Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Saturday, 20 December 2025

মতুয়াগড়ে সভার আগে বাংলার রাজনীতিতে মোদীর কড়া বার্তা

মতুয়াগড়ে সভার আগে বাংলার রাজনীতিতে মোদীর কড়া বার্তা

মতুয়াগড়ে সভার আগে বাংলার রাজনীতিতে মোদীর কড়া বার্তা

মতুয়াগড়ে জনসভার ঠিক আগেই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, বাংলায় শাসক দল লুটপাট, দুর্নীতি এবং ভয় দেখানোর সব সীমা অতিক্রম করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যের মানুষের কাছে বিজেপিকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হচ্ছে।

শনিবার নদিয়া জেলার রানাঘাটে জনসভা করতে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের আর এক বছরেরও কম সময় বাকি, তার উপর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীর বার্তা

শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলায় তাঁর সফরের মূল লক্ষ্য কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখী প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে শাসক দলের শাসনে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিজেপির মতে, এই বার্তা আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণেরই ইঙ্গিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সফরে মোদীর বক্তব্যে তৃণমূল-বিরোধী সুর আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক তাঁর বক্তৃতায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

এসআইআর বিতর্ক ও রাজনৈতিক তরজা

এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রাজ্যে এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। অভিযোগ উঠেছে, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু প্রকৃত ভোটার তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার হারাতে পারেন।

বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই উদ্বেগ আরও প্রবল। বিরোধীদের আশঙ্কা, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মতুয়া সমাজের বড় অংশ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মতুয়াগড় ও মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক

মতুয়াগড় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মতুয়া সমাজের ভোটব্যাঙ্ক পশ্চিমবঙ্গের একাধিক আসনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণে বিজেপি ও তৃণমূল—দুই দলই এই সমাজের সমর্থন পেতে মরিয়া।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সভা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এসআইআর বিতর্কের আবহে এই সভা বিজেপির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজনৈতিক বার্তা

শনিবারের সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ী। এই সভা থেকে জাতীয় সড়ক সংক্রান্ত দু’টি বড় প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হবে এদিন। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের কৃষ্ণনগর থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ৬৮ কিলোমিটার অংশের চার লেনের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। শনিবার তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি বারাসত থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার জাতীয় সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজের শিলান্যাসও করবেন তিনি। এই প্রকল্পগুলি রানাঘাট-বনগাঁ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে বলে কেন্দ্রের দাবি।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বিজেপি একদিকে যেমন উন্নয়নের বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘উন্নয়ন-বিরোধী’ ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।

রানাঘাট-বনগাঁ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উদ্বোধন বিজেপির সংগঠনের জন্য নতুন অক্সিজেন জোগাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি

সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে নামবে। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে করে তাহেরপুর হয়ে পৌঁছবেন রানাঘাটের নেতাজি পার্ক ময়দানের সভাস্থলে।

সভা শেষে একই দিনে তাঁর দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই স্বল্প সময়ের সফর হলেও রাজনৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসপিজি-র পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের তরফেও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। সভাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মতুয়াগড়ে সভার আগে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও বার্তা বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে। এসআইআর বিতর্ক, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক এবং উন্নয়ন প্রকল্প—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Tuesday, 16 December 2025

২০২৬-এর নির্বাচনের আগে SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিস্তারিত

২০২৬-এর নির্বাচনের আগে SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিস্তারিত

২০২৬-এর নির্বাচনের আগে SIR প্রক্রিয়ায় ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

ভোটাররা ceowestbengal.wb.gov.in/asd_sir ওয়েবসাইটে লগইন করে, অথবা voters.eci.gov.in এবং প্লে-স্টোরে থাকা ECINET অ্যাপ ব্যবহার করে জানতে পারবেন তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না।

কীভাবে আপনার নাম দেখবেন

অনলাইন এবং অফলাইন—দু’ভাবেই খসড়া ভোটার তালিকা যাচাই করা যাবে।

অনলাইন পদ্ধতি

  • নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট: eci.gov.in
  • সিইও ওয়েস্ট বেঙ্গল ওয়েবসাইট: ceowestbengal.wb.gov.in
  • প্লে-স্টোর থেকে ECI Net / ECINET অ্যাপ ডাউনলোড করুন

অ্যাপ বা ওয়েবসাইট খুলে সবুজ রঙের “Search Your Name in Voter List” অপশনে ক্লিক করুন। এরপর Search by Voter ID / EPIC নির্বাচন করে নিজের EPIC নম্বর লিখে সার্চ করুন।

অফলাইন পদ্ধতি

রাজ্যের প্রতিটি বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর কাছে খসড়া ভোটার তালিকার হার্ড কপি থাকবে। ভোটাররা নিজেদের বুথের BLO-র সঙ্গে যোগাযোগ করে নাম যাচাই করতে পারবেন।

এছাড়াও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের কাছে সফ্ট ও হার্ড কপি থাকবে। বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) কাছ থেকেও ভোটাররা তথ্য জানতে পারবেন।

কোন কোন কারণে নাম বাদ যেতে পারে

  • মৃত ভোটার
  • স্থানান্তরিত
  • নিখোঁজ
  • ডুপ্লিকেট
  • অন্যান্য নথিগত বা তথ্যগত সমস্যা

হিয়ারিং ও আপত্তি জানানোর সময়সূচি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে। সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের কেন ডাকা হচ্ছে?

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই, অথবা ওই তালিকায় বাবা-মা, দাদু-দিদা বা পরিবারের কারও নাম নেই—এমন ২৪ লক্ষ ২১ হাজার ১৩৩ জন ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে।

যাঁদের বয়স এখন ৪৫ বছর, তাঁদের ২০০২ সালে বয়স ছিল প্রায় ২২ বছর। ১৮ বছর বয়সেই ভোটার তালিকায় নাম ওঠার কথা। তাই ৪৫ বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও যাঁদের নাম ২০০২ বা ২০০৬ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না, তাঁদের ক্ষেত্রে কমিশনের সন্দেহ রয়েছে।

বয়স সংক্রান্ত অসঙ্গতির তথ্য

  • বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর – ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩০ জন
  • বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছর – ৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ৭৩৬ জন

খসড়া তালিকা মানেই চূড়ান্ত নয়

খসড়া তালিকায় নাম থাকলেই চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে—এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। Logical Discrepancies থাকা ভোটারদের প্রায় সকলকেই শুনানিতে ডাকা হবে। আবার খসড়া তালিকায় নাম না থাকলেও সব নথি ঠিক থাকলে Form 6 (Name Inclusion) জমা দিয়ে নাম তোলা যাবে।

মোট ভোটারের পরিসংখ্যান

গত ২৭ অক্টোবর SIR-এর দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই দিন পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক ভোটারের নামে এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হয়েছিল এবং বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) তা বিতরণ করেছিলেন। শুধুমাত্র ফর্মে সই করে জমা দিলেও খসড়া তালিকায় নাম ওঠার কথা।

সেই হিসাবে প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় থাকার কথা, যাদের তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

প্রতিবেদন: SIR ও খসড়া ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী।

Sunday, 14 December 2025

নদিয়ায় NRC নোটিস ঘিরে আতঙ্

নদিয়ায় NRC নোটিস ঘিরে আতঙ্ক

নদিয়ায় NRC নোটিস ঘিরে নতুন আতঙ্ক, প্রশ্নের মুখে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া

এনআরসি (NRC) আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছেই না পশ্চিমবঙ্গের মানুষের। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা নদিয়ায় সম্প্রতি একটি ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অসম (Assam) রাজ্য থেকে পাঠানো একটি NRC নোটিস হাতে পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকের ধুবুলিয়া থানার সোনাডাঙা মাঝের পাড়ার দুই বাসিন্দা সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখ এবং তাঁদের পরিবার।

অসম থেকে আসা চিঠি, তৈরি বিভ্রান্তি

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ৩ অক্টোবর সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের কাছে একটি করে চিঠি আসে, যা সম্পূর্ণ অসমিয়া ভাষায় লেখা ছিল। ভাষা বুঝতে না পারায় প্রথমে তাঁরা চিঠির বিষয়বস্তু বুঝতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিচিতদের সহায়তায় জানা যায়, সেটি অসম রাজ্য থেকে পাঠানো নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত NRC নোটিস।

হঠাৎ এই ধরনের নোটিস হাতে পেয়ে দুই পরিবারই চরম আতঙ্কে পড়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে নদিয়াতেই বসবাসকারী এই পরিবারগুলির কাছে এমন নোটিস একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।

মাত্র কয়েক দিনের জন্য অসমে যাওয়া

সূত্র বলছে, প্রায় ১৫ বছর আগে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখ অসমে গিয়েছিলেন। সঞ্জু শেখ সেখানে মাত্র এক মাস কাজ করেছিলেন এবং আরসাদ শেখ ছিলেন মাত্র ১৫ দিন। কাজ শেষে দু’জনেই নদিয়ায় ফিরে আসেন এবং এরপর আর কখনও অসমে যাননি।

এত অল্প সময়ের জন্য অন্য রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে কীভাবে তাঁদের নাম অসমের নাগরিকত্ব যাচাই তালিকায় এল, তা নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কোনওভাবে তথ্যের গরমিল বা ভুল নথিভুক্তির ফলেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, যদি এমন ভুল নোটিস আরও অনেকের কাছেই পৌঁছতে শুরু করে, তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।

এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক

এই ঘটনার পর সোনাডাঙা মাঝের পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে যে, তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের কারও কাছেও এ ধরনের নোটিস আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে রাজ্যে বসবাস করা মানুষও নিজেদের নাগরিকত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

অনেকেই মনে করছেন, পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে দেশের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেলে যদি এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়, তাহলে জীবিকার জন্য বাইরে যাওয়ার সাহস হারাবেন মানুষ।

প্রশাসনিক সহায়তার অপেক্ষায় পরিবারগুলি

বর্তমানে সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের পরিবার প্রশাসনিক সহায়তার আশায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা চান, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের নজরে আনুক এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্যার সমাধান করুক।

পরিবারগুলির দাবি, তাঁদের কাছে সমস্ত বৈধ নথি রয়েছে—ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং দীর্ঘদিনের বসবাসের প্রমাণ। সেগুলি যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মত

নাগরিকত্ব আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনায় তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। নথির সামান্য ভুল বা নামের মিল থেকেও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে, যার ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব যাচাই একটি সংবেদনশীল বিষয়। এখানে প্রশাসনের মানবিক ভূমিকা ও দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি, নচেৎ সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের মতো বহু পরিবার অযথা হয়রানির শিকার হতে পারেন।

সার্বিক পরিস্থিতি

সব মিলিয়ে, নদিয়ার এই ঘটনা রাজ্যে NRC আতঙ্ককে আবারও উসকে দিল। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই সমস্যার সমাধান করে এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল নোটিস যাতে আর না যায়, সে বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।

© ২০২৫ | বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলায় শীতের দাপট: বিস্তারিত আবহাওয়া বিশ্লেষণ

বাংলায় শীতের দাপট: বিস্তারিত আবহাওয়া বিশ্লেষণ

শীতের দাপট ফের স্পষ্ট বাংলায়: আগামী সাত দিনের বিস্তারিত আবহাওয়া পূর্বাভাস

শীতের আমেজ আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গে। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা, উত্তুরে হাওয়ার দাপট এবং ক্রমশ নামতে থাকা পারদের জেরে রাজ্যজুড়ে আবহাওয়ার চরিত্রে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে শীত যে আরও কিছুটা জাঁকিয়ে বসতে চলেছে, সে ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সাম্প্রতিক আবহাওয়াগত পরিস্থিতি সেই পূর্বাভাসকেই আরও জোরালো করছে।

ঘূর্ণাবর্ত ও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার যুগল প্রভাব

আবহাওয়া দফতরের মতে, এই মুহূর্তে একাধিক বৃহৎ আবহাওয়াগত ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাব পড়ছে পূর্ব ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে। দক্ষিণ বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি আপার এয়ার সার্কুলেশন বা ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার উপকূল সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকাতেও আরেকটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এই দুটি ঘূর্ণাবর্ত মূলত আর্দ্রতা বহন করলেও, উত্তুরে হাওয়ার প্রবাহের কারণে সেই আর্দ্রতা রাজ্যে বৃষ্টি ঘটানোর মতো সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারছে না।

অন্যদিকে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় হচ্ছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance)। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব শীঘ্রই আরও একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর ভারতে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিস্থিতির ফলে হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা বাড়ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে উত্তর ও পূর্ব ভারতের সমভূমিতে। পশ্চিমবঙ্গেও এর জেরে উত্তুরে হাওয়া আরও শক্তিশালী হবে এবং শীতের দাপট বাড়বে।

কলকাতায় পারদের পতন

এরই মধ্যে কলকাতায় ফের নামতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে, যা এই সময়ের স্বাভাবিক মানের কাছাকাছি হলেও শীতের অনুভূতি বেশ স্পষ্ট। সকালের দিকে উত্তুরে হাওয়া বইতে শুরু করায় ঠান্ডার কামড় আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা শহরের বিভিন্ন অংশে দেখা যাচ্ছে, যা যান চলাচলের ক্ষেত্রে সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী অন্তত সাত দিন এই শীতের স্পেল বজায় থাকবে। এই সময়ে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি অথবা সামান্য নীচে থাকতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিন শীতের আমেজ বজায় থাকবে। পশ্চিমের জেলা যেমন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সব জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। ফলে ভোর ও রাতের দিকে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হবে।

উপকূলবর্তী জেলা—পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর ২৪ পরগনায়—রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকলেও শীতের অনুভূতি কমবে না। এই সব এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে নদী ও জলাশয় সংলগ্ন অঞ্চলে।

উত্তরবঙ্গে কুয়াশার দাপট

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় কুয়াশার প্রভাব আরও বাড়তে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী কয়েক দিনে অন্তত চারটি জেলায় কুয়াশার ঘনঘটা দেখা যেতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় মাঝারি কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে আসতে পারে প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত। এর ফলে পাহাড়ি রাস্তায় যান চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও সকালের দিকে কুয়াশার প্রভাব থাকতে পারে। যদিও আপাতত ঘন কুয়াশা নিয়ে কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবুও ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, আবহাওয়া শুষ্ক

একটি স্বস্তির খবর হল, আগামী সাত দিনে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় থাকলেও উত্তুরে হাওয়ার প্রভাবে রাজ্যের বায়ুমণ্ডল তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকবে। ফলে দিনের বেলা আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং রোদের দেখা মিলবে। তবে রাত নামলেই তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি বাড়বে।

আগামী দিনের সামগ্রিক চিত্র

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, আগামী সাত দিন পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ জমাট থাকবে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকবে, তবে বড়সড় কোনও তাপমাত্রা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। দিনে দিনে পারদের ওঠানামা এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

সকালে হালকা কুয়াশা বা ধোঁয়াশা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাবে। শীতপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি না হলেও, উত্তুরে হাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্টভাবেই বজায় থাকবে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোর ও রাতের ঠান্ডা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সব মিলিয়ে, শীতপ্রেমীদের জন্য আগামী সপ্তাহ সুখবর নিয়ে এলেও, কুয়াশা ও ঠান্ডাজনিত সমস্যার কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর।

© ২০২৫ | আবহাওয়া বিশ্লেষণ প্রতিবেদন

লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক ভারত সফর: ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’

লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক ভারত সফর: ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’

লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক ভারত সফর: ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’ ঘিরে উন্মাদনা

শনিবার ভোরে কলকাতার মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই যেন উৎসবের রূপ নেয় গোটা শহর। বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি (Lionel Messi) দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবার ভারতে এসেছেন— এই খবরেই আবেগে ভেসে যান লাখো ভক্ত। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পতাকা, ব্যানার, স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কলকাতা। ফুটবলের সঙ্গে আবেগগত সম্পর্ক যাদের রক্তে মিশে আছে, সেই কলকাতাবাসীর কাছে মেসির আগমন ছিল এক স্বপ্নপূরণের মতো।

এই সফর শুধুই একজন তারকা ফুটবলারের ভারত ভ্রমণ নয়, বরং এটি ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায়। ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’ (GOAT Tour India) নামেই বোঝা যায়, এই সফরকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বকাপজয়ী, সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলারকে এক নজর দেখার জন্য বহু মানুষ রাতভর অপেক্ষা করেছেন, কেউ কেউ আবার দূরদূরান্ত থেকে শহরে এসেছেন।

কলকাতা: আবেগের শহর থেকেই সফরের সূচনা

মেসির ভারত সফরের সূচনা হয়েছে কলকাতা থেকেই—যে শহরকে ভারতের ফুটবল রাজধানী বলা হয়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ডার্বি, মারাদোনার ঐতিহাসিক সফর—এই সব স্মৃতি কলকাতার ফুটবল সংস্কৃতিকে অনন্য করেছে। মেসির আগমন সেই ঐতিহ্যকেই আরও সমৃদ্ধ করল।

যদিও কলকাতায় তাঁর অবস্থান ছিল সংক্ষিপ্ত, তবুও বিমানবন্দর থেকে হোটেল—প্রতিটি মুহূর্তে ভক্তদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো ছিল। অনেকেই মেসির জার্সি পরে, কেউ আবার আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে পড়েন। শহরের একাংশে যেন বিশ্বকাপ জয়ের রাতের আবহ ফিরে আসে।

হায়দরাবাদ পর্ব: মাঠে নামলেন মেসি

কলকাতা পর্ব শেষ করেই শনিবার সন্ধ্যায় হায়দরাবাদে পৌঁছন লিওনেল মেসি। সেখানে রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এই অনুষ্ঠান ছিল ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’-র অন্যতম আকর্ষণ।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা শুধু প্রিয় ফুটবলারকে দেখেই তৃপ্ত হননি, বরং মেসিকেও মাঠে নেমে ফুটবল খেলতে দেখেছেন। একটি সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনী ম্যাচ, ফুটবল ক্লিনিক এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মিলিয়ে পুরো সন্ধ্যাটি ছিল স্মরণীয়। মেসি নিজে কয়েকটি পাস দেন, গোলমুখে শট নেন এবং কয়েকটি বল দর্শকদের দিকে ছুঁড়ে দেন, যা ভক্তদের উল্লাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি (Revant Reddy)। তিনি নিজেও প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নেন এবং মেসির সঙ্গে পাস দেওয়া-নেওয়ার সুযোগ পান। রাজনীতির মাঠের বাইরে ফুটবলের মাঠে এমন দৃশ্য দর্শকদের কাছে ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। মেসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং কথোপকথনের পর তাঁকে একটি জার্সি উপহার দেন এলএম১০ (LM10)। এই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়ে দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

আয়োজকদের বক্তব্য: ভারতীয় ফুটবলের জন্য বড় সুযোগ

এই সফরের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত জানান, ১৪ বছর পর মেসির ভারতে আসা শুধু ভক্তদের জন্য নয়, বরং ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “মেসি আবার ভারতে আসছেন, এটাই বিশাল বিষয়। ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে মানুষের সংযোগ নতুন করে তৈরি হচ্ছে। এত স্পনসর আগে কখনও ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে মেসির ভারতে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি এক বিরল সুযোগ। ছোট ফুটবলাররা তাঁদের আদর্শকে সামনে থেকে দেখতে পাচ্ছে—যা তাদের অনুপ্রেরণা দেবে বহু বছর ধরে।

মুম্বই পর্ব: ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বিশেষ অনুষ্ঠান

আজ রবিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে লিওনেল মেসির। এই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে থাকবেন লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো দে পল— আর্জেন্টিনার দুই তারকা ফুটবলার।

এখানে একটি দাতব্য ফ্যাশন ইভেন্ট আয়োজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কাজে অর্থ সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি সিসিআই-তে প্যাডেল কাপেও অংশ নেওয়ার সূচি রয়েছে মেসির। ফুটবলের বাইরেও অন্যান্য ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণ এই সফরকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

মুম্বই সফরকে ঘিরে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ট্যান্ডের ভিতরে জলের বোতল, ধাতব সামগ্রী এবং কয়েন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এছাড়াও স্ট্যান্ডের চারপাশে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসানো হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অতীতে দেখা বিশৃঙ্খলা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের সমস্যার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে দিকেই বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

দিল্লি পর্ব ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

তিনদিনের ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’-র শেষ পর্বে সোমবার দিল্লি যাবেন লিওনেল মেসি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এই বৈঠক ঘিরে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও দিল্লিতে মিনার্ভা অ্যাকাডেমির যুব দলগুলিকে সংবর্ধনা দেওয়ার সূচি রয়েছে। ভারতের ভবিষ্যৎ ফুটবলারদের সঙ্গে মেসির সরাসরি সংযোগ নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে। পাশাপাশি একটি নাইন-এ-সাইড সেলিব্রিটি ম্যাচও আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে মেসির অংশগ্রহণ দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

ভারতীয় ফুটবলের জন্য মেসির সফরের তাৎপর্য

লিওনেল মেসির এই ভারত সফর শুধুমাত্র স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করাই নয়, বরং ভারতীয় ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে পারে। আন্তর্জাতিক স্তরের তারকাদের উপস্থিতি দেশের যুবসমাজকে ফুটবলের দিকে আরও বেশি আকৃষ্ট করবে।

‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’ প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভারতেও ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা কম নয়। যথাযথ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামো গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে ভারতীয় ফুটবল আন্তর্জাতিক মঞ্চেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে—এমন আশাই দেখাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, লিওনেল মেসির এই তিনদিনের ভারত সফর শুধুই একটি ইভেন্ট নয়—এটি একটি আবেগ, একটি অনুপ্রেরণা এবং ভারতীয় ফুটবলের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল।

Saturday, 13 December 2025

কেরলে ঐতিহাসিক ফল: তিরুঅনন্তপুরমে বিজেপির জয়ের পথ

কেরলে ঐতিহাসিক ফল: তিরুঅনন্তপুরমে বিজেপির জয়ের পথে

অবশেষে দক্ষিণে জয়ের পথ খুলছে! তিরুঅনন্তপুরমে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বিজেপি

কেরলের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়। দক্ষিণ ভারতে বিজেপির জন্য দীর্ঘদিনের বন্ধ দরজা খুলে যেতে চলেছে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে কেরলের স্থানীয় নির্বাচনের ফল। পাঁচ দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগম দখলের পথে বিজেপি। যা কেরলের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

যদিও তিরুঅনন্তপুরম বাদ দিলে রাজ্যের বাকি অংশে জয়জয়কার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর। বিপরীতে, স্থানীয় নির্বাচনেও কার্যত ধাক্কা খেল বাম নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ)।

উল্লেখ্য, গত ৯ ও ১১ ডিসেম্বর—দু’দফায় কেরলের পঞ্চায়েত ও পুরভোট অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে গণনা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইতিহাস গড়ে তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগম দখলের পথে গেরুয়া শিবির।

তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমে মোট ১০১টি আসনের মধ্যে ৫০টিতে এগিয়ে বিজেপি—ম্যাজিক ফিগার থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাম শিবির, যারা প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই পুরনিগম নিজেদের দখলে রেখেছিল। এলডিএফ এগিয়ে রয়েছে ২৬টি আসনে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এগিয়ে মাত্র ১৯টি আসনে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, স্থানীয় সাংসদ শশী থারুরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই তাঁর কেন্দ্রের পুরনিগমে বিজেপির এই ঐতিহাসিক সাফল্য। বিজেপির ‘অবিশ্বাস্য’ পারফরম্যান্সে থারুর নিজেও বিস্মিত।

শশী থারুর বলেন, “স্বীকার করতেই হবে বিজেপির এই জয় ঐতিহাসিক। একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট, রাজ্যজুড়ে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বইছে। গোটা রাজ্যে ইউডিএফের বিরাট সাফল্যই প্রমাণ করে, আগামী দিনে কেরলে বদল আসতে চলেছে।”

উল্লেখ্য, এর আগেই কেরলের ত্রিশূরে লোকসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তিরুঅনন্তপুরম লোকসভা কেন্দ্রে আগের নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল গেরুয়া শিবির। এবার পুরনিগম দখলের পথে। ফলে বিজেপির অন্দরে আশার সঞ্চার—হয়তো এবার কেরল এবং দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে তাদের জন্য নতুন রাস্তা খুলতে চলেছে।

রাজ্যজুড়ে ফলাফলের সারসংক্ষেপ

গ্রাম পঞ্চায়েত (মোট ৯৪১)

ইউডিএফ: ৪৭৩ | এলডিএফ: ৩৬৬ | এনডিএ: ২৬

ব্লক পঞ্চায়েত (মোট ১৫২)

ইউডিএফ: ৮১ | এলডিএফ: ৬৫ | এনডিএ: ০

জেলা পঞ্চায়েত (মোট ১৪)

ইউডিএফ: ৮ | এলডিএফ: ৬

পুরসভা (মোট ৮৭)

ইউডিএফ: ৫৫ | এলডিএফ: ২৮ | এনডিএ: ২

পুরনিগম (মোট ৬)

এলডিএফ: ৪ | ইউডিএফ: ১ | বিজেপি: ১

সব মিলিয়ে তিরুঅনন্তপুরমে বিজেপির উত্থান এবং রাজ্যের বাকি অংশে ইউডিএফের সাফল্য— কেরলের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফল যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেবে, সে বিষয়ে একমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ।

যুবভারতীতে তাণ্ডব: গ্রেপ্তার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্

যুবভারতীতে তাণ্ডব: গ্রেপ্তার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত

যুবভারতীতে তাণ্ডব: গ্রেপ্তার হলেন মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসিকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা ও তাণ্ডবের ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার করা হল মূল উদ্যোক্তাকে। মেসিকে কলকাতায় আনার প্রধান আয়োজক হিসেবে পরিচিত শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা।

এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উদ্যোক্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। যদিও শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সরাসরি শতদ্রু দত্তের নাম উল্লেখ করেননি।

ডিজি রাজীব কুমার জানান, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মূল উদ্যোক্তা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন।

পরে রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম স্পষ্ট করে জানান, যুবভারতীর ঘটনায় মূল উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, ক্রীড়াপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শনিবারই কলকাতায় পা রাখেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। শহরে এসে ঠাসা কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুবভারতীতে মেসিকে এক ঝলক দেখতে ভিড় জমান দর্শকরা।

কেউ এসেছিলেন পুরুলিয়া থেকে, কেউ আবার কাঁথি থেকে। শুধু তাই নয়, বেঙ্গালুরু, শিলং এমনকি নেপাল থেকেও এসেছিলেন মেসিভক্তরা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, স্টেডিয়ামে ঢোকার পর থেকেই মেসির চারপাশে ভিড় করে ছিলেন ভিআইপিরা।

আরও খবর পড়ুন এসআইআরের মাঝে রানাঘাটে মোদির সভা

অভিযোগ অনুযায়ী, ভিআইপির সংখ্যা কম করে ১০০ জন ছিল। এর ফলে গ্যালারি থেকে প্রায় ২০ মিনিট ধরে মেসিকে দেখতেই পাননি সাধারণ দর্শকরা। চড়া দামে টিকিট কেটে মাঠে গিয়েও প্রিয় তারকাকে দেখতে না পেয়ে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই চরমে পৌঁছয়।

দর্শকদের অভিযোগ, “আমরা হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছি। কিন্তু পুরো সময়টাই ভিআইপিদের জন্য নষ্ট হয়ে গেল। সাধারণ দর্শকদের কথা কেউ ভাবেনি।”

শেষ পর্যন্ত দর্শক ক্ষোভে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। গোটা ঘটনায় আয়োজকদের ভূমিকা নিয়েই উঠছে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন।

এসআইআরের মাঝে রানাঘাটে মোদির সভা

এসআইআরের মাঝে ‘এক ঢিলে দুই পাখি’, রানাঘাটে মোদির জনসভা

নদিয়া:

বাংলা-সহ দেশের মোট ১২টি রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া। বাংলায় এই কাজ বর্তমানে শেষের পথে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। এরপর আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

তবে খসড়া তালিকায় কত সংখ্যক নাম বাদ পড়তে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এই আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে উদ্বাস্তু ও মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। বিশেষ করে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক অঞ্চলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বাস্তু পরিবারগুলির মধ্যে আশঙ্কা দানা বাঁধছে।

সম্প্রতি এই প্রসঙ্গেই বাঙালি বিজেপি সাংসদদের সতর্ক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসআইআর নিয়ে ‘সমঝে কথা বলার’ বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। মানুষের মনে, বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে যেন কোনও ভয় বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এই আবহেই রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘এক ঢিলে দুই পাখি’কে লক্ষ্য করে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২০ ডিসেম্বর নদিয়া জেলার রানাঘাট মহকুমার তাহেরপুরে একটি জনসভা করবেন তিনি। তাহেরপুর এলাকা উদ্বাস্তু গড় হিসেবেই পরিচিত। ফলে একযোগে মতুয়া এবং উদ্বাস্তু ভোটব্যাঙ্ককে নজরে রেখেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।

আরও খবর পড়ুন কেরলের স্থানীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক ফল। পাঁচ দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটি

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় মোট ১০টি জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে নরেন্দ্র মোদির। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই আলিপুরদুয়ার, দমদম এবং দুর্গাপুরে তিনটি জনসভা সেরে ফেলেছেন তিনি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাকি সাতটি জনসভা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এসআইআরের মাঝেই রানাঘাট থেকে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচনা হতে চলেছে।

ইতিমধ্যেই আগামী ২০ ডিসেম্বর তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতির কাজ। প্রশাসনিক ও দলীয় স্তরে তৎপরতা তুঙ্গে।

বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আগামী ২০ তারিখ প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে আসছেন। তাহেরপুরের মাঠে তিনি জনসভা করবেন। একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। বিহারের জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, গঙ্গা বাংলা হয়েও যায়। আমরা আশা করব, আগামী নির্বাচনে বিহারের মতোই বদল এখানেও দেখা যাবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ঠাকুরনগরের পাশাপাশি নদিয়ার রানাঘাট অঞ্চলও মতুয়াগড় হিসেবে পরিচিত। সুতরাং মতুয়া ভোটারদের মন বুঝতেই রানাঘাটকে বেছে নিয়ে বিজেপির প্রচারের সূচনা— এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

Monday, 8 December 2025

শীতে কাঁপছে বাংলা: কলকাতায় তাপমাত্রা নামল ১৫° সেন্টিগ্রেড — সাতদিনে শুষ্ক ও কুয়াশা


শীতে কাঁপছে বাংলা: কলকাতায় পারদ নামল ১৫° সেন্টিগ্রেড — সপ্তাহজুড়ে শুষ্ক, কুয়াশা ও পরিষ্কার আকাশ

কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত নেই; উত্তুরে শীতল হাওয়া ঢুকায় তাপমাত্রা নিম্নমুখী। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে — আগামী সাতদিন তেমন কোনো বড় বদল নেই।

রিপোর্ট: আবহাওয়া ব্যুরো | আপডেট: আজ

উত্তর থেকে ঢোকার কাঁটা ঠান্ডা হাওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ও উত্তর— উভয়াঞ্চলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কলকাতায় তাপমাত্রা নেমেছে ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে, আর দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলোতে আরও ২–৩ ডিগ্রি কম দেখা গেছে। পার্বত্য দার্জিলিং-এ তাপমাত্রা ৫°-এর নিচে, শ্রীনিকেতনে নেমেছে ৯.৮°-এ — সব মিলিয়ে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধভাগেই শীত বেশ উপভোগ্য।
শীতল আবহাওয়া ও কুয়াশায় ঢাকা শহর

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত নেই। বাতাসের প্রবাহ উত্তর কিংবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হওয়ায় আগামী কয়েকদিন রাজ্যে শুষ্ক শীতল আবহাওয়া বজায় থাকবে। বিশেষত দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় রাত ও দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় নিচু থাকবে।

কলকাতা শহরে সকালের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে গতকাল পারদ নেমে দাঁড়িয়েছিল ১৫° সেন্টিগ্রেডে। দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা রিপোর্ট করা হয়েছে—কিছু জায়গায় তা ১০° সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি নেমে এসেছে। রবিবার শ্রীনিকেতনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৮° সেন্টিগ্রেডে, যা শীতের তীব্রতার ইঙ্গিত দেয়।

আবহাওয়া দপ্তর আরও জানায়, ভোরের দিকে কুয়াশা বা ধোঁয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে সামান্য বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষত পার্বত্য এলাকায় দৃশ্যমানতা অনেক জায়গায় ৯০০ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত নেমে যেতে পারে—সেখানে গাড়ি চালকদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। উপকূলীয় জেলাগুলোতেও কুয়াশার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

মুখ্য নিধান:
  • উত্তুরে থেকে ঢুকছে শীতল তুল্য হাওয়া—নিম্ন তাপমাত্রা।
  • কলকাতায় সর্বনিম্ন ১৫° সেলসিয়াস; শ্রীনিকেতনে ৯.৮° রেকর্ড।
  • সপ্তাহজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া, আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।
  • সকালে কুয়াশা ও দৃশ্যমানতা কমার সম্ভাবনা—বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

আরও খবর পড়ুন , গোয়ার নাইটক্লাবে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড — মৃত ২৩

জেলার حسابে সংক্ষিপ্ত পূর্বাভাস

অঞ্চল সর্বনিম্ন (°C) সর্বোচ্চ (°C) বিশেষ দ্রষ্টব্য
কলকাতা ১৫ ২৫٫৬ (গতকাল) সকালে হালকা কুয়াশা, পরে পরিষ্কার আকাশ
দার্জিলিং (পার্বত্য) ৫-এর নিচে ১২-১৪ দৃশ্যমানতা খারাপ হতে পারে
মালদহ ~১৫ ~২৪ সকালে কুয়াশা
শ্রীনিকেতন ৯.৮ (রেকর্ড) ~২৩ স্যানিটারি ও ট্রাফিক সচেতনতা বজায় রাখুন
উপকূলীয় জেলাগুলি ১২-১৫ ~২৫ সকালে কুয়াশার সম্ভাবনা বেশি

পরবর্তী সাতদিনে কী আশা করা যায়?

আলিপুর অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী সাতদিন রাজ্যে বড় ধরনের আবহাওয়াগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। দিনভর পরিষ্কার আকাশ ও শুষ্ক আবহাওয়া ধরে থাকবে। ভোর ও সন্ধ্যার পরিপ্রেক্ষিতে শীতের আমেজ তীব্র থাকবে, সেজন্য সকালের বাইরে বেরোনোর সময় গরম কাপড় পরা জরুরি। আধুনিক শহরে কুয়াশার কারণে অফিসগমন এবং স্কুল-কলেজে কিছুটা বিলম্ব ঘটতে পারে—পরিবহন পরিষেবা ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করা হচ্ছে সময়সূচি অনুযায়ী বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার জন্য।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা টিপস

  • কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার সময় গাড়ি ধীরে চালান, ফোগ লাইট ব্যবহার করুন এবং হেডলাইট অন রাখুন।
  • ঠান্ডায় বাচ্চা ও বৃদ্ধদের অতিরিক্ত গরম কাপড় দিন; সাধারণ সর্দি-কাশি বাড়তে পারে।
  • শীতকালে ব্যক্তিগত হাইজিন বজায় রাখুন—প্রচুর পানি পান ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করুন।
  • পার্বত্য এলাকার ভ্রমণকারীরা রাস্তায় ধরা পড়া কুয়াশা ও স্লিপিং কন্ডিশনে সতর্ক থাকুন।

নোট: এখানে দেওয়া তাপমাত্রা ও পরিবেশগত শর্তাবলী আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও আঞ্চলিক রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। আঞ্চলিকভাবে স্বল্পমেয়াদে পরিবর্তন ঘটলে স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর ও সরকারি বিজ্ঞপ্তি লক্ষ্য করুন।

শীত ২০২৫ আবহাওয়া আপডেট কলকাতা কুয়াশা সতর্কতা
© ২০২৫ ডিজিটাল খবর | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। সর্বশেষ আবহাওয়া তথ্যের জন্য স্থানীয় আবহাওয়া দফতরের ঘোষণা অনুসরণ করুন।

কোচবিহার সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | পাশে থাকার বার্তা


পাশে থাকার সফরে কোচবিহার যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক দূর করতেই উত্তরবঙ্গ সফর, আজ প্রশাসনিক বৈঠক রবীন্দ্রভবনে — কাল রাজনৈতিক সভা রাসমেলা মাঠে

স্টাফ রিপোর্টার: ‘পাশে থাকা’র বার্তা নিয়ে আজ, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুই দিনের সফরে পৌঁছচ্ছেন উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে। দুপুরে শহরে আসার পর সন্ধ্যা ৪টে নাগাদ তিনি উপস্থিত থাকবেন কোচবিহারের রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে। সেখানে জেলার উন্নয়নমূলক কাজ, বন্যা ও ধস পরিস্থিতিতে নেওয়া পদক্ষেপ এবং বকেয়া প্রকল্পের অগ্রগতির পর্যালোচনা করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার কোচবিহার শহরের রাসমেলা মাঠে হবে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় রাজনৈতিক সভা। সেখানেই বক্তব্য রাখবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসআইআর (স্টেট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার)–কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই মুখ্যমন্ত্রী জেলায়-জেলায় সভা করছেন। ইতিমধ্যে বনগাঁ, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তার বক্তৃতায় দেখা গিয়েছে জনজোয়ার। উত্তরবঙ্গের মালদহ ও দার্জিলিং-এ বন্যা-ধসের বিপর্যয়ের পর গত এক মাসে তিন বার উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলেন তিনি, তবে কোচবিহার সফরটি বাকি ছিল। এবার সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

Mamata Banerjee Political Rally Image

“আমি থাকতে কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না” — আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

সম্প্রতি বনগাঁর সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

“আমি ভোট চাইতে আসিনি। যখন নির্বাচন হবে তখন ভোটের কথা বলব। আমি এসেছি শুধুমাত্র আপনাদের পাশে থাকতে। তিন বছরের কাজ তিন মাসে হয় না। ভয় পাবেন না। আমি থাকতে কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না। কাউকে পুশব্যাক করা হবে না। যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা সবাই নাগরিক। কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর ইস্যুতে বিজেপি একটি বড় রাজনৈতিক অঙ্ক কষেছিল। কিন্তু সেই সমীকরণকে কার্যত নস্যাৎ করে দিতে তৃণমূলের কৌশল, মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছনো ও আশ্বাস-ভিত্তিক প্রচার। মাঠে নেমে নিজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা তৃণমূল কর্মীদেরও নবউদ্দীপনায় ভরিয়ে তুলেছে।

কোচবিহারের প্রশাসনিক বৈঠকের মূল লক্ষ্য

নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ে জোর দেওয়া হবে —

  • জেলার বকেয়া উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করা
  • বন্যা ও ধসের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা
  • এসআইআর সংক্রান্ত সরকারি প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক নজরদারি

সাথে, বিপর্যয় মোকাবিলায় ভবিষ্যতের প্রস্তুতি পরিকল্পনাও আলোচনার তালিকায় থাকতে পারে।

রাজনৈতিক সভার আগে মন্দিরে পুজো

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালেই মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর রাসমেলা মাঠে জনসভা। উত্তরবঙ্গের মানুষকে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি এখানে তিনি আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক দিশা ও কর্মসূচি নিয়েও ঘোষণা করতে পারেন।

আরও খবর পড়ুন , মোদির সফরের আগেই নদিয়ায় মমতা: SIR-এর আবহে মতুয়াগড় থেকে কৃষ্ণনগরে জোরালো বার্তা

ভোটের আগে রাজনৈতিক অঙ্ক

সূত্রের মতে, এসআইআর-এর কাজ শেষ হওয়ার পরই ফেব্রুয়ারির শেষদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীও শুরু করে দিয়েছেন দলের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির কাজ। জেলা নেতৃত্বকেও তিনি বিশেষ নির্দেশ দিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।

তৃণমূল সূত্রে দাবি, উত্তরবঙ্গের বিজেপি ঘাঁটিতে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দল মনে করছে, মানুষের উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে কারণ “মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ”ই মমতার সবচেয়ে বড় শক্তি।

উত্তরবঙ্গ সফর শেষে বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, মুখ্যমন্ত্রী সভা করতে যাবেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরে।

হাইলাইটস

  • আজ প্রশাসনিক বৈঠক — কাল বড় রাজনৈতিক সভা রাসমেলা মাঠে।
  • এসআইআর আতঙ্ক দূর করতেই ‘পাশে থাকা’র সফর।
  • “কেউ ডিটেনশন ক্যাম্পে যাবেন না”— মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা।
  • বন্যা–ধসের পর কোচবিহার সফর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
  • ভোটের আগে সংগঠন চাঙ্গা করার মমতার কৌশল।
© ২০২৫ Y Bangla News | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog