Sample Video Widget

Seo Services

Monday, 15 September 2025

বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালির পুশব্যাক কাণ্ডে তীব্র আলোড়ন

বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালির পুশব্যাক কাণ্ডে তীব্র আলোড়ন

বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালির পুশব্যাক কাণ্ডে তীব্র আলোড়ন

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো, বীরভূম

সোনালির পরিবারের সঙ্গে সামিরুল ইসলাম
মুখ্যমন্ত্রীর দূত সামিরুল ইসলাম সোনালির পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন।

বীরভূমের পাইকার গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা নারী সোনালি খাতুনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আদালতে পৌঁছেছে এবং কলকাতা হাই কোর্ট ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হলফনামা তলব করেছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানি নির্ধারিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে সোনালির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন।

সোমবার সামিরুল ইসলাম বীরভূমের মুরারই অঞ্চলের পাইকার গ্রামে যান। সেখানে তিনি সোনালির মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, আজ আমি বীরভূমের মুরারইয়ের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়েছিলাম অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুনের দুঃখে ভেঙে পড়া বাবা এবং মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। প্রায় দু’মাস আগে তাঁদের দুই মেয়েকে—যাঁরা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক—অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করছি। আমরা তাঁদের মেয়েদের ঘরে ফিরিয়ে আনব এবং শ্রমশ্রী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করব।

স্থানীয় মানুষের মতে, সোনালির পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বীরভূমে বসবাস করছে। তাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের দুই মেয়েকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানো হয়েছে। এই ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি নাগরিকত্বের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন উঠে এসেছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে সোনালির বর্তমান পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, বাংলাদেশে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে সে কোন দেশের নাগরিকত্ব পাবে এবং তার ভবিষ্যৎ কী হবে।

কলকাতা হাই কোর্ট
কলকাতা হাই কোর্টে শুনানির জন্য প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ জুন। দিল্লি থেকে সোনালি, তাঁর স্বামী এবং সাত বছরের ছেলেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। মাত্র দু’দিনের মধ্যে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। পরে পরিবারের সদস্যরা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই বিষয়ে হলফনামা চেয়ে পাঠিয়েছে এবং মামলার শুনানি আগামী ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে যে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হচ্ছে। তারা দাবি করেছে, এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক শত্রুতার কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ। তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি বিজেপিকে অভিযুক্ত করেছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকত্বের অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। একজন ভারতীয় নাগরিককে তার স্থায়ী আবাস থেকে বিচ্ছিন্ন করে সীমান্ত পার করানো সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। তাদের মতে, এটি কেবল মানবিক সংকট নয়, আইনগত ভাবে একটি গুরুতর অপরাধ। মানবাধিকার সংগঠনগুলি ঘটনাটির প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে এবং সোনালির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবাদ
মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা সোনালির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।

রাজ্যের বিভিন্ন সংগঠন এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য, শিক্ষক, সামাজিক কর্মীসহ সাধারণ নাগরিকরা সোনালির পরিবারকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত পরিবারের নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি তাঁরা আদালতের শুনানিতে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

পরিস্থিতি এখন নজরদারির মধ্যে। শুধু রাজ্য নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকত্বের মতো মৌলিক অধিকার নিয়ে এমন সংকট গভীর চিন্তার কারণ। অন্তঃসত্ত্বা নারীর ভবিষ্যৎ, তাঁর সন্তানের অধিকার এবং পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র করতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে একটি বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে বিজেপির শিবির এই অভিযোগ অস্বীকার করছে। তবে, আদালতের শুনানি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে সোনালির বৃদ্ধ মা-বাবা দিন গুনছেন। তাঁরা আশা করছেন আদালতের মাধ্যমে মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তাঁদের বক্তব্য, আমরা শুধু চাই আমাদের মেয়েকে ফিরিয়ে আনুক সরকার। ওরা এখানেই জন্মেছে, বড় হয়েছে। ওদের অধিকার ফিরিয়ে দিন। গ্রামের মানুষও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছে। এই ঘটনা পুরো অঞ্চলে এক সংবেদনশীল পরিবেশ তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন পুশব্যাক কাণ্ড এখন একটি মানবিক ট্র্যাজেডির পাশাপাশি আইনি ও রাজনৈতিক সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের শুনানি, নাগরিকত্বের প্রশ্ন, মানবাধিকার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ—সব মিলিয়ে এই ঘটনা আগামী দিনগুলিতে দেশের জনমত ও বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সোনালির পরিবারসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করাই এখন সময়ের দাবি।

আপডেট: আগামী শুনানির দিন ২২ সেপ্টেম্বর। সকলের নজর আদালতের দিকে।

📌 মূল পয়েন্টসমূহ:

  • অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন ও তাঁর পরিবার অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
  • পরিবার দাবি করছে তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বীরভূমে বসবাস করছে।
  • রাজ্য সরকার আদালতে লড়াই করছে। শুনানি ২২ সেপ্টেম্বর।
  • মানবাধিকার, নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রশ্ন উঠেছে।
  • মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিবারকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট আজ, শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ তাঁর মালদা টাউন...

Search This Blog