শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে টেট পাশদের বিক্ষোভ, দ্রুত নিয়োগের দাবি
Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: দুপুরে বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কালিন্দীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখালেন ২০২২ সালে টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের প্রধান দাবি—দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে, অবিলম্বে শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, জেলায় জেলায় শিক্ষকের অভাব প্রকট হলেও তা নিয়ে প্রশাসনের কোন সক্রিয় পদক্ষেপ নেই।
বিক্ষোভের পেছনের কারণ
চাকরিপ্রার্থীরা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা জানতে পারেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ শূন্যপদের তালিকা পাঠালে তবেই ২০২২ সালের প্রাথমিকের মোট শূন্যপদের সংখ্যা জানানো হবে। কিন্তু এই তালিকা পাঠাতে এত দেরি কেন—এই নিয়ে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের বক্তব্য, “জেলায় এত শূন্যপদ পড়ে থাকলেও আমাদের ইন্টারভিউ নিয়ে নিয়োগের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
শিক্ষার্থীদের দাবি
চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, শূন্যপদের তালিকা প্রকাশের জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হোক। পাশাপাশি তাঁরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন, শিক্ষকের অভাব মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থীরা এও জানান, দেরির কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে তাঁরা চরম সংকটে রয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
বিক্ষোভের পর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “চাকরিপ্রার্থীদের কথা অবশ্যই শোনা হবে। জেলা শিক্ষা পর্ষদ শূন্যপদের তালিকা পাঠালে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে এই ধরনের বিক্ষোভ কাম্য নয়।” তাঁর এই বক্তব্যে চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষুব্ধ হলেও তাঁরা আলোচনার সুযোগ চেয়েছেন।
জেলায় শূন্যপদ প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন
চাকরিপ্রার্থীরা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান। তাঁদের বক্তব্য, “জেলায় শূন্যপদের সংখ্যা জানাতে দু’বছরেরও বেশি সময় লাগছে কেন? এত দেরির পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা কি রয়েছে তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।” তাঁরা দাবি করেছেন, অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
শিক্ষকের অভাব ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট
পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, “শিক্ষকের অভাবে ছাত্রছাত্রীরা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না। প্রশাসনের উচিত জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা।”
চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
তাঁরা জানান, নিয়োগ বিলম্ব হওয়ার কারণে বহু চাকরিপ্রার্থী অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। অনেকে টিউশন পড়িয়ে জীবনধারণ করছেন। চাকরির আশায় তাদের পড়াশোনার পরিকল্পনা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করছি, তবুও কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হাতছাড়া হচ্ছে।”
পরবর্তী আন্দোলনের ইঙ্গিত
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, যদি দ্রুত নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না হয়, তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে—জেলায় শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ, ইন্টারভিউ শুরুর ঘোষণা, এবং নিয়োগের সময়সূচি নির্ধারণ। আন্দোলনের ফলে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চাকরিপ্রার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে দ্রুত নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন।
আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।






















