বাংলা: কলকাতায় তাপমাত্রা নামল ১৫° সেন্টিগ্রেড — সাতদিনে শুষ্ক ও কুয়াশা


শীতে কাঁপছে বাংলা: কলকাতায় পারদ নামল ১৫° সেন্টিগ্রেড — সপ্তাহজুড়ে শুষ্ক, কুয়াশা ও পরিষ্কার আকাশ

কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত নেই; উত্তুরে শীতল হাওয়া ঢুকায় তাপমাত্রা নিম্নমুখী। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে — আগামী সাতদিন তেমন কোনো বড় বদল নেই।

রিপোর্ট: আবহাওয়া ব্যুরো | আপডেট: আজ

উত্তর থেকে ঢোকার কাঁটা ঠান্ডা হাওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ও উত্তর— উভয়াঞ্চলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কলকাতায় তাপমাত্রা নেমেছে ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে, আর দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলোতে আরও ২–৩ ডিগ্রি কম দেখা গেছে। পার্বত্য দার্জিলিং-এ তাপমাত্রা ৫°-এর নিচে, শ্রীনিকেতনে নেমেছে ৯.৮°-এ — সব মিলিয়ে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধভাগেই শীত বেশ উপভোগ্য।
শীতল আবহাওয়া ও কুয়াশায় ঢাকা শহর

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত নেই। বাতাসের প্রবাহ উত্তর কিংবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হওয়ায় আগামী কয়েকদিন রাজ্যে শুষ্ক শীতল আবহাওয়া বজায় থাকবে। বিশেষত দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় রাত ও দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় নিচু থাকবে।

কলকাতা শহরে সকালের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে গতকাল পারদ নেমে দাঁড়িয়েছিল ১৫° সেন্টিগ্রেডে। দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা রিপোর্ট করা হয়েছে—কিছু জায়গায় তা ১০° সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি নেমে এসেছে। রবিবার শ্রীনিকেতনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৮° সেন্টিগ্রেডে, যা শীতের তীব্রতার ইঙ্গিত দেয়।

আবহাওয়া দপ্তর আরও জানায়, ভোরের দিকে কুয়াশা বা ধোঁয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে সামান্য বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষত পার্বত্য এলাকায় দৃশ্যমানতা অনেক জায়গায় ৯০০ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত নেমে যেতে পারে—সেখানে গাড়ি চালকদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। উপকূলীয় জেলাগুলোতেও কুয়াশার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

মুখ্য নিধান:
  • উত্তুরে থেকে ঢুকছে শীতল তুল্য হাওয়া—নিম্ন তাপমাত্রা।
  • কলকাতায় সর্বনিম্ন ১৫° সেলসিয়াস; শ্রীনিকেতনে ৯.৮° রেকর্ড।
  • সপ্তাহজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া, আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।
  • সকালে কুয়াশা ও দৃশ্যমানতা কমার সম্ভাবনা—বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

আরও খবর পড়ুন , গোয়ার নাইটক্লাবে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড — মৃত ২৩

জেলার حسابে সংক্ষিপ্ত পূর্বাভাস

অঞ্চল সর্বনিম্ন (°C) সর্বোচ্চ (°C) বিশেষ দ্রষ্টব্য
কলকাতা ১৫ ২৫٫৬ (গতকাল) সকালে হালকা কুয়াশা, পরে পরিষ্কার আকাশ
দার্জিলিং (পার্বত্য) ৫-এর নিচে ১২-১৪ দৃশ্যমানতা খারাপ হতে পারে
মালদহ ~১৫ ~২৪ সকালে কুয়াশা
শ্রীনিকেতন ৯.৮ (রেকর্ড) ~২৩ স্যানিটারি ও ট্রাফিক সচেতনতা বজায় রাখুন
উপকূলীয় জেলাগুলি ১২-১৫ ~২৫ সকালে কুয়াশার সম্ভাবনা বেশি

পরবর্তী সাতদিনে কী আশা করা যায়?

আলিপুর অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী সাতদিন রাজ্যে বড় ধরনের আবহাওয়াগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। দিনভর পরিষ্কার আকাশ ও শুষ্ক আবহাওয়া ধরে থাকবে। ভোর ও সন্ধ্যার পরিপ্রেক্ষিতে শীতের আমেজ তীব্র থাকবে, সেজন্য সকালের বাইরে বেরোনোর সময় গরম কাপড় পরা জরুরি। আধুনিক শহরে কুয়াশার কারণে অফিসগমন এবং স্কুল-কলেজে কিছুটা বিলম্ব ঘটতে পারে—পরিবহন পরিষেবা ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করা হচ্ছে সময়সূচি অনুযায়ী বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার জন্য।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা টিপস

  • কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার সময় গাড়ি ধীরে চালান, ফোগ লাইট ব্যবহার করুন এবং হেডলাইট অন রাখুন।
  • ঠান্ডায় বাচ্চা ও বৃদ্ধদের অতিরিক্ত গরম কাপড় দিন; সাধারণ সর্দি-কাশি বাড়তে পারে।
  • শীতকালে ব্যক্তিগত হাইজিন বজায় রাখুন—প্রচুর পানি পান ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করুন।
  • পার্বত্য এলাকার ভ্রমণকারীরা রাস্তায় ধরা পড়া কুয়াশা ও স্লিপিং কন্ডিশনে সতর্ক থাকুন।

নোট: এখানে দেওয়া তাপমাত্রা ও পরিবেশগত শর্তাবলী আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও আঞ্চলিক রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। আঞ্চলিকভাবে স্বল্পমেয়াদে পরিবর্তন ঘটলে স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর ও সরকারি বিজ্ঞপ্তি লক্ষ্য করুন।

শীত ২০২৫ আবহাওয়া আপডেট কলকাতা কুয়াশা সতর্কতা
© ২০২৫ ডিজিটাল খবর | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। সর্বশেষ আবহাওয়া তথ্যের জন্য স্থানীয় আবহাওয়া দফতরের ঘোষণা অনুসরণ করুন।

কোচবিহার সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | পাশে থাকার বার্তা


পাশে থাকার সফরে কোচবিহার যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক দূর করতেই উত্তরবঙ্গ সফর, আজ প্রশাসনিক বৈঠক রবীন্দ্রভবনে — কাল রাজনৈতিক সভা রাসমেলা মাঠে

স্টাফ রিপোর্টার: ‘পাশে থাকা’র বার্তা নিয়ে আজ, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুই দিনের সফরে পৌঁছচ্ছেন উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে। দুপুরে শহরে আসার পর সন্ধ্যা ৪টে নাগাদ তিনি উপস্থিত থাকবেন কোচবিহারের রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে। সেখানে জেলার উন্নয়নমূলক কাজ, বন্যা ও ধস পরিস্থিতিতে নেওয়া পদক্ষেপ এবং বকেয়া প্রকল্পের অগ্রগতির পর্যালোচনা করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার কোচবিহার শহরের রাসমেলা মাঠে হবে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় রাজনৈতিক সভা। সেখানেই বক্তব্য রাখবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসআইআর (স্টেট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার)–কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই মুখ্যমন্ত্রী জেলায়-জেলায় সভা করছেন। ইতিমধ্যে বনগাঁ, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তার বক্তৃতায় দেখা গিয়েছে জনজোয়ার। উত্তরবঙ্গের মালদহ ও দার্জিলিং-এ বন্যা-ধসের বিপর্যয়ের পর গত এক মাসে তিন বার উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলেন তিনি, তবে কোচবিহার সফরটি বাকি ছিল। এবার সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

Mamata Banerjee Political Rally Image

“আমি থাকতে কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না” — আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

সম্প্রতি বনগাঁর সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

“আমি ভোট চাইতে আসিনি। যখন নির্বাচন হবে তখন ভোটের কথা বলব। আমি এসেছি শুধুমাত্র আপনাদের পাশে থাকতে। তিন বছরের কাজ তিন মাসে হয় না। ভয় পাবেন না। আমি থাকতে কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না। কাউকে পুশব্যাক করা হবে না। যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা সবাই নাগরিক। কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর ইস্যুতে বিজেপি একটি বড় রাজনৈতিক অঙ্ক কষেছিল। কিন্তু সেই সমীকরণকে কার্যত নস্যাৎ করে দিতে তৃণমূলের কৌশল, মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছনো ও আশ্বাস-ভিত্তিক প্রচার। মাঠে নেমে নিজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা তৃণমূল কর্মীদেরও নবউদ্দীপনায় ভরিয়ে তুলেছে।

কোচবিহারের প্রশাসনিক বৈঠকের মূল লক্ষ্য

নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ে জোর দেওয়া হবে —

  • জেলার বকেয়া উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করা
  • বন্যা ও ধসের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা
  • এসআইআর সংক্রান্ত সরকারি প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক নজরদারি

সাথে, বিপর্যয় মোকাবিলায় ভবিষ্যতের প্রস্তুতি পরিকল্পনাও আলোচনার তালিকায় থাকতে পারে।

রাজনৈতিক সভার আগে মন্দিরে পুজো

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালেই মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর রাসমেলা মাঠে জনসভা। উত্তরবঙ্গের মানুষকে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি এখানে তিনি আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক দিশা ও কর্মসূচি নিয়েও ঘোষণা করতে পারেন।

আরও খবর পড়ুন , মোদির সফরের আগেই নদিয়ায় মমতা: SIR-এর আবহে মতুয়াগড় থেকে কৃষ্ণনগরে জোরালো বার্তা

ভোটের আগে রাজনৈতিক অঙ্ক

সূত্রের মতে, এসআইআর-এর কাজ শেষ হওয়ার পরই ফেব্রুয়ারির শেষদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীও শুরু করে দিয়েছেন দলের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির কাজ। জেলা নেতৃত্বকেও তিনি বিশেষ নির্দেশ দিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।

তৃণমূল সূত্রে দাবি, উত্তরবঙ্গের বিজেপি ঘাঁটিতে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দল মনে করছে, মানুষের উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে কারণ “মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ”ই মমতার সবচেয়ে বড় শক্তি।

উত্তরবঙ্গ সফর শেষে বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, মুখ্যমন্ত্রী সভা করতে যাবেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরে।

হাইলাইটস

  • আজ প্রশাসনিক বৈঠক — কাল বড় রাজনৈতিক সভা রাসমেলা মাঠে।
  • এসআইআর আতঙ্ক দূর করতেই ‘পাশে থাকা’র সফর।
  • “কেউ ডিটেনশন ক্যাম্পে যাবেন না”— মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা।
  • বন্যা–ধসের পর কোচবিহার সফর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
  • ভোটের আগে সংগঠন চাঙ্গা করার মমতার কৌশল।
© ২০২৫ Y Bangla News | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Sunday, 7 December 2025

মোদির সফরের আগেই নদিয়ায় মমতা: SIR-এর আবহে মতুয়াগড় থেকে কৃষ্ণনগরে জোরালো বার্তা

রাজনীতি • নিরাপত্তা • নির্বাচন

নদিয়ায় জনসভা-মঞ্চ প্রস্তুতি: কৃষ্ণনগর মাঠে নিরাপত্তা খতিয়ে দেখেছেন ADG (দক্ষিণবঙ্গ)

বেঙ্গল রিপোর্ট — ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ • আপডেটেড লোকেশন: কৃষ্ণনগর, নদিয়া

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা পর্যায়ের জনসভা চলছে। নদিয়ার কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ মাঠেই ১১ ডিসেম্বর ওই সভা হওয়ার কথা। জননেত্রীর আগমন এবং বিশাল সমাবেশকে কেন্দ্র করে মঞ্চস্থাপনা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ-পথ ও প্রস্থানসহ নিরাপত্তার নানা দিক খতিয়ে দেখতে শনিবার ওয়েস্ট বেঙ্গলের ADG (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার কৃষ্ণনগরের সেই মাঠ পরিদর্শন করেন—এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বিভিন্ন সূক্ষ্ম দিক চূড়ান্ত করেন।

উৎস: স্থানীয় পরিসরে প্রাপ্ত রিপোর্ট (নিবন্ধকের সংগ্রহ) এবং পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র।

পরিদর্শনে কী ঘটল — সংক্ষেপে

ADG-su প্রাথমিকভাবে মঞ্চের অবস্থান, অডিও-ভিজুয়াল সেটআপ, জরুরি বাহিনী ও অ্যাম্বুল্যান্স যোগসাজশ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যারিয়ার স্থাপন এবং প্রবেশপথে নিরাপত্তা স্ক্রিনিং-এর ব্যবস্থা — এসব খতিয়ে দেখেন। তিনি মাঠের সম্ভাব্য জমায়েতের দিক বিবেচনা করে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ও জরুরি निकাশের পথ নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনকে দিকনির্দেশ দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

“মঞ্চ ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ হবে প্রথম অগ্রাধিকার; আতঙ্ক বা ধাক্কাধাক্কি যেন না ঘটে—তার জন্য মাঠের প্রতিটি প্রবেশ-পথ পরীক্ষা করা হয়েছে,”—এক আধিকারিকের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য।

ADG (South Bengal) নিযুক্তির পটভূমি ও দক্ষিণবঙ্গের নিরাপত্তা তদারকির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ডের প্রেক্ষিতে পরিদর্শনটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মঞ্চ ও ভোটকেন্দ্রগত কৌশল — রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

তৃণমূল কংগ্রেস নানামুখী জনসমাগমের মাধ্যমে SIR (Special Intensive Revision)–এর বিরুদ্ধে রাজ্যব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। মমতা গত কয়েক দিন ধরে মতুয়ারা-ঘন অঞ্চল বনগাঁ (বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বোনাাগণ এলাকা), মুর্শিদাবাদ ও মালদহে জনসভা করেছেন এবং কোচবিহারে আরও সভার সূচি রয়েছে। এসব জেলা নির্বাচনী ভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল—এবং এসব সফরকে কেন্দ্র করে জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক-নিরাপত্তা সমন্বয় মোতায়েন বাড়ানো হচ্ছে।

SIR–এর ফলে ভোটার তালিকার ত্রুটির অভিযোগ ও উদ্বেগ রাজনৈতিক তাপমাত্রা বাড়িয়েছে; সেই পটভূমিতেই মমতা ও দলের কর্মীরা জনসমাবেশ চালিয়ে জনগণের মনে নিশ্চয়তা দেয়ার চেষ্টা করছেন। SIR ও সংশ্লিষ্ট বিতর্কের জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের প্রাসঙ্গিকতা এবং তাতে নেত্রীর রণনীতি—এই সবই কেন কৃষ্ণনগর সভাটিকে কৌশলগত প্রাধান্য দিচ্ছে তা বোঝায়। {index=3}

নদিয়ার জনসম্রাট — মতুয়ারার রাজনৈতিক গুরুত্ব

নদিয়ার কিছু বিধানসভায় মতুয়ারা সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে; তাই মমতার বনগাঁ (বঙ্গোপসাগরের পাশের মতুয়া-ঘন এলাকা) থেকে দেওয়া বার্তা এবং কৃষ্ণনগরে শিবির আয়োজন—এগুলো স্থানীয় ভোটপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মঞ্চের বক্তৃতা ও সমাবেশের সময় মমতার দেওয়া সুর ও আশ্বাস স্থানীয় সমর্থকদের ওপর তাত্ক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

পুলিশ ও প্রশাসনের প্রস্তুতি — জেলা পর্যায়ের যৌথ বৈঠক

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ মিলে সভার পূর্বে নিরাপত্তা চক্র ও কন্টিনজেন্সি প্ল্যান চূড়ান্ত করবে—এমনটাই জানানো হয়েছে। প্রবেশ-পয়েন্টে কড়া চেকিং, লোগিস্টিক এস্কর্ট, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং ট্রাফিক রুট-রিডাইরেকশন পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হচ্ছে। এমন সভায় জনসমাগমের আগে সরকারি ও পুলিশি যৌথ প্রস্তুতি নিয়মিত অনুশীলিত প্রক্রিয়া; কৃষ্ণনগর ক্ষেত্রেও সেই ফ্রেমওয়ার্ক অনুসরণ করা হচ্ছে।

জনসভা থেকে কী বার্তা আশা করা যাচ্ছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—মমতা এই সভা থেকে SIR–বিরোধী তীব্র বার্তা, স্থানীয় নিরাপত্তা-বিষয়ক আশ্বাস এবং তৃণমূলের হেল্পডেস্ক/কোয়ারেন্টি নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা সম্পর্কে জনসমক্ষে পুনরায় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন। নদিয়ার নির্দিষ্ট কিছু আসনে মতুয়ারা তথা অনুশীলিত ভোটদাতা-শ্রেণীর মন জয় করাও দলটির লক্ষ্য থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

লেখক: স্থানীয় রাজনৈতিক সংবাদদাতা
উল্লেখযোগ্য সূত্র: UNI, Millenium Post ও সংবাদসংগ্রহ; SIR প্রক্রিয়া ও মমতার রাজ্য সফরের পটভূমি সম্পর্কিত ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচন-রিলেটেড রিপোর্ট। পঠনায় আরো তথ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য সংবাদপত্র/প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তি দেখুন।

গোয়ার নাইটক্লাবে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড — মৃত ২৩

গোয়ার নাইটক্লাবে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড — মৃত ২৩

গোয়ার নাইটক্লাবে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড — মৃত ২৩

উত্তর গোয়ারের আরপোরা গ্রামের একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে শনিবার মধ্যরাতে (৬–৭ ডিসেম্বর ২০২৫) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও উদ্ধারকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে সিলিন্ডার বিস্ফোরণকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। হতাহতদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। নিচে সম্পূর্ণ ঘটনা, উদ্ধারকাজ ও তদন্ত সম্পর্কিত প্রাপ্ত তথ্য দেওয়া হলো।

নাইটক্লাবে আগুনের পর দগ্ধ ভবনের ভিউ (প্রতীকী ছবি)

ঘটনার বিবরণ

পুলিশের প্রথম খবর অনুযায়ী, শনিবার মধ্যরাতে ক্লাবে একটি কুকিং/রানিং সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্লাবটি গভীর রাতে জনসমাগমপূর্ণ ছিল — অনেক পর্যটক ও স্থানীয়রা সেখানে ছিল। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ও শিখা পুরো কভার করে নেয় ক্লাবটির অভ্যন্তর। অতিরিক্ত ভিআইপি রুম ও সঙ্কীর্ণ মুখোশার কারণে লোকেরা বের হতে ব্যর্থ হলে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ে।

উদ্ধারকাজ ও জরুরি প্রতিক্রিয়া

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় দমকলবাহিনী, পুলিশ ও মেডিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দমকলকর্মীরা আগুন নেভাতে কয়েক ঘণ্টা কাজ করে। বহু শিশুসহ আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে; তাদের মধ্যে যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, তাদের দ্রুত কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

প্রাথমিক জরুরি সংখ্যাসূচক তথ্য (পুলিশ/অতিরিক্ত সূত্র):

  • মৃতঃ কমপক্ষে ২৩ জন (প্রাথমিক রিপোর্ট)।
  • আহতঃ বহুজন - তাদের মধ্যে অনেকে দগ্ধ ও ধোঁয়ায় আহত।
  • পর্যটক অন্তর্ভুক্তিঃ নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
  • সম্ভাব্য কারণঃ প্রাথমিকভাবে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ধরা হচ্ছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য

পুলিশ সুপার ও দমকল বিভাগের সিনিয়র অফিসাররা জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক প্রতীয়মান উপাদান ও সাক্ষ্যাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ক্লাবটির লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দলিলাদি পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে সহায়তার জন্য ফরেনসিক টিমও আনা হয়েছে।

পুলিশি ও তদন্ত সংক্রান্ত অগ্রগতি

তদন্তে দেখা হবে—(ক) ক্লাবের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম ঠিকঠাক ছিল কি না, (খ) সিলিন্ডারটি কোথা থেকে এসেছে ও তার লাইসেন্স/সার্টিফিকেট ছিল কি না, (গ) আগুন লাগার পর ব্যারিকেড বা জরুরি প্রস্থান পথ অবরুদ্ধ ছিল কি না। অপরাধী উদ্দেশ্য বা ঘাটতি—উভয় সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হবে।

পরিবার ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়রা শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষুব্ধ। কিছু লোক অভিযোগ করেছেন যে ক্লাবটির জরুরী প্রস্থান পথ ছিল সঠিকভাবে চিহ্নিত বা মুক্ত রাখা হয়নি। নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার জন্য স্থানীয় প্রশাসন মানসিক ও আর্থিক সহায়তা জানাতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নির্দেশনা

- আগুন বা বিস্ফোরণ ঘটলে প্রথমত ধুলো/ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন এবং নিচু অবস্থান নিন।
- জরুরি প্রস্থান পথ ও সাইন বোর্ড খোঁজ করুন; সম্ভব হলে দ্রুত বহির্গমন করুন।
- দগ্ধ আহতদের জন্য বরফ, পরিষ্কার জল বা অ্যান্টিসেপ্টিক ব্যবহার না করে দ্রুত হাসপাতালে নিন।
- সন্দেহভাজন সিলিন্ডার/গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি।

জরুরি হটলাইন (স্থানের নিকটস্থ):

দমকল: ১০৯১ • পুলিশ: ১০০ • এম্বুল্যান্স: ১০২

পরবর্তীকালের প্রত্যাশা

তদন্ত শেষে নিরাপত্তা লঙ্ঘন বা নির্দেশনা না মানার যে কোনও দায়ীকে আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এই ধরনের জনসমাগমস্থলে কড়া নিরাপত্তা এবং আগুন নিধন বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করবে বলে ঘোষণা করতে পারে।

গোয়া অগ্নিকাণ্ড নাইটক্লাব সিলিন্ডার বিস্ফোরণ পর্যটক

প্রতিবেদন করা হয়েছে স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও উদ্ধারসংস্থার প্রাথমিক বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে। এই রিপোর্ট পরবর্তীতে আদালত বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপডেট করা হবে।

লেখক: Md Sirajul Islam • যোগাযোগ: reporter@example.com

© 2025 স্থানীয় সংবাদ — সকল অধিকার সংরক্ষিত

Saturday, 6 December 2025

উত্তরপ্রদেশে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ: রাজ্য সরকার চটিয়ে দিল ব্যাপক অভিযান

উত্তরপ্রদেশে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ: রাজ্য সরকার চটিয়ে দিল ব্যাপক অভিযান

উত্তরপ্রদেশে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ত্বরান্বিত — যোগী সরকারের নির্দেশে জেলা পর্যায়ে তল্লাশি, অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার তৈরির নির্দেশ

প্রকাশিত: স্থানীয় রিপোর্ট | বিভাগ: জাতীয় সংবাদ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলছে এমন এক সময়ে উত্তরপ্রদেশ সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে জেলা প্রশাসন ও সন্ত্রাসদমন শাখা রাজ্য জুড়ে তল্লাশি পরিচালনা করছে এবং অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের ঘোষণা ও উদ্দেশ্য

রাজ্য সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থে অবৈধভাবে অন্যদেশ থেকে প্রবেশকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উক্ত অভিযানের লক্ষ্য কেবল অপরিচিত বা অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা নয়, বরং যাঁরা এই অনুপ্রবেশকে সংগঠিতভাবে নিয়ে এসেছে তাদের শিকড় উন্মোচনও রাখা আছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা ও অভিযান

মুখ্যমন্ত্রী কয়েক দিন আগে সমস্ত জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন—জেলাভিত্তিক তালিকা তৈরি করতে হবে, কোথায় কোথায় সন্দেহজনক বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গার উপস্থিতি রয়েছে তা চিহ্নিত করতে হবে, এবং তাঁরা কোন কাজে জড়িত সেই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসদমন শাখা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দফতর তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

"জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও রকম আপস করা হবে না" — রাজ্য সরকারের বিবৃতির একটি অংশ।

গ্রেপ্তারি এবং প্রশাসনিক সন্দেহ

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই কয়েকজন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, অনুপ্রবেশ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় — বরং এটি সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে ঘটছে এবং রাজ্যজুড়ে বিস্তৃতি রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য সেই সংগঠিত শিকড় খুঁজে বের করে ভাঙা।

ডিটেনশন সেন্টার: অস্থায়ী শিবির তৈরির নির্দেশ

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করতে হবে। রাজ্য সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্য দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ওই অস্থায়ী শিবিরগুলিতেই রাখা হবে এবং যাচাই-প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআইআর প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রেক্ষাপট

দেশের কয়েকটি রাজ্যে—মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম চলছে। কেন্দ্রের ব্যাখ্যা, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ভুয়ো ভোটার শনাক্ত করা। এই প্রেক্ষাপটে উত্তরপ্রদেশ সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং এসআইআর-র নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আইনি ও মানবাধিকার বিষয়ে শঙ্কা

প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলেও বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও ডিটেনশনের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া, নথিপত্র যাচাই ও ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা বজায় রাখতে হবে। অনুপযুক্ত তদন্ত বা প্রকাশ্য অ্যাভির প্রক্রিয়া ভুল শনাক্তকরণ এবং বেসামরিকদের হয়রানির কারণ হতে পারে—এটি নিয়মিতভাবে মাথায় রাখা প্রয়োজন।

স্থানীয় প্রভাব ও জনজীবন

তল্লাশি অভিযান ও গ্রেপ্তার কর্মসূচির ফলে কিছু এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—বাজার, কর্মস্থল বা চলাচলে ব্যাঘাতের সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা ছড়াচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে শান্তিপূর্ণভাবে ও আইনি কাঠামোর মধ্যে রেখে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

সরকারি ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

  • জেলা পর্যায়ে সম্পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করে কেন্দ্রকে রিপোর্ট করা।
  • অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার স্থাপন এবং যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা।
  • সংগঠিত চক্রের শিকড়ের সন্ধান ও এখতিয়ারভুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।

ভোটার তালিকার এসআইআর চলাকালীন সময়ে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের তৎপরতা নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক ছড়িয়েছে। সরকারের দাবি—জাতীয় নিরাপত্তার কোনো আপস হবে না; আর পুনরায় বলা হচ্ছে, অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। অন্যদিকে আইনগত স্বচ্ছতা, মানবাধিকার রক্ষা ও যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়া বজায় রাখার দাবি করছেও সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ঘটনা ভবিষ্যৎ কালে কী প্রভাব ফেলে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।

বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস, তীব্র যানজট — বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হুমায়ুন কবীর


বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস, তীব্র যানজট — বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হুমায়ুন কবীর

প্রতিবেদন | বিভাগঃ রাজ্য সংবাদ | স্থানঃ বেলডাঙা, মুর্শিদাবাদ

বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শনিবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পাশাপাশি চরম নাজেহাল হয়েছেন সাধারণ মানুষ এবং নিত্যযাত্রীরা। অনুষ্ঠানের ভিড়ে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জাতীয় সড়ক ১২ নম্বর। পরপর দাঁড়িয়ে পড়ে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, গাড়ি—গড়ে ওঠে দীর্ঘ যানজট। অনেককেই সাত থেকে আট কিলোমিটার পর্যন্ত হেঁটে পৌঁছতে হয়েছে নিজের গন্তব্যে।

অবরুদ্ধ ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, দুর্ভোগ চরমে

স্থানীয় সূত্রে খবর, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহরের মূল রাস্তায় নেমে আসেন। যেখানে অনুষ্ঠানটি হয়, সেই জায়গা থেকে জাতীয় সড়ক খুব একটা দূরে নয়। ফলে প্রবল জনসমাগমে সড়কের উপর চাপ বৃদ্ধি পায় এবং গাড়ি চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। কলকাতামুখী রাস্তায় যানজট সবচেয়ে তীব্র হয়ে ওঠে এবং সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে আশঙ্কা।

অন্যদিকে শিলিগুড়িমুখী লেনে অপেক্ষাকৃতভাবে যানজট কিছুটা কম হলেও যানবাহন চলাচলে সমস্যার কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হঠাৎ এমন পরিস্থিতির ফলে স্কুল ছাত্রছাত্রী, অফিসগামী কর্মী ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও ব্যাপক সমস্যায় পড়ে।

কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া — “ধর্মের মোড়কে রাজনীতি হলে তা ধর্ম থাকে না”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে উত্তাল আলোচনা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান যে, কোনও ব্যক্তি বা দল যদি মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা উপাসনার স্থাপনা গড়ে তুলতে চান, তার জন্য কাউকে বহিষ্কার বা শাস্তি দেওয়ার প্রশ্ন নেই।

“বাংলায় কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ তাঁদের কোনও জায়গায় মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা তাঁদের ধর্মের কোনও আরাধনা, প্রার্থনার জায়গা করতেই পারেন। তার জন্য তাঁকে বহিস্কার বা তাঁর প্রতি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে না। এটা তৃণমূল কংগ্রেস করেনি এবং করবেও না।” — কুণাল ঘোষ

তবে তিনি দাবি করেন, যদি ধর্মীয় আবেগের ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে মেরুকরণের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, তবে তা ধর্মীয় কর্মসূচির আওতার বাইরে চলে যায় এবং দল বিরোধী কাজ হিসেবে দেখা হয়।

“যদি কোনও ব্যক্তি অন্য রাজনৈতিক দলের চক্রান্তের ফাঁদে পড়ে, প্ররোচিত হয়ে ধর্মের মোড়কে রাজনৈতিক অঙ্কে ভোটের রাজনীতির বিষাক্ত মেরুকরণের মায়াজাল তৈরি করতে চান কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন, দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেন— তাহলে বিষয়টি ধর্মের মধ্যে থাকে না।” — কুণাল ঘোষ

পাশাপাশি তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস প্রত্যেকের ধর্ম ও অধিকারকে সম্মান করে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সমর্থন করে। ব্রিগেডে অনুষ্ঠিত গীতাপাঠ কর্মসূচি সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন এবং নাম না করে হুমায়ুন কবীরকে কটাক্ষ করে বলেন,

“কেউ যদি বলে অমুক তৈরির জন্য ব্যবস্থা, তা একেবারেই মিথ্যা। মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা আরাধ্য স্থান তৈরির জন্য ব্যবস্থা নেয়নি, নেবে না।” — কুণাল ঘোষ

কর্মসূচি ঘিরে বিতর্ক বাড়ছে

যদিও হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত মালুম হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিষয়টি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ব্যতীত করা হয়েছে বলেই দলের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। দলের তরফে তাঁকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এই শিলান্যাস রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা নিয়ে এখন জোর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিরোধীদের মতে, এ ধরনের ইস্যু অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এমন আয়োজনের ফলে জনজীবনে প্রভাব পড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। তাই যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছাড়া এমন অনুষ্ঠান করা দায়িত্বজ্ঞানহীন।

জানতে চাইছে মানুষ — নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায়?

ঘটনার পরে বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, বিপুল ভিড় ও যানজটের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেন আগাম ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালগামী মানুষ ও জরুরি পরিষেবার যান পর্যন্ত আটকে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

স্থানীয়দের মতে, জনসমাগমের অনুমতি থাকলেও, ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

উপসংহার

বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সামনে এসে পড়েছে খবরের প্রধান বিষয় হিসেবে। পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হয় বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী দিকে যায়— তা এখন সময়ই বলবে। আপাতত যানজটে অবরুদ্ধ হওয়া মানুষদের দুর্ভোগের চিত্র সামাজিক-মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে।

সংহতি দিবসে মমতা: "বাংলার মাটি একতার মাটি" — তৃণমূলের উদ্যোগ ও প্রস্তুত

<div class="separator" style="clear: both;"><a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgOclmny2-j4EPm_u7yH6pu26cyCzgm-c4EmY4ofEMAmxxTpV2RWIwisOdfqtVAe9loX8E59NFpmVOSTaEZ08OYncYySRauyzfjDmOI6qorT6nid_yN5SWiVu0jd4E6RiUkShh2abri1bvtjbiQ0yNfeaYklhq-Yj0ohtw6WitQNGmNk0FfT1B4ZQB62g/s640/Mamata_Banerjee_at_Bongaon_Stadium_in_2008_IMG_0276.jpg" style="display: block; padding: 1em 0; text-align: center; "><img alt="" border="0" height="320" data-original-height="640" data-original-width="480" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgOclmny2-j4EPm_u7yH6pu26cyCzgm-c4EmY4ofEMAmxxTpV2RWIwisOdfqtVAe9loX8E59NFpmVOSTaEZ08OYncYySRauyzfjDmOI6qorT6nid_yN5SWiVu0jd4E6RiUkShh2abri1bvtjbiQ0yNfeaYklhq-Yj0ohtw6WitQNGmNk0FfT1B4ZQB62g/s320/Mamata_Banerjee_at_Bongaon_Stadium_in_2008_IMG_0276.jpg"/></a></div>ি

সংহতি দিবসে মমতা গর্জলেন: “বাংলার মাটি একতার মাটি” — তৃণমূল ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতৃত্বে কর্মসূচি

প্রকাশঃ ৬ ডিসেম্বর | বিভাগঃ রাজনীতি | রিপোর্টারঃ স্থানীয় সংবাদদাতা

সংহতি দিবসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় X হ্যান্ডেলে (টুইটারে) একবারই না, বারবার জোর দিয়ে বললেন—Bengal একতার মাটি; ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিকে স্মরণ করে তৃণমূলের এবারও ঘিরে রয়েছে বড় একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মসূচি ও রাজনৈতিক পরিবেশ।

মুখ্যমন্ত্রী X-হ্যান্ডেলে লেখেন, “বাংলার মাটি একতার মাটি। এই মাটি রবীন্দ্রনাথের মাটি, নজরুলের মাটি, রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের মাটি—এই মাটি কখনো মাথা নত করেনি বিভেদের কাছে, আগামীদিনেও করবে না। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ— বাংলায় সকলে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে জানি। আনন্দ আমরা ভাগ করে নিই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার। যারা সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালিয়ে দেশকে ধ্বংস করার খেলায় মেতেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে। সকলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন।”

পটভূমি: কেন ৬ ডিসেম্বর সংহতি দিবস?

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের ইতিহাসে এক দাগ রেখে গিয়েছে—বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়। ঐ ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার স্মৃতি রয়ে গিয়েছে। সেই স্মৃতিকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিবারের মতো এ বছরও ৬ ডিসেম্বরকে সংহতি দিবস হিসেবে পালন করছে। এইদিনকে কেন্দ্র করে দলের তরফে ভাবধারা প্রচার ও জনজোয়ার তৈরির পাশাপাশি শান্তি-সম্প্রীতি চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কর্মসূচি ও সংগঠন

এইবারের কর্মসূচি আয়োজনের মেঝে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠনকে। কলকাতা পুরো অনুষ্ঠানটির মূল কেন্দ্র হলেও দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়ার ছাত্র-যুব সংগঠনদেরই মূলত যোগ দিতে বলেছে দল। শনিবার দুপুরে যে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু ও জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।

তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তার সব ব্যবস্থাও চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে—প্রশাসন ও দলীয় নেতারা নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে কৌশল নির্ধারণ করেছেন, যাতে শান্তিপূর্ণ ও আয়োজিত পরিবেশ বজায় থাকে।

নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি

সভা প্রস্তুতি সংক্রান্ত বৈঠকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা—বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য—নিরাপত্তা বিষয়ক আধিকারিকদের সঙ্গে বসেছেন। তাদের আলোচ্যসূচিতে ছিল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, পথ চলাচল ব্যবস্থাপনা, ও তৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদানের পরিকল্পনা। নিরাপত্তা টিমগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং সভা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করা সম্ভব হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: নির্বাচন ও অভিযোগ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বিরোধী দল বিজেপি এবং কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী সংখ্যালঘুদের নিশানায় আঘাত করে রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে—যার উদ্দেশ্য নির্বাচনী লাভ অর্জন। এই অভিযোগকে সামনে রেখে সংহতি দিবসের মতো ইভেন্টগুলোর রাজনৈতিক তাৎপর্য বেড়ে যায়।

তৃণমূল ব্লক মনে করায়—সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক কাজ করাই কিছু দিক থেকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনে। তাই মুখ্যমন্ত্রী ও দলীয় নেতৃত্ব বারবার সংহতি, সহনশীলতা ও সম্মিলিত জাতীয়তাবাদকে সামনে আনছেন। তাঁদের বক্তব্য, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সামাজিক মেলবন্ধন রাজ্যের স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার গুরুত্ব

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া বার্তা শুধুই রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়—এটি একটি সামাজিক আহ্বানও। 'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার' — এই বাক্যটি বাংলার বহুজাতিক সস্য-সংস্কৃতি, সাহিত্যিক ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সমঝোতার বার্তা বহন করে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের নাম উল্লেখ করে তিনি যে ঐক্য ও মানবতাবাদকে তুলে ধরেছেন, তা স্থানীয় সামাজিক সংহতির অনুভূতিকে জোরদার করে।

সমালোচনা ও শঙ্কা

অন্যদিকে বিরোধীরা বলেন, রাজনৈতিক ভাবে ইভেন্টগুলোকে নির্বাচনী প্রসঙ্গে গুরুতরভাবে দেখা হচ্ছে এবং কখনো কখনো সেগুলো স্থানীয় উত্তেজনা বাড়ানোর কারণও হতে পারে। তাই প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উভয়কেই দায়িত্বশীলভাবে এগোতে হবে—যা সভা-সমাবেশকে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত রাখবে।

দাবি, পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যাশা

তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, যারা সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালিয়ে রাজ্যকে অশান্ত করতে চান তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে—অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সমাজ—তিনটি স্তরকেই সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। অনুষ্ঠানটি যে মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক রঙ নিতে পারে, সে আশঙ্কা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার দিকটিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উপসংহার

সংহতি দিবসের এই ভাবনা ও আয়োজনে স্পষ্ট এক মেসেজ পাঠানো হচ্ছে—"বাংলার মাটি একতার মাটি"। মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের তরফে বারবার যে একতার আহ্বান শোনা যাচ্ছে, তা যদি বাস্তবে সামাজিক স্তরে মেনে চলা যায়, তাহলে রাজ্যের বৈচিত্র্য ও সন্নিবেশ আরও দৃঢ় হবে। সভা-সমাবেশ থেকে যে বার্তা যাবে, তা কেবল রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর নয়—একটি সামাজিক ন্যারেটিভও হয়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতে সংঘাত কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: "বাংলার মাটি কখনো মাথা নত করেনি বিভেদের কাছে, আগামীদিনেও করবে না… ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার। যারা সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালিয়ে দেশকে ধ্বংস করার খেলায় মেতেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।"

রিপোর্টার নোট: এই প্রতিবেদনটি স্থানীয় সংবাদ ও তৃণমূলের প্রকাশিত বিবৃতি এবং সমবর্তী সূত্রের তথ্যকে ভিত্তি করে প্রণীত। নিরাপত্তা, সংগঠনিক এবং রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত সম্পর্কে দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্রের বিবরণ সংকলিত হয়েছে।

আপনি যদি চান, আমি এই নিবন্ধটি সংক্ষেপে সামাজিক-মিডিয়া পোস্ট বা প্রেস রিলিজ-ফরম্যাটেও রূপান্তর করে দিতে পারি।

মুর্শিদাবাদে 'বাবরি মসজিদ' শিলান্যাস: হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করল না, রাজ্যকে আইনশৃঙ্খলা সামলাতে নির্দেশ

মুর্শিদাবাদে 'বাবরি মসজিদ' শিলান্যাস: হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করল না

মুর্শিদাবাদে 'বাবরি মসজিদ' শিলান্যাস: হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করল না, রাজ্যকে আইনশৃঙ্খলা সামলাতে নির্দেশ

কলকাতা হাইকোর্ট মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদের শিলান্যাস বিষয়ক জনস্বার্থ মামলায় হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রয়েছে — আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা রাজ্যের দায়িত্ব।

প্রকাশিত: 06 ডিসেম্বর 2025 · স্থান: মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ

আদালত কী বলল?

কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওই জনস্বার্থ মামলার শুনানির পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা বিষয়টিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না এবং রাজ্য প্রশাসনকেই আইনের শোষণ রোধ ও শান্তি-সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ভরতপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেন যে ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা অঞ্চলে ‘বাবরি মসজিদের’ নকল বা অনুকরণ করে একটি মসজিদের শিলান্যাস করা হবে — যার পরই স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়।

নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশাসন দ্রুত নিরাপত্তা বাড়িয়েছে— পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীর কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে যে পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য কয়েক দশ-company পর্যায়ের কেন্দ্রীয় বাহিনীও এলাকার কাছে মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনরকম সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়াতে না পারে।

নোট: বিভিন্ন রিপোর্টে মোতায়েনকৃত বাহিনীর সংখ্যার উল্লেখ ভিন্ন হতে পারে — অফিসিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী তদারকি চলছে।

সেক্টরের প্রতিক্রিয়া

“হাইকোর্ট স্পষ্টভাবেই বলেছে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা রাজ্যের কাজ — সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।” — আদালত নির্দেশের সারমর্ম।

রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল (এজি) সূত্রে জানা গেছে যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অঞ্চলটিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

সম্ভাব্য প্রভাব

এই ধরনের ইভেন্ট সাম্প্রদায়িক গাম্ভীর্য বহন করে, ফলে দ্রুত ও সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জরুরি। আদালত হস্তক্ষেপ না করাতে বাস্তবে আনুষঙ্গিক কর্তৃপক্ষদের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার উপর দায়িত্ব এসে পড়েছে। ন্যায়বিচার ও শান্তি বজায় রাখার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে কৌশলগতভাবে কাজ করতে হবে।

টাইমলাইন (সংক্ষেপে)

  • হুমায়ুন কবীরের ঘোষণা — শিলান্যাসের তারিখ ঘোষণা (৬ ডিসেম্বর)।
  • স্থানীয় উত্তেজনা ও জনস্বার্থ মামলা হাইকোর্টে দায়ের। 8
  • হাইকোর্ট শুনানি শেষে হস্তক্ষেপ না করে রাজ্যকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ।
  • নিরাপত্তা জোরদার — কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন।
উৎস:

এই প্রতিবেদন রচিত হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের শুনানি এবং স্থানীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদসূত্রের উপর ভিত্তি করে (Times of India, Prothom Alo, Hindustan Times, LiveLaw, ABP Live)। ফলপ্রসূ তথ্য ও সরাসরি উদ্ধৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে উপরের সূত্রগুলো দেখুন।

প্রাথমিক সংবাদসূত্র:

লেখা: স্থানীয় সংবাদদাতা · সম্পাদনা: নিউজরুম · আপডেট: 06-Dec-2025

Friday, 5 December 2025

কলকাতা হাই কোর্টে ২০২৫ সালের স্কুল-সার্ভিস নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ — শুনানি আজ

কলকাতা হাই কোর্টে ২০২৫ সালের স্কুল-সার্ভিস নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ — শুনানি আজ

কলকাতা হাই কোর্টে ২০২৫ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ — শুনানি আজ

প্রকাশ: ৫ ডিসেম্বার ২০২৫ • রিপোর্টার: স্থানীয় কোর্ট ব্যুরো

কলকাতার কলকাতা হাই কোর্টে আজ (৫ ডিসেম্বর ২০২৫) স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC/WBCSSC) ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনানির জন্য আসে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে কমিশনের সাম্প্রতিক নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি ও বিধি একাধিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং বৈধ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধ। আদালতে তাদের অনুরোধ—চলতি নতুন বিজ্ঞপ্তিগুলি রদ করা—এবং অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট নথি ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

কি অভিযোগ?

মামলাকারী প্রার্থীরা প্রধানত তিনটি বিষয় তুলে ধরেছেন—(১) ২০২৫ সালের নিয়োগব্যবস্থায় আচমকা যোগ করা একাধিক রুল পরিবর্তন, বিশেষত শিক্ষাকবলতায় অভিজ্ঞতা-নামের (experience marks) নতুন ধারার প্রবর্তন, (২) ২০১৬ সালের ভাঙা প্যানেল থেকে “টেইন্টেড” (tainted) প্রার্থীদের সনাক্তকরণ ও তালিকার অসম্পূর্ণ প্রকাশ এবং (৩) OMR শিট ও পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত স্বচ্ছতার অভাব। তারা বলছেন, এসব পরিবর্তন ও অনিয়ম প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার অধিকারের বিরুদ্ধে যায়।

জোরালো দাবি: আবেদনপত্রে বলা হয়েছে— অভিজ্ঞতা-নামের (experience marks) বিধান বিজ্ঞপ্তির এক দিন আগে সংযোজন করা হয়; এটি অনৈতিকভাবে পেশাগত শিক্ষকদের সুবিধা দিতে পারে এবং নতুন/অন্য প্রার্থীদের প্রতি অন্যায়। আদালত এই দিকগুলো খতিয়ে দেখতে বলেছেন।

আদালতের রিকোয়েস্ট ও নির্দেশনাসমূহ

হাই কোর্টের একক বিচারপতি জজ অমৃতা সিনহা (Amrita Sinha) এ জটিল মামলাগুলো গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। দরখাস্তের পরবর্তী পর্যায়ে আদালত ইতিমধ্যেই কমিশনকে কেবল 'টেইন্টেড' প্রার্থীর একটি বিস্তৃত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন — যেখানে নাম, পিতার নাম ও নিয়োগ-সংক্রান্ত বিবরণসহ বিভাগভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি OMR শিট ও পরীক্ষার সম্পর্কিত উপাত্ত আদালতে তোলা হয়েছে যাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা যায়।

উল্লেখযোগ্য পটভূমি

এই মামলাগুলি ২০১৬ সালের সংঘাতিত ও পরে বাতিল হওয়া প্যানেল ও নিয়োগ-ঘটনার সঙ্গে জড়িত বৃহৎ বিতর্কের অংশ। শীর্ষ আদালত (Supreme Court) কিছু সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে পুনর্নিরীক্ষা বা পুনঃনির্বাচনের কথা বলেছে এবং সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো ২০২৫ সালের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে; ফলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপেই আদালত নজর রাখছে।

আজকের শুনানির কী পর্যায় হতে পারে

আজকের নির্দেশিকায় আদালত সম্ভবত কমিশনের প্রকাশ করা 'টেইন্টেড' তালিকার পরিমাণগত ও গুণগত যথার্থতা, অভিজ্ঞতা-নামের বিধানের সময় এবং OMR/তথ্য প্রকাশের ওপর আরও পরিষ্কার নির্দেশ দিতে পারেন। এছাড়া আবশ্যক মনে হলে আদালত অস্থায়ী অন্তর্বর্তী আদেশ (interim directions) জারি করে নিয়োগপ্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট ধাপ স্থগিতও করতে পারবেন — যাতে প্রার্থীদের চাকরির দাবি চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো অনিশ্চয়তা থেকে যায় না।

কী বলা হয়েছে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে?

রাজ্য সরকার ও কমিশন পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা যথাযথ নিয়ম ও অভ্যন্তরীণ যাচাই মেনে কাজ করছে এবং 'অন্তর্ভুক্ত' বা 'বহিষ্কৃত' প্রার্থীদের নির্ধারণে প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দিয়েছে/দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আদালত সন্দেহভাজন বিষয়গুলো স্পষ্ট করার জন্য আরও বিস্তারিত ডকুমেন্টারী প্রমাণ চেয়েছেন।

```11

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog