তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিতর্ক: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কটূক্তির অভিযোগে ছাত্রনেতা সেন্সর
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ছবি: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেখানে ছাত্র আন্দোলন ও বিতর্কের সূত্রপাত
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেঘটনার পটভূমি
গত ২৮শে অগাস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এই পরীক্ষার সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ এবং অশিক্ষক কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়ায়। তাঁরা দাবি জানান পরীক্ষার দিন পরিবর্তনের। তাঁদের যুক্তি ছিল, প্রতিষ্ঠা দিবসে ছাত্রদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে এবং তা ছাত্র রাজনীতির পরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য শান্তা দত্ত তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন পরীক্ষার দিন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আন্দোলনের পথে হাঁটেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিরূপ চক্রবর্তী, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত।
কী অভিযোগ উঠল অভিরূপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে
অভিরূপ চক্রবর্তী উপাচার্য শান্তা দত্তকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করেন এবং তাঁকে ‘বুঝে নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দেন। শুধু তাই নয়, যাঁরা উপাচার্যকে সমর্থন করছেন তাদেরও হুমকি দেন। এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অভিযোগ ওঠে যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি পৌঁছানোর পর তদন্ত শুরু হয়। প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে সেন্সরের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সেন্সর করা হয়েছে। এর অর্থ হল:
- তিনি আর কোনো কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন না।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক বা প্রশাসনিক কোনও কার্যকলাপে যুক্ত হতে পারবেন না।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না।
- দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির আবেদনেও তাঁর বাধা সৃষ্টি হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা রক্ষার জন্য এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে, তবে তা প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপাচার্যকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা এবং তাঁকে ও তাঁর সহযোগীদের হুমকি দেওয়া শিক্ষাঙ্গনের মূল্যবোধের পরিপন্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, যারা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেয় তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়ে, তবে তা যেন আইনবিরুদ্ধ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্য।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনার মধ্যে রাজনীতির ছায়া স্পষ্ট। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ রাজ্যের শাসক দলের ছাত্র সংগঠন। তাদের প্রতিষ্ঠা দিবসে পরীক্ষা হওয়ায় ছাত্রদের মধ্যে প্রতিবাদের সুর ওঠে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষা স্থগিত করতে রাজি হয়নি। এর ফলে সংঘাত তীব্র হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতি অনেক সময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয় এবং তা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে। তবে একই সঙ্গে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় না ঘটলে সংঘাত বাড়ে। অভিরূপ চক্রবর্তীর আচরণ এই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
শিক্ষাবিদদের প্রতিক্রিয়া
অনেক শিক্ষাবিদ এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের অধিকার থাকা উচিত। তবে সেটি যেন আক্রমণাত্মক না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষও যুক্তি দিয়েছেন যে শিক্ষাঙ্গনের শান্তি বজায় রাখতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, “ছাত্রদের প্রতিবাদ স্বাভাবিক, কিন্তু নেতৃত্বের দায়িত্ব আরও বড়। আবেগের বশবর্তী হয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে। অভিরূপের ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে।”
পরবর্তী কী হতে পারে?
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সেন্সরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে না। তবে অভিরূপ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। আপিলের ভিত্তিতে তাঁর শাস্তির মেয়াদ কমানো বা স্থগিত করার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন পড়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতারা ঘটনাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
ছাত্রদের মধ্যে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া
কিছু ছাত্র বলছে, অভিরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্য অনভিপ্রেত হলেও পরীক্ষার সময় নির্ধারণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যুক্তিসঙ্গত ছিল। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, উপাচার্যকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া শিক্ষাঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকেই চাইছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে আগাম আলোচনা করবে। ছাত্রদের মতামত নিয়েই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হোক—এমন দাবি উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্ররাজনীতির জন্য শিক্ষণীয় ঘটনা
এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্র সংগঠন এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক কার্যকলাপ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও তা যেন শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত না করে তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের আবেগের সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত আচরণ ও সহনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনকে ছাত্রদের কথা শুনতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী সংলাপ ব্যবস্থা গড়ে তুললে এ ধরনের সংঘাত কমানো সম্ভব হবে। ছাত্রদের শিক্ষার পরিবেশ এবং মত প্রকাশের অধিকার দুটোই সমানভাবে রক্ষা করা উচিত।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন