কলকাতা হাই কোর্টে ২০২৫ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ — শুনানি আজ
কলকাতার কলকাতা হাই কোর্টে আজ (৫ ডিসেম্বর ২০২৫) স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC/WBCSSC) ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনানির জন্য আসে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে কমিশনের সাম্প্রতিক নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি ও বিধি একাধিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং বৈধ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধ। আদালতে তাদের অনুরোধ—চলতি নতুন বিজ্ঞপ্তিগুলি রদ করা—এবং অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট নথি ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
কি অভিযোগ?
মামলাকারী প্রার্থীরা প্রধানত তিনটি বিষয় তুলে ধরেছেন—(১) ২০২৫ সালের নিয়োগব্যবস্থায় আচমকা যোগ করা একাধিক রুল পরিবর্তন, বিশেষত শিক্ষাকবলতায় অভিজ্ঞতা-নামের (experience marks) নতুন ধারার প্রবর্তন, (২) ২০১৬ সালের ভাঙা প্যানেল থেকে “টেইন্টেড” (tainted) প্রার্থীদের সনাক্তকরণ ও তালিকার অসম্পূর্ণ প্রকাশ এবং (৩) OMR শিট ও পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত স্বচ্ছতার অভাব। তারা বলছেন, এসব পরিবর্তন ও অনিয়ম প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার অধিকারের বিরুদ্ধে যায়।
আদালতের রিকোয়েস্ট ও নির্দেশনাসমূহ
হাই কোর্টের একক বিচারপতি জজ অমৃতা সিনহা (Amrita Sinha) এ জটিল মামলাগুলো গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। দরখাস্তের পরবর্তী পর্যায়ে আদালত ইতিমধ্যেই কমিশনকে কেবল 'টেইন্টেড' প্রার্থীর একটি বিস্তৃত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন — যেখানে নাম, পিতার নাম ও নিয়োগ-সংক্রান্ত বিবরণসহ বিভাগভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি OMR শিট ও পরীক্ষার সম্পর্কিত উপাত্ত আদালতে তোলা হয়েছে যাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা যায়।
উল্লেখযোগ্য পটভূমি
এই মামলাগুলি ২০১৬ সালের সংঘাতিত ও পরে বাতিল হওয়া প্যানেল ও নিয়োগ-ঘটনার সঙ্গে জড়িত বৃহৎ বিতর্কের অংশ। শীর্ষ আদালত (Supreme Court) কিছু সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে পুনর্নিরীক্ষা বা পুনঃনির্বাচনের কথা বলেছে এবং সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো ২০২৫ সালের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে; ফলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপেই আদালত নজর রাখছে।
আজকের শুনানির কী পর্যায় হতে পারে
আজকের নির্দেশিকায় আদালত সম্ভবত কমিশনের প্রকাশ করা 'টেইন্টেড' তালিকার পরিমাণগত ও গুণগত যথার্থতা, অভিজ্ঞতা-নামের বিধানের সময় এবং OMR/তথ্য প্রকাশের ওপর আরও পরিষ্কার নির্দেশ দিতে পারেন। এছাড়া আবশ্যক মনে হলে আদালত অস্থায়ী অন্তর্বর্তী আদেশ (interim directions) জারি করে নিয়োগপ্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট ধাপ স্থগিতও করতে পারবেন — যাতে প্রার্থীদের চাকরির দাবি চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো অনিশ্চয়তা থেকে যায় না।
কী বলা হয়েছে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে?
রাজ্য সরকার ও কমিশন পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা যথাযথ নিয়ম ও অভ্যন্তরীণ যাচাই মেনে কাজ করছে এবং 'অন্তর্ভুক্ত' বা 'বহিষ্কৃত' প্রার্থীদের নির্ধারণে প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দিয়েছে/দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আদালত সন্দেহভাজন বিষয়গুলো স্পষ্ট করার জন্য আরও বিস্তারিত ডকুমেন্টারী প্রমাণ চেয়েছেন।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন