Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Friday, 6 February 2026

ভোটের মুখে সুর বদল? ভারত নিয়ে ‘রঙিন’ মন্তব্যে জল্পনা বাড়াল জামাত প্রধান

পাকিস্তান-ঘেঁষা রাজনীতি কিংবা প্রকাশ্য ভারত-বিরোধিতা—এই দুই পথে শেষমেশ লাভের বদলে ক্ষতিই হয়, সেই বাস্তবতা হয়তো হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাংলাদেশের কট্টর ইসলামপন্থী দল জামাত-ই-ইসলামি। তাই আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে নিজেদের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টায় ভারত সম্পর্কে কিছুটা সংযত ও নরম সুরে কথা বলছে তারা—এমনই ইঙ্গিত মিলছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে।
সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জামাত প্রধান ড. শফিকুর রহমানের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। তাঁর বক্তব্য ছিল,
“ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে বিষয়টি কত রঙিন হয়, দেখুন না…”
এই মন্তব্যের পরই সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। সেই আবহেই আর ব্যাখ্যা না করে সম্মেলন ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন জামাত প্রধান—তা নিয়েই এখন কাটাছেঁড়া চলছে রাজনৈতিক মহলে ও সামাজিক মাধ্যমে।

শেখ হাসিনার জমানার পতনের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে, তার অন্যতম বড় ফল কট্টর ইসলামপন্থীদের পুনরুত্থান। সংখ্যালঘু নির্যাতন, হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ এবং হিংসাত্মক ঘটনার নেপথ্যে সবচেয়ে বেশি দায় চাপছে জামাত-ই-ইসলামির ওপর। হাসিনা সরকারের আমলে দলটির বিরুদ্ধে উগ্রতা ও হিংসায় মদতের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতেই ফের রাজনৈতিক মূলস্রোতে ফিরে আসে জামাত।

এই মুহূর্তে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে রয়েছেন। ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার তাঁকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানালেও ভারত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও অবস্থান নেয়নি। এই ইস্যুতে অতীতে ভারতের কড়া সমালোচনায় সরব ছিল জামাত।

তবে ভোট যত এগোচ্ছে, ততই সাবধানী হচ্ছে দলটি। দীর্ঘদিনের ভারত-বিরোধী ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা স্পষ্ট। এমনকি সংখ্যালঘু ভোট টানতে জামাত এবার প্রার্থী করেছে কৃষ্ণ নন্দী নামে এক হিন্দু মুখকে—যা তাদের রাজনীতিতে একেবারেই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ।

নির্বাচনী ইস্তেহারেও সুর বদলের ইঙ্গিত দিয়েছে জামাত। সেখানে ভারত-সহ ভুটান, নেপাল, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার কথা বলা হয়েছে।

আগামী ১২ তারিখ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ, শেখ হাসিনা অনুপস্থিত—এই পরিস্থিতিতে জামাতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়ার বিএনপি। যদিও বিএনপি তুলনামূলকভাবে কম কট্টর, ফলে জনসমর্থনের দিক থেকে তাদের পাল্লা ভারী বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

তাহলে কি এই বাস্তব সমীকরণ মাথায় রেখেই ভারত নিয়ে নরম সুরে কথা বলছে জামাত? ‘রঙিন’ শব্দের আড়ালে কি সম্পর্ক মেরামতির ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে? নাকি এটি নিছক কৌশলী ধোঁয়াশা?
উত্তর এখনও অধরা। তবে ভোটের মুখে জামাতের ভাষা ও ভঙ্গির এই বদল যে তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে দ্বিমত নেই।

৮ম পে কমিশনের নামে ভাইরাল বেতন তালিকা, কতটা সত্য?

Y বাংলা ওয়েবডেস্ক
সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি গ্রাফিক, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—৮ম পে কমিশন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সম্ভাব্য বেতন তালিকা। শিক্ষক, ডাক্তার থেকে শুরু করে আইএএস, আইপিএস ও ভারতের সরকারের সচিব—বিভিন্ন পদের সম্ভাব্য মাসিক বেতনের অঙ্ক দেখানো হয়েছে ওই তালিকায়। গ্রাফিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের ছবি ব্যবহার করায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
ভাইরাল তালিকায় দেখা যাচ্ছে—
শিক্ষকের বেতন ৮৫ হাজার, ডাক্তার ১ লক্ষ ৩০ হাজার, বিচারক ১ লক্ষ ৫০ হাজার, আইএএস/আইপিএস স্তরের বেতন দেড় লক্ষ থেকে শুরু করে সরকারের সচিবের বেতন ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত ৮ম পে কমিশন গঠন বা তার সুপারিশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। ফলে এই বেতন তালিকা সরকারি নথি নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনৈতিক মহলের মতে, পে কমিশন সংক্রান্ত যে কোনও সিদ্ধান্তে আগে কমিশন গঠন, রিপোর্ট জমা ও কেন্দ্রের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তার আগে এমন নির্দিষ্ট বেতন অঙ্ক প্রকাশ পাওয়া কার্যত অসম্ভব।
ফ্যাক্ট-চেকারদের একাংশের দাবি, ভাইরাল এই তালিকাটি অনুমানভিত্তিক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট, যা চাকরিপ্রার্থী ও সরকারি কর্মীদের মধ্যে ভুল প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া এমন তথ্য বিশ্বাস না করারই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গুলিবিদ্ধ আপ নেতা লাকি ওরফে রয়, প্রার্থনা সেরে ফেরার পথে হামলা

Y বাংলা ওয়েবডেস্ক
প্রার্থনা থেকে ফেরার পথেই গুলিবিদ্ধ হলেন পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টির নেতা লাকি ওরফে রয়। বৃহস্পতিবার সকালে জলন্ধরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, একটি গুরুদ্বার থেকে প্রার্থনা সেরে মোটরবাইকে করে ফিরছিলেন লাকি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই পথ আটকায় দুষ্কৃতীরা। আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে একের পর এক গুলি চালানো হয় তাঁকে লক্ষ্য করে। হামলায় ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন লাকি ওরফে রয়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রাজনৈতিক শত্রুতা না কি অন্য কোনও কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Wednesday, 4 February 2026

মমতার সুপ্রিম সওয়াল দেখতে রেকর্ড ভিড়, ভার্চুয়াল মাধ্যমেই ছাপাল উত্তেজনা



সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির এজলাসে আজ শুনানি শুরু হয়েছে। নির্ধারিত একাধিক মামলার পরেই ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল শোনা হওয়ার কথা। এই শুনানিকে ঘিরে শুরু থেকেই দেশজুড়ে চরম আগ্রহ ও কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে রেকর্ড ভিড় জমেছে। সুপ্রিম কোর্টের অনলাইন লাইভ স্ট্রিমে ইতিমধ্যেই এক হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন, যা নির্ধারিত সীমার থেকেও বেশি বলে জানা গেছে। আদালত সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক কালে কোনও মামলায় এমন ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ খুব কমই দেখা গেছে।

মূলত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে বক্তব্য পেশ করতে চান— এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একজন সাংবিধানিক পদাধিকারী হয়ে সরাসরি আদালতে নিজের বক্তব্য রাখার বিষয়টি নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন অনেকেই।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই শুনানি শুধু আইনি দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক ভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়াল এবং বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।

লোকসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

লোকসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

আজ লোকসভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবে বক্তব্য রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ তাঁর ভাষণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে।

এই ভাষণে সরকারের নীতি, গত কয়েক বছরের সাফল্য এবং আগামী দিনের রোডম্যাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অর্থনীতি, উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সামাজিক প্রকল্প— একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবও দিতে পারেন তিনি।

বিরোধী পক্ষের কটাক্ষ ও প্রশ্নের মধ্যেই আজকের অধিবেশন ঘিরে সংসদের ভেতরে বাড়তি উত্তেজনার সম্ভাবনা রয়েছে। শাসক ও বিরোধী— উভয় শিবিরের সাংসদদের উপস্থিতিতে লোকসভার এই অধিবেশন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের দিকেই এখন নজর গোটা দেশের।

Saturday, 31 January 2026

রামমন্দিরে আমন্ত্রণ রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে


অযোধ্যা: অযোধ্যায় রামমন্দির দর্শনের জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে আমন্ত্রণ জানাল শ্রী রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, সম্প্রতি ট্রাস্টের কয়েক জন সদস্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।

নৃপেন্দ্র মিশ্র বলেন, “আমরা আশা করছি রাষ্ট্রপতি তাঁর সময়সূচি অনুযায়ী একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন। সম্ভবত মার্চ মাসেই তিনি অযোধ্যায় রামমন্দির দর্শনে আসতে পারেন।”

রামমন্দির উদ্বোধনের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশিষ্টজনদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে অযোধ্যায় প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে ট্রাস্ট সূত্রে খবর। রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে এখনও সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।

TMC বিধায়কের কড়া নিদান! BJP-র প্রচারে গেলে ‘বেঁধে রাখার’ হুঁশিয়ারি


বর্ধমান দক্ষিণ: নির্বাচনী প্রচার ঘিরে উত্তেজক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। BJP-র বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, বিজেপির লোকেরা প্রচারে গেলে তাঁদের বেঁধে রাখার নিদান দেওয়া উচিত।

এক সভায় খোকন দাসের বক্তব্য,
“নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে কেন বাংলার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে? কেন বাংলার মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারবে না? কেন তাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে?”

এখানেই থামেননি তিনি। আরও এক ধাপ এগিয়ে বিধায়ক বলেন,
“তুমি আমাদের বাড়িতে বসবে। আগে জবাব দেবে, তারপর যাবে। চাইলে পাঁচ মিনিটে বিজেপির মিটিং বন্ধ করে দিতে পারি।”

খোকন দাসের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। BJP নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল শাসিত বাংলায় বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি—বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলার মানুষ ও সংস্কৃতিকে আক্রমণ করছে, তারই প্রতিবাদে এই ক্ষোভ।

নির্বাচনের আবহে এমন মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Wednesday, 28 January 2026

নবান্নকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি পদক্ষেপ! ১৫ IAS ও ১০ IPS-কে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক বৈঠকে ডাকল নির্বাচন কমিশন


কলকাতা: আসন্ন পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। ১৫ জন IAS এবং ১০ জন IPS অফিসারকে সরাসরি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক (সেন্ট্রাল অবজার্ভার ও পুলিশ অবজার্ভার) হিসেবে নিয়োগ সংক্রান্ত বৈঠকে ডাকা হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, একাধিকবার নাম চাওয়া হলেও নবান্ন নাম না দেওয়ায় এবার সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। ওই নির্বাচনগুলিতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার জন্যই এই ২৫ জন সর্বভারতীয় ক্যাডারের আধিকারিককে তলব করা হয়েছে।

৫-৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে বৈঠক
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আন্ডার সেক্রেটারি এম এল মীনা-র পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উপস্থিতিতে এই বৈঠক হবে।

দিল্লির দ্বারকায় অবস্থিত ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’-এ আয়োজিত দু’দিনের এই বৈঠকে হাজির থাকা বাধ্যতামূলক বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

গরহাজির হলেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ
চিঠিতে কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে, তলব করা কোনও IAS বা IPS অফিসার বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে’ পদক্ষেপ করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের CEO-কে।

পাশাপাশি, ইমেল মারফত ওই ১৫ জন আধিকারিকের কাছ থেকে বৈঠকে যোগদানের নিশ্চয়তা সংক্রান্ত উত্তর পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ভিন্‌রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের ইঙ্গিত
কমিশন সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য রাজ্যের কাছে একাধিকবার নাম চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নবান্ন সাড়া না দেওয়াতেই এবার সরাসরি এই সিদ্ধান্ত। পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের এই IAS-IPS আধিকারিকদের ভিন্‌রাজ্যের বিধানসভা ভোটে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

রাজ্য-কমিশন টানাপোড়েনের আবহে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়াচ্ছে।

সিঙ্গুরে মমতা, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান উদ্বোধন করে কেন্দ্রকে তোপ


সিঙ্গুর: বামেদের ‘বধ্যভূমি’ হিসেবে পরিচিত সিঙ্গুরে বুধবার মেগা সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি পরিষেবা প্রদান, একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাসের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও দেন তিনি। সভা থেকেই ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করলেন বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান—১,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের অর্থেই কাজ হবে বলে স্পষ্ট জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার অভিযোগ, “কেন্দ্র এক পয়সাও দেয়নি। কিন্তু কথা দিলে কথা রাখি। ঘাটালের মানুষ বারবার বঞ্চিত হয়েছেন, এবার আর নয়।” একই সঙ্গে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আমাকে আঘাত করলে আমি কালবৈশাখী হয়ে যাই, টর্নেডো হয়ে যাই।”
সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা সহায়তা, শস্যবিমায় ৪ হাজার কোটি টাকা, স্বাস্থ্যসাথী ও খাদ্যসাথীর সুবিধা, সিঙ্গুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গঠনের কথাও জানান তিনি। স্পষ্ট করেন, শিল্প হবে, তবে কৃষিজমিতে নয়।
এসআইআর প্রসঙ্গে সরব হয়ে মমতা বলেন, “এসআইআরের নামে এনআরসি করার চক্রান্ত চলছে। কে ভোটার আর কে নয়, সেটা মানুষ ঠিক করবে।” প্রতিবাদ জানিয়ে কবিতা পাঠও করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের সাংসদ দেব, তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মানস ভুঁইঞা সহ একাধিক নেতা। দেব বলেন, “অনেকেই কথা দিয়েছিলেন, কেউ রাখেননি। দিদি কথা রেখেছেন। ঘাটালের মানুষ আজ কৃতজ্ঞ।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, সিঙ্গুর থেকেই ভোটের আগে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী—উন্নয়ন, অধিকার আর প্রতিশ্রুতি রক্ষার বার্তা।

সিঙ্গুর থেকেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন মমতার! একগুচ্ছ প্রকল্পে রাজনৈতিক বার্তা



Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক:
দু’দশক পর ফের রাজনৈতিক উত্তাপ সিঙ্গুরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার কয়েকদিনের মধ্যেই আজ, বুধবার সিঙ্গুর থেকেই বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস, পরিষেবা প্রদান ও জনসভা—সব মিলিয়ে ভোটের বাংলায় বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চলেছেন তিনি।
সম্প্রতি সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা হলেও সেখানে শিল্প নিয়ে কোনও ঘোষণা না হওয়ায় হতাশ স্থানীয় মানুষ। সেই আবহেই আজ সিঙ্গুরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, ঘাটালের তিনবারের সাংসদ দীপক আধিকারী ও রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী মানস ভুইয়াঁ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দীর্ঘদিন ধরেই ঘাটালবাসীর দাবি। বারবার কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সেই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কেন্দ্রের দিকে না তাকিয়েই রাজ্য সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। রাজ্য বাজেটে প্রাথমিক ভাবে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় কাজ। অবশেষে বিধানসভা ভোটের আগেই ঐতিহাসিক সিঙ্গুর থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, এই প্রকল্পের ফলে পশ্চিম মেদিনীপুরের ৭টি ব্লক—ঘাটাল, দাসপুর ১ ও ২, চন্দ্রকোনা ১ ও ২, কেশপুর, ডেবরা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ৪টি ব্লক—পাঁশকুড়া ১, কোলাঘাট, ময়না ও তমলুক, পাশাপাশি ঘাটাল ও পাঁশকুড়া পুরসভার মানুষ উপকৃত হবেন। মোট প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন বলে দাবি প্রশাসনের।

এছাড়াও এদিনের সভা থেকে শিল্প সংক্রান্ত বড় কোনও ঘোষণাও মুখ্যমন্ত্রী করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। সিঙ্গুরের বারুইপাড়া পলতাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রখালি এলাকায় লক্ষাধিক উপভোক্তার হাতে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের অনুমোদনপত্র তুলে দেবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সভার পর মুখ্যমন্ত্রী কোনও মন্তব্য না করলেও, আজকের সভা থেকেই তার রাজনৈতিক জবাব মিলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের লক্ষ্য, দু’লক্ষ মানুষের সমাগম। মন্ত্রী বেচারাম মান্না জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রীর সভায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ হয়েছিল। আমাদের টার্গেট দু’লক্ষ। তাই বড় মাঠেই সভার আয়োজন করা হয়েছে।”

অবতরণের সময় ভেঙে পড়ল অজিত পওয়ারের বিমান! ভয়ংকর দুর্ঘটনায় মৃত ৫



Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক:
মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পওয়ারকে বহনকারী প্রাইভেট বিমান জরুরি অবতরণের সময় ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পরই বিমানে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় বিমানে থাকা ৬ জনের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, বলে জানিয়েছে ডিজিসিএ।

সোমবার সকালে মুম্বই থেকে বারামতির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল চ্যাটার্ড বিমানটি। বুধবার বারামতিতে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল অজিত পওয়ারের। কিন্তু অবতরণের সময় আচমকাই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বিমানটি। সামনে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বিমানের সামনের অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে আগুনে পুড়ে গিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা। যদিও এখনও সরকারি ভাবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানানো হয়নি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও যাত্রীদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সূত্রের খবর, গুরুতর অবস্থায় অজিত পওয়ার ও অন্যান্য যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

Tuesday, 27 January 2026

বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গ বিজেপিতে ফোকাস, আজ বাংলায় নীতিন নবীন


আজ, মঙ্গলবার বিজেপির নবনির্বাচিত সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম বঙ্গ সফর। রাজনৈতিক মহলে এই সফর ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল।
সূচি অনুযায়ী, ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি তিনি বাংলায় থাকবেন। বিধানসভা ভোটের আগে দলের একাধিক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন নীতিন নবীন। বঙ্গ বিজেপির সংগঠন আরও মজবুত করা এবং কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই এই সফরের মূল লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে খবর।

Monday, 26 January 2026

পেটের আবার জাত কীসের! নন্দীগ্রামে ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে ‘সেবাশ্রয়’-এর জনজোয়ার


পেটের আবার জাত কীসের! নন্দীগ্রামে ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে ‘সেবাশ্রয়’-এর জনজোয়ার

ভোট-রাজনীতির তীব্র দাবদাহ শুরু হওয়ার আগেই নন্দীগ্রাম যেন বলছে একেবারে অন্য কথা। বাইরে ভেদাভেদের রাজনীতি থাকলেও, পূর্ব মেদিনীপুরের এই ‘হটসিট’-এ আপাতত প্রধান পরিচয়—মানুষের প্রয়োজন, আর সেই প্রয়োজন মেটানোর ঠিকানা হয়ে উঠেছে ‘সেবাশ্রয়’। সরেজমিনে নন্দীগ্রামে পা রাখলেই চোখে পড়ছে এক অন্য আবহ, যেখানে রাজনীতির বদলে মুখ্য হয়ে উঠেছে চিকিৎসা আর স্বস্তির নিঃশ্বাস।

খোদামবাড়ি হোক কিংবা নন্দীগ্রাম বাইপাস—দুই সেবাশ্রয় ক্যাম্পেই উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। এক ঝলকে দেখলে বোঝার উপায় নেই, এটা নন্দীগ্রাম না ডায়মন্ড হারবার! তথাকথিত শুভেন্দু-গড় নন্দীগ্রামে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে অন্য সুর, অন্য বাতাস। অনেকের কথায়, “মেলালেন তিনি, মেলালেন”—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজনীতির বিভাজন ছাপিয়ে এক ছাতার তলায় আসছেন সাধারণ মানুষ।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে নজির সৃষ্টি করেছে এই স্বাস্থ্যভিত্তিক উদ্যোগ। এক ক্যাম্পেই মিলছে প্রায় সব রকম পরিষেবা—জেনারেল মেডিসিন থেকে অস্থিরোগ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, চোখের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। রয়েছে মিনি আইসিইউ, চোখের অস্ত্রোপচার, এমনকি প্রয়োজনে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও। এক কথায়, ছোটখাটো বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে নন্দীগ্রামের এই দুই সেবাশ্রয় ক্যাম্প।

পরিসংখ্যান বলছে, ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামের দুই সেবাশ্রয় ক্যাম্পে এসেছেন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজারেরও বেশি রোগী দেখছেন চিকিৎসকেরা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—প্রত্যেকটি বিভাগেই সমস্ত পরিষেবা মিলছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। নন্দীগ্রামের আনাচ-কানাচ তো বটেই, পটাশপুর-সহ আশপাশের এলাকা থেকেও ছুটে আসছেন মানুষ। কারও কিডনির সমস্যা, কারও চোখে ছানি, আবার কেউ হৃদরোগে ভুগছেন—সব ক্ষেত্রেই মিলছে নির্দিষ্ট চিকিৎসা।

নন্দীগ্রামের খোদামবাড়ি এলাকার সেবাশ্রয় ২ মডেল ক্যাম্পের চিকিৎসক কো-অর্ডিনেটর বিশ্বজিৎ সাহু জানান,
“মাননীয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ১৫ জানুয়ারি থেকে এই ক্যাম্প শুরু হয়েছে। চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী আসছেন। বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নন্দীগ্রামের মানুষ ভীষণ খুশি।”

সেবাশ্রয়ে আসা সাধারণ মানুষের মুখেও একই সুর। কানের সমস্যায় দীর্ঘদিন ভোগা রুথরেজা বিবির কথায়,
“বিনা পয়সায় এত ভালো চিকিৎসা পেয়েছি। এখন অনেকটাই ভালো আছি। আবার যেন এমন ক্যাম্প হয়।”
শেফালি মিত্র ও আরতি রানি মান্না বলছেন,
“এমন উদ্যোগ আগে কখনও দেখিনি। নন্দীগ্রামে এমন স্বাস্থ্যশিবির হবে, ভাবতেই ভালো লাগছে। এর কোনও তুলনা নেই।”

গত পাঁচ বছরে রাজনীতি, অশান্তি আর নানা টানাপোড়েন দেখেছে নন্দীগ্রাম। ঠিক সেই পটভূমিতেই রবিবারের নন্দীগ্রাম যেন বলছে, এখানে এখন রাজনীতির থেকেও বড় হয়ে উঠেছে মানুষের প্রয়োজন। অনেকের মতে, আগামী দিনে পথ দেখাবে নন্দীগ্রাম নয়—পথের কথা বলবে এই ‘সেবাশ্রয়’।

শুভেন্দুর নন্দীগ্রামে ফের জয় তৃণমূলের, রানিপুর সমবায়েও বিজেপিকে হারাল TMC

শুভেন্দুর নন্দীগ্রামে ফের জয় তৃণমূলের, রানিপুর সমবায়েও বিজেপিকে হারাল TMC

শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রামে ফের ধাক্কা খেল বিজেপি। রানিপুর সমবায় সমিতির নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। এই নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে নন্দীগ্রামের শক্তির সমীকরণ নিয়ে।

রানিপুর সমবায় সমিতির মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে আগেই ৫টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিল তৃণমূল। বাকি ৪০টি আসনে লড়াই ছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে। ফলাফলে দেখা গিয়েছে, তৃণমূল পেয়েছে ২৭টি আসন, বিজেপি পেয়েছে ১৮টি আসন।

এর ফলে আবারও স্পষ্ট হল, শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে বিজেপির সংগঠন তৃণমূলের সামনে পিছিয়ে পড়ছে। শাসক শিবিরের দাবি, এই ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে যে নন্দীগ্রামের মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করছেন। তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, “২০২১-এর পর থেকে নন্দীগ্রামে বারবার হারছে বিজেপি। এবার বিধানসভা ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর বিদায় নিশ্চিত।”

অন্যদিকে, বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত পরাজয় নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দলের অন্দরে এই ফলাফল যে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সমবায় নির্বাচনের এই ফল নন্দীগ্রামে আসন্ন বড় নির্বাচনের আগে তৃণমূলের মনোবল আরও বাড়াল, আর শুভেন্দুর ঘাঁটিতে বিজেপির অস্তিত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল।

Thursday, 22 January 2026

ভিন্ ধর্মে প্রেমের জের, মোরাদাবাদে ‘অনার কিলিং’—যুগলকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দিল পরিবার, গ্রেফতার তরুণীর দুই দাদা


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট:
ভিন্ ধর্মের যুবকের সঙ্গে প্রেম। তারই জেরে মর্মান্তিক পরিণতি হল এক তরুণী ও তাঁর প্রেমিকের। খুন করে জঙ্গলের মধ্যে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হল যুগলকে। উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে এই ভয়ঙ্কর ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনায় তরুণীর পরিবারের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই মেয়েটির দুই দাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও একজন অভিযুক্ত পলাতক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম কাজল (২২)। তাঁর প্রেমিক আরমানের বয়স ২৭ বছর। আরমান দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি দেশে ফিরে মোরাদাবাদে থাকতে শুরু করেন। সেই সময়েই কাজলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই তীব্র আপত্তি জানায় কাজলের পরিবার। ভিন্ ধর্মের যুবককে বিয়ে করা যাবে না—এই শর্তে সম্পর্ক ভাঙার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল কাজলকে। কিন্তু তাতেও সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়াননি দু’জন।
এরই মধ্যে তিন দিন আগে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান কাজল ও আরমান। দীর্ঘ সময় তাঁদের কোনও খোঁজ না মেলায় বুধবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে আরমানের পরিবার। বৃহস্পতিবার সকালে নিখোঁজ ডায়েরি করে কাজলের পরিবারও।
অভিযোগ দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ সত্য সামনে আসে। জঙ্গলের মধ্যে, গগন নদী সংলগ্ন এলাকায় একটি মন্দিরের পিছন থেকে উদ্ধার হয় কাজল ও আরমানের দেহ। দু’জনকেই খুন করে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কাজলের দাদারাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। গ্রেফতার হওয়া দুই দাদাকে জেরা করেই দেহ উদ্ধারের জায়গা জানতে পারে পুলিশ। তারাই পুলিশকে জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে গিয়ে মাটির নিচে পোঁতা দেহের অবস্থান দেখিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কাজল পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষিকার কাজ করতেন। প্রায় দু’বছর ধরে আরমানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। গত ১৮ জানুয়ারি আরমান কাজলের বাড়িতে কথা বলতে যান। সেখানেই দু’জনকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর তাঁদের খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে দেহ দু’টি জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে মন্দিরের পিছনে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়।
মোরাদাবাদের এসএসপি সৎপাল আন্তিল বলেন, “তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, তরুণীর দাদারাই এই খুনের সঙ্গে যুক্ত। তারা অপরাধের কথা স্বীকারও করেছে। দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খুনের কাজে ব্যবহৃত বেলচাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”
মেয়েটির তিন দাদার বিরুদ্ধেই খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। দু’জন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে, অপর জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এলাকায় যাতে কোনও রকম সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা না ছড়ায়, সে জন্য গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আরমানের দিদি জানিয়েছেন, তাঁরা এই প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতেন না। গত চার বছর সৌদি আরবে ছিলেন আরমান। মাত্র তিন মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন।
এই ঘটনায় আবারও উত্তরপ্রদেশে অনার কিলিং ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বাংলাদেশ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত

নিরাপত্তা উদ্বেগে ভারতে আসছে না বাংলাদেশ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত
Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট:
৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসবে না বাংলাদেশ। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ক্রীড়া ও যুব দফতরের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিরাপত্তার কারণে ভারতের মাটিতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ দল। এই সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামও জানান, ভারতের মাটিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁরা অটল। তবে একই সঙ্গে আশাবাদী, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোনও বিকল্প পথ খুঁজে বার করতে পারে।

এর আগেই বুধবার আইসিসি জানিয়ে দিয়েছিল, বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতে এসেই খেলতে হবে। অন্যথায় তাদের জায়গায় অন্য দলকে সুযোগ দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে খেলানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এখনও পর্যন্ত আইসিসির তরফে সরকারি ভাবে বিকল্প দলের নাম ঘোষণা করা হয়নি।

বুধবার আইসিসি বোর্ড মিটিংয়েও ভোটাভুটিতে হেরে যায় বাংলাদেশ। সেখানেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে খেলতে না এলে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়তে হবে বাংলাদেশকে। বৃহস্পতিবারই ছিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর শেষ দিন।
এই সিদ্ধান্তের আগে বিশ্বকাপ দলে নির্বাচিত ক্রিকেটারদের জরুরি বৈঠকের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মাহেদি হাসান বলেন, “কী বিষয়ে আলোচনা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্বকাপ দলে থাকা প্রত্যেককে মেসেজ করে ডাকা হয়েছে। মিটিংয়ে গেলে বোঝা যাবে কী সিদ্ধান্ত হয়।”

উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে কী বলবেন—এই প্রশ্নে মাহেদির মন্তব্য ছিল, “খেলোয়াড় হিসেবে কে চাইবে না বিশ্বকাপ খেলতে? কিন্তু এটা পুরোপুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত। সরকারেরও একটা সিদ্ধান্ত আছে। ওরাই আমাদের অভিভাবক। তারা যা বলবেন, খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সেটাই করা উচিত।”

সব জল্পনা ও নাটকের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তই নিল বাংলাদেশ। এর ফলে বিশ্বকাপের চিত্রনাট্যে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট মহল।

ভিনরাজ্যে ফের রহস্যমৃত্যু বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের! মুক্তিপণ ফোনের পরই খুনের অভিযোগ, উত্তেজনা এলাকায়


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট | 

ভিনরাজ্যে ফের রহস্যজনক মৃত্যু বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি থানা এলাকার যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণ দাবি করে ফোন আসার পরই খুন করা হয়েছে ওই পরিযায়ী শ্রমিককে। মৃতের দাদার আরও দাবি, বাংলাদেশি সন্দেহে দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে খুন করেছে তাঁর ভাইকে।

মৃত যুবকের নাম মঞ্জুর আলম লস্কর (৩২)। তিনি উস্তি থানা এলাকার রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারুল এলাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন মঞ্জুর। মাঝেমধ্যেই ছুটিতে বাড়ি ফিরতেন। তাঁর দাদা গিয়াসউদ্দিন লস্কর স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক মাস আগে ছুটিতে বাড়ি আসেন মঞ্জুর। এরপর প্রায় ২০ দিন আগে ফের কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার হঠাৎই একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে বাড়িতে। ফোন করে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মঞ্জুরকে খুন করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতির চাপে পড়ে মৃতের স্ত্রী ওই নম্বরে ৬ হাজার টাকা পাঠান।

কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। বুধবার সেই একই নম্বর থেকেই ফোন করে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, মঞ্জুর মারা গিয়েছেন। এরপরই পরিবারের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। মৃতের দাদা গিয়াসউদ্দিন লস্করের অভিযোগ, বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁর ভাইকে মারধর করে খুন করা হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে মঞ্জুরের মৃত্যু হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে, মৃতদেহ বাংলায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

সুপ্রিম’ নির্দেশ মেনেই কড়া পদক্ষেপ: শনিতে তথ্যে অসংগতির তালিকা প্রকাশ, সঙ্গে আনম্যাপড ভোটারদের নাম

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট | 

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে শিরোধার্য করেই এসআইআর (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন তথ্যগত অসংগতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির তালিকার পাশাপাশি আনম্যাপড ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী শনিবারের মধ্যেই এই তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস, তালুক ও ওয়ার্ড অফিস-সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে টাঙিয়ে দেওয়া হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলায় তথ্যগত অসংগতির তালিকায় রয়েছে ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৩২ জন ভোটারের নাম। পাশাপাশি আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬।

রবিবার থেকে যেসব ভোটারের নাম তথ্যগত অসংগতির তালিকায় রয়েছে, তাঁরা নিজেরা অথবা কোনও প্রতিনিধির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারবেন। শুনানির সময় মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেটের পাশাপাশি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বুধবার রাতে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নথি জমা দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সব প্রক্রিয়া শেষ করে শুনানি সম্পন্ন হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে পারে ২০ ফেব্রুয়ারি নাগাদ—এমনটাই মনে করছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।

এদিকে, রাজ্যের ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে চার আধিকারিক ও এক কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই প্রেক্ষিতে নবান্ন কমিশনকে জানায়, আপাতত চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও এফআইআর প্রসঙ্গে আরও সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদনের পরই কমিশন ফের কড়া অবস্থান নেয়। কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা জানতে মুখ্যসচিবকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

আজ, বৃহস্পতিবার কমিশন নিযুক্ত ১২ জন পর্যবেক্ষককে নিয়ে বৈঠকে বসছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। বৈঠকে মূলত ভোটার তালিকা সংশোধনের অগ্রগতি ও এসআইআর শুনানির সময় আপলোড হওয়া নথিপত্রের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।

Wednesday, 21 January 2026

পুষ্পার নতুন ভিলেন বিজয়, ‘পুষ্পা ৩’-এ বড় চমক


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক:
অল্লু অর্জুনের সুপারহিট ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘পুষ্পা’ ফের নতুন চমক আনতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, ‘পুষ্পা ৩’ ছবিতে খলচরিত্রে দেখা যেতে পারে বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে। এই মুহূর্তে ছবির চিত্রনাট্যের কাজ চলছে এবং সেখানেই নাকি এক নতুন শক্তিশালী ভিলেনের প্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, ‘পুষ্পা ১’ ও ‘পুষ্পা ২’-তে ফাহাদ ফাসিলের চরিত্রটি পুষ্পাকে ধরতে ব্যর্থ হয়। সেই গল্পের ধারাবাহিকতাতেই নতুন পর্বে তাঁর চরিত্রটিকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত থাকছে। আর সেখানেই পুষ্পার সামনে একেবারে নতুন ও ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হিসেবে হাজির হতে পারেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা।

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় এই তারকাকে ভিলেন হিসেবে দেখা গেলে ছবির গল্পে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা। অল্লু অর্জুন বনাম বিজয় দেবেরাকোন্ডা—এই সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।

যদিও নির্মাতাদের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ‘পুষ্পা ৩’ হতে চলেছে ফ্র্যাঞ্চাইজির সবচেয়ে বড় এবং চমকপ্রদ অধ্যায়—এমনটাই আশা সিনেমা মহলের।

জেলায় জেলায় আশা কর্মীদের বিক্ষোভ, স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের আগে আটকানোর অভিযোগ



Y বাংলা নিউজ ডেস্ক:
আজ ফের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন আশাকর্মীদের একাংশ। কিন্তু অভিযানের আগেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাঁদের আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। পুলিশ ও জিআরপি-র বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করছেন বিক্ষোভকারীরা। একাধিক আশাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর মিলেছে।

জানা গিয়েছে, সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতামুখী রওনা দেওয়ার চেষ্টা করলে বহু জায়গায় আশাকর্মীদের আটকে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের কোনও বাস কলকাতায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কোথাও বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।

এ দিন সকালে বাঁকুড়ার খাতড়ার পাম্প মোড়ে পথ অবরোধ করেন আশাকর্মীরা। এর জেরে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। অবরোধকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলেই প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

আশাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত একাধিক দাবি ঝুলে রয়েছে। সেই দাবিগুলি নিয়ে বারবার আন্দোলন করা হলেও সমাধান হয়নি। তাই স্বাস্থ্য ভবন অভিযান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

Monday, 19 January 2026

সোমবার নদিয়া জেলায় আলাদা দুই এলাকায় মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। পরিবারের দাবি, SIR সংক্রান্ত আতঙ্ক ও জটিলতার কারণেই প্রাণ হারিয়েছেন দুই ব্যক্তি।

 

সোমবার নদিয়া জেলায় আলাদা দুই এলাকায় মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। পরিবারের দাবি, SIR সংক্রান্ত আতঙ্ক ও জটিলতার কারণেই প্রাণ হারিয়েছেন দুই ব্যক্তি।

SIR আতঙ্কে নদিয়ায় একই দিনে মৃত ২, সুপ্রিম রায়ের দিনেই চাঞ্চল্য

SIR আতঙ্কে নদিয়ায় একই দিনে মৃত ২, সুপ্রিম রায়ের দিনেই চাঞ্চল্য

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট | কপি-রাইট মুক্ত

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের দিনই SIR আতঙ্কে নদিয়ায় একই দিনে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। সোমবার নদিয়া জেলার দুই প্রান্তে ঘটে যাওয়া এই দুই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

নাকাশিপাড়া ব্লকের মুরাগাছা পঞ্চায়েতের শালিগ্রামে মৃত্যু হয়েছে সামীর আলি দেওয়ান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, SIR সংক্রান্ত আতঙ্ক ও মানসিক চাপে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, করিমপুর ব্লকের হোগলবেড়িয়া থানা এলাকায় মৃত্যু হয়েছে ৫৪ বছরের ফিজুর খানের। পরিবারের অভিযোগ, SIR সংক্রান্ত জটিলতা ও বিভ্রান্তির কারণেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাণ হারান।

এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-কে দায়ী করেছে। তাদের বক্তব্য, SIR নিয়ে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিই মানুষের মধ্যে ভয় ও চাপ তৈরি করছে, যার পরিণতি এত বড় বিপর্যয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের সঙ্গে শাসক দলের রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা ও SIR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর এখন নদিয়াবাসীর।

I-PAC তল্লাশি বিতর্কের মধ্যেই বড় অ্যাকশন ED-র, ২৮০০ কোটি টাকার মামলায় গ্রেফতার কলকাতার ব্যবসায়ী


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট

২৮০০ কোটি টাকা তছরুপের মামলায় পশ্চিমবঙ্গের এক নামী ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের সঙ্গে ইডি-র সংঘাত যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই এই গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে জোর চর্চা।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার ব্যবসায়ী প্রত্যুষ কুমার সুরেকাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গণেশ জুয়েলারি হাউজ সংক্রান্ত ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অর্থ তছরুপের মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সিবিআইয়ের করা একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। ওই এফআইআর-এ SHJHIL এবং তাদের কর্তাদের বিরুদ্ধে ২৫টি ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২৬৭২ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ ওঠে। সেই তদন্ত সূত্র ধরেই প্রত্যুষ কুমার সুরেকার নাম সামনে আসে।

ইডি আধিকারিকদের মতে, ২০০২ সালের অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনের ধারা ১৯(১)-এর আওতায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক জালিয়াতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ থাকার সন্দেহেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, I-PAC কর্তা প্রতীক জৈনের ফ্ল্যাট ও অফিসে তল্লাশি নিয়ে ইডি এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখনও চলমান। সেই আবহেই কলকাতায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলায় এই প্রথম গ্রেফতারি করল ইডি।

এই মামলায় আগামী দিনে আরও কেউ গ্রেফতার হন কি না, সেদিকেই এখন নজর। যদিও এই গ্রেফতারি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

Karandighi: বিধায়কের কীর্তিতে বেকায়দায় তৃণমূল


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট

করণদিঘিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস নতুন করে অস্বস্তিতে। করণদিঘির বিধায়ক গৌতম পাল টাকা নিচ্ছেন—এমনই একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ভিডিওর সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বিধায়ক গৌতম পালের স্ত্রীকে ঘিরে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট দেখিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই সময়ও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর কম হয়নি। যদিও শাসকদলের একাংশের দাবি, অতীতেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও ভোটের ময়দানে তার বড় প্রভাব পড়েনি। সেই ‘ইতিহাস’-ই এখন কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বকে।

অন্যদিকে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। তাদের দাবি, করণদিঘির মানুষ এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেবেন এবং আগামী নির্বাচনে পদ্মফুলই ফুটবে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ভাইরাল ভিডিও সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে প্রশাসনিক স্তরে কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। করণদিঘির রাজনীতিতে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।

Sunday, 18 January 2026

মহাকুম্ভ বিতর্কে তীব্র বিস্ফোরণ, সাধু নিগ্রহের অভিযোগে প্রশাসনের বিরুদ্ধে শঙ্করাচার্যের গুরুতর অভিযোগ


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট :
সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ। তাঁর দাবি, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর তিনি নিজে ফিরে যেতে রাজি থাকা সত্ত্বেও সরকারি কর্মকর্তারা তাঁর অনুগামী সাধুদের উপর মারধর চালান। এই ঘটনাকে তিনি পরিকল্পিত ও প্রতিশোধমূলক বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

শঙ্করাচার্য বলেন, “আমরা পুরোপুরি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলাম। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরার সময় দেখলাম, বড় বড় কর্মকর্তারা আমাদের সাধুদের মারধর করছেন। এটা সম্পূর্ণ অমানবিক।”

তাঁর আরও দাবি, মহাকুণ্ডে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করায় প্রশাসনের একাংশ ক্ষুব্ধ। সেই কারণেই এখন কর্মকর্তাদের দিয়ে তাঁর অনুগামীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার ভিডিও বা প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান সামনে এলে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Saturday, 17 January 2026

আজ দুপুরেই রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী, ৪ হাজার কোটির প্রকল্পের সূচনা



Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট

আজ, শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ তাঁর মালদা টাউন স্টেশনে পৌঁছোনোর কথা। সেখানে তিনি হাওড়া–কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি ভার্চুয়ালি গুয়াহাটি (কামাখ্যা)–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনেরও সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর দুপুর পৌনে ২টো নাগাদ মালদা শহরের সাহাপুর মালদা বাইপাস সংলগ্ন মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ওই সভা মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী ৩২৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক রেল ও সড়ক পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন।

রেল যোগাযোগ উন্নয়ন, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ—এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গ এবং সংলগ্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

Thursday, 15 January 2026

ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের

ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব খারিজ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে লিখিতভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি করা নির্দেশিকায় ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য যে নথিগুলিকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তার তালিকায় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড অন্তর্ভুক্ত নেই। সেই কারণেই রাজ্য সরকারের পাঠানো প্রস্তাব গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কমিশন।

কমিশনের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত তালিকার বাইরে গিয়ে নতুন কোনও নথিকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। ফলে আসন্ন ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে না—এ বিষয়ে কার্যত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।

এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত পড়ুয়া ও তরুণ-তরুণীদের সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। তবে কমিশনের বক্তব্য, নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বত্র একরকম নিয়ম বজায় রাখাই স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার স্বার্থে জরুরি।

ভোটের মুখে যখন রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

BLO মৃত্যুকাণ্ডে তীব্র রাজনৈতিক তরজা, TMC কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ BJP-র


যাদবপুর বিধানসভার ১১০ নম্বর পার্টের BLO অশোক দাসের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর অনন্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ।
সজল ঘোষের দাবি, অনন্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজু বিশ্বাস (BLA 2, AITC)-এর লাগাতার চাপ ও হুমকির জেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন অশোক দাস। নিজের দাবির সপক্ষে একটি অডিও প্রকাশ করেছেন বিজেপি কাউন্সিলর।
সজল ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, অশোক দাসের স্ত্রী ও পুত্রকে হামলার ভয় দেখানো হচ্ছিল। তাঁর বক্তব্য, “পিসি-ভাইপোর রাজত্বে কি এই আত্মহত্যার কোনও বিচার হবে না?”
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তদন্তের আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সিঙ্গুরে NAMO-র সভা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক | সিঙ্গুর

সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রস্তাবিত জনসভা ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে উঠেছে। সভার জন্য নির্ধারিত জমি ব্যবহারে প্রয়োজনীয় অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগে বিডিও অফিসে অন্তত ১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এর জেরে সভা আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী বেচারাম মান্না প্রশ্ন তুলেছেন, “বিনা অনুমতিতে সাধারণ কৃষকের জমি কেন ব্যবহার করা হবে?” তাঁর দাবি, নিয়ম মেনে অনুমতি না নিয়ে জমি ব্যবহার করা হলে তা কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থী।

পাল্টা জবাবে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে উন্নয়নের পথে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সভা আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে জমি সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। অনুমতির বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সভা আয়োজন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। রাজনৈতিক তরজা চললেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর সবার।

২ আক্রান্ত, ১০০ জন আইসোলেশনে—নিপা আতঙ্ক রাজ্যে, কী করবেন আর কী নয়? মাস্ক কি বাধ্যতামূলক?

২ আক্রান্ত, ১০০ জন আইসোলেশনে—নিপা আতঙ্ক রাজ্যে, কী করবেন আর কী নয়? মাস্ক কি বাধ্যতামূলক?

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক

রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং সংক্রমণের শঙ্কায় প্রায় ১০০ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চলছে প্রশাসনের। এর মধ্যেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—নিপা থেকে বাঁচতে কী করবেন, কী করবেন না? মাস্ক পরা কি এখন বাধ্যতামূলক?

নিপা কীভাবে ছড়ায়?

নিপা ভাইরাস মূলত বাদুড় থেকে ছড়াতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তাঁর শরীরের নিঃসৃত তরলের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটতে পারে। কাঁচা ফল, খেজুরের রস বা অপরিষ্কার খাবারের মাধ্যমেও ঝুঁকি থাকে।

কী করবেন (Do’s)

  • ✔️ বারবার সাবান ও জল দিয়ে হাত ধোবেন
  • ✔️ জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
  • ✔️ অসুস্থ ব্যক্তির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন
  • ✔️ ফল ভালোভাবে ধুয়ে ও খোসা ছাড়িয়ে খাবেন
  • ✔️ সরকারি নির্দেশিকা ও স্বাস্থ্য দফতরের আপডেট মেনে চলবেন

কী করবেন না (Don’ts)

  • ❌ কাঁচা বা আধা-পাকা ফল খাবেন না
  • ❌ অসুস্থ ব্যক্তির ব্যক্তিগত জিনিস ব্যবহার করবেন না
  • ❌ অযথা ভিড় বা গুজবে কান দেবেন না
  • ❌ উপসর্গ লুকিয়ে রাখবেন না

মাস্ক পরা কি বাধ্যতামূলক?

এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে সাধারণভাবে মাস্ক বাধ্যতামূলক নয়। তবে হাসপাতালে, আইসোলেশন ইউনিটে বা উপসর্গযুক্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে মাস্ক পরার জোরালো পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকলে বা ভিড় এড়ানো সম্ভব না হলে মাস্ক ব্যবহার করাই নিরাপদ।

স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।

ইরান আকাশসীমা বন্ধ, যাত্রীদের জন্য অ্যাডভাইসরি জারি ভারতীয়

 বিমানসংস্থাগুলির
Y বাংলা নিউজ ডেস্ক:- 
ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায় প্রভাব পড়তে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য একের পর এক অ্যাডভাইসরি জারি করল ভারতের একাধিক বিমানসংস্থা। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইরানের এয়ারস্পেস ব্যবহার করা না যাওয়ায় বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিমানের রুট পরিবর্তন করা হচ্ছে।

বিমানসংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, বিকল্প রুটে বিমান চালাতে হওয়ায় কিছু ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি, অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকটি ফ্লাইট বাতিলও করা হয়েছে। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলি জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, আমেরিকার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ইরান সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার জেরেই মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপগামী একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের রুটে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশ의 বিমানসংস্থা।

যাত্রীদের উদ্দেশে বিমানসংস্থাগুলি পরামর্শ দিয়েছে, যাত্রার আগে নিজ নিজ ফ্লাইটের স্ট্যাটাস যাচাই করে নিতে এবং প্রয়োজনে এয়ারলাইন্সের কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিষেবা আগের মতো চালু করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

Wednesday, 14 January 2026

নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে ভোটার তালিকায় নাম নাও থাকতে পারে: সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক, নয়া দিল্লি:
নাগরিকত্ব নিয়ে ন্যূনতম সন্দেহ থাকলে কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় নাও রাখা হতে পারে—এমনই অবস্থান সুপ্রিম কোর্টে স্পষ্ট করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বাংলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কমিশনের এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী জানান, কোনও ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) যদি নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কারও নাম ভোটার তালিকায় না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। কারণ নাগরিকত্ব নির্ধারণের একমাত্র অধিকার কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।
শুনানিকালে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব নির্ধারণ না করা পর্যন্ত কোনও ব্যক্তির ভোটাধিকার কি স্থগিত থাকবে? এর উত্তরে কমিশনের আইনজীবী জানান, SIR প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল যারা ভারতীয় নাগরিক নন, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিশ্চিত করা। তবে কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া বা তাকে দেশছাড়া করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই।
এই মামলার শুনানি আগামী ১৫ জানুয়ারি ফের শুরু হবে প্রধান বিচারপতির এজলাসে।
উল্লেখ্য, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি অভিযোগ করেন, SIR সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশ নির্বাচন কমিশন সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে জারি করছে।
এছাড়াও অভিযোগ ওঠে, হোয়াট্‌সঅ্যাপের মাধ্যমে ব্লক লেভেল অফিসারদের (BLO) কাজের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি আগেই প্রকাশ্যে এনেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি এই প্রসঙ্গ তোলেন।
তৃণমূলের তরফে কমিশনের তথ্যে যুক্তিগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, SIR প্রক্রিয়ার আওতায় ভোটাররা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তার বিপরীতে কোনও রসিদ বা স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।

রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে, রাজ্যসভায় আর যেতে চান না দিগ্বিজয় সিং


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক:
মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান মেয়াদ শেষ হলে রাজ্যসভায় আর যেতে চান না তিনি। তাঁর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অন্দরে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই বিরোধী শিবিরেও চলছে নানা হিসেব-নিকেশ।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোর প্রশংসা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক উত্থানকে সম্মান জানানোর পর থেকেই দিগ্বিজয় সিংকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
যদিও দিগ্বিজয় সিং সরাসরি দলবদলের বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেননি, তবে রাজ্যসভার আসন ছাড়ার ঘোষণা কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই নেতার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

বাংলাদেশ না খেললেও বোর্ডের ক্ষতি হবে না’, মন্তব্য বিসিবি কর্তার


Y বাংলা নিউজ ডেস্ক:
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলা নিয়ে বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আর্থিক কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললেও বোর্ডের আর্থিক ক্ষতি হবে না।
নাজমুল ইসলামের বক্তব্য, “ক্রিকেটারদের ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু বোর্ডের নয়। কোনও ক্রিকেটার যদি ম্যাচ খেলে ভালো পারফরম্যান্স করে, ম্যাচ সেরা হয় বা উল্লেখযোগ্য কিছু করে দেখায়, তা হলে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী যে অর্থ পাওয়া যায়, তা সরাসরি ক্রিকেটারের নিজের প্রাপ্য। সেই টাকার সঙ্গে বোর্ডের কোনও লেনদেন নেই।”
তিনি আরও জানান, আইসিসি থেকে প্রাপ্ত পারফরম্যান্স-ভিত্তিক আর্থিক সুবিধা সম্পূর্ণভাবে ক্রিকেটারদের জন্য নির্ধারিত। ফলে দল খেলুক বা না খেলুক, বোর্ডের আর্থিক অবস্থার উপর তার কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই মত বিসিবি কর্তার।
বিশ্বকাপ ঘিরে এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে বাংলাদেশের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।

কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে ঐতিহাসিক রদবদল: ৬ ভবনের দফতর যাচ্ছে ‘কর্তব্য ভবনে’, নর্থ-সাউথ ব্লকে আসছে ‘যুগে যুগে ভারত’ মিউজিয়াম

🏛️ কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে ঐতিহাসিক রদবদল: ৬ ভবনের দফতর যাচ্ছে ‘কর্তব্য ভবনে’, নর্থ-সাউথ ব্লকে আসছে ‘যুগে যুগে ভারত’ মিউজিয়াম

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক | নয়াদিল্লি

দিল্লির ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের ঠিকানা বদলাতে চলেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের। শাস্ত্রী ভবন, কৃষি ভবন, নির্মাণ ভবন, শ্রমশক্তি ভবন এবং উদ্যোগ ভবন—এই ছ’টি ভবনে থাকা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দফতর স্থানান্তরিত হবে নতুন নির্মিত ‘কর্তব্য ভবনে’।

এই স্থানান্তরের ফলে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঐতিহ্য রক্ষার দিকটিও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্রিটিশ স্থপতি হারবার্ট বেকারের নকশায় নির্মিত ১৯৩১ সালের ঐতিহাসিক নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক অক্ষত রাখা হচ্ছে।

এই দুই ঐতিহাসিক ভবনকে নতুন রূপে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। এখানে তৈরি হবে ‘যুগে যুগে ভারত’ নামে একটি মিউজিয়াম। প্রস্তাবিত এই মিউজিয়ামে ভারতের প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক সময় এবং ভবিষ্যৎ ভারতের রূপরেখা প্রদর্শিত হবে।

ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণের এই যুগল পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নাগরাকাটার ভোটযুদ্ধ: জোড়াফুল না পদ্ম—কার উপর ভরসা পাহাড়-ডুয়ার্সের এই জনপদের?


🌼 

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক | নাগরাকাটা

একসময় নাগরাকাটা মানেই ছিল বামদুর্গ। বছরের পর বছর লাল পতাকার দাপটে অভ্যস্ত ছিল এই বিধানসভা কেন্দ্র। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে রাজনৈতিক মানচিত্র। এখন নাগরাকাটায় মূল লড়াই দুই ‘ফুলে’র—জোড়াফুল ও পদ্মের মধ্যে।

২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের ঢেউ এসে লাগে নাগরাকাটাতেও। তৃণমূল কংগ্রেস–কংগ্রেস জোটের হাতেই প্রথমবার যায় এই আসন। পরের বছর উপনির্বাচনে আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণ আবার বদলায় ২০২১ সালে। সেই নির্বাচনে তৃণমূলকে হারিয়ে নাগরাকাটার দখল নেয় বিজেপি।

এরপর থেকে এলাকায় ক্রমশ সংগঠন শক্তিশালী করার দাবি করছে পদ্মশিবির। বিজেপির বক্তব্য, নাগরাকাটায় তাদের জনভিত্তি আগের চেয়ে অনেকটাই মজবুত। বুথ স্তরে সংগঠন, আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প—সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী তারা।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও পিছিয়ে নেই। শাসক শিবিরের দাবি, উন্নয়নমূলক কাজ ও স্থানীয় নেতৃত্বের জোরেই আবারও নাগরাকাটায় জোড়াফুলের প্রত্যাবর্তন সম্ভব। অতীতের ফলাফল টেনে এনে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, এই আসন এখনও পুরোপুরি তাদের হাতছাড়া হয়নি।

সব মিলিয়ে নাগরাকাটা এখন রাজনৈতিক দোলাচলে। প্রশ্ন একটাই—আসন্ন ভোটে নাগরাকাটার মানুষ ভরসা রাখবেন কোন ফুলে? পদ্মে, না কি ফের অতীতের মতো জোড়াফুলেই ফিরবে এই কেন্দ্র? নজর থাকবে ভোটের ফলাফলের দিকে।

আই-প্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নজর, বৃহস্পতিবার শুনানি—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডির আবেদন


⚖️ আই-প্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নজর, বৃহস্পতিবার শুনানি—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডির আবেদন

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক | কলকাতা | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

আই-প্যাক অফিসে তল্লাশি অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দায়ের করা আবেদনের শুনানি হতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হবে।

জানা গিয়েছে, বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে মোট দু’টি আবেদন শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ইডির অভিযোগ, আই-প্যাক অফিসে তল্লাশি চালানোর সময় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। অন্যদিকে, মামলার শুনানিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

এখন দেখার, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয় এবং এই মামলার পরবর্তী গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়।

Tuesday, 13 January 2026

বাংলাদেশে অশান্তি চরমে, হিন্দু অটোচালককে পিটিয়ে খুন—সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ



শেখ হাসিনার অপসারণের পর থেকে লাগাতার হিংসা, ইউনূস সরকারের ভূমিকা ঘিরে প্রশ্ন

Y বাংলা ব্যুরো:
২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সেই অস্থিরতা আরও প্রকট আকার নেয়। হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশজুড়ে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক হিংসার অভিযোগ সামনে আসছে। বিক্ষোভ, অরাজকতা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই আরও এক নৃশংস ঘটনার খবর সামনে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চট্টগ্রামের দাগনভূঁইয়া এলাকায় এক হিন্দু অটোচালককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। নিহতের নাম সমীর দাস, বয়স ২৮ বছর। এটি বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রতিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

দাগনভূঁইয়ার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, দুষ্কৃতীরা প্রথমে সমীর দাসকে বেধড়ক মারধর করে, এরপর ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি চুরি করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দেশি অস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার পর নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু সমাজে। গত এক মাসে পদ্মাপার জেলাগুলিতে হিন্দুদের উপর একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সমালোচনার ঝড় উঠলেও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকার।

সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে অন্তত ছয়জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি বহু সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। গত শনিবার ৪০ বছর বয়সী এক হিন্দু বিধবার উপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে। তাঁকে গণধর্ষণের পর গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ক্রমবর্ধমান হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, সাম্প্রদায়িক হিংসার মাত্রা ততই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তারা প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনা কঠোরভাবে দমন করার আশা করছে। যদিও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস ভারতের এই উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই গভীর হচ্ছে, আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

সংঘর্ষবিরতি সত্ত্বেও থামছে না ‘অপারেশন সিঁদুর’ — সন্ত্রাসে জিরো টলারেন্সে অনড় ভারত



পাকিস্তানের যে কোনও দুঃসাহসের জবাব হবে আরও কড়া, স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

Y বাংলা ব্যুরো:
ভারত–পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা থাকলেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানে কোনও শিথিলতা নেই। রবিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন—‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চলছেই। সীমান্তে পাকিস্তানের যে কোনও দুঃসাহসিকতার যোগ্য ও কঠোর জবাব দেবে ভারত।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, বায়ুসেনা প্রধান এ পি সিং, নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠী এবং সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ মে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা অন্তত ন’টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। সেই অভিযানের পর থেকেই ভারতের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট—পাকিস্তান গুলি চালালে পাল্টা আরও জোরালো প্রতিক্রিয়া আসবে, আর পাকিস্তান থামলে তবেই ভারত থামবে।

সূত্রের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধুমাত্র সামরিক অভিযান নয়, বরং সন্ত্রাস মোকাবিলায় ভারতের এক নতুন কৌশলগত নীতি। জঙ্গি হামলার জবাবে প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে এক ‘নিউ নরমাল’। পাকিস্তানের সঙ্গে আপাতত একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে খোলা রাখা হয়েছে ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশন্স (DGMO) স্তর।
 কূটনৈতিক বা অন্য কোনও আলোচনার দরজা এখন বন্ধ।
একই সঙ্গে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে—সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস ছড়ালে তার মাশুল দিতে হবে। একদিকে জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া আর অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে জলবণ্টন বা বাণিজ্যে সহযোগিতা—এই দুই একসঙ্গে চলবে না। সিন্ধু জলচুক্তিকেও এখন সন্ত্রাসের প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে, ফলে চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে দিল্লি।
সব মিলিয়ে বার্তাটা পরিষ্কার—সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান আপসহীন। 

‘অপারেশন সিঁদুর’ কেবল প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও পাকিস্তানের প্রতি এক শক্ত বার্তা বহন করছে।

Sunday, 11 January 2026

শুভেন্দুর গাড়িতে ‘হামলা’ অভিযোগে নড়ল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তৃণমূলের কটাক্ষ, ‘পুরোটাই রাজনৈতিক নাটক’

 



ডিজিটাল ডেস্ক, Y বাংলা নিউজ:
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে এবার সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। শনিবার গভীর রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক।

জানা যাচ্ছে, ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১৩ তারিখ মঙ্গলবার চন্দ্রকোনায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি অবরোধ ও সভার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। পুরুলিয়া থেকে মেদিনীপুর ফেরার পথে চন্দ্রকোনা রোডে শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূলের প্রায় কুড়িজন দুষ্কৃতী বাঁশ ও লাঠি হাতে তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে চন্দ্রকোনা রোড ফাঁড়িতে ঢুকে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফাঁড়ি ইনচার্জের সামনেই মেঝেতে বসে পড়েন শুভেন্দু। দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে উঠবেন না বলেও জানান। শেষ পর্যন্ত রাত দেড়টা নাগাদ ফাঁড়ি ছাড়েন তিনি। ওই রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথন হয় বলে বিজেপি সূত্রে খবর।

এই ঘটনার প্রতিবাদে পালটা কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে গোটা ঘটনাকে ঘিরে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি,

“একটা জেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। থানার স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের নাটক চলতে পারে না।”

তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর ফেসবুক পোস্টেও তীব্র বিদ্রুপ ধরা পড়েছে। তিনি লেখেন,

“সিআরপিএফের ঘেরাটোপে থেকেও সামান্য স্লোগান সামলাতে পারে না, আবার নাকি রাজ্য সামলাবে?”

অরূপ চক্রবর্তীর আরও দাবি, শুভেন্দুর নিরাপত্তারক্ষীরাই স্থানীয় বিজেপি নেতা গৌতম কৌরিকেই মারধর করেছেন। তাঁর কথায়,

“বহিরাগত সিআরপিএফ চিনতে না পেরে বিজেপির মণ্ডল নেতা গৌতম কৌরিকেই তুমুল লাঠিপেটা করা হয়েছে। তিনি আবার বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী বলেও শোনা যাচ্ছে।”

শুভেন্দুর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য রাজনৈতিক তরজা এখন চরমে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট তলবের পর এই ইস্যু কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ধর্ম জিজ্ঞেস করে হত্যা, আজও দগদগে ক্ষত পহেলগাঁও হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ সইফুল্লার দম্ভভরা ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

 


ধর্ম জিজ্ঞেস করে হত্যা, আজও দগদগে ক্ষত

পহেলগাঁও হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ সইফুল্লার দম্ভভরা ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

ডিজিটাল ডেস্ক, Y বাংলা নিউজ:
ধর্ম জানতে চেয়ে একের পর এক নিরীহ মানুষকে হত্যা, কান্না আর হাহাকারে ভরে উঠেছিল কাশ্মীরের উপত্যকা। পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরস্ত্র নাগরিকের মৃত্যু ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক ভয়াবহ শোকচিহ্ন হয়ে রয়েছে। সময় গড়ালেও সেই ক্ষত আজও দগদগে। গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল ওই নৃশংসতা।

এই আবহেই ফের আলোচনায় পহেলগাঁও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে চিহ্নিত লস্কর-ই-তইবা নেতা সইফুল্লা কাসুরি। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল নিশ্চিত করেনি

জানা যাচ্ছে, হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ তথা ‘ডানহাত’ সইফুল্লা কাসুরি এখনও পাকিস্তানেই বহাল তবিয়তে আত্মগোপনে রয়েছে—এমন গুঞ্জন দীর্ঘদিনের। এবার পাকিস্তানের একটি স্কুল অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে ‘ভাষণ’ দিতে দেখা গেল তাকে। সেই মঞ্চ থেকেই দম্ভভরে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসে লস্কর নেতা।

ভিডিওতে সইফুল্লাকে বলতে শোনা যায়,

“পাক সেনার পক্ষ থেকেই আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কোনও সেনার মৃত্যু হলে শেষকৃত্যেও আমি ডাক পাই।”

এরপরই সে সরাসরি পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ টেনে দাবি করে,

“তোমরা জানো, ভারত আমাকে ভয় পায়। পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী হিসেবে আমাকেই ধরা হয়। আজ আমার নাম গোটা বিশ্বে পরিচিত।”

এখানেই থামেনি। ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়েও কটাক্ষ ছুঁড়ে দেয় সে। সইফুল্লার দাবি,

“শুধু জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ভারত বড় ভুল করেছে।”

বরাবরের মতোই পাকিস্তান জঙ্গি মদতের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। এমনকী, আন্তর্জাতিক স্তরে চাপের মুখে পড়ে এক সময় ‘ধূসর তালিকা’তেও জায়গা হয়েছিল তাদের। কিন্তু প্রকাশ্যে পাক মাটিতে বসে জঙ্গি নেতার এমন বক্তব্য ফের প্রশ্ন তুলে দিল—জঙ্গি সংগঠন ও পাক সেনার যোগসাজশ আদৌ কি অস্বীকারযোগ্য?

পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ডের এই হুমকির ভিডিও ফের একবার স্পষ্ট করে দিল, সীমান্তের ওপার থেকেই পরিকল্পিতভাবে এদেশে কাপুরুষোচিত হামলার ছক কষা হচ্ছে।

Friday, 9 January 2026

আইপ্যাক দপ্তর থেকে ‘নির্বাচনী নথি চুরি’র অভিযোগ, ইডির বিরুদ্ধে থানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার লিখিত নালিশ

 


আইপ্যাক দপ্তর থেকে ‘নির্বাচনী নথি চুরি’র অভিযোগ, ইডির বিরুদ্ধে থানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার লিখিত নালিশ

Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক:
তল্লাশির নামে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি চুরির অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) বিরুদ্ধে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। আচমকাই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। সেই খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ১৫ মিনিট প্রতীক জৈনের বাড়িতে ছিলেন তিনি। বেরোনোর সময় একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন, ইডির এই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল হাতিয়ে নেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।

এর মধ্যেই খবর আসে, সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পৌঁছে যান আইপ্যাকের দপ্তরে। অভিযোগ, সেখান থেকে কিছু নথি, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিজের গাড়িতে তোলেন তিনি।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী বারবার দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কৌশল ‘চুরি’ করতেই কেন্দ্র ইডিকে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, ইডির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে—মুখ্যমন্ত্রী অনৈতিকভাবে তদন্তে বাধা দিয়েছেন।

গোটা বিষয়টি গড়িয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইডির বিরুদ্ধে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির সময় ঠিক কী ঘটেছিল, মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন কোন আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন—তা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ইডির তরফে একটি রিপোর্ট অর্থমন্ত্রকে জমা দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টই পরবর্তী পর্যায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হবে।

মোদির ফোন না পেয়ে ইগোতে আঘাত’, সেই কারণেই ভারতের উপর ৫০% শুল্ক—বিস্ফোরক দাবি মার্কিন বাণিজ্য সচিবের

 



Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক:
ভারতের উপর বিপুল মার্কিন শুল্ক চাপার নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনমনীয় অবস্থানই বড় কারণ—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। একটি পডকাস্টে তিনি জানান, ভারত–আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় সেই চুক্তি ভেস্তে যায়।

লুটনিকের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিতে সই করার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরাসরি ফোনালাপকে অপরিহার্য শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের কাছে মোদির ফোন এলেই বাণিজ্য চুক্তিতে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ত। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। ভারতীয় আধিকারিকরা এই শর্ত মানতে চাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর ফলেই শেষ পর্যন্ত ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। লুটনিকের দাবি, মোদির ফোন না পাওয়ায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অসন্তোষ বেড়ে যায় এবং সেই ‘ইগো’ থেকেই ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আলোচনা হলেও আর চুক্তি এগোয়নি।

এখানেই থামেননি মার্কিন বাণিজ্য সচিব। তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই এমন একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার ফলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির উপর ভবিষ্যতে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের উপর নতুন করে আরও শুল্কের বোঝা চাপার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

লুটনিকের কথায়, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ফোন না আসায় তিনি যথেষ্ট হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন। সেই অসন্তোষই শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে ভারত–আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে।

তৃণমূল সাংসদদের হেনস্থার ঘটনায় ক্ষোভ, ‘ধর্ষকদের বেল, প্রতিবাদীদের জেল’ মন্তব্য অভিষেকের

 


ব্যুরো রিপোর্ট | Y বাংলা নিউজ

কলকাতায় আইপ্যাক (IPAC)-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়ি ও সল্টলেকের অফিসে ইডি অভিযানের (ED Raid) রেশ এবার ছড়াল জাতীয় রাজনীতিতেও। বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতরের বাইরে ধর্না-বিক্ষোভে বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) একাধিক সাংসদ। তবে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভের অভিযোগ তুলে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তৃণমূলের অভিযোগ, বিক্ষোভরত সাংসদদের টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। বাসে তুলে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মিত্র, কীর্তি আজাদ, শতাব্দী রায়-সহ একাধিক সাংসদ। পরে প্রশাসনিক কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন,
“এরা ধর্ষকদের জামিন দেয়, আর প্রতিবাদীদের জেলে পুরে দেয়।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে অভিষেক আরও লেখেন,
“আজ গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, আর অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ভোট লুটের চেষ্টা চলছে। এটাই বিজেপির ‘নতুন ভারত’।”

এখানেই থামেননি তিনি। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূল নেতা। অভিষেকের বক্তব্য,
“গোটা দেশ বিজেপির চাপে আত্মসমর্পণ করলেও বাংলা করবে না। বাংলা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেই। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে বিজেপির সব দাঁত-নখ ভেঙে দেব।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আইপ্যাক ও প্রতীক জৈনকে ঘিরে ইডি অভিযানের পর যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল, দিল্লিতে সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা ও বিরোধী কণ্ঠ দমনের অভিযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে চলেছে তৃণমূল—এমন ইঙ্গিতই মিলছে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, প্রথমে সাংসদদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই অনুরোধ মানা না হওয়াতেই বিক্ষোভ সরাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

মমতার সবুজ ফাইলে কী ছিল? ইডি অভিযানের মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা কতটা বৈধ—প্রশ্নের মুখে রাজনীতি

 



ডিজিটাল ব্যুরো | Y বাংলা নিউজ

বৃহস্পতিবারের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা নিঃসন্দেহে আই-প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র অভিযান। সেই তল্লাশি চলাকালীনই নাটকীয়ভাবে প্রতীকের ফ্ল্যাটে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পর বুকে আগলে একটি সবুজ ফোল্ডার হাতে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আই-প্যাকের অফিসেও যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও তাঁর গাড়িতে এক সহযোগীকে কয়েকটি ফাইল তুলতে দেখা যায়।

দিনভর এই ঘটনাপ্রবাহের পর সাধারণ মানুষের মনে মূলত দু’টি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
এক, মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা ওই সবুজ ফাইলে আসলে কী ছিল?
দুই, ইডি-র তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী কি এভাবে ঢুকে পড়ে ফাইল নিয়ে আসতে পারেন?

দ্বিতীয় প্রশ্নটি নতুন নয়। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির সময়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সিবিআই ও কলকাতা পুলিশের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বড় কোনও আইনি পরিণতিতে গড়ায়নি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, এই প্রশ্ন আদতে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছবে না। বিরোধীরা যেমন সমালোচনায় সরব, তেমনই শাসক শিবির এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেই দেখছে।

এবার আসা যাক সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নে—সবুজ ফাইলে কী ছিল?

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রতীক জৈনের বাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ছিল। তাঁর দাবি, বিজেপি ইডি-কে ব্যবহার করে সেই তালিকা হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল। সেই কারণেই তিনি ওই নথি সেখান থেকে সরিয়ে এনেছেন। মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সবুজ ফোল্ডারের মধ্যেই ছিল তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।

এই একটি বক্তব্যই মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ বদলে দিয়েছে। সবুজ ফোল্ডার বুকে আগলে বেরিয়ে আসার সেই ছবি কার্যত দিনের সবচেয়ে আলোচিত ফ্রেম হয়ে উঠেছে।

বাস্তবে ওই ফাইলে কী ছিল, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না। হতে পারে তাতে কেবল সাদা কাগজই ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূলের কোর সমর্থক, দলের কর্মী ও বিজেপি-বিরোধী একাংশের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে।

আই-প্যাক তৃণমূলের সংগঠনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, তা অজানা নয়। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পর প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বে আই-প্যাক বাংলায় সক্রিয় হয়। বর্তমানে বুথ স্তর থেকে শুরু করে সংগঠনের ডেটা, সমীক্ষা, প্রার্থী বাছাইয়ের খসড়া, প্রচারের নকশা—সবই পেশাদারভাবে আই-প্যাকের কাছে থাকা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সেই অর্থে প্রতীক জৈনের বাড়ি বা আই-প্যাকের অফিসে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে?

তৃণমূল বিরোধীদের একাংশ এই ঘটনায় স্বস্তি পেলেও, শাসক দলের ভিতরের যে অংশ আই-প্যাকের প্রভাব নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাঁদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে বৃহত্তর রাজনৈতিক চিত্রে এই ঘটনা পক্ষ-বিপক্ষের অবস্থানকে আরও তীক্ষ্ণ করবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

সংবিধানের ৩৫৫ বা ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের প্রশ্নও উঠেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়ার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। তবে অতীতে অরুণাচল ও উত্তরাখণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় মাথায় রেখে কেন্দ্র সেই পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে এটুকু স্পষ্ট, এই ঘটনা এখানেই শেষ হচ্ছে না। সূত্রের খবর, প্রতীক জৈনকে ইডি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস দিতে পারে। অতীতে যেমন রাজীব কুমারকে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তেমন পরিস্থিতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, আই-প্যাক ইডি অভিযান, সবুজ ফাইল এবং মুখ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ—এই ত্রয়ী আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Featured post

পাকিস্তান-ঘেঁষা রাজনীতি কিংবা প্রকাশ্য ভারত-বিরোধিতা—এই দুই পথে শেষমেশ লাভের বদলে ক্ষতিই হয়, সেই বাস্তবতা হয়তো হাড়ে হাড়ে টের প...

Search This Blog