Sample Video Widget

Seo Services

Thursday, 11 September 2025

জলের মধ্যে ক্লাস! শিক্ষক সংকটে বন্ধের মুখে সুন্দরবনের পশ্চিম শ্রীপতিনগরের স্কুল

জলের মধ্যে ক্লাস! শিক্ষক সংকটে বন্ধের মুখে সুন্দরবনের পশ্চিম শ্রীপতিনগরের স্কুল

জলের মধ্যে ক্লাস! শিক্ষক সংকটে বন্ধের মুখে সুন্দরবনের পশ্চিম শ্রীপতিনগরের স্কুল

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

জলে ক্লাসরত ছাত্রছাত্রী

ছবি: জল ঢুকে ক্লাস চলছে, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত পশ্চিম শ্রীপতিনগরের স্কুলে

৭০০ ছাত্রছাত্রীর জন্য একজন শিক্ষক

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত পাথরপ্রতিমা ব্লকের পশ্চিম শ্রীপতিনগরের ডাঃ বি সি রায় মেমোরিয়াল বিদ্যাপীঠ এখন এক চরম সংকটের মুখে। প্রায় ৭০০ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে এই বিদ্যালয়ে, অথচ তাদের জন্য বরাদ্দ একমাত্র শিক্ষক নিজেই প্রধান শিক্ষক। তাঁর সঙ্গে দু’জন প্যারাটিচার নিয়ে কোনরকমে ক্লাস চালানো হচ্ছে। ফলে স্কুলটির শিক্ষাজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের পর শিক্ষক সংকট

২০১৬ সালের শিক্ষক প্যানেল বাতিলের পর এই স্কুলের তিনজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে আর শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে শিক্ষকের সংখ্যা কমে একমাত্র প্রধান শিক্ষকের ওপর ভর করে চলছে স্কুল। ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

জল পড়ছে ক্লাসে, শ্রেণিকক্ষের অভাব

শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, শ্রেণিকক্ষের অভাব এবং ভগ্ন অবকাঠামোর জন্য স্কুলটি বিপদের মুখে। বহু আবেদন করেও নতুন শ্রেণিকক্ষ তৈরি হয়নি। বরং পুরোনো শ্রেণিকক্ষে জল পড়ছে। কোথাও কোথাও দেওয়ালের অংশ খসে পড়ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় বাধ্য হচ্ছেন, কারণ বিকল্প নেই।

প্রশাসনের উদাসীনতা, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

প্রশাসনিক স্তরে স্কুলটির সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি। শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া, শ্রেণিকক্ষের অভাব, শিক্ষার পরিবেশের অবনতি—সব মিলিয়ে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিভাবকরা চাইছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ছাত্ররা পড়াশোনা বন্ধ হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাবে।

প্রত্যন্ত দ্বীপের শিক্ষার লড়াই

পাথরপ্রতিমা ব্লকের এই দ্বীপ অঞ্চল চতুর্দিকে নদীবেষ্টিত। যোগাযোগের অভাবে প্রশাসনের সাহায্য পৌঁছানো কঠিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে রাখা এখানকার মানুষের জন্য সংগ্রামের বিষয়। এই বিদ্যালয় বন্ধ হলে পুরো এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এই সংকট শুধুমাত্র একটি স্কুলের নয়, বরং সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার অধিকার রক্ষার লড়াই।

অভিভাবকদের কণ্ঠস্বর

অভিভাবকেরা বলছেন, “আমরা চাই আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করুক। কিন্তু শিক্ষক নেই, ক্লাসরুম নেই, ভবন ভেঙে পড়ছে—এর মধ্যে কিভাবে পড়াবে?” তাঁরা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদেরও অনেকে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের মতে, অবিলম্বে প্রশাসনিক সহায়তা না পেলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে।

শিক্ষক, ছাত্র ও প্রশাসনের একজোট হওয়ার আহ্বান

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই সংকট সমাধানে শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক এবং প্রশাসনের একযোগে কাজ করা জরুরি। শুধুমাত্র অনুদান বা প্রকল্প ঘোষণা যথেষ্ট নয়। শিক্ষকের নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষের সংস্কার এবং নিয়মিত নজরদারি ছাড়া স্কুল বাঁচানো সম্ভব নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার অধিকার রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog