Thursday, 25 December 2025
বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ল, ইউনূস সরকারের বিশেষ সহকারীর পদত্যাগে জল্পনা
ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, একের পর এক সহিংস ঘটনা এবং প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ বাড়ছে। এই আবহেই নতুন করে অস্বস্তিতে পড়ল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক শীর্ষ ব্যক্তি পদত্যাগ করায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন খোদা বকশ চৌধুরী। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করছিলেন। বুধবার রাতে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
পদত্যাগের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
তবে কী কারণে হঠাৎ এই পদত্যাগ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সরকারিভাবে কোনও কারণ জানানো হয়নি। খোদা বকশ চৌধুরী নিজেও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ফলে এই পদত্যাগ নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, না কি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের ফল— তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদত্যাগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল খোদা বকশ চৌধুরীর হাতে। তিনি পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হওয়ায় তাঁকে এই দায়িত্বে আনা হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো
মহম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে কয়েকজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা— এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রতিমন্ত্রীর সমতুল্য পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী নিয়োগ করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান খোদা বকশ চৌধুরী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সায়েদুর রহমানকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাঠামোতেই ফাটল ধরতে শুরু করে। কয়েক মাস আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল খোদা বকশ চৌধুরীর নাম। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চাপ
বাংলাদেশে সম্প্রতি একাধিক হত্যাকাণ্ড এবং হিংসাত্মক ঘটনার জেরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
এরই মধ্যে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ইউনূস সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা হলে সরকারের দায়িত্বশীলদের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়।
এই পরিস্থিতিতে খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, ওই চাপের কারণেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। যদিও সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষ এখনও এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলেনি।
নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই মুহূর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ আধিকারিকের পদত্যাগ সেই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নির্বাচনের আগে প্রশাসনের মধ্যে এই ধরনের পরিবর্তন ভোট পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিশেষ করে, ভোটের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা
খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভিতরেই মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে। আবার কারও মতে, ক্রমবর্ধমান চাপ ও সমালোচনার মুখে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে উঠছিল।
এও প্রশ্ন উঠছে, তাঁর পদত্যাগের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে সামলাবেন। নতুন কাউকে নিয়োগ করা হবে, নাকি দায়িত্ব সাময়িকভাবে অন্য কোনও উপদেষ্টার হাতে দেওয়া হবে— সে বিষয়ে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। নির্বাচনের মুখে এই ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন সরকার পরিচালনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও জটিলতার দিকে এগোচ্ছে, তা বলাই যায়। খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগ সেই অস্থিরতারই আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Featured post
Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন