Sample Video Widget

Seo Services

Saturday, 20 December 2025

মতুয়াগড়ে সভার আগে বাংলার রাজনীতিতে মোদীর কড়া বার্তা

মতুয়াগড়ে সভার আগে বাংলার রাজনীতিতে মোদীর কড়া বার্তা

মতুয়াগড়ে সভার আগে বাংলার রাজনীতিতে মোদীর কড়া বার্তা

মতুয়াগড়ে জনসভার ঠিক আগেই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, বাংলায় শাসক দল লুটপাট, দুর্নীতি এবং ভয় দেখানোর সব সীমা অতিক্রম করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যের মানুষের কাছে বিজেপিকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হচ্ছে।

শনিবার নদিয়া জেলার রানাঘাটে জনসভা করতে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের আর এক বছরেরও কম সময় বাকি, তার উপর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীর বার্তা

শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলায় তাঁর সফরের মূল লক্ষ্য কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখী প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে শাসক দলের শাসনে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিজেপির মতে, এই বার্তা আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণেরই ইঙ্গিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সফরে মোদীর বক্তব্যে তৃণমূল-বিরোধী সুর আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক তাঁর বক্তৃতায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

এসআইআর বিতর্ক ও রাজনৈতিক তরজা

এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রাজ্যে এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। অভিযোগ উঠেছে, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু প্রকৃত ভোটার তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার হারাতে পারেন।

বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই উদ্বেগ আরও প্রবল। বিরোধীদের আশঙ্কা, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মতুয়া সমাজের বড় অংশ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মতুয়াগড় ও মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক

মতুয়াগড় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মতুয়া সমাজের ভোটব্যাঙ্ক পশ্চিমবঙ্গের একাধিক আসনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণে বিজেপি ও তৃণমূল—দুই দলই এই সমাজের সমর্থন পেতে মরিয়া।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সভা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এসআইআর বিতর্কের আবহে এই সভা বিজেপির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজনৈতিক বার্তা

শনিবারের সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ী। এই সভা থেকে জাতীয় সড়ক সংক্রান্ত দু’টি বড় প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হবে এদিন। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের কৃষ্ণনগর থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ৬৮ কিলোমিটার অংশের চার লেনের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। শনিবার তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি বারাসত থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার জাতীয় সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজের শিলান্যাসও করবেন তিনি। এই প্রকল্পগুলি রানাঘাট-বনগাঁ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে বলে কেন্দ্রের দাবি।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বিজেপি একদিকে যেমন উন্নয়নের বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘উন্নয়ন-বিরোধী’ ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।

রানাঘাট-বনগাঁ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উদ্বোধন বিজেপির সংগঠনের জন্য নতুন অক্সিজেন জোগাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি

সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে নামবে। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে করে তাহেরপুর হয়ে পৌঁছবেন রানাঘাটের নেতাজি পার্ক ময়দানের সভাস্থলে।

সভা শেষে একই দিনে তাঁর দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই স্বল্প সময়ের সফর হলেও রাজনৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসপিজি-র পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের তরফেও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। সভাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মতুয়াগড়ে সভার আগে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও বার্তা বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে। এসআইআর বিতর্ক, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক এবং উন্নয়ন প্রকল্প—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog