Sample Video Widget

Seo Services

Sunday, 14 December 2025

নদিয়ায় NRC নোটিস ঘিরে আতঙ্

নদিয়ায় NRC নোটিস ঘিরে আতঙ্ক

নদিয়ায় NRC নোটিস ঘিরে নতুন আতঙ্ক, প্রশ্নের মুখে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া

এনআরসি (NRC) আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছেই না পশ্চিমবঙ্গের মানুষের। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা নদিয়ায় সম্প্রতি একটি ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অসম (Assam) রাজ্য থেকে পাঠানো একটি NRC নোটিস হাতে পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকের ধুবুলিয়া থানার সোনাডাঙা মাঝের পাড়ার দুই বাসিন্দা সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখ এবং তাঁদের পরিবার।

অসম থেকে আসা চিঠি, তৈরি বিভ্রান্তি

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ৩ অক্টোবর সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের কাছে একটি করে চিঠি আসে, যা সম্পূর্ণ অসমিয়া ভাষায় লেখা ছিল। ভাষা বুঝতে না পারায় প্রথমে তাঁরা চিঠির বিষয়বস্তু বুঝতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিচিতদের সহায়তায় জানা যায়, সেটি অসম রাজ্য থেকে পাঠানো নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত NRC নোটিস।

হঠাৎ এই ধরনের নোটিস হাতে পেয়ে দুই পরিবারই চরম আতঙ্কে পড়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে নদিয়াতেই বসবাসকারী এই পরিবারগুলির কাছে এমন নোটিস একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।

মাত্র কয়েক দিনের জন্য অসমে যাওয়া

সূত্র বলছে, প্রায় ১৫ বছর আগে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখ অসমে গিয়েছিলেন। সঞ্জু শেখ সেখানে মাত্র এক মাস কাজ করেছিলেন এবং আরসাদ শেখ ছিলেন মাত্র ১৫ দিন। কাজ শেষে দু’জনেই নদিয়ায় ফিরে আসেন এবং এরপর আর কখনও অসমে যাননি।

এত অল্প সময়ের জন্য অন্য রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে কীভাবে তাঁদের নাম অসমের নাগরিকত্ব যাচাই তালিকায় এল, তা নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কোনওভাবে তথ্যের গরমিল বা ভুল নথিভুক্তির ফলেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, যদি এমন ভুল নোটিস আরও অনেকের কাছেই পৌঁছতে শুরু করে, তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।

এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক

এই ঘটনার পর সোনাডাঙা মাঝের পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে যে, তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের কারও কাছেও এ ধরনের নোটিস আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে রাজ্যে বসবাস করা মানুষও নিজেদের নাগরিকত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

অনেকেই মনে করছেন, পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে দেশের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেলে যদি এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়, তাহলে জীবিকার জন্য বাইরে যাওয়ার সাহস হারাবেন মানুষ।

প্রশাসনিক সহায়তার অপেক্ষায় পরিবারগুলি

বর্তমানে সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের পরিবার প্রশাসনিক সহায়তার আশায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা চান, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের নজরে আনুক এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্যার সমাধান করুক।

পরিবারগুলির দাবি, তাঁদের কাছে সমস্ত বৈধ নথি রয়েছে—ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং দীর্ঘদিনের বসবাসের প্রমাণ। সেগুলি যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মত

নাগরিকত্ব আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনায় তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। নথির সামান্য ভুল বা নামের মিল থেকেও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে, যার ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব যাচাই একটি সংবেদনশীল বিষয়। এখানে প্রশাসনের মানবিক ভূমিকা ও দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি, নচেৎ সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের মতো বহু পরিবার অযথা হয়রানির শিকার হতে পারেন।

সার্বিক পরিস্থিতি

সব মিলিয়ে, নদিয়ার এই ঘটনা রাজ্যে NRC আতঙ্ককে আবারও উসকে দিল। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই সমস্যার সমাধান করে এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল নোটিস যাতে আর না যায়, সে বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।

© ২০২৫ | বিশেষ প্রতিবেদন

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog