Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট:
ভিন্ ধর্মের যুবকের সঙ্গে প্রেম। তারই জেরে মর্মান্তিক পরিণতি হল এক তরুণী ও তাঁর প্রেমিকের। খুন করে জঙ্গলের মধ্যে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হল যুগলকে। উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে এই ভয়ঙ্কর ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনায় তরুণীর পরিবারের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই মেয়েটির দুই দাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও একজন অভিযুক্ত পলাতক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম কাজল (২২)। তাঁর প্রেমিক আরমানের বয়স ২৭ বছর। আরমান দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি দেশে ফিরে মোরাদাবাদে থাকতে শুরু করেন। সেই সময়েই কাজলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই তীব্র আপত্তি জানায় কাজলের পরিবার। ভিন্ ধর্মের যুবককে বিয়ে করা যাবে না—এই শর্তে সম্পর্ক ভাঙার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল কাজলকে। কিন্তু তাতেও সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়াননি দু’জন।
এরই মধ্যে তিন দিন আগে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান কাজল ও আরমান। দীর্ঘ সময় তাঁদের কোনও খোঁজ না মেলায় বুধবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে আরমানের পরিবার। বৃহস্পতিবার সকালে নিখোঁজ ডায়েরি করে কাজলের পরিবারও।
অভিযোগ দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ সত্য সামনে আসে। জঙ্গলের মধ্যে, গগন নদী সংলগ্ন এলাকায় একটি মন্দিরের পিছন থেকে উদ্ধার হয় কাজল ও আরমানের দেহ। দু’জনকেই খুন করে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কাজলের দাদারাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। গ্রেফতার হওয়া দুই দাদাকে জেরা করেই দেহ উদ্ধারের জায়গা জানতে পারে পুলিশ। তারাই পুলিশকে জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে গিয়ে মাটির নিচে পোঁতা দেহের অবস্থান দেখিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কাজল পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষিকার কাজ করতেন। প্রায় দু’বছর ধরে আরমানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। গত ১৮ জানুয়ারি আরমান কাজলের বাড়িতে কথা বলতে যান। সেখানেই দু’জনকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর তাঁদের খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে দেহ দু’টি জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে মন্দিরের পিছনে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়।
মোরাদাবাদের এসএসপি সৎপাল আন্তিল বলেন, “তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, তরুণীর দাদারাই এই খুনের সঙ্গে যুক্ত। তারা অপরাধের কথা স্বীকারও করেছে। দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খুনের কাজে ব্যবহৃত বেলচাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”
মেয়েটির তিন দাদার বিরুদ্ধেই খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। দু’জন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে, অপর জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এলাকায় যাতে কোনও রকম সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা না ছড়ায়, সে জন্য গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আরমানের দিদি জানিয়েছেন, তাঁরা এই প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতেন না। গত চার বছর সৌদি আরবে ছিলেন আরমান। মাত্র তিন মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন।
এই ঘটনায় আবারও উত্তরপ্রদেশে অনার কিলিং ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।