Sample Video Widget

Seo Services

Thursday, 11 September 2025

বাঁকুড়ায় রাজনীতির ‘মহানাটক’: দুপুরে তৃণমূলে যোগ, বিকেলে বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন

বাঁকুড়ায় রাজনীতির ‘মহানাটক’: দুপুরে তৃণমূলে যোগ, বিকেলে বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন

বাঁকুড়ায় রাজনীতির ‘মহানাটক’: দুপুরে তৃণমূলে যোগ, বিকেলে বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

চিঙ্গানি গ্রামে রাজনৈতিক নাটক

ছবি: দুপুরে তৃণমূলে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি গণেশ মল্ল ও তারাপদ পাল। বিকেলের মধ্যে রাজনৈতিক নাটক ঘিরে উত্তেজনা।

বাঁকুড়ার চিঙ্গানি গ্রামে বুধবার দেখা গেল এক বিরল রাজনৈতিক নাটক। দুপুরে বিজেপির দলীয় পতাকা ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন গণেশ মল্ল ও তারাপদ পাল — চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই সদস্য। বিকেল গড়াতেই আবার মন বদলে তাঁরা ফিরে গেলেন বিজেপির ঘরে। একটি দিনের মধ্যে এই নাটকীয় ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে। রাজনীতির এই ঘূর্ণাবর্ত গ্রামীণ পঞ্চায়েত রাজনীতির ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে।

যোগদান ও প্রত্যাবর্তনের নাটকীয়তা

দুপুরে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করে গণেশ মল্ল ও তারাপদ পাল জানান, তাঁরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। সেখানে তাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন এবং তৃণমূলের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তবে বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি বদলে যায়। গণেশ মল্ল অভিযোগ করেন, তাঁকে ভুল বুঝিয়ে তৃণমূলে যোগদান করানো হয়েছিল। তিনি সরাসরি বিজেপির কার্যালয়ে গিয়ে জানান, তাঁকে টাকা ও চাকরির লোভ দেখানো হয়েছিল। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে।

পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন নিয়ে টানাপোড়েন

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে চিঙ্গানি গ্রামে মোট ১৩টি আসনের মধ্যে সাতটিতে জয় পেয়ে বোর্ড গঠন করেছিল বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছিল চারটি আসন এবং সিপিএম ও আইএসএফ মিলিয়ে বাকি আসনগুলো ভাগ হয়। নির্বাচনের পরে সিপিএমের এক সদস্য তৃণমূলে যোগ দিলে তাদের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ। বোর্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তৃণমূলের দরকার ছিল আরও দুই সদস্য। ফলে দলের দখল ফেরানোর জন্য তৃণমূল মরিয়া হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে গণেশ মল্ল ও তারাপদ পালের যোগদান তৃণমূলের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে দ্রুত মন বদলে বিজেপিতে ফেরায় পরিস্থিতি আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষের হাতেই ছয়টি করে আসন রয়েছে। আগামী অনাস্থা প্রস্তাবই নির্ধারণ করবে বোর্ডের ভাগ্য।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সভাপতি কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, “টাকার টোপ দেখিয়ে দল ভাঙানোই তাঁদের সংস্কৃতি।” অন্যদিকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত পাল্টা বলেন, “কাউকে জোর করে যোগদান করানো হয়নি। ভোটের গণিতের ভিত্তিতেই আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনাস্থা প্রস্তাবের দিন সব পরিষ্কার হবে।”

গ্রামীণ রাজনীতির চাপ ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ

গ্রামের সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় দিশেহারা। তাঁরা চান স্থিতিশীল নেতৃত্ব ও উন্নয়নের নিশ্চয়তা। রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে গ্রামীণ প্রশাসনের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাঁদের বক্তব্য। একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, স্কুল, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে পানীয় জল—সব ক্ষেত্রে পরিকল্পনা থমকে আছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন যেন গ্রামের উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী দিনের দিকে নজর

চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হলে বোর্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। তৃণমূলের পরিকল্পনা বোর্ড দখল করা হলেও দ্রুত মন বদলে যাওয়ার ঘটনায় সেই পরিকল্পনায় ধাক্কা লেগেছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দলীয় ঐক্য বজায় রেখে ভোটের রাজনীতিতে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

রাজনীতির এই নাটক শুধু একটি গ্রামে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ রাজনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। ভোটের অঙ্কে যেমন সমীকরণ বদলায়, তেমনই নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। এই ঘটনার দিকে নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog