মালদায় ফের গুলি চলল: তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা, আতঙ্ক ছড়াচ্ছে গ্রামে
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
অমৃতি গ্রামে গুলির আতঙ্ক
মালদার ইংরেজবাজার থানার অমৃতি গ্রামে রবিবার রাতে ফের একবার গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তৃণমূল কর্মী আতিকুল মোমিন। জানা গেছে, তিনি পাশের গ্রাম থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, এমন সময় মোটরবাইক আরোহী দুষ্কৃতীরা পিছন থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিতে আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করান।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁদের উদ্দেশ্য কী ছিল তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় বাড়তি টহল চলছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের দিকেও নজর দিচ্ছে পুলিশ।
আতিকুল মোমিনের অভিযোগ: ‘আমাকে মেরে ফেলতে চাইছে’
আহত আতিকুল মোমিন জানান, ১০ জুলাই ইংরেজবাজার থানার লক্ষ্মীপুর এলাকায় তৃণমূল নেতা আবুল কালাম আজাদকে গুলি করে এবং হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দলেরই কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মাইনুল শেখ। আতিকুল দাবি করেন, তিনি ওই খুনের ঘটনার মূল সাক্ষী ছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
আতিকুল বলেন, “আমাকে শেষ করতে চায়। আমি আদালতে সাক্ষী দিয়েছি। এর ফলে আমার জীবন সংকটে পড়েছে।” তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য অন্য। তাঁদের দাবি, পারিবারিক বিবাদ থেকেই এই হামলার সূত্রপাত। এই দুই মতের সংঘাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অপরাধ বৃদ্ধি
মালদার এই গুলি চালানোর ঘটনা একক নয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। কালিয়াচকের মোজমপুর এলাকায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অন্যদিকে কালি বাজার এলাকায় রাস্তার ধারে গুলি চালানোর ঘটনায় আরও একজন আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “দিন দিন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। ছোটখাটো বিরোধ থেকেই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।” তাঁদের আতঙ্ক স্পষ্ট। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতার ছায়ায় গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হচ্ছে।
পুলিশের ভূমিকা ও তদন্তের অগ্রগতি
ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছেন। হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় বাড়তি পুলিশি টহল চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, “রাজনৈতিক কিংবা পারিবারিক বিবাদ—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা এই ধরনের অপরাধে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।” তদন্তে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তদন্তকারীরা।
গ্রামীণ অঞ্চলে অপরাধের ছায়া
মালদার মতো গ্রামীণ অঞ্চলে গুলি চালানো বা হামলার মতো ঘটনা আগে তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অসাম্য, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পারিবারিক বিবাদের কারণে এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুলিশি তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, “আতঙ্কের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বাইরে বেরোনো কঠিন হয়ে পড়েছে।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। নাগরিকরা নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে শাসকদলের প্রতিনিধিরা বলছেন, “আমরা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজনীতির এই টানাপোড়েনে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।






















