Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Saturday, 27 December 2025

হাদির হত্যার বিচার চেয়ে উত্তাল ঢাকা

হাদির হত্যার বিচার চেয়ে উত্তাল ঢাকা

হাদির হত্যার বিচার চেয়ে উত্তাল ঢাকা

ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক | ঢাকা

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাতভর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ও সমর্থকেরা। শনিবারও সারাদিন এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ ঘেরাও করা হবে। পাশাপাশি সরকারের উপদেষ্টাদের শাহবাগে এসে আন্দোলনকারীদের সামনে উপস্থিত হওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভের সময় সংগঠিত গণরোষের জেরে একাধিক সরকারি ও সাংস্কৃতিক ভবন, সংবাদপত্রের দফতরেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।

মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা

হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশ পুলিশ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ এখনও অধরা। ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ, তারা ভারতে পালিয়ে গিয়েছে।

“রাজপথ ছাড়ব না”

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “যতক্ষণ না হাদির হত্যাকারী, হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকলকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা রাজপথ ছাড়ব না। সারা বাংলাদেশ থেকে মানুষ আসছে। অবস্থান চলবে।”
হাদির ভাই ওমর বলেন, “বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব। আমাদের বাধ্য করবেন না ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে।”

রাজনৈতিক উপস্থিতি বাড়ছে

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, গভীর রাত পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান চলেছে। নারী ও শিশুরাও হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগানে অংশ নেন। শনিবার হাদির সমাধিস্থলে যাওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। এই কর্মসূচিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

© ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক | তথ্যসূত্র: স্থানীয় সংবাদমাধ্যম

বঙ্গে শুরু SIR প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ, আজ থেকে ভোটারদের ‘হিয়ারিং’—কোন নথি লাগবে জানুন

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়ে গেল আজ, শনিবার থেকে। এই ধাপে নির্বাচন কমিশন যাদের ‘ম্যাপিং’-এ পাওয়া যায়নি, তাদের একে একে ডেকে পাঠানো শুরু করেছে। কমিশনের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে ‘হিয়ারিং’। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— 👉 হিয়ারিংয়ের পর ভোটার তালিকায় নাম রাখতে হলে কী কী নথি লাগবে? 👉 কারা প্রথম দফায় ডাক পাচ্ছেন? এই সব প্রশ্নের উত্তরই রইল এই প্রতিবেদনে। 📌 কারা ডাক পাচ্ছেন প্রথম দফায়? নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সালে শেষবার হওয়া SIR প্রক্রিয়ায় যাদের নিজের বা পরিবারের কোনও সদস্যের নাম পাওয়া যায়নি, তাদেরই প্রথম দফায় সন্দেহজনক তালিকায় রাখা হয়েছে। এই ভোটারদের কাছে ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হবে। প্রয়োজনে তাঁদের কিছু প্রশ্নও করা হতে পারে। এই যাচাইয়ের পরেই ঠিক হবে ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে কি না। 📊 কত জনকে ডাকা হচ্ছে? কমিশন সূত্রে খবর, 🔹 প্রথম দফায় মোট ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৪ জন ভোটারকে হিয়ারিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। 🔹 তাঁদের ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। 🔹 রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই এই শুনানি হবে। প্রতিটি শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। 🚫 শুনানিতে কারা থাকতে পারবেন না? 🔸 শুনানির সময় বাইরের কোনও ব্যক্তি থাকতে পারবেন না। 🔸 শুধু সংশ্লিষ্ট ভোটার এবং কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরাই উপস্থিত থাকবেন। 🔸 ভোটারের নথি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রশ্নও করা হতে পারে। একটি টেবিলে দিনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন ভোটারের শুনানি হতে পারে। শুনানির সময় প্রত্যেক ভোটারের ছবি তোলা হবে বলেও জানা গিয়েছে। 📄 কোন কোন নথি লাগবে? নির্বাচন কমিশন শুরুতেই মোট ১৩টি নথির তালিকা প্রকাশ করেছিল। এই নথিগুলির মধ্যে আধার কার্ড বাদ দিয়ে যে কোনও একটি নথি দেখাতে পারলেই হবে। তবে প্রয়োজনে কমিশন একাধিক নথি চাইতে পারে। ✅ গ্রহণযোগ্য নথিগুলি হল— ১৯৮৭ সালের আগের ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস বা LIC-এর নথি সরকারি চাকরির আইডি কার্ড জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate) পাসপোর্ট মাধ্যমিক বা তার ঊর্ধ্বে শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট SC / ST / OBC সার্টিফিকেট স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া বাসস্থানের সার্টিফিকেট NRC সার্টিফিকেট পারিবারিক রেজিস্টার জমি বা বাড়ির দলিল আধার কার্ড 🗳️ ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নির্বাচন কমিশনের বার্তা স্পষ্ট— 👉 এখন থেকেই প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করে রাখুন। 👉 নির্ধারিত দিনে হিয়ারিংয়ে হাজির হন। সব ঠিকঠাক থাকলে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকায় আপনার নাম থাকা নিশ্চিত করা যাবে।

Friday, 26 December 2025

রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক! বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন পার্ণো মিত্র

রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক! বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন পার্ণো মিত্র

রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক! বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন অভিনেত্রী পার্ণো মিত্র

রাজ্য রাজনীতিতে শুক্রবার সকালেই বড় চমকের ইঙ্গিত মিলেছিল টলিমহলসূত্রে। আচমকাই জানা যায়, গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী হওয়া এক অভিনেত্রী এবার তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন। গুঞ্জন সত্যি করে বেলা বাড়তেই তৃণমূল ভবনের পথে রওনা দেন অভিনেত্রী পার্ণো মিত্র।

খবর অনুযায়ী, রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন পার্ণো। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বরানগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। সে সময় তৃণমূল প্রার্থী তাপস রায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও জয়ের মুখ দেখেননি অভিনেত্রী।

উনিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন একঝাঁক টলিউড তারকা। সেই তালিকায় পার্ণো মিত্রও ছিলেন। তবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। এমনকী ঘনিষ্ঠ মহলের কাছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলেও কানাঘুষো শোনা যায়।

আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পার্ণোর তৃণমূলে যোগদানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, প্রতিটি নির্বাচনের আগে টলিপাড়ার কোন কোন পরিচিত মুখ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সামনে আসবেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকেই।

পার্ণো মিত্রের দলবদল সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিয়েছে। তাহলে কি ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে? নাকি আপাতত তিনি সংগঠনিক ভূমিকাতেই থাকবেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়ই।

তবে একথা নিশ্চিত, পার্ণো মিত্রের তৃণমূলে যোগদান ছাব্বিশের ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও সমীকরণের জন্ম দিল।

বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা— মঞ্চেই শুভেন্দুকে থামালেন শমীক

বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা— মঞ্চেই শুভেন্দুকে থামালেন শমীক

বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা— মঞ্চেই শুভেন্দুকে থামালেন শমীক

Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক | কলকাতা

দলের পুরনো কর্মীদের ফের সক্রিয় করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ কর্মসূচি। কিন্তু সেই সভামঞ্চেই প্রকাশ্যে উঠে এল বিজেপির অন্দরের সূক্ষ্ম টানাপড়েন। বৃহস্পতিবার জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথা মাঝপথে থামিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য— ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের বক্তব্য আর না বলা হয়।

সভায় শুভেন্দু বিজেপির অন্দরে বিভিন্ন ‘গোত্র’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কেউ অন্য দলে কিছু না পেয়ে বিজেপিতে এসেছেন, আবার কেউ স্বেচ্ছায় সব ছেড়ে এই দলে যোগ দিয়েছেন। নিজেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে রেখে শুভেন্দু বলেন, একাধিক মন্ত্রিত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে তিনি বিজেপিতে এসেছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আমন্ত্রণই ছিল মূল কারণ।

এই বক্তব্যের পরেই মঞ্চে উঠে কোনও ভূমিকা না বেঁধে সরাসরি শুভেন্দুর উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে ‘আগে’ ও ‘পরে’র বিভাজন টানা অনুচিত। দলে সবাই সমান— শান্ত সুরে হলেও বার্তাটি ছিল স্পষ্ট।

শমীকের এই হস্তক্ষেপে সভাস্থলে করতালি পড়ে। পরে তিনি আর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও দলের অন্দরে শুরু হয় নানা ব্যাখ্যা। শমীক-ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, রাজ্য সভাপতি বোঝাতে চেয়েছেন— শুভেন্দু এখন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাঁকে বারবার নিজের ত্যাগ বা অতীত পরিচয় আলাদা করে তুলে ধরতে হবে না।

তবে দলের একাংশ এই ব্যাখ্যায় একমত নন। তাঁদের মতে, শুভেন্দু আগেও একাধিকবার নিজেকে অন্য দল থেকে আসা নেতাদের থেকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবারের বক্তব্যেও সেই প্রবণতারই পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। আর ঠিক সেখানেই ‘গোত্র’-বিভাজনের সম্ভাবনা দেখেই অঙ্কুরে হস্তক্ষেপ করেন শমীক।

বিধানসভা ভোটের আগে দলীয় ঐক্যে কোনও ফাটল দেখতে চান না রাজ্য বিজেপি সভাপতি— এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। তাই ‘অনুরোধ’-এর ভাষায় হলেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের বক্তব্য তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

একই সঙ্গে পুরনো ও নতুন— দুই পক্ষের প্রতিই সমান বার্তা দেন শমীক ভট্টাচার্য। ভাষণের শেষ দিকে তিনি বলেন, নতুনদের বাদ দিয়ে দলের বিস্তার সম্ভব নয়। সমাজ থেকেই মানুষ আসবে, কোনও অলৌকিক জায়গা থেকে নয়। বিজেপিতে আদি-নব্য ভেদ নেই— সবাই একটাই পরিচয় বহন করে, বিজেপি।

অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মূলত আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সেই সব নেতাদের, যাঁরা অতীতে রাজ্য বা জেলা স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে সক্রিয় নন। উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের ফের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত করা এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের শক্তি বাড়ানো।

সভায় শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। শেষ পর্যন্ত, কর্মসূচির মূল বার্তা ছিল একটাই— বিভাজন নয়, ঐক্যই বিজেপির পথ।

© Y বাংলা ডিজিটাল | এই প্রতিবেদনটি তথ্যভিত্তিক সংবাদ রূপে প্রস্তুত

ওড়িশায় পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে খুন

ওড়িশায় পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে খুন

ওড়িশায় পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে খুন, বিড়ি নিয়ে বচসার জের: পুলিশ

Y বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক | সম্বলপুর, ওড়িশা

ওড়িশার সম্বলপুরে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুয়েল শেখ বুধবার রাতে মারধরের শিকার হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, বাংলা বলার কারণেই তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। যদিও ওড়িশা পুলিশ এই দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, ভাষা বা বাংলাদেশি সন্দেহ নয়, বিড়ি নিয়ে বচসার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুয়েল শেখ সম্বলপুরের শান্তিনগর এলাকায় একটি নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েক জন শ্রমিক ওই প্রকল্পে কাজ করতেন। বুধবার রাতে কাজ সেরে ফেরার পথে ছ'জনের একটি দলের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়।

ওই দলের এক ব্যক্তি একটি বিড়ি চাইলে তা নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বচসা হাতাহাতিতে পরিণত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেই সময় জুয়েল শেখকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সম্বলপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশি পদক্ষেপ:
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছ'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওড়িশা পুলিশের নর্দান রেঞ্জের আইজি হিমাংশুকুমার লাল সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, “এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।”

এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়েছে। দলটি সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেছে, বিজেপির কথিত বাংলাবিরোধী প্রচারের ফলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।

তবে এই অভিযোগ প্রসঙ্গে ওড়িশা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তি বাঙালি না বাংলাদেশি—এই পরিচয়ের সঙ্গে হত্যার কোনও সম্পর্ক নেই। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বিড়ি নিয়ে ঝামেলা থেকেই এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

এদিকে নিহত শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মুর্শিদাবাদের তাঁর বাড়িতে যান সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানী বিশ্বাস। তিনি পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলাভাষীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মণিপুরে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

মণিপুরে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

মণিপুরে যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, বেড়েছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ

ডিজিটাল ডেস্ক | মণিপুর | সর্বশেষ আপডেট

মণিপুরে অবৈধ অস্ত্রের চলাচল রুখতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্যের দুই জেলায় চালানো পৃথক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইম্ফল পশ্চিম জেলার লাম্বল ও হাওরাং কেইরেল এলাকায় লামসাং থানার আওতায় প্রথম দফার অভিযান চালানো হয়। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি যৌথ দল।

ইম্ফল পশ্চিম জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী:
  • ১টি সিঙ্গেল-ব্যারেল বন্দুক
  • ৩টি পিস্তল ও একাধিক ম্যাগাজিন
  • ৩টি বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল
  • ৭টি হোয়াইট ফসফরাস গ্রেনেড
  • ১টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রেনেড
  • ২৩টি মিনি ফ্লেয়ার কার্টিজ
  • ৮টি ১২-বোর কার্টিজ
  • বিভিন্ন ক্যালিবারের ২৮টি তাজা গুলি
  • ১টি খালি ৭.৬২ এসএলআর কার্টিজ কেস
  • ২টি বাওফেং ওয়্যারলেস রেডিয়ো (চার্জার-সহ)

উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলি কোথা থেকে এল এবং কারা এগুলি মজুত করেছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। পাশাপাশি, যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ওয়্যারলেস রেডিয়ো সেটগুলি সংগঠিত কার্যকলাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মনে করছেন আধিকারিকরা।

এর পাশাপাশি, মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলাতেও আরও একটি অভিযান চালানো হয়। থানজিং অরণ্যের পাদদেশে চালানো এই তল্লাশি অভিযানে ফের একাধিক অস্ত্র উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

চূড়াচাঁদপুর জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী:
  • ১টি আট ফুট লম্বা পাম্পি
  • ১২টি পাম্পি শেল
  • ৯টি খালি ৭.৬২×৩৯ কার্টিজ কেস
  • ১টি পরিবর্তিত এমপি৫ রাইফেল (গুলিভরা ম্যাগাজিন-সহ)
  • ১টি একনলা বন্দুক

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সমস্ত অস্ত্র ও বিস্ফোরক যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মণিপুরে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসছে। ফলে অবৈধ অস্ত্রের জোগান ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রশাসনের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে বলে নিরাপত্তা সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

Thursday, 25 December 2025

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ল, ইউনূস সরকারের বিশেষ সহকারীর পদত্যাগে জল্পনা

ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট বাংলাদেশে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, একের পর এক সহিংস ঘটনা এবং প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ বাড়ছে। এই আবহেই নতুন করে অস্বস্তিতে পড়ল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক শীর্ষ ব্যক্তি পদত্যাগ করায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন খোদা বকশ চৌধুরী। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করছিলেন। বুধবার রাতে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে। পদত্যাগের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তবে কী কারণে হঠাৎ এই পদত্যাগ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সরকারিভাবে কোনও কারণ জানানো হয়নি। খোদা বকশ চৌধুরী নিজেও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ফলে এই পদত্যাগ নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, না কি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের ফল— তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদত্যাগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল খোদা বকশ চৌধুরীর হাতে। তিনি পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হওয়ায় তাঁকে এই দায়িত্বে আনা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো মহম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে কয়েকজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা— এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রতিমন্ত্রীর সমতুল্য পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী নিয়োগ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান খোদা বকশ চৌধুরী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সায়েদুর রহমানকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাঠামোতেই ফাটল ধরতে শুরু করে। কয়েক মাস আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল খোদা বকশ চৌধুরীর নাম। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চাপ বাংলাদেশে সম্প্রতি একাধিক হত্যাকাণ্ড এবং হিংসাত্মক ঘটনার জেরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। এরই মধ্যে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ইউনূস সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা হলে সরকারের দায়িত্বশীলদের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। এই পরিস্থিতিতে খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, ওই চাপের কারণেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। যদিও সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষ এখনও এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলেনি। নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই মুহূর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ আধিকারিকের পদত্যাগ সেই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনের আগে প্রশাসনের মধ্যে এই ধরনের পরিবর্তন ভোট পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিশেষ করে, ভোটের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভিতরেই মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে। আবার কারও মতে, ক্রমবর্ধমান চাপ ও সমালোচনার মুখে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে উঠছিল। এও প্রশ্ন উঠছে, তাঁর পদত্যাগের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে সামলাবেন। নতুন কাউকে নিয়োগ করা হবে, নাকি দায়িত্ব সাময়িকভাবে অন্য কোনও উপদেষ্টার হাতে দেওয়া হবে— সে বিষয়ে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। নির্বাচনের মুখে এই ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন সরকার পরিচালনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও জটিলতার দিকে এগোচ্ছে, তা বলাই যায়। খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগ সেই অস্থিরতারই আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভোটার শুনানি প্রক্রিয়ায় নজরদারিতে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিল নির্বাচন কমিশ

ডেস্ক রিপোর্ট রাজ্যে আসন্ন ভোটার তালিকা সংশোধন ও চূড়ান্তকরণের আগে ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিল নির্বাচন কমিশন। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হল। ভোটারদের শুনানির প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালানোই হবে এই মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার শুনানির সময় ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-রা মূল দায়িত্বে থাকলেও, গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা। তাঁদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যাতে কোনও অনিয়ম, পক্ষপাত বা তথ্যগত ত্রুটি থেকে না যায়। নজরুল মঞ্চে প্রশিক্ষণ শিবির বুধবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে দুই দফায় এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। প্রথম দফার প্রশিক্ষণ শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ, দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হয় দুপুর ২টো থেকে। প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত-সহ সিইও দফতরের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। প্রশিক্ষণ পর্বে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও আচরণবিধি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। কী ভাবে শুনানি প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালাতে হবে, কোথায় রিপোর্ট করতে হবে এবং কোনও সমস্যা দেখা দিলে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে— সেই সব বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে নজরদারি কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১১টি করে শুনানির টেবিল বসানো হবে। প্রতিটি টেবিলের জন্য থাকবেন একজন করে মাইক্রো অবজ়ার্ভার। অর্থাৎ, রাজ্যজুড়ে চার হাজারেরও বেশি মাইক্রো অবজ়ার্ভার এই শুনানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। এই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মূল কাজ হবে ভোটারদের জমা দেওয়া এনুমারেশন ফর্ম, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলি সঠিক ভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা। ভোটার তালিকা প্রস্তুত বা সংশোধনের সময় যাতে কোনও নিয়মবহির্ভূত কাজ না হয়, সেটিই তাঁদের দায়িত্বের অন্যতম অংশ। এনুমারেশন ফর্ম যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রশিক্ষণ শিবিরে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় এনুমারেশন ফর্ম যাচাইয়ের পদ্ধতির উপর। ভোটারদের নাম সংযোজন, বিয়োজন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে যে ডিজিটাল এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়ে, তা ব্লক লেভেল অফিসার (বিএলও)-রা সংগ্রহ করেন। সেই তথ্য সঠিক ভাবে ডিজিটাইজ়ড হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব থাকবে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের উপর। এ ছাড়া জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য, ঠিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য সরকারি নথির সঙ্গে ভোটার তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখতে বলা হয়েছে। মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ৯টি নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের তরফে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের জন্য মোট ৯টি নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলি হল— ১. বিএলও-দের জমা দেওয়া ডিজিটাইজ়ড এনুমারেশন ফর্মের তথ্য যাচাই করা। ২. জন্ম-মৃত্যুর নথি ও অন্যান্য সরকারি তথ্যের সঙ্গে ভোটার তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখা। ৩. ইআরও বা এইআরও-রা যাঁদের নোটিস পাঠিয়েছেন, সেই ভোটারদের জমা দেওয়া নথি পরীক্ষা করা। ৪. ভোটারের দাবির সঙ্গে জমা দেওয়া নথির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা। ৫. পুরো শুনানি প্রক্রিয়ার উপর সার্বিক নজরদারি চালানো। ৬. ভোটার তালিকা তৈরির বা সংশোধনের সময় কোথাও কোনও বিচ্যুতি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা। ৭. পর্যবেক্ষক ও বিশেষ পর্যবেক্ষকদের পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। ৮. সিইও, পর্যবেক্ষক বা বিশেষ পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। ৯. নজরদারির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো। শনিবার থেকেই শুরু শুনানি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী শনিবার থেকেই রাজ্যে ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই শুনানির উপরেই অনেকাংশে নির্ভর করবে কোনও ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে কি না। ফলে এই পর্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন। এই কারণেই আগেভাগে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ জন মাইক্রো অবজ়ার্ভারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের দায়িত্ব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের আশা, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য হবে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ রাজ্যের ভোটারদের আস্থা বাড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Wednesday, 24 December 2025

‘বাহুবলি’ উৎক্ষেপণ বিলম্ব: ইতিহাস গড়ার পথে ISRO

LVM3 ‘বাহুবলি’ উৎক্ষেপণ বিলম্ব: ইতিহাস গড়ার পথে ISRO

LVM3 ‘বাহুবলি’ উৎক্ষেপণ বিলম্ব: ইতিহাস গড়ার পথে ISRO

ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট LVM3, যা ‘বাহুবলি’ নামেই বেশি পরিচিত, বুধবার সকালে ইতিহাস গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই রকেটের মাধ্যমেই মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে মার্কিন সংস্থা AST SpaceMobile-এর অত্যাধুনিক কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট BlueBird 6। তবে উৎক্ষেপণের ঠিক আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে সময় পরিবর্তন করে ISRO।

আগে উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট। শেষ মুহূর্তে তা পরিবর্তন করে করা হয় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। অর্থাৎ উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়া হয় ৯০ সেকেন্ড

কেন পিছোল উৎক্ষেপণ?

ISRO জানিয়েছে, উৎক্ষেপণপথের কাছাকাছি কক্ষপথে থাকা মহাকাশের জঞ্জাল এবং অন্যান্য স্যাটেলাইটের গতিপথের সঙ্গে সম্ভাব্য ‘কনজাংশন’ বা সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। সেই ঝুঁকি এড়াতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উৎক্ষেপণের সময় সামান্য পিছিয়ে দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রীহরিকোটা উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের উপর দিয়ে এখন হাজার হাজার সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইট ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় মহাকাশে সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে।

BlueBird 6: ভারতের রকেটে পাঠানো সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট

BlueBird 6 হল ভারতের রকেট দ্বারা উৎক্ষেপিত সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট। এর ওজন প্রায় ৬,১০০ কেজি। ISRO-র চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন জানিয়েছেন, “ভারতের মাটি থেকে এর আগে কখনও এত ভারী স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়নি।”

প্রায় ৪৩.৫ মিটার উচ্চতা এবং ৬৪০ টন ওজনের LVM3 রকেটই এই বিশাল স্যাটেলাইট বহনের জন্য উপযুক্ত। এই রকেট আগের সাতটি মিশনে ১০০ শতাংশ সাফল্যের রেকর্ড ধরে রেখেছে, যার মধ্যে ঐতিহাসিক চন্দ্রযান-৩-এর উৎক্ষেপণও রয়েছে।

LVM3-M6 মিশন ও ভারতের বাণিজ্যিক সাফল্য

এই উৎক্ষেপণটি LVM3-M6 নামে পরিচিত। এটি LVM3 রকেটের অষ্টম উড়ান এবং তৃতীয় বাণিজ্যিক মিশন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা আরও একবার প্রমাণিত হল।

মহাকাশ থেকে সরাসরি স্মার্টফোনে ইন্টারনেট

BlueBird 6 স্যাটেলাইটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর প্রায় ২,২০০ বর্গমিটার আকারের বিশাল অ্যারে অ্যান্টেনা, যা এখনও পর্যন্ত লো আর্থ অরবিটে সবচেয়ে বড়। এটি আগের প্রজন্মের স্যাটেলাইটের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ডেটা ক্ষমতা বহন করতে পারবে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই পরিষেবার জন্য Starlink বা OneWeb-এর মতো আলাদা গ্রাউন্ড টার্মিনালের প্রয়োজন হবে না। সাধারণ স্মার্টফোনেই সরাসরি মহাকাশ থেকে ৫জি মানের ব্রডব্যান্ড সিগন্যাল পাওয়া যাবে।

নীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

যদিও প্রযুক্তিগতভাবে এই মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভারত এখনও স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার অনুমোদন দেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে নীতি, নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন উঠে আসতে পারে।

নতুন যুগের দোরগোড়ায় বিশ্ব

সব মিলিয়ে, এই উৎক্ষেপণ শুধু ISRO-র জন্য নয়, গোটা বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। মহাকাশ থেকে সরাসরি স্মার্টফোনে ইন্টারনেট পৌঁছনো সম্ভব হলে, দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

Saturday, 20 December 2025

রেললাইনে থমকে গেল জীবনের মিছিল—রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় অসমে প্রাণ গেল ৮টি বন্য হাতির। উন্নয়ন আর প্রকৃতির সংঘর্ষে আবারও প্রশ্নের মুখে মানবিকতা।

অসমে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ৮ হাতির মৃত্যু, রেল–বন্যপ্রাণ সংঘর্ষে নতুন করে উদ্বেগ

অসমে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ৮ হাতির মৃত্যু, রেল–বন্যপ্রাণ সংঘর্ষে নতুন করে উদ্বেগ

অসমের হোজাই জেলায় শনিবার ভোররাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সাইরাং–নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি হাতির পালের সংঘর্ষে অন্তত ৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে একটি হাতির শাবক, যাকে পরে বন দফতরের কর্মীরা উদ্ধার করেন। ঘটনার জেরে উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রুটে রেল চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

রেল ও বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর প্রায় ২টা ১৭ মিনিট নাগাদ হোজাই জেলার কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাজধানী এক্সপ্রেসটি মিজোরামের সাইরাং (আইজলের কাছে) থেকে নয়াদিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল।

হোজাইয়ের কাছে আচমকাই রেললাইনের উপর উঠে আসে একটি হাতির দল। লোকো পাইলট দূর থেকেই হাতিদের দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক কষেন। কিন্তু ট্রেনের গতি বেশি থাকায় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, একের পর এক হাতি ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে।

সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রেনের ইঞ্জিন এবং পাঁচটি কোচ লাইনচ্যুত হয়ে যায়। রেললাইনের উপর ছড়িয়ে পড়ে হাতিদের দেহাংশ, ফলে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

৮ হাতির মৃত্যু, শাবক গুরুতর আহত

বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় মোট ৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই পালে মোট আটটি হাতিই ছিল এবং সংঘর্ষে অধিকাংশেরই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

একটি হাতির শাবক গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাবকটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

বন দফতর আরও জানিয়েছে, যে জায়গায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা ঘোষিত হাতির করিডর নয়। এই তথ্য সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, করিডরের বাইরেও কেন বারবার এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে।

যাত্রীদের প্রাণহানি হয়নি

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় কোনও যাত্রী হতাহত হননি। ট্রেন লাইনচ্যুত হলেও সমস্ত যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন।

রেল সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচের যাত্রীদের সাময়িকভাবে ট্রেনের অন্যান্য কোচের ফাঁকা বার্থে স্থান দেওয়া হয়েছে। ট্রেনটি গুয়াহাটিতে পৌঁছনোর পর অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত করে সব যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

রেল পরিষেবায় বড়সড় ব্যাঘাত

দুর্ঘটনার ফলে আপার অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়। লাইনচ্যুত কোচ সরানো এবং রেললাইন পরিষ্কারের কাজে রেল দুর্ঘটনা মোকাবিলা দল ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চলায় বহু ট্রেন বাতিল ও বহু ট্রেনের যাত্রাপথ পরিবর্তন করতে হয়।

ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু: ক্রমবর্ধমান সমস্যা

এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এল রেললাইন ও বন্যপ্রাণীর সংঘর্ষের ভয়াবহ বাস্তবতা। ভারতের দ্রুত বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক ক্রমশই বন্যপ্রাণের জন্য একটি বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠছে—বিশেষ করে হাতিদের ক্ষেত্রে।

সাম্প্রতিক একটি সরকারি সমীক্ষায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০০৯-১০ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৮৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

৭৭টি রেলপথ চিহ্নিত, নয়া পরিকল্পনা কেন্দ্রের

এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ১৪টি রাজ্যের মোট ৭৭টি রেলপথ চিহ্নিত করেছে, যেখানে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক, রেল মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার আওতায় আনা হয় মোট ১২৭টি রেলপথ, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩,৪৫২ কিলোমিটার

হাতির চলাচল, অতীত দুর্ঘটনার তথ্য এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে এর মধ্যে ৭৭টি রেলপথকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কী ধরনের কাঠামো তৈরি হবে

হাতির মৃত্যু কমাতে মোট ৭০৫টি বিশেষ কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ৫০৩টি র‍্যাম্প ও লেভেল ক্রসিং
  • ৭২টি সেতুর সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন
  • ৬৫টি আন্ডারপাস
  • ২২টি ওভারপাস
  • ৩৯টি বেড়া, ব্যারিকেড বা ট্রেঞ্চ
  • ৪টি এক্সিট র‍্যাম্প

এই সমস্ত কাঠামোর মূল লক্ষ্য একটাই— হাতিদের নিরাপদে রেললাইন পার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া অথবা বিপজ্জনক এলাকাগুলি থেকে তাদের অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া।

অসমসহ হাতি-প্রধান রাজ্যগুলিতে অগ্রাধিকার

হাতির সংখ্যা বেশি এমন রাজ্যগুলিকে এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অসমে তৈরি হবে ১৩১টি লেভেল ক্রসিং ও র‍্যাম্প, মহারাষ্ট্রে ১২৫টি এবং উত্তরপ্রদেশে ৯২টি

২০১৭ সালের হাতি গণনা অনুযায়ী, কর্ণাটকে সবচেয়ে বেশি বন্য হাতি রয়েছে—৬,০৪৯টি। এরপরেই রয়েছে অসম (৫,৭১৯), কেরল (৫,৭০৬) এবং তামিলনাড়ু (২,৭৬১)।

নতুন করে প্রশ্ন বন–রেল সমন্বয় নিয়ে

হোজাইয়ের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বন দফতর ও রেল দফতরের মধ্যে সমন্বয় এবং আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু করিডর এলাকাতেই নয়, করিডরের বাইরেও আধুনিক সতর্কতা ব্যবস্থা, গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

নইলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog