Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Thursday, 11 September 2025

রাষ্ট্রসংঘে সুইজারল্যান্ডের খোঁচায় পাল্টা দিল ভারত, পাকিস্তানকেও আক্রমণ

রাষ্ট্রসংঘে সুইজারল্যান্ডের খোঁচায় পাল্টা দিল ভারত, পাকিস্তানকেও আক্রমণ

রাষ্ট্রসংঘে সুইজারল্যান্ডের খোঁচায় পাল্টা দিল ভারত, পাকিস্তানকেও আক্রমণ

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

রাষ্ট্রসংঘে ভারত সুইজারল্যান্ডের খোঁচায় পাল্টা জবাব দিচ্ছে

ছবি: রাষ্ট্রসংঘে আলোচনার সময় ভারতীয় প্রতিনিধির পাল্টা বক্তব্য

রাষ্ট্রসংঘে বিতর্কের সূত্রপাত

রাষ্ট্রসংঘে সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি ভারতের সংখ্যালঘু অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “ভারতে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা উচিত এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ভারতকে উদ্যোগী হতে হবে।” সুইজারল্যান্ডের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও ভারত পাল্টা জবাব দিতে পিছিয়ে থাকেনি।

ভারতের পাল্টা বার্তা

ভারতের প্রতিনিধি ক্ষিতিজ তিয়াগি সুইজারল্যান্ডের বক্তব্যের তীব্র জবাব দেন। তিনি বলেন, “বর্ণবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য এবং গোষ্ঠীভীতির মতো সমস্যায় জর্জরিত সুইজারল্যান্ড। তাদের উচিত আগে নিজ দেশের সমস্যাগুলি সমাধান করা।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় গণতন্ত্র ভারত। বহুত্ববাদের ভিত্তিতে এখানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই অন্য দেশের কাছ থেকে উপদেশ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।”

ভারতের সহায়তার বার্তা

ক্ষিতিজ তিয়াগি আরও জানান, “ভারতের দরজা সবসময় খোলা আছে। যদি সুইজারল্যান্ড সত্যিই তাদের সমস্যাগুলি সমাধান করতে চায়, ভারত তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।” তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি করেছে।

পাকিস্তানকেও আক্রমণ

সুইজারল্যান্ডের পাশাপাশি পাকিস্তানকেও আক্রমণ করেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, “পহেলগাঁও হামলার যোগ্য জবাব আমরা দিয়েছি। সন্ত্রাসে মদত দেওয়া কোনও দেশের কাছ থেকে আমরা উপদেশ শুনতে রাজি নই। সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কোনও দেশের নির্দেশ গ্রহণ করব না। ভারত তার নাগরিকদের রক্ষায় অটল সংকল্প নিয়ে এগোবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনও আপস করবে না।” তিনি আরও পাকিস্তানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে তোপ দাগেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টা বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করবে। সংখ্যালঘু অধিকার বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না ভারতের নেতৃত্ব। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভারতীয় কূটনীতির কঠিন বার্তা।

ভারতের বহুত্ববাদের ওপর জোর

ভারতের প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন, ভারতের গণতন্ত্র বহুত্ববাদকে সম্মান করে। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ মিলেমিশে বাস করেন। আন্তর্জাতিক মহলে এই বার্তা ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সংখ্যালঘু সুরক্ষায় ভারতের অবস্থান

সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় ভারত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আইন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ক্ষিতিজ তিয়াগির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরে থেকে নির্দেশ বা সমালোচনা গ্রহণের প্রয়োজন নেই। বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলে ভারত তা দিতে প্রস্তুত।

আগামী দিনের সম্ভাবনা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমালোচনার মুখেও ভারতের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেশীয় ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

৩২০০০ চাকরি বাতিল মামলায় বাড়তি ৫ নম্বরের সওয়াল, প্রশিক্ষিত বনাম অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের নিয়োগে নতুন টানাপোড়েন

৩২০০০ চাকরি বাতিল মামলায় বাড়তি ৫ নম্বরের সওয়াল, প্রশিক্ষিত বনাম অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের নিয়োগে নতুন টানাপোড়েন আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ প্রতিবেদন: কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক আবারও নতুন মোড় নিল। ২০২৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগে অপ্রশিক্ষিতদের চাকরি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ে ৪২ হাজার নিয়োগের মধ্যে ৩২ হাজার চাকরি বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলাকারীরা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে নতুন দাবি তুলেছেন—অ্যাপটিটিউড টেস্টের জন্য অপ্রশিক্ষিতদের বাড়তি ৫ নম্বর দেওয়া হোক অথবা সবার এই নম্বর শূন্য করে দেওয়া হোক। এতে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই পরীক্ষায় ১৫ নম্বর বেশি পেয়েছেন, ফলে অপ্রশিক্ষিতদের অতিরিক্ত সুযোগ না দিলে তারা চাকরির যোগ্যতা হারাবেন। মামলার পটভূমি ২০২৩ সালে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার নিয়ম ভেঙে অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই নিয়োগের বৈধতা নিয়ে মামলা হয়। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে তদন্তের পর ৩২ হাজার চাকরি বাতিল করা হয়। আদালতের মতে, নিয়ম লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়া শিক্ষকদের চাকরি রাখা যায় না। মামলাকারীদের নতুন দাবি ডিভিশন বেঞ্চে মামলাকারীদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন— ✔ অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীরা অ্যাপটিটিউড টেস্টে সুযোগ পাননি। ✔ প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর পেয়েছেন। ✔ এই পরিস্থিতিতে অপ্রশিক্ষিতদের জন্য অন্তত ৫ নম্বর যোগ করা হোক, অথবা সকলের জন্য এই অংশ শূন্য করে দেওয়া হোক। ✔ এতে অনেক কম সংখ্যক প্রার্থী চাকরি হারাবেন এবং বাস্তবিক সমাধান আসবে। মামলাকারীরা আদালতে বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা দরকার, তবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও জরুরি। নিয়ম ভাঙার দায় নির্ধারণ করলেও সব অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীর জীবন নষ্ট করা উচিত নয়।” আদালতের পরবর্তী শুনানি ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি স্থির করেছে ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে। সেখানে আদালত মামলার আইনি ও মানবিক দিক বিচার করবে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত শিক্ষাঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। শিক্ষাঙ্গনের প্রতিক্রিয়া এই মামলার আলোচনায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ✔ কেউ বলছেন, দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ✔ আবার অনেকে মানবিক কারণ তুলে ধরে অপ্রশিক্ষিতদের জন্য নম্বর বাড়ানোর দাবিকে সমর্থন করছেন। ✔ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে এই মামলা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। শাসক দল দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও বিরোধীরা মানবিক কারণ তুলে ধরছে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মত শিক্ষাবিদরা বলছেন, “পরীক্ষায় যোগ্যতা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুর্নীতির কারণে শিক্ষকদের জীবনের উপর প্রভাব পড়লে তা গভীর সামাজিক সংকটে পরিণত হতে পারে। আদালতের উচিত মানবিক দিকও বিবেচনা করা।” আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার চূড়ান্ত রায় শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ আইনকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন দিশা তৈরি হতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিতর্ক: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কটূক্তির অভিযোগে ছাত্রনেতা সেন্সর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিতর্ক: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কটূক্তির অভিযোগে ছাত্রনেতা সেন্সর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিতর্ক: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কটূক্তির অভিযোগে ছাত্রনেতা সেন্সর

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেখানে ছাত্র আন্দোলন ও বিতর্কের সূত্রপাত

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ঘটনার পটভূমি

গত ২৮শে অগাস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এই পরীক্ষার সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ এবং অশিক্ষক কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়ায়। তাঁরা দাবি জানান পরীক্ষার দিন পরিবর্তনের। তাঁদের যুক্তি ছিল, প্রতিষ্ঠা দিবসে ছাত্রদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে এবং তা ছাত্র রাজনীতির পরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য শান্তা দত্ত তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন পরীক্ষার দিন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আন্দোলনের পথে হাঁটেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিরূপ চক্রবর্তী, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত।

কী অভিযোগ উঠল অভিরূপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে

অভিরূপ চক্রবর্তী উপাচার্য শান্তা দত্তকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করেন এবং তাঁকে ‘বুঝে নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দেন। শুধু তাই নয়, যাঁরা উপাচার্যকে সমর্থন করছেন তাদেরও হুমকি দেন। এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অভিযোগ ওঠে যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি পৌঁছানোর পর তদন্ত শুরু হয়। প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে সেন্সরের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সেন্সর করা হয়েছে। এর অর্থ হল:

  • তিনি আর কোনো কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন না।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক বা প্রশাসনিক কোনও কার্যকলাপে যুক্ত হতে পারবেন না।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না।
  • দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির আবেদনেও তাঁর বাধা সৃষ্টি হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা রক্ষার জন্য এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে, তবে তা প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপাচার্যকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা এবং তাঁকে ও তাঁর সহযোগীদের হুমকি দেওয়া শিক্ষাঙ্গনের মূল্যবোধের পরিপন্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, যারা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেয় তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়ে, তবে তা যেন আইনবিরুদ্ধ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্য।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

এই ঘটনার মধ্যে রাজনীতির ছায়া স্পষ্ট। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ রাজ্যের শাসক দলের ছাত্র সংগঠন। তাদের প্রতিষ্ঠা দিবসে পরীক্ষা হওয়ায় ছাত্রদের মধ্যে প্রতিবাদের সুর ওঠে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষা স্থগিত করতে রাজি হয়নি। এর ফলে সংঘাত তীব্র হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতি অনেক সময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয় এবং তা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে। তবে একই সঙ্গে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় না ঘটলে সংঘাত বাড়ে। অভিরূপ চক্রবর্তীর আচরণ এই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

শিক্ষাবিদদের প্রতিক্রিয়া

অনেক শিক্ষাবিদ এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের অধিকার থাকা উচিত। তবে সেটি যেন আক্রমণাত্মক না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষও যুক্তি দিয়েছেন যে শিক্ষাঙ্গনের শান্তি বজায় রাখতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, “ছাত্রদের প্রতিবাদ স্বাভাবিক, কিন্তু নেতৃত্বের দায়িত্ব আরও বড়। আবেগের বশবর্তী হয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে। অভিরূপের ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে।”

পরবর্তী কী হতে পারে?

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সেন্সরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে না। তবে অভিরূপ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। আপিলের ভিত্তিতে তাঁর শাস্তির মেয়াদ কমানো বা স্থগিত করার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন পড়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতারা ঘটনাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

ছাত্রদের মধ্যে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া

কিছু ছাত্র বলছে, অভিরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্য অনভিপ্রেত হলেও পরীক্ষার সময় নির্ধারণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যুক্তিসঙ্গত ছিল। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, উপাচার্যকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া শিক্ষাঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকেই চাইছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে আগাম আলোচনা করবে। ছাত্রদের মতামত নিয়েই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হোক—এমন দাবি উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্ররাজনীতির জন্য শিক্ষণীয় ঘটনা

এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্র সংগঠন এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক কার্যকলাপ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও তা যেন শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত না করে তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের আবেগের সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত আচরণ ও সহনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনকে ছাত্রদের কথা শুনতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী সংলাপ ব্যবস্থা গড়ে তুললে এ ধরনের সংঘাত কমানো সম্ভব হবে। ছাত্রদের শিক্ষার পরিবেশ এবং মত প্রকাশের অধিকার দুটোই সমানভাবে রক্ষা করা উচিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

শুধু আধার কার্ডে হবে না ভোটার তালিকা! বাংলায় শুরু হচ্ছে SIR অভিযান

শুধু আধার কার্ডে হবে না ভোটার তালিকা! বাংলায় শুরু হচ্ছে SIR অভিযান

শুধু আধার কার্ডে হবে না ভোটার তালিকা! বাংলায় শুরু হচ্ছে SIR অভিযান

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

SIR নিয়ে বাংলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত

ছবি: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ বৈঠক নিয়ে আলোচনা

কেন শুধু আধার কার্ডে নাম উঠবে না ভোটার তালিকায়?

নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন বা SIR-এর আওতায় ভোটার তালিকা সংশোধন করা হবে। বিহারের ধাঁচেই এখানে প্রয়োগ হতে যাচ্ছে এই পদ্ধতি। বিহারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে আধার কার্ডকে অতিরিক্ত একটি নথি হিসেবে যুক্ত করা হলেও, একমাত্র আধার কার্ডের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলা সম্ভব নয়।

বিহারে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে আধার কার্ডের পাশাপাশি আরও ১১টি ডকুমেন্টের যে কোনও একটি জমা দিতে হয়। পশ্চিমবঙ্গেও একই নিয়ম প্রয়োগ হতে চলেছে বলে নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই সংশোধনের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে।

রাজ্যের প্রস্তুতি এবং নির্বাচন কমিশনের বৈঠক

সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে এসআইআর নিয়ে আলোচনা হয় এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে নির্বাচনী সংশোধনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং পশ্চিমবঙ্গেও অক্টোবরের যে কোনও দিন SIR শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেষবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হয়েছিল ২০০২ সালে। সেই তালিকাকে ভিত্তি ধরে কমিশন এবার সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। যেখানে কোনও কেন্দ্রের তালিকা অনুপস্থিত হলে ২০০৩ সালের খসড়া তালিকাকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হতে পারে।

জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন

বিহারে এসআইআর নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি জাতীয় রাজনীতির আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও এই বিতর্কের ছায়া পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে—বিশেষ করে কোন কোন ডকুমেন্ট গ্রহণ করা হবে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হবে, এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলির ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলায় এসআইআর নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা

এসআইআর শুরু হলে নাগরিকদের নিম্নলিখিত কাজ করতে হবে:

  • আধার কার্ডের পাশাপাশি অন্যান্য বৈধ নথি প্রস্তুত রাখতে হবে।
  • নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হবে।
  • অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলেও সরাসরি ভোটার কেন্দ্রেও আবেদন করা যাবে।
  • ভোটার তালিকা সংশোধনের শেষ তারিখের আগে আবেদন জমা দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কোনও সমস্যা না হয়।

আগামী পথ

এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা, সমর্থন এবং সন্দেহ—সব মিলিয়ে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হলেও, যথাযথ স্বচ্ছতা ও নাগরিকদের সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী মাসগুলোতে বাংলায় এসআইআর নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ভারতে লুকিয়ে নাশকতার ছক? পাঁচ সন্দেহভাজন আইএসআইএস জঙ্গি গ্রেফতার

ভারতে লুকিয়ে নাশকতার ছক? পাঁচ সন্দেহভাজন আইএসআইএস জঙ্গি গ্রেফতার

ভারতে লুকিয়ে নাশকতার ছক? ফের দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে গ্রেফতার পাঁচ সন্দেহভাজন জঙ্গি

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস-এর সক্রিয় সদস্য। তারা ভারতে লুকিয়ে বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজ পরিচালনা করছিল। এমনকি সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার লক্ষ্যে একাধিক অনলাইন গ্রুপও পরিচালনা করত ওই পাঁচ ধৃত।

দিল্লি পুলিস সূত্রে খবর, গতকাল বুধবার মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং দিল্লি পুলিসের যৌথবাহিনী দিল্লি-সহ ভারতের একাধিক রাজ্যে তল্লাশি অভিযান চালায়। এরপরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আটক করা হয় তাদের। পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে রাজধানী দিল্লি থেকে, বাকি তিনজনকে মধ্যপ্রদেশ, হায়দ্রাবাদ ও রাঁচি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক বৈদ্যুতিন যন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি। পাশাপাশি বিপুল অস্ত্র এবং আইইডি তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া রাসায়নিক দ্রব্য তদন্তকারীদের প্রাথমিকভাবে মনে করাচ্ছে যে বিস্ফোরক তৈরির কাজে এগুলি ব্যবহার করা হত। উৎসবের মরশুমেই বড় ধরনের নাশকতার ছক ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

সূত্রের আরও খবর, আটক পাঁচজনই সমাজমাধ্যমে একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখত পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে। তলেতলে ভারতের তরুণ-যুব সমাজের ছেলে-মেয়েদের টার্গেট করে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টাও চালানো হত। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এরকম আরও অনেক জঙ্গি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে থাকতে পারে। তাদের খুঁজে বের করতে নতুন তল্লাশি অভিযান শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গতকালই দিল্লি পুলিস এবং ঝাড়খণ্ড এটিএসের যৌথ অভিযানে ঝাড়খণ্ড ও দিল্লি থেকে দানিশআফতাব নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে দেশের একাধিক রাজ্যে অভিযান চালানো হয়।

© ২০২৫ Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো. সকল অধিকার সংরক্ষিত।

শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে টেট পাশদের বিক্ষোভ, দ্রুত নিয়োগের দাবি

শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে টেট পাশদের বিক্ষোভ, দ্রুত নিয়োগের দাবি

শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে টেট পাশদের বিক্ষোভ, দ্রুত নিয়োগের দাবি

Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: দুপুরে বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কালিন্দীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখালেন ২০২২ সালে টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের প্রধান দাবি—দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে, অবিলম্বে শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, জেলায় জেলায় শিক্ষকের অভাব প্রকট হলেও তা নিয়ে প্রশাসনের কোন সক্রিয় পদক্ষেপ নেই।

বিক্ষোভের পেছনের কারণ

চাকরিপ্রার্থীরা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা জানতে পারেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ শূন্যপদের তালিকা পাঠালে তবেই ২০২২ সালের প্রাথমিকের মোট শূন্যপদের সংখ্যা জানানো হবে। কিন্তু এই তালিকা পাঠাতে এত দেরি কেন—এই নিয়ে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের বক্তব্য, “জেলায় এত শূন্যপদ পড়ে থাকলেও আমাদের ইন্টারভিউ নিয়ে নিয়োগের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”

শিক্ষার্থীদের দাবি

চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, শূন্যপদের তালিকা প্রকাশের জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হোক। পাশাপাশি তাঁরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন, শিক্ষকের অভাব মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থীরা এও জানান, দেরির কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে তাঁরা চরম সংকটে রয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য

বিক্ষোভের পর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “চাকরিপ্রার্থীদের কথা অবশ্যই শোনা হবে। জেলা শিক্ষা পর্ষদ শূন্যপদের তালিকা পাঠালে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে এই ধরনের বিক্ষোভ কাম্য নয়।” তাঁর এই বক্তব্যে চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষুব্ধ হলেও তাঁরা আলোচনার সুযোগ চেয়েছেন।

জেলায় শূন্যপদ প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন

চাকরিপ্রার্থীরা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান। তাঁদের বক্তব্য, “জেলায় শূন্যপদের সংখ্যা জানাতে দু’বছরেরও বেশি সময় লাগছে কেন? এত দেরির পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা কি রয়েছে তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।” তাঁরা দাবি করেছেন, অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

শিক্ষকের অভাব ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট

পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, “শিক্ষকের অভাবে ছাত্রছাত্রীরা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না। প্রশাসনের উচিত জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা।”

চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

তাঁরা জানান, নিয়োগ বিলম্ব হওয়ার কারণে বহু চাকরিপ্রার্থী অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। অনেকে টিউশন পড়িয়ে জীবনধারণ করছেন। চাকরির আশায় তাদের পড়াশোনার পরিকল্পনা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করছি, তবুও কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হাতছাড়া হচ্ছে।”

পরবর্তী আন্দোলনের ইঙ্গিত

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, যদি দ্রুত নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না হয়, তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে—জেলায় শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ, ইন্টারভিউ শুরুর ঘোষণা, এবং নিয়োগের সময়সূচি নির্ধারণ। আন্দোলনের ফলে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

টেট পাশ চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ

চাকরিপ্রার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে দ্রুত নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন।

আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

বৌদি মিঠু দত্তকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার প্রেমিক-দেওর প্রদীপ দত্ত

বৌদি খুনের অভিযোগে প্রেমিক-দেওর গ্রেফতার

বৌদি মিঠু দত্তকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার প্রেমিক-দেওর প্রদীপ দত্ত

Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: গোবরডাঙায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বৌদি মিঠু দত্তকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর প্রেমিক-দেওর প্রদীপ দত্তকে। বুধবার বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পুলিশি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছেন প্রদীপ। তবে তদন্তকারীরা মৃতার দুই ছেলের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন।

প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিপর্যয়

বেশ কয়েক বছর আগে মুম্বইয়ে হিরে পালিশের কাজ করা প্রদীপ দত্ত নিজের স্ত্রী-সন্তানকে ছেড়ে গোবরডাঙায় এসে বৌদি মিঠুর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তাঁর উপার্জনের অর্থ দিয়েই বৌদিকে বাড়ি করে দেন। সম্প্রতি আর্থিক অনটনের কারণে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। প্রদীপ সন্দেহ করতেন, বৌদি তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেবেন। এই নিরাপত্তাহীনতা থেকেই মাঝেমধ্যেই অশান্তি তৈরি হত।

খুনের রাত

রবিবার রাতে তুমুল ঝগড়া হয় তাঁদের মধ্যে। সোমবার থেকে মিঠুর খোঁজ মিলছিল না। মঙ্গলবার সকালে খাটের নিচ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শ্বাসরোধ করে প্রথমে খুন করা হয় এবং পরে মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর তদন্তকারীরা মৃতার দুই ছেলের ভূমিকা নিয়েও নজরদারি শুরু করেছেন।

পরিবারের ইতিহাস

প্রদীপের দাদা, মিঠুর স্বামী দিলীপ, ১১ বছর আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরে প্রদীপ গোবরডাঙায় এসে বৌদির পাশে দাঁড়ান। মিঠুর দুই ছেলের দায়িত্বও তুলে নেন। তবে সম্প্রতি আর্থিক দুরবস্থায় ভুগছিলেন তিনি। পুলিশের জেরায় তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি ছাড়তে বৌদির হুমকির কারণে তাঁর মধ্যে ক্ষোভ জন্মায়। তাঁর দাবি, খুন নয়, শুধু শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন।

পুলিশের বক্তব্য

বারাসত জেলা পুলিশের সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, "খুনের কথা স্বীকার করেছে ধৃত। পারিবারিক অশান্তি থেকেই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মৃতার ছেলেদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের মোবাইল ফোন ও গতিবিধি নজরে রাখা হয়েছে।"

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ওড়িশায় নির্যাতিত স্কুল শিক্ষিকা, দাম্পত্য কলহে নিন্দনীয় ঘটনা

ওড়িশায় নির্যাতিত স্কুল শিক্ষিকা, দাম্পত্য কলহে নিন্দনীয় ঘটনা | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

ওড়িশায় নির্যাতিত স্কুল শিক্ষিকা, দাম্পত্য কলহে নিন্দনীয় ঘটনা

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নির্যাতিত স্কুল শিক্ষিকা

ঘটনার দৃশ্য সমাজে নিন্দার ঝড় তুলেছে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

ওড়িশার পুরী জেলায় ফের এক নিন্দনীয় ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এক স্কুল শিক্ষিকাকে তাঁর স্বামী গলায় জুতোর মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘোরাতে বাধ্য করেন। ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনাটি দাম্পত্য কলহ এবং সামাজিক নিপীড়নের এক চরম উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে।

নির্যাতনের পেছনের কারণ

নির্যাতিত মহিলা পেশায় একজন স্কুল শিক্ষিকা। তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর স্বামী, যিনি একজন কলেজ লেকচারার, ঘটনাটি জানতে পেরে ক্রুদ্ধ হন। দাম্পত্য কলহের জেরে দুজন আলাদা বসবাস করছিলেন। নির্যাতিত শিক্ষিকা পুরী জেলার নিমাপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে স্বামী কয়েকজনকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করেন এবং ওই শিক্ষিকাকে এক সহকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান।

সহিংসতার বর্ণনা

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, স্বামী তাঁর স্ত্রীকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে আনেন। এরপর তাঁকে মারধর করেন এবং গলায় জুতোর মালা পরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করেন। আশেপাশের লোকজন ঘটনাটি দেখলেও কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। একইভাবে শিক্ষিকার সহকর্মীকে শুধুমাত্র অন্তর্বাস পরে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করা হয় এবং তিনিও শারীরিক ও মানসিক অপমানের শিকার হন।

পুলিশের ভূমিকা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিত শিক্ষিকার স্বামী কলেজ লেকচারার হলেও তিনি কয়েকজন সহযোগী নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালান। তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। তবে জনমনে প্রশ্ন উঠছে, এত প্রকাশ্য সহিংসতার পরও প্রশাসনের ভূমিকা কতটা সক্রিয় হবে।

সমাজে প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য কলহের কারণে এই ধরনের নির্যাতন সামাজিকভাবে বাড়ছে। আইন ও সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এমন ঘটনা বন্ধ করা কঠিন হবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

বাঁকুড়ায় রাজনীতির ‘মহানাটক’: দুপুরে তৃণমূলে যোগ, বিকেলে বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন

বাঁকুড়ায় রাজনীতির ‘মহানাটক’: দুপুরে তৃণমূলে যোগ, বিকেলে বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন

বাঁকুড়ায় রাজনীতির ‘মহানাটক’: দুপুরে তৃণমূলে যোগ, বিকেলে বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

চিঙ্গানি গ্রামে রাজনৈতিক নাটক

ছবি: দুপুরে তৃণমূলে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি গণেশ মল্ল ও তারাপদ পাল। বিকেলের মধ্যে রাজনৈতিক নাটক ঘিরে উত্তেজনা।

বাঁকুড়ার চিঙ্গানি গ্রামে বুধবার দেখা গেল এক বিরল রাজনৈতিক নাটক। দুপুরে বিজেপির দলীয় পতাকা ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন গণেশ মল্ল ও তারাপদ পাল — চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই সদস্য। বিকেল গড়াতেই আবার মন বদলে তাঁরা ফিরে গেলেন বিজেপির ঘরে। একটি দিনের মধ্যে এই নাটকীয় ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে। রাজনীতির এই ঘূর্ণাবর্ত গ্রামীণ পঞ্চায়েত রাজনীতির ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে।

যোগদান ও প্রত্যাবর্তনের নাটকীয়তা

দুপুরে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করে গণেশ মল্ল ও তারাপদ পাল জানান, তাঁরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। সেখানে তাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন এবং তৃণমূলের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তবে বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি বদলে যায়। গণেশ মল্ল অভিযোগ করেন, তাঁকে ভুল বুঝিয়ে তৃণমূলে যোগদান করানো হয়েছিল। তিনি সরাসরি বিজেপির কার্যালয়ে গিয়ে জানান, তাঁকে টাকা ও চাকরির লোভ দেখানো হয়েছিল। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে।

পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন নিয়ে টানাপোড়েন

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে চিঙ্গানি গ্রামে মোট ১৩টি আসনের মধ্যে সাতটিতে জয় পেয়ে বোর্ড গঠন করেছিল বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছিল চারটি আসন এবং সিপিএম ও আইএসএফ মিলিয়ে বাকি আসনগুলো ভাগ হয়। নির্বাচনের পরে সিপিএমের এক সদস্য তৃণমূলে যোগ দিলে তাদের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ। বোর্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তৃণমূলের দরকার ছিল আরও দুই সদস্য। ফলে দলের দখল ফেরানোর জন্য তৃণমূল মরিয়া হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে গণেশ মল্ল ও তারাপদ পালের যোগদান তৃণমূলের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে দ্রুত মন বদলে বিজেপিতে ফেরায় পরিস্থিতি আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষের হাতেই ছয়টি করে আসন রয়েছে। আগামী অনাস্থা প্রস্তাবই নির্ধারণ করবে বোর্ডের ভাগ্য।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সভাপতি কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, “টাকার টোপ দেখিয়ে দল ভাঙানোই তাঁদের সংস্কৃতি।” অন্যদিকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত পাল্টা বলেন, “কাউকে জোর করে যোগদান করানো হয়নি। ভোটের গণিতের ভিত্তিতেই আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনাস্থা প্রস্তাবের দিন সব পরিষ্কার হবে।”

গ্রামীণ রাজনীতির চাপ ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ

গ্রামের সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় দিশেহারা। তাঁরা চান স্থিতিশীল নেতৃত্ব ও উন্নয়নের নিশ্চয়তা। রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে গ্রামীণ প্রশাসনের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাঁদের বক্তব্য। একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, স্কুল, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে পানীয় জল—সব ক্ষেত্রে পরিকল্পনা থমকে আছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন যেন গ্রামের উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী দিনের দিকে নজর

চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হলে বোর্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। তৃণমূলের পরিকল্পনা বোর্ড দখল করা হলেও দ্রুত মন বদলে যাওয়ার ঘটনায় সেই পরিকল্পনায় ধাক্কা লেগেছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দলীয় ঐক্য বজায় রেখে ভোটের রাজনীতিতে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

রাজনীতির এই নাটক শুধু একটি গ্রামে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ রাজনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। ভোটের অঙ্কে যেমন সমীকরণ বদলায়, তেমনই নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। এই ঘটনার দিকে নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

জলের মধ্যে ক্লাস! শিক্ষক সংকটে বন্ধের মুখে সুন্দরবনের পশ্চিম শ্রীপতিনগরের স্কুল

জলের মধ্যে ক্লাস! শিক্ষক সংকটে বন্ধের মুখে সুন্দরবনের পশ্চিম শ্রীপতিনগরের স্কুল

জলের মধ্যে ক্লাস! শিক্ষক সংকটে বন্ধের মুখে সুন্দরবনের পশ্চিম শ্রীপতিনগরের স্কুল

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

জলে ক্লাসরত ছাত্রছাত্রী

ছবি: জল ঢুকে ক্লাস চলছে, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত পশ্চিম শ্রীপতিনগরের স্কুলে

৭০০ ছাত্রছাত্রীর জন্য একজন শিক্ষক

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত পাথরপ্রতিমা ব্লকের পশ্চিম শ্রীপতিনগরের ডাঃ বি সি রায় মেমোরিয়াল বিদ্যাপীঠ এখন এক চরম সংকটের মুখে। প্রায় ৭০০ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে এই বিদ্যালয়ে, অথচ তাদের জন্য বরাদ্দ একমাত্র শিক্ষক নিজেই প্রধান শিক্ষক। তাঁর সঙ্গে দু’জন প্যারাটিচার নিয়ে কোনরকমে ক্লাস চালানো হচ্ছে। ফলে স্কুলটির শিক্ষাজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের পর শিক্ষক সংকট

২০১৬ সালের শিক্ষক প্যানেল বাতিলের পর এই স্কুলের তিনজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে আর শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে শিক্ষকের সংখ্যা কমে একমাত্র প্রধান শিক্ষকের ওপর ভর করে চলছে স্কুল। ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

জল পড়ছে ক্লাসে, শ্রেণিকক্ষের অভাব

শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, শ্রেণিকক্ষের অভাব এবং ভগ্ন অবকাঠামোর জন্য স্কুলটি বিপদের মুখে। বহু আবেদন করেও নতুন শ্রেণিকক্ষ তৈরি হয়নি। বরং পুরোনো শ্রেণিকক্ষে জল পড়ছে। কোথাও কোথাও দেওয়ালের অংশ খসে পড়ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় বাধ্য হচ্ছেন, কারণ বিকল্প নেই।

প্রশাসনের উদাসীনতা, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

প্রশাসনিক স্তরে স্কুলটির সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি। শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া, শ্রেণিকক্ষের অভাব, শিক্ষার পরিবেশের অবনতি—সব মিলিয়ে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিভাবকরা চাইছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ছাত্ররা পড়াশোনা বন্ধ হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাবে।

প্রত্যন্ত দ্বীপের শিক্ষার লড়াই

পাথরপ্রতিমা ব্লকের এই দ্বীপ অঞ্চল চতুর্দিকে নদীবেষ্টিত। যোগাযোগের অভাবে প্রশাসনের সাহায্য পৌঁছানো কঠিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে রাখা এখানকার মানুষের জন্য সংগ্রামের বিষয়। এই বিদ্যালয় বন্ধ হলে পুরো এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এই সংকট শুধুমাত্র একটি স্কুলের নয়, বরং সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার অধিকার রক্ষার লড়াই।

অভিভাবকদের কণ্ঠস্বর

অভিভাবকেরা বলছেন, “আমরা চাই আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করুক। কিন্তু শিক্ষক নেই, ক্লাসরুম নেই, ভবন ভেঙে পড়ছে—এর মধ্যে কিভাবে পড়াবে?” তাঁরা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদেরও অনেকে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের মতে, অবিলম্বে প্রশাসনিক সহায়তা না পেলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে।

শিক্ষক, ছাত্র ও প্রশাসনের একজোট হওয়ার আহ্বান

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই সংকট সমাধানে শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক এবং প্রশাসনের একযোগে কাজ করা জরুরি। শুধুমাত্র অনুদান বা প্রকল্প ঘোষণা যথেষ্ট নয়। শিক্ষকের নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষের সংস্কার এবং নিয়মিত নজরদারি ছাড়া স্কুল বাঁচানো সম্ভব নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার অধিকার রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog