হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় মুর্শিদাবাদ: “২৪ ঘণ্টায় রাজনীতির রঙ বদলে দেব”

হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় মুর্শিদাবাদ: “২৪ ঘণ্টায় রাজনীতির রঙ বদলে দেব”

হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় মুর্শিদাবাদ: “২৪ ঘণ্টায় রাজনীতির রঙ বদলে দেব”

Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো | মুর্শিদাবাদ — বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

হুমায়ুন কবীর সালার সভা
সালারের সভায় বক্তব্য রাখছেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর — ছবি: প্রতিনিধি

মুর্শিদাবাদের সালারে ফের একবার তোলপাড় রাজনীতি। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আবারও মুখ খুলে নাড়িয়ে দিলেন জেলা রাজনীতিকে। স্থানীয় একটি সভা থেকে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দল যদি মনে করে আমাদের মতো অযোগ্যদের প্রয়োজন নেই, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলার রাজনীতির রঙ বদলায় তা দেখে নেবেন।” এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা — জেলা সংগঠনে কি ভাঙন শুরু হতে চলেছে?


🔥 সালারের সভায় বিস্ফোরক মন্তব্য

সালারের একটি অনুষ্ঠানে “WAR HOUSE” উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ও দলীয় কর্মীরা। সেখানেই বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমাদের বিধায়ক করা হয়েছে, কিন্তু হাতে কোনও অঞ্চল কমিটি দেওয়া হয়নি। যাদের পুলিশকে দিয়ে অর্থের বিনিময়ে জনপ্রতিনিধি বানানো হয়েছে, তারা আজ জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে শুধু টাকা লুট ও জমি দখলে ব্যস্ত।”

তিনি আরও বলেন, “মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক বলে জমি দখল আর জায়গা দখল আমরা বরদাস্ত করব না।” তাঁর দাবি, স্থানীয় রাজনীতিতে কিছু ব্যক্তি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কাজ করছেন, যা তৃণমূলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে।

📌 তথ্যবক্স: ঘটনার মূল তথ্য

  • স্থান: সালার, মুর্শিদাবাদ
  • বক্তা: হুমায়ুন কবীর, তৃণমূল বিধায়ক
  • বিষয়: জেলা ও পঞ্চায়েত নেতৃত্বের দুর্নীতি অভিযোগ
  • মূল বক্তব্য: “২৪ ঘণ্টায় রাজনীতির রঙ বদলে দেব”
  • প্রেক্ষাপট: WAR HOUSE উদ্বোধন ও কর্মী সভা

💬 জেলা নেতৃত্বকে পরোক্ষ আক্রমণ

যদিও নাম না নিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “কান্দি পৌরসভা, বফরমপুর পৌরসভা, গোকর্ণ পার্ক – সব জায়গায় লুট চলছে। আর ভোটের সময় দেখা যায় তৃণমূল তৃতীয় স্থানে।” এই মন্তব্যে জেলা সভাপতিকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। তিনি আরও যোগ করেন, “তারা যদি ভাবে, আমাদের মতো অযোগ্যদের দরকার নেই, তাহলে দেখিয়ে দেব, জেলার রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে কত সময় লাগে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য সরাসরি জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। হুমায়ুন কবীর দীর্ঘদিন ধরে জেলা কমিটিতে সক্রিয় ভূমিকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ বলে সূত্রের খবর।

📖 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিতর্কের ইতিহাস

হুমায়ুন কবীর রাজনীতিতে অভিজ্ঞ মুখ। একসময় কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ছিলেন, পরে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১৬ সালে সালার থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে তিনি দ্রুত জেলা রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেন। তবে দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বারবার টানাপোড়েনের মধ্যে থেকেছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও তিনি প্রকাশ্যে দলের কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শো-কজ নোটিশ পান। তবুও তিনি দলের মধ্যে নিজের প্রভাব অটুট রেখেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তবে স্থানীয় কর্মীরা জানাচ্ছেন, জেলা নেতৃত্বের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদ হিসেবেই এই বক্তব্য এসেছে।

🗣️ স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে সালার ও কান্দি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের একাংশ হুমায়ুন কবীরের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন, দাবি করেছেন — “তিনি সত্য বলেছেন, দুর্নীতি রোধের জন্য তাঁর মতো নেতা দরকার।” অন্যদিকে, জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছে — “দলীয় মঞ্চে এ ধরনের মন্তব্য শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল, বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের নজরে আনা হচ্ছে।”

🔎 বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার ফলে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের মধ্যে আবারও অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে। যে সময়ে রাজ্যজুড়ে লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসা তৃণমূলের জন্য ভালো বার্তা নয়। তবে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের মধ্যেই একপ্রকার সতর্কবার্তা রয়েছে — যদি তাঁর মতো নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়, তাহলে জেলার রাজনীতি তৃণমূলের হাতছাড়া হতে পারে।

Updated: ৬ নভেম্বর ২০২৫, রাত ৯টা

📢 শেয়ার করুন: Facebook | Twitter | WhatsApp

No comments:

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

ভারতকে জ্যাভলিন ও এক্সক্যালিবার — আমেরিকার $93 মিলিয়ন অস্ত্রবিক্রয় অনুমোদন বিশ্ব সংবাদ: ভারতকে জ্যা...

Search This Blog

Powered by Blogger.