এসআইআর শুনানিতে নথির জট, কান্নায় ভেঙে পড়লেন রানাঘাটের যুবতী
শনিবার থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত শুনানি। সেই শুনানিতেই ডাক পান নদিয়ার রানাঘাটের বাসিন্দা ২৮ বছরের মানু মিত্র। নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট স্থানে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নিলেও, একটি নথি ঘিরে চরম সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে।
শুনানির সময় মানুর কাছে তাঁর জন্মদাতা বাবার ডেথ সার্টিফিকেট জমা দিতে বলা হয়। এই কথা শুনেই ভেঙে পড়েন তিনি। মানুর দাবি, জন্মদাতা বাবার সঙ্গে তাঁর মায়ের বিচ্ছেদ বহু বছর আগেই হয়ে গিয়েছিল এবং সেই বাবার কোনও নথিপত্র তাঁর কাছে নেই। এমনকি সেই মৃত্যুর শংসাপত্র কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন, সেটিও তাঁর অজানা।
জানা গিয়েছে, মানু মিত্রের জন্ম ১৯৯৭ সালের এপ্রিল মাসে। সেই সময় তাঁর জন্ম সার্টিফিকেট ও স্কুলে ভর্তির নথিতে বাবা হিসেবে প্রবীর দাসের নাম ছিল। পরে তাঁর মা ও জন্মদাতা বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে মানুর মা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন রানাঘাট দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা তিমির ঘোষকে। সেই সময় থেকেই তিমির ঘোষের পরিচয় অনুযায়ী মানুর ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড তৈরি হয়।
সমস্যার মূল কারণ ২০০২ সালের ভোটার তালিকা। ওই তালিকায় মানুর মায়ের নাম না থাকায়, এসআইআর শুনানিতে মানুর জন্ম সংক্রান্ত নথি নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।
বর্তমানে মানু বিবাহিত। তাঁর দ্বিতীয় বাবার নাম অনুযায়ী সমস্ত পরিচয়পত্র ও ঠিকানা সংশোধন করা হলেও, জন্ম সার্টিফিকেটে এখনও আগের বাবার নাম রয়ে গিয়েছে। এই কারণেই তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা।
শনিবার রানাঘাটের এসডিও অফিসে শুনানি শেষে বাইরে বেরিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন মানু। তাঁর আশঙ্কা, জন্মদাতা বাবার ডেথ সার্টিফিকেট জমা দিতে না পারলে তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
এসআইআর সংক্রান্ত এই যাচাই প্রক্রিয়ায় এমন জটিলতা বহু সাধারণ মানুষকেই মানসিক চাপে ফেলছে বলে মত স্থানীয়দের।








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন