Sample Video Widget

Seo Services

Friday, 26 December 2025

বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা— মঞ্চেই শুভেন্দুকে থামালেন শমীক

বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা— মঞ্চেই শুভেন্দুকে থামালেন শমীক

বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা— মঞ্চেই শুভেন্দুকে থামালেন শমীক

Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক | কলকাতা

দলের পুরনো কর্মীদের ফের সক্রিয় করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ কর্মসূচি। কিন্তু সেই সভামঞ্চেই প্রকাশ্যে উঠে এল বিজেপির অন্দরের সূক্ষ্ম টানাপড়েন। বৃহস্পতিবার জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথা মাঝপথে থামিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য— ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের বক্তব্য আর না বলা হয়।

সভায় শুভেন্দু বিজেপির অন্দরে বিভিন্ন ‘গোত্র’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কেউ অন্য দলে কিছু না পেয়ে বিজেপিতে এসেছেন, আবার কেউ স্বেচ্ছায় সব ছেড়ে এই দলে যোগ দিয়েছেন। নিজেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে রেখে শুভেন্দু বলেন, একাধিক মন্ত্রিত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে তিনি বিজেপিতে এসেছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আমন্ত্রণই ছিল মূল কারণ।

এই বক্তব্যের পরেই মঞ্চে উঠে কোনও ভূমিকা না বেঁধে সরাসরি শুভেন্দুর উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে ‘আগে’ ও ‘পরে’র বিভাজন টানা অনুচিত। দলে সবাই সমান— শান্ত সুরে হলেও বার্তাটি ছিল স্পষ্ট।

শমীকের এই হস্তক্ষেপে সভাস্থলে করতালি পড়ে। পরে তিনি আর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও দলের অন্দরে শুরু হয় নানা ব্যাখ্যা। শমীক-ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, রাজ্য সভাপতি বোঝাতে চেয়েছেন— শুভেন্দু এখন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাঁকে বারবার নিজের ত্যাগ বা অতীত পরিচয় আলাদা করে তুলে ধরতে হবে না।

তবে দলের একাংশ এই ব্যাখ্যায় একমত নন। তাঁদের মতে, শুভেন্দু আগেও একাধিকবার নিজেকে অন্য দল থেকে আসা নেতাদের থেকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবারের বক্তব্যেও সেই প্রবণতারই পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। আর ঠিক সেখানেই ‘গোত্র’-বিভাজনের সম্ভাবনা দেখেই অঙ্কুরে হস্তক্ষেপ করেন শমীক।

বিধানসভা ভোটের আগে দলীয় ঐক্যে কোনও ফাটল দেখতে চান না রাজ্য বিজেপি সভাপতি— এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। তাই ‘অনুরোধ’-এর ভাষায় হলেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের বক্তব্য তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

একই সঙ্গে পুরনো ও নতুন— দুই পক্ষের প্রতিই সমান বার্তা দেন শমীক ভট্টাচার্য। ভাষণের শেষ দিকে তিনি বলেন, নতুনদের বাদ দিয়ে দলের বিস্তার সম্ভব নয়। সমাজ থেকেই মানুষ আসবে, কোনও অলৌকিক জায়গা থেকে নয়। বিজেপিতে আদি-নব্য ভেদ নেই— সবাই একটাই পরিচয় বহন করে, বিজেপি।

অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মূলত আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সেই সব নেতাদের, যাঁরা অতীতে রাজ্য বা জেলা স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে সক্রিয় নন। উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের ফের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত করা এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের শক্তি বাড়ানো।

সভায় শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। শেষ পর্যন্ত, কর্মসূচির মূল বার্তা ছিল একটাই— বিভাজন নয়, ঐক্যই বিজেপির পথ।

© Y বাংলা ডিজিটাল | এই প্রতিবেদনটি তথ্যভিত্তিক সংবাদ রূপে প্রস্তুত

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog