পাঁশকুড়া হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীর উপর ধর্ষণ: তীব্র ক্ষোভ, NCW হস্তক্ষেপ
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পাঁশকুড়া হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ করছে স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
ঘটনার বিবরণ
আরজি করের ঘটনার পর আর একবার নারীর ওপর হাসপাতালেই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা সামনে এল। পাঁশকুড়া হাসপাতালের এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী রাতের শিফটে ওষুধ দেওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটি ফাঁকা ঘরে ধর্ষণের শিকার হন। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে ঠিকাদারি সংস্থার ম্যানেজারকে। তবে শুধু ওই স্বাস্থ্যকর্মী নন, আরও দু’জন কর্মী একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করে আসছিলেন। ভয় ও চাকরি হারানোর আশঙ্কায় তাঁরা চুপ ছিলেন।
জাতীয় মহিলা কমিশনের হস্তক্ষেপ
এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহে মহালয়ার আগেই একটি প্রতিনিধি দল পাঁশকুড়ায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। নির্যাতিতা স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য অভিযোগকারীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় আইনগত সাহায্য দেওয়া হবে। কমিশনের এক সদস্য বলেছেন, "হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমরা সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাই।"
জনবিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গলবার হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ দেখান অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে বহুবার নারীদের হেনস্তা করেছেন। ভয় দেখিয়ে সবাইকে চুপ করিয়ে রাখা হত। আন্দোলনকারীদের হাতে প্ল্যাকার্ড ছিল, যাতে লেখা ছিল "নারীর নিরাপত্তা চাই", "দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই" ইত্যাদি। তিলোত্তমা মঞ্চের ৮ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তের কঠিন শাস্তির দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, “আরজি করের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে। স্বাস্থ্য পরিষেবায় নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।”
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, শাসক দলের প্রশ্রয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এমন অপরাধ চালিয়ে আসছিল। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, "হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এত বড় অপরাধ প্রশাসনের মদত ছাড়া সম্ভব নয়।" অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দলের মুখপাত্র বলেন, "আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে, তার দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আরজি করের ঘটনার ছায়া
গত বছরের আগস্টে আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। হাসপাতালের সেমিনার রুম থেকেই উদ্ধার হয়েছিল তাঁর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ। এই ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসক মহল, ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। জুনিয়র চিকিৎসকদের অনশন ও আন্দোলনের ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা বহুদিনের জন্য কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত ৯ আগস্ট আরজি করের ঘটনার বর্ষপূর্তিতে নবান্ন অভিযানে বহু মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এই পাঁশকুড়া ঘটনার সঙ্গে সেই ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছে সমাজের বহু অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীর নিরাপত্তার অভাবই এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
নারীর নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রে শোষণ
স্বাস্থ্যক্ষেত্র নারীদের জন্য কঠিন কাজের পরিবেশ তৈরি করেছে বহু জায়গায়। রাতের শিফটে কাজ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, নিরাপত্তাহীনতা এবং চাকরি হারানোর ভয় নারীদের মুখ খুলতে বাধা দেয়। পাঁশকুড়া ঘটনার মতো ঘটনা তুলে ধরে নারীর কাজের পরিবেশকে আরও সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে নজরদারি বৃদ্ধি, অভিযোগ গ্রহণের স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা জরুরি।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনাস্থলে তদন্ত চলছে। পুলিশ ও প্রশাসন দাবি করেছে দ্রুত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা নির্যাতিতাদের সঙ্গে কথা বলে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দাবি উঠেছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, যতক্ষণ না দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে, ততক্ষণ তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
বিশ্লেষণ
আরজি করের ঘটনার পর আবারও হাসপাতালে নারীর উপর নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসায় সমাজের নানা স্তরে প্রশ্ন উঠেছে। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিবেশগত পরিবর্তন, সচেতনতা এবং প্রশাসনিক সজাগতা। নারীরা যাতে ভয় ছাড়াই কাজ করতে পারেন সে জন্য প্রয়োজন নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং দ্রুত বিচার। পাঁশকুড়া ঘটনাটি এই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।
আমরা নজর রাখছি এই ঘটনায়। দ্রুত আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।






















