পিসিওডি: কারণ, লক্ষণ, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, চিকিৎসা ও জীবনযাপনের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবি: পিসিওডি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্য শিবির
পিসিওডি কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
পিসিওডি (Polycystic Ovarian Disease) নারীদের অন্যতম সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা। এটি ডিম্বাশয়ে একাধিক তরলভর্তি থলি তৈরি হওয়ার ফলে ঘটে। এর কারণে মাসিক অনিয়ম, হরমোন ভারসাম্যহীনতা, ত্বকের সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন, এবং প্রজনন সমস্যার সৃষ্টি হয়। সাধারণত এটি কিশোরী বা তরুণীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে যে কোনো বয়সেই হতে পারে। এটি শুধু ওজনের সমস্যা নয়, বরং শরীরের জটিল হরমোনীয় পরিবর্তনের ফল। সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাপনের নিয়ম মেনে চললে পিসিওডি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
পিসিওডির কারণ
- হরমোন ভারসাম্যহীনতা: অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন উৎপাদনের ফলে মাসিক অনিয়ম এবং ত্বকের সমস্যা হতে পারে।
- ইনসুলিন প্রতিরোধ: শরীর যথাযথভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করতে না পারলে রক্তে অতিরিক্ত ইনসুলিন থাকে, যা অ্যান্ড্রোজেন বৃদ্ধির কারণ।
- জেনেটিক প্রবণতা: পরিবারে অন্যদের মধ্যে এই সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
- স্ট্রেস ও ঘুমের অভাব: মানসিক চাপ ও ঘুমের অনিয়ম হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
- অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা রোগ বাড়াতে পারে।
লক্ষণ
- অনিয়মিত মাসিক বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া।
- ওজন বৃদ্ধি, বিশেষত পেটের অংশে জমা হওয়া।
- ত্বকে ব্রণ, মুখে অতিরিক্ত লোম বৃদ্ধি।
- চুল পড়া বা মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া।
- বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভধারণে সমস্যা।
- উদ্বেগ, হতাশা, মানসিক অস্থিরতা।
পরীক্ষা – কীভাবে নিশ্চিত হবেন?
পিসিওডির নির্ণয় করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হয়। এগুলি হলো:
- লিপিড প্রোফাইল: রক্তে চর্বির মাত্রা যাচাই করে।
- থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট: থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য ঠিক আছে কিনা তা নির্ধারণ করে।
- ইনসুলিন পরীক্ষা: ইনসুলিন প্রতিরোধের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে।
- অ্যান্ড্রোজেন পরীক্ষা: পুরুষ হরমোনের অতিরিক্ততা যাচাই করা হয়।
- পিরিয়ড সাইকেলের রেকর্ড: মাসিকের নিয়মিততা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
খাদ্যাভ্যাস – পিসিওডি নিয়ন্ত্রণে কী খাবেন?
খাদ্য পিসিওডি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিচে কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হলো:
- লো-গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্সযুক্ত খাবার: রক্তে চিনির মাত্রা ধীরে বাড়ায়। যেমন ওটস, ডাল, ছোলা, বাদাম।
- হোল গ্রেইন: ব্রাউন রাইস, আটার রুটি, বাজরা।
- প্রোটিন: চিকেন, ডিম, মাছ – নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে।
- ফাইবার: পালং শাক, লাউ, ব্রকলি, করলা।
- স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: অলিভ অয়েল, বাদাম, অ্যাভোকাডো।
কঠোর ডায়েট করে পুষ্টিকর খাবার বাদ দেবেন না। ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ব্যায়ামের নিয়ম
- সপ্তাহে অন্তত ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
- কার্ডিও যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার সপ্তাহে ৫ দিন করতে পারেন।
- স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা ওজন নিয়ে ব্যায়াম করুন।
- যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- অতিরিক্ত ব্যায়াম না করাই শ্রেয়, তা হলে হরমোন ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ ও ঘুমের যত্ন
- যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং প্রণায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
- প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন