Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Wednesday, 10 September 2025

মাথাপিছু ১৫–২০ কোটি টাকায় ভোট বিক্রির অভিযোগ! উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবিরে ফাটল চওড়া

মাথাপিছু ১৫–২০ কোটি টাকায় ভোট বিক্রির অভিযোগ! উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবিরে ফাটল চওড়া

মাথাপিছু ১৫–২০ কোটি টাকায় ভোট বিক্রির অভিযোগ! উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবিরে ফাটল চওড়া, তদন্তের দাবিতে সরব কংগ্রেস

নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর: দেশের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটির পর বিরোধী শিবিরের ভেতরেই ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণনের পক্ষে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন I.N.D.I.A জোটের কিছু সাংসদ ভোট দিয়েছেন বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এই ঘটনায় তদন্তের দাবি তুলেছেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মণীশ তিওয়ারি। পাশাপাশি ভোট কেনার অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ভোটাভুটির ফলাফলে দেখা যায়, মোট ৭৮১ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৭৬৮ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫টি ভোট বাতিল হয়। বৈধ ভোটের মধ্যে রাধাকৃষ্ণন পেয়েছেন ৪৫২টি এবং বিরোধী শিবিরের প্রার্থী সুদর্শন রেড্ডি পেয়েছেন ৩০০টি ভোট। NDA-র সদস্য সংখ্যা ছিল ৪২৭ এবং I.N.D.I.A-র ছিল ৩২৪। YSR কংগ্রেসের ১১ জন সদস্য যদি NDA-র পক্ষে ভোট দিতেন, তাহলে রাধাকৃষ্ণনের প্রাপ্ত ভোট হওয়ার কথা ছিল ৪৩৮। কিন্তু তিনি ৪৫২ ভোট পেয়েছেন—অর্থাৎ বাড়তি ১৪টি ভোট পড়েছে তাঁর পক্ষে। কোন কারণে ১৫টি ভোট বাতিল হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি বলেছেন, “ক্রস ভোটিং হয়ে থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা দরকার। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। সত্যতা প্রমাণিত হলে তদন্ত হওয়া উচিত।”

তৃণমূলের লোকসভা দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিতর্কে আগুনে ঘি ঢেলে বলেছেন, “গোপন ব্যালটে ভোট হওয়ায় নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন কারা ক্রস ভোট দিয়েছে। তবে আমি কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। জানতে পেরেছি, ভোট কিনতে মাথাপিছু ১৫–২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, তাঁর দল রেড্ডির পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে তিনি এটাও বলেছেন, “বিজেপির পক্ষ থেকে আবারও চেষ্টা হয়েছে। তবে গোপন ভোটের কারণে সবটাই জল্পনা। হতে পারে বিরোধী শিবিরের কিছু ভোট বাতিল হয়েছে, কিন্তু ক্রস ভোটিং হয়েছে কিনা বলা কঠিন। তবুও ৫-৭ জন সাংসদ ক্রস ভোটিং করে থাকতে পারেন।”

অভিষেক আরও বলেন, কিছু দল বিশেষ করে রাজ্যসভায় এমন সাংসদ আছে যারা নিজেদের দল থেকে নির্বাচিত হলেও বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। আম আদমি পার্টির এক সদস্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “বিক্রি হন তাঁরাই যারা বিক্রি হতে চান।”

এদিকে মহারাষ্ট্র থেকেও ক্রস ভোটিংয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। শরদ পওয়ার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির দিকে আঙুল তোলা হলেও সুপ্রিয়া সুলে তা নস্যাৎ করেন। তিনি বলেন, “গোপনে ভোট হওয়ায় এটা কীভাবে জানা যাচ্ছে? ভোট কারা দিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। মহারাষ্ট্রকে বদনাম করা হচ্ছে।”

রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব জানান, তাঁদের সাংসদরা বিরোধী প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন এবং কোনো গোলমাল হয়নি। তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দলের সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ন্ত বলেন, “যাঁরা অবৈধ ভোট দিয়েছেন তাঁরা শিক্ষিত না আহাম্মক? বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন, নাকি ভোট বিক্রি করেছেন? এটা গুরুতর। বিজেপি বিশ্বাসঘাতকতার বীজ বপন করেছে। সব এজেন্সি তাদের দাসত্ব করছে। ব্ল্যাকমেলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিরোধীদের বিদ্রূপ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “INDI জোটের সাংসদদের ধন্যবাদ যারা বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে NDA প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণনকে ভোট দিয়েছেন। NDA ঐক্যবদ্ধ এবং দক্ষ নেতৃত্বের পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করছে।”

বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার পরও কীভাবে ক্রস ভোটিংয়ের ঘটনা সামনে আসছে এবং এর পেছনে কতটা অর্থের লেনদেন জড়িত থাকতে পারে। বিরোধী শিবিরের ঐক্য নিয়ে সন্দেহ, ভোট কেনার অভিযোগ এবং তদন্তের দাবি—এসব নিয়ে আগামী দিনগুলো আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

অগ্নিগর্ভ নেপাল: ছোট্ট ঘটনা কীভাবে যুবসমাজের ক্ষোভে বিস্ফোরণ ঘটাল?

অগ্নিগর্ভ নেপাল: ছোট্ট ঘটনা কীভাবে যুবসমাজের ক্ষোভে বিস্ফোরণ ঘটাল?

অগ্নিগর্ভ নেপাল: ছোট্ট ঘটনা কীভাবে যুবসমাজের ক্ষোভে বিস্ফোরণ ঘটাল?

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

নেপালে বিক্ষোভ

ছোট্ট দুর্ঘটনা থেকে শুরু হওয়া ক্ষোভ এখন নেপালের রাজনীতিকে অগ্নিগর্ভ করেছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ঘটনার সূত্রপাত: দুর্ঘটনা, অবহেলা এবং ক্ষোভের আগুন

নেপালের ললিতপুর জেলার হরিসিদ্ধিতে আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া এক ছোট্ট দুর্ঘটনা দেশজুড়ে বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায় এক মন্ত্রীর গাড়ির চালক। গুরুতর আহত হয় সেই শিশু। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালককে ধরে ফেললেও মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের বীজ বপন করে।

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য: ‘ছোট ঘটনা’—আগুনে ঘি

প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি ঘটনাটিকে ‘ছোট ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর এই মন্তব্য জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে। শিশুটির দুর্ঘটনার ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। #JusticeForTheGirl এবং #HatyaraSarkar হ্যাশট্যাগ দ্রুত ট্রেন্ডিং হতে থাকে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সরকারের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়েন।

বেকারত্ব, দুর্নীতি ও ক্ষোভের বারুদ

এর আগে থেকেই বেকারত্ব এবং দুর্নীতির কারণে যুব সমাজ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পোষণ করছিল। ছোট্ট দুর্ঘটনাটি যেন তাদের দীর্ঘদিনের হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি অবিশ্বাস এবং প্রশাসনের দুর্বলতা তাদের প্রতিবাদে রূপান্তরিত হয়।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের স্মৃতি: ছোট্ট ঘটনা থেকে যুদ্ধ

এই পরিস্থিতি বিশ্ব ইতিহাসের অন্য এক ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। সিরিয়ায় ১৪ বছর বয়সি মুয়াবিয়া সায়াসনেহ তাঁর গলির দেওয়ালে রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদকে উদ্দেশ করে ‘এ বার আপনার পালা, ডক্টর’ গ্রাফিতি আঁকেন। গ্রেপ্তার হয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর তা গৃহযুদ্ধের সূচনা ঘটায়। নেপালের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এই ঘটনার গভীর মিল রয়েছে।

সমাজমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা: প্রতিবাদের আগুন আরও জ্বলে ওঠে

সবচেয়ে বড় আঘাত আসে সমাজমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ায়। গত ৪ সেপ্টেম্বর নেপাল সরকার ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করে। এতে জেন জ়ির প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়। যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে।

যুব সমাজের নেতৃত্ব: অরাজনৈতিক কিন্তু প্রজ্বলিত

জেন জ়ি আন্দোলনের নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানায়, তারা নিরপেক্ষ থাকতে চায়। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে দেখতে চায় না। তাদের বক্তব্য—সরকারের দুর্নীতি, প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং সমাজমাধ্যম বন্ধ করা দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করছে।

পরিণতি: সেনার শাসন ও পলাতক প্রধানমন্ত্রী

ক্রমশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেনাবাহিনী দেশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে যান। সংসদের অলিন্দে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন পৌঁছে যায়। নেপাল আজ অগ্নিগর্ভ। এই ঘটনা কেবল এক দুর্ঘটনা নয়; এটি সরকারের প্রতি দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এবং অবহেলার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ।

বিশ্বের নজরে নেপালের সংকট

বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নেপালের ঘটনাকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছে। তরুণদের নেতৃত্ব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং যোগাযোগের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরিত হওয়া প্রতিরোধ আন্দোলন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত।

আগামী দিনের প্রশ্ন

  • সরকার কি সংস্কারের পথে হাঁটবে?
  • সমাজমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা কি তুলে নেওয়া হবে?
  • যুব সমাজের দাবিকে কীভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে?
  • আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেপালের গণতন্ত্র রক্ষায় কী ভূমিকা নেবে?

নেপালের পরিস্থিতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—একটি ছোট ঘটনা কখনও কখনও ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। ক্ষোভের আগুনকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করলে তা একসময় বিস্ফোরণে রূপ নেয়।

ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর পদত্যাগ দাবি নিয়ে ফ্রান্স উত্তাল, গ্রেপ্তার অন্তত ২০০

ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর পদত্যাগ দাবি নিয়ে ফ্রান্স উত্তাল, গ্রেপ্তার অন্তত ২০০ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর পদত্যাগ দাবি নিয়ে ফ্রান্স উত্তাল, গ্রেপ্তার অন্তত ২০০

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

ফ্রান্সে বিক্ষোভ

ছবি: ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ চলছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

বিক্ষোভের সূত্রপাত

বুধবার সকাল থেকেই ফ্রান্স উত্তাল। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে জনগণ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কারণ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেবাস্তিয়াঁ লুকোনুকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার পর থেকেই নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। লুকোনুর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনতা তাঁকে বিরোধিতা করেন। এর ফলে নানা স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়।

‘Bloquons Tout’ – অবরোধের ডাক

বিক্ষোভকারীরা “Bloquons Tout” অর্থাৎ “সব কিছু অবরোধ করে দিন” স্লোগান তুলে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁরা দাবি করেন, ম্যাক্রঁ পদত্যাগ করুন এবং দেশের জনগণের মতামতকে সম্মান দিন। নানা শহরে রাস্তা অবরোধ, গণপরিবহনে আগুন, ট্রেনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং তা দ্রুত ভাইরাল হয়।

গ্রেপ্তার অন্তত ২০০ জন

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে শক্তি প্রয়োগ করে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ২০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্যারিসসহ অন্যান্য শহরে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায় ৮০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। প্যারিসেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার নিরাপত্তারক্ষী।

রাজনৈতিক পটভূমি

গত সোমবার আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাসোঁয়া বাইরু পদত্যাগ করেন। এর পর ম্যাক্রঁ তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেবাস্তিয়াঁ লুকোনুকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন। মাত্র ৩৯ বছর বয়সী লুকোনু গত দুই বছরের মধ্যে ফ্রান্সের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নিয়োগের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভের লক্ষ্য এবং জনগণের দাবি

বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জনস্বার্থ উপেক্ষা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ম্যাক্রঁ জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন এবং নতুন নেতৃত্ব চাই। তাঁরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। আন্দোলনের নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে এই বিক্ষোভ শুধু পদত্যাগ দাবির জন্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্যও।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রিটেইল্যু বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিদ্রোহের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।” তাঁর দাবি, এই আন্দোলন দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নাগরিকদের আইন মানতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ম্যাক্রঁর অবস্থান

বিক্ষোভের মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ স্পষ্ট করেছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। ২০২২ সালে ফের নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি ওঠে। তবে তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করতে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাঁর অবস্থান দৃঢ় রেখেছেন। ম্যাক্রঁ জানান, দেশের সমস্যা সমাধানে তিনি কাজ করবেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় অটল থাকবেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ফ্রান্সের এই পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতির নজর কেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন নেতা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থাগুলি শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে কী হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান অশান্তি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ফ্রান্সের অর্থনীতি, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আমরা নজর রাখছি ফ্রান্সের রাজনৈতিক এই সংকটের প্রতিটি ধাপে। Y বাংলায় থাকুন, আপডেট জানুন।

সুশীলা কার্কিকে নেপালের পরবর্তী অন্তর্বর্তিকালীন সরকারপ্রধান করতে চাইছে Gen Z

সুশীলা কার্কিকে নেপালের পরবর্তী অন্তর্বর্তিকালীন সরকারপ্রধান করতে চাইছে Gen Z | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

সুশীলা কার্কিকে নেপালের পরবর্তী অন্তর্বর্তিকালীন সরকারপ্রধান করতে চাইছে Gen Z

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

সুশীলা কার্কি

ছবি: নেপালের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি – Gen Z আন্দোলনের পছন্দ

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

সব কিছু ঠিক থাকলে সুশীলা কার্কিই নেতৃত্বে

নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। সেনা নেতৃত্ব দেশের নিয়ন্ত্রণ নিলেও আগামী অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে Gen Z আন্দোলনের নেতৃত্ব একমত হয়েছে যে, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। তবে সেনা নেতৃত্ব তাঁকে সমর্থন করবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। একইসঙ্গে, সুশীলা কার্কি নিজে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

Gen Z-এর ভার্চুয়াল সভায় ব্যাপক অংশগ্রহণ

মঙ্গলবার রাত থেকে সেনাবাহিনী দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর বুধবার Gen Z আন্দোলনের নেতৃত্ব অনলাইনে একটি ভার্চুয়াল সভা করে অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এই সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৪,০০০-এরও বেশি তরুণ-তরুণী অংশ নেন। বিদেশে অবস্থানকারী নেপালিরাও Zoom কলে যুক্ত হয়ে মতামত জানান। আলোচ্যসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল – কীভাবে অন্তর্বর্তিকালীন সরকারকে নিরপেক্ষ রাখা যায় এবং এমন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া যায় যিনি জনআস্থা অর্জন করতে পারবেন।

কেন সুশীলা কার্কিকে বেছে নেওয়া হল?

সভায় নেতৃত্ব জানায়, Gen Z আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হল রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দেশের শৃঙ্খলা ফেরানো। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কেউ এই পদে থাকলে আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হবে। সুশীলা কার্কি বর্তমানে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং বিচারবিভাগে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন এবং তাঁর ভাবমূর্তি নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ। ফলে তাঁকেই অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হয়েছে।

অন্য নামগুলিও আলোচনায় ছিল

আলোচনার সময় কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ এবং যুব নেতা সাগর ধকলের নামও সামনে আসে। তবে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন বর্তমান সংকটের সময় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য এমন একজন নেতার প্রয়োজন যিনি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী। ফলে সুশীলা কার্কির নামই সর্বাধিক সমর্থন পায়।

সেনাপ্রধানের প্রস্তাব বাতিল

এর আগে সেনাপ্রধান অশোকরাজ সিগডেল Gen Z নেতৃত্বকে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সঙ্গে কথা বলতে এবং প্রাক্তন মাওবাদী নেতা দুর্গা প্রসাইয়ের নাম বিবেচনা করতে বলেন। কিন্তু তরুণরা সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডায় যুক্ত ব্যক্তির ওপর আস্থা রাখা যাবে না। ফলে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে নিরপেক্ষ, নাগরিক নেতৃত্বের প্রয়োজন।

রাজনীতির বাইরে নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা

Gen Z আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত একটি অন্তর্বর্তিকালীন নেতৃত্ব গঠন। তাঁদের দাবি, দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অসহযোগিতা, দুর্নীতি এবং পক্ষপাতিত্বের শিকার। সুশীলা কার্কির মতো একজন ব্যক্তিকে নেতৃত্বে আনলে আন্তর্জাতিক মহলেও নেপালের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

সেনা নেতৃত্বের ভূমিকা ও সামনে চ্যালেঞ্জ

যদিও সেনা নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তারা এই প্রস্তাবে সম্মতি দেবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির আপত্তি, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা – এই তিনটি চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। তবে সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে Gen Z নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটলে নেপাল একটি স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো পেতে পারে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার আলো

Gen Z নেতৃত্বের এই উদ্যোগ নেপালের তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের এক অনন্য উদাহরণ। তারা জানিয়ে দিয়েছে যে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সুশীলা কার্কির মতো একজন সম্মানিত, নিরপেক্ষ নেতার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তিকালীন সরকার গঠন নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সুসংহত করতে সাহায্য করতে পারে।

আমরা নজর রাখছি নেপালের রাজনৈতিক এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রতিটি ধাপে। আপডেট পেতে Y বাংলায় চোখ রাখুন।

দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন শুরু, রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা

দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন শুরু, রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু, রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

ভোটার তালিকার সংশোধন

ছবি: ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রস্তুতি – নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের দৃশ্য

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর কী?

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – এসআইআর) হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল, আপডেট এবং প্রযুক্তিনির্ভরভাবে যাচাই করা হয়। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতে, প্রকৃত ভোটার যাতে তালিকায় যুক্ত থাকেন এবং অপ্রাসঙ্গিক বা মিথ্যা নাম বাদ দেওয়া যায়, তার জন্য এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিহারে এই প্রক্রিয়ার সময় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারের সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

কমিশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় দিল্লিতে। সেখানে সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। যদিও তালিকা সংশোধনের প্রকৃত কাজ শুরু হবে অক্টোবরে, তবে নির্দিষ্ট দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। দেশের সব রাজ্য একযোগে প্রক্রিয়া শুরু করবে, নাকি প্রথমে ভোট আসন্ন রাজ্যগুলিতে শুরু হবে, তা স্পষ্ট নয়।

কোন কোন রাজ্য আগে শুরু করতে পারে?

আগামী বছরে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও পন্ডিচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। ফলে এই রাজ্যগুলিতে এসআইআর আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজনৈতিক বিরোধিতা বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আপত্তি

উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি বলেন, "এসআইআর ২-৩ মাসের কাজ নয়। এটা করতে গেলে ২-৩ বছর সময় লাগে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে।" তাঁর এই অভিযোগ নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তৃণমূল নেতৃত্ব আগেও একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। তবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যে রাজ্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও কর্মীবাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিহারের অভিজ্ঞতা – ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ

বিহারে এসআইআর চালু হওয়ার সময় প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে। যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি ছিল, মিথ্যা বা অপ্রাসঙ্গিক নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত ভোটারদের তালিকা সঠিক রাখা হয়েছে। কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, অতীতে যেমন ২০০২ সালে বাংলায় ৪ কোটি ৫৮ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল, তেমন ভুল যাতে আর না হয়, তার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

প্রযুক্তির ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

এসআইআর প্রক্রিয়ায় এবার উন্নত সফটওয়্যার, বায়োমেট্রিক যাচাই, আধুনিক ডেটা বিশ্লেষণ এবং অনলাইনে যাচাই করার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকা এমনভাবে সাজানো যাতে প্রকৃত নাগরিকরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান এবং ভোট কারচুপি কমানো যায়। তবে রাজনৈতিক মেরুকরণ, তথ্য যাচাইয়ের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা এই প্রক্রিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এই প্রক্রিয়া বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে।

রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা

মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির ফলে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই বিরোধী দলগুলো কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে কমিশন জানিয়েছে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে এই সংশোধন করা হবে। তবুও নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধিতা বাড়লে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হতে পারে।

ভবিষ্যতের জন্য কী বার্তা?

ভোটার তালিকার নির্ভুলতা শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই প্রভাবিত করে না, বরং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছতা বজায় রেখে তালিকা সংশোধন হলে ভোটারের আস্থা বাড়বে। তবে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এই প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দিতে পারে। কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল প্রশাসনিক দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ভারসাম্য বজায় রেখে তালিকা সংশোধন করা।

আমরা নজর রাখছি এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে। আপডেট পেতে চোখ রাখুন Y বাংলায়।

ষড়যন্ত্র হয়েছে”, বহিরাগত শক্তিকে দুষলেন দিলীপ ঘোষ – নেপাল অস্থিরতা নিয়ে তীব্র মন্তব্য

Gen Z বিপ্লবে উত্তাল নেপাল, ইস্তফা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ওলি – ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে

Gen Z বিপ্লবে উত্তাল নেপাল, ইস্তফা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ওলি – ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

স্থান: কলকাতা / কাঠমান্ডু

Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিনদিন সংকটজনক হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের অর্থাৎ ‘Gen Z’-এর নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রবল চাপের মুখে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। নেপালের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা শুধু সেই দেশের জন্য নয়, প্রতিবেশী ভারতেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ নেপালের সংকট নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অন্তর্নিহিত সমস্যা তো রয়েইছে, তবে বহিরাগত শক্তির হাতও রয়েছে। এর ফলে দেশগুলো আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় পড়তে পারে।”

📌 নেপালের রাজনৈতিক সংকটের পটভূমি

গত কয়েক মাস ধরেই নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছিল। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে শহরাঞ্চলের শিক্ষিত যুবসমাজ, প্রশাসনিক দুর্বলতা, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। ৪ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডু সরকার হঠাৎ করে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রামসহ প্রায় সব বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অভিযোগ করা হয়, এই সংস্থাগুলি নেপাল সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত নয় এবং নিরাপত্তার কারণে তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

সরকার ৭ দিনের মধ্যে প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিলেও, একটিও সংস্থা তা মানেনি। ফলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে সোমবার হাজার হাজার মানুষ রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন দ্রুতই উত্তপ্ত রূপ নেয়। মঙ্গলবার রাতের মধ্যে তা হিংসাত্মক চেহারা গ্রহণ করে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন। জনরোষ বাড়তে থাকায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বাধ্য হন পদত্যাগ করতে।

📌 Gen Z আন্দোলনের কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব এবং শিক্ষা-সংকট দীর্ঘদিন ধরে জমে ছিল। সোশ্যাল মিডিয়া তাদের মত প্রকাশের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছিল। হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ আন্দোলনের পেছনে বড় কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহিরাগত শক্তি এই আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হওয়ায় বিদেশি প্রভাব বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

📌 ভারতের উদ্বেগ

নেপালের এই অস্থিরতা ভারতের জন্যও একটি বড় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে শরণার্থী প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য, পর্যটন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন:

“গত পাঁচ থেকে সাত বছরে ভারতের প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে এরকম পরিস্থিতি হয়েছে। এর পিছনে অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি বহিরাগত শক্তির ইন্ধন রয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত শান্তি ফিরুক, এটিই আমরা চাই।”

তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল থেকে মানুষ ভারতে প্রবেশ করতে পারে। নিরাপত্তার বিষয়েও নজরদারি বাড়াতে হবে।”

📌 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নেপালের এই সংকট দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। পাশাপাশি চীনের প্রভাব, বিদেশি অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক গ্রুপগুলির ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

📌 অর্থনৈতিক প্রভাব

নেপালের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কায় পড়তে পারে। পর্যটন খাত ইতিমধ্যেই ক্ষতির মুখে। বহু ছোট ব্যবসা বন্ধ হওয়ার মুখে। শিক্ষিত তরুণরা কাজ হারিয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে পণ্যের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় ভারত ও নেপালের ব্যবসায়ী মহল উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক অর্থনীতি আরও খারাপ হতে পারে।

📌 নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, অস্থিরতা চলতে থাকলে সন্ত্রাসবাদী বা সংগঠিত অপরাধমূলক চক্র সক্রিয় হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত সীমান্ত, অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ বাণিজ্য এই অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, “নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সীমান্ত অঞ্চলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।”

📌 রাজনৈতিক সমাধানের পথ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নেপালের বর্তমান সংকট সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, তরুণদের সঙ্গে সংলাপ, অর্থনৈতিক প্যাকেজ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। ভারতে বসবাসকারী নেপালি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

নেপালের প্রতিবাদে তরুণদের মিছিল
কাঠমান্ডুর রাস্তায় হাজার হাজার Gen Z তরুণ প্রতিবাদে নেমেছেন সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদে।
দিলীপ ঘোষ প্রাতঃভ্রমণে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন
বিজেপির নেতা দিলীপ ঘোষ প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে নেপালের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাংলার অর্থনীতিকে বদলে দিয়েছে

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাংলার অর্থনীতিকে বদলে দিয়েছে | Y বাংলা নিউজ

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাংলার অর্থনীতিকে বদলে দিয়েছে, বললেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ডিরেক্টর

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন
গ্রামীণ মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: বাংলার অর্থনীতিতে মহিলাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এক বড় ভূমিকা পালন করছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। মঙ্গলবার বীরভূমের সিউড়িতে একটি ব্যাংক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এই প্রকল্পের প্রশংসা করেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ডিরেক্টর সুধাংশু প্রসাদ। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাংলার অর্থনীতিকে অনেকটাই পালটে দিয়েছে।”

পাঁচ কোটি নতুন অ্যাকাউন্ট, ২৫ হাজার কোটি জমা

তিনি জানান, বাংলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে পাঁচ কোটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছেন মহিলারা। এই নতুন অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা জমা পড়ছে। তাঁর কথায়, “সব ব্যাংক মিলিয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে প্রস্তুত। কারণ, মহিলারা কখনও ঋণখেলাপি হন না।”

ব্যাংক গ্রাহকদের সচল রাখতে ‘রি-কেওয়াইসি’ কার্যক্রম

অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল দশ বছরের পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জন্য ‘রি-কেওয়াইসি’ আবেদন গ্রহণ। ব্যাংক প্রতিনিধিদের মধ্যে বলবীর সিং, অনির্বাণ দত্ত, অঞ্জলি কুমার, প্রণব বিশ্বাস এবং সঞ্জীব কুমার উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত: ঝুঁকি বহুল, মাঝারি ঝুঁকি এবং কম ঝুঁকি। বর্তমানে কম ঝুঁকির গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

বাংলায় এখনও প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহকের কেওয়াইসি জমা পড়েনি। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ডিরেক্টর বলেন, “টাকা ছাড়াও এখন গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এতে তাঁরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। পাশাপাশি দু’লাখ টাকার জীবন বিমা, অটল পেনশন, সুরক্ষা বিমা এবং জীবনজ্যোতি বিমার সুবিধা পাবেন।”

ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষার সতর্কতা

তিনি ব্যাংক গ্রাহকদের সতর্ক করে বলেন, “ব্যক্তিগত কোনও তথ্য ব্যাংকের বাইরে কোথাও দেবেন না। কোনও ওটিপি কাউকে শেয়ার করবেন না। টাকা খোয়া গেলে দ্রুত ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।” এই বক্তব্য গ্রাহকদের নিরাপদ ব্যাংকিং নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থনীতির শক্তি হিসেবে মহিলারা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প গ্রামীণ মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তাঁদের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খুলতে উৎসাহিত করছে। এর ফলে তাঁরা ঋণ সুবিধা, বিমা, পেনশনসহ একাধিক আর্থিক সুরক্ষা পেয়ে আত্মনির্ভর হচ্ছেন। বাংলার অর্থনীতিতে এটি দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা শিক্ষার আলোয়, প্রজেক্ট সঞ্জীবনীয় নতুন জীবন

গঢ়চিরৌলির আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা শিক্ষার আলোয়, প্রজেক্ট সঞ্জীবনীয় নতুন জীবন

গঢ়চিরৌলির আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা শিক্ষার আলোয়, প্রজেক্ট সঞ্জীবনীয় নতুন জীবন

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | গঢ়চিরৌলি, মহারাষ্ট্র

আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা স্কুলে শিক্ষাগ্রহণ করছেন
আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা পেন, খাতা নিয়ে ক্লাসে বসেছেন — নতুন জীবন শুরু

শৈশব থেকেই বন্দুকের ছায়ায় বড় হওয়া গঢ়চিরৌলির প্রায় ১০৬ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী আজ শিক্ষার আলোয় এগিয়ে চলেছেন। এক সময় পড়াশোনার বদলে যুদ্ধের পাঠই তাঁদের জীবনের অংশ ছিল। সামাজিক শিক্ষা বা বিদ্যালয়ের পরিবেশ তাঁদের কাছে ছিল অচেনা। কিন্তু মহারাষ্ট্র সরকারের উদ্যোগে ‘প্রজেক্ট সঞ্জীবনী’র মাধ্যমে তাঁদের জীবন পাল্টানোর এক ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।

বন্দুক থেকে বইয়ের পথে

যেসব শিশু বন্দুক হাতে বড় হয়েছে, তারা আজ ব্ল্যাকবোর্ডে চক ধরছে। পেন-পেন্সিল আর খাতার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় ঘটছে। গঢ়চিরৌলির ঘন জঙ্গলে বড় হওয়া এই মানুষগুলো আগে অস্ত্র নিয়ে জীবন কাটালেও এখন শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইছে। তাঁদের অনেকেই প্রথমবারের মতো স্কুলের পরিবেশে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন।

'প্রজেক্ট সঞ্জীবনী': নতুন সূচনা

মহারাষ্ট্র সরকারের ‘প্রজেক্ট সঞ্জীবনী’ বিশেষভাবে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসনের জন্য তৈরি। এই প্রকল্পের অধীনে তাঁদের সাক্ষরতা, মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক পুনর্গঠনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসের ৮ তারিখ থেকে এই সাক্ষরতা অভিযান শুরু হয়েছে, যা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর তাদের জন্য পরীক্ষা নিয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। লক্ষ্য আগামী বছরের প্রথম পর্যায়ের মধ্যে সকলকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে তোলা।

স্বপ্নের শিক্ষাজীবন

এই উদ্যোগে যুক্ত অনেকেই শুধু প্রাথমিক সাক্ষরতা অর্জনের মধ্যেই থেমে থাকতে চান না। তাঁরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে চাকরির সুযোগ তৈরি করতে চান। কেউ কেউ বিস্মিত যে এভাবে জীবন বদলানো সম্ভব। তাঁদের অনেকের ভাষ্য, “আমরা কখনো ভাবিনি বন্দুক ছাড়িয়ে খাতা-কলম হাতে নেব।” শিক্ষা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সমাজে স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসার পথ খুঁজছেন।

প্রশাসনের আশাবাদ

মহারাষ্ট্র প্রশাসন এই প্রকল্পকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। তাঁরা বিশ্বাস করেন, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরে আসা সম্ভব। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করা এবং তাঁদের জন্য শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এই প্রকল্প শুধু সাক্ষরতা নয়, মানবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এক বড় পদক্ষেপ।

সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা

এই উদ্যোগ অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। যুদ্ধ, সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে বড় হওয়া শিশুদের জন্য শিক্ষা যে এক নতুন দিশা হতে পারে, তা এই প্রকল্প প্রমাণ করছে। সমাজের সহমর্মিতা ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এক নতুন জীবন শুরু করা সম্ভব—এটাই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় বার্তা।

গঢ়চিরৌলির আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের শিক্ষায় ফিরিয়ে এনে সমাজে স্বাভাবিকভাবে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টা আগামী প্রজন্মের জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

স্মৃতি: রয়্যাল কিলিংয়ের আগুনে জ্বলেছিল কাঠমান্ডু

স্মৃতি: রয়্যাল কিলিংয়ের আগুনে জ্বলেছিল কাঠমান্ডু

স্মৃতি: রয়্যাল কিলিংয়ের আগুনে জ্বলেছিল কাঠমান্ডু

Y বাংলা ডেস্ক: লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল নানা জল্পনা। জন্ম নিচ্ছিল হাজারো থিয়োরি। আর পারদ চড়ছিল উত্তেজনার। কাঠমান্ডুর রাস্তায় বাড়ছিল উন্মত্ত জনতার ভিড়, ভাঙচুর, আগুন লাগানো। লাঠিচার্জেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ পুলিশ শেষ পর্যন্ত কাঁদানে গ্যাসের আশ্রয় নেয়। তাতে যেন আগুনে ঘি পড়ল। উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ল শহরের প্রতিটি মোড়ে।

Nepal protests Updates

ছবি: X

এত বছর পরেও একটা মুহূর্ত স্পষ্ট মনে আছে। দরবার মার্গের একদিকে ছেলেরা ইট–পাথর ছুড়ছে, আর উল্টোদিক থেকে পুলিশ ছুড়ছে টিয়ার গ্যাস এবং রাবার বুলেট। মাঝখানে আমি। চারদিকেই ধোঁয়া, আগুন আর চিৎকার। সেই সময় এক সুদর্শন পুলিশ অফিসার আমাকে দ্রুত নিরাপদ এক জায়গায় টেনে নিয়ে একটি হেলমেট দিয়ে বলেছিলেন, “পরে থাকুন।” তিনি যদি সে দিন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিতেন, তাহলে রক্তপাতের বিপুল সম্ভাবনা ছিল। রাস্তার বিভিন্ন অংশে জ্বলছিল আগুন। টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় গোটা এলাকা যেন এক বিশাল গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল।

পরবর্তী তিন–চারদিন এইভাবে চলল। প্রতিদিন সন্ধে ছ’টা থেকে ভোর ছ’টা পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকত। তার মধ্যেই একদিন কার্ফু অমান্য করে ক্যামেরা কাঁধে ঘোরার অপরাধে পুলিশ অশোকদাকে আটক করে সারা রাত থানায় রেখে দেয়। তখনকার দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল ত্রেতা যুগের মতো। মোবাইল ফোনের ব্যবহার এত সীমিত ছিল যে যোগাযোগের প্রায় কোনও পথই ছিল না। ফলে সারা রাত একফোঁটা খবরও পাইনি। নির্ঘুম রাতে বসে ভাবছিলাম, কী হতে পারে? কোথায় কার সঙ্গে যোগাযোগ করব? কীভাবে জানব পরিস্থিতি? ভোরের দিকে ছাড়া পেয়ে অশোকদা হোটেলে ফিরে স্বীকার করেছিল, “এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে রিস্ক নেওয়া ঠিক হয়নি।”

Nepal protests Updates – বর্ডার-চিত্র

বেলাগাম লুটপাট, প্রাণ হাতে পারাপার। তাও তো সেই কাঠমান্ডুর ক্রোধ ছিল রাজার প্রতি আবেগের কারণে। তখন মানুষের ক্ষোভের কারণ ছিল নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা, ঐতিহাসিক আঘাত। এবারের পরিস্থিতি আরও জটিল। ক্রোধ আরও গাঢ়। তার বহিঃপ্রকাশ আরও সাঙ্ঘাতিক। কত ক্ষণে, কত দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে তা এই মুহূর্তে অনুমান করা কঠিন। তবুও বলা যায়, যত কাণ্ড সেই কাঠমান্ডুতে! আগের ঘটনায় রাজাকে কেন্দ্র করে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সাধারণ মানুষের হতাশাকে কেন্দ্র করে। মানুষের মুখে মুখে ছড়াচ্ছে গুজব, নানা থিয়োরির জন্ম হচ্ছে। প্রশাসনের ওপর আস্থা কমছে। এবং এই উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামবে তা এখনই কেউ জানে না।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কিংবা আন্তর্জাতিক মহলের চাপ—সব কিছু মিলিয়ে কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। সাধারণ নাগরিকেরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা ভয়ে দোকান খুলতে পারছেন না। স্কুল–কলেজ বন্ধ। পরিবহন পরিষেবা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতির দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই উত্তেজনা সামাল দিতে হলে দ্রুত সমাধান দরকার। আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের নজরও এখন কাঠমান্ডুর দিকে। একদিকে নাগরিকের বিক্ষোভ, অন্যদিকে প্রশাসনের অনিশ্চয়তা—এই দ্বন্দ্বের মধ্যে কবে শান্তি ফিরবে তা এখনো অনিশ্চিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

নেপালে সাংবিধানিক সঙ্কট: ইস্তফা, বিক্ষোভ এবং সেনা শাসনের আশঙ্কা

নেপালে সাংবিধানিক সঙ্কট: ইস্তফা, বিক্ষোভ এবং সেনা শাসনের আশঙ্কা

একটির পর একটি ইস্তফা, নেপালে সেনাশাসনের আশঙ্কা তীব্র

Y বাংলা ডেস্ক: নেপাল এখন এক গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ইস্তফার পর এবার রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলও পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনায় প্রশাসনিক নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে বিক্ষোভকারীদের হামলা, লুটপাট এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা। নেপালের সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের কাছে হিংসা বন্ধের আবেদন জানালেও ক্ষমতা কার হাতে থাকবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা করেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নেপালে সেনাশাসনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ইস্তফা: সংকটের কেন্দ্রবিন্দু

রাজনৈতিক অস্থিরতার এক চরম পরিস্থিতির মুখে পড়েছে নেপাল। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল অস্থির। নানা দলীয় দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক সমস্যা এবং শাসনব্যবস্থায় আস্থাহীনতা দেশটিকে দুর্বল করে তুলেছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কেপি শর্মা ওলির ইস্তফা এবং তার পরপরই রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের পদত্যাগ দেশটিকে এক সাংবিধানিক শূন্যতায় ফেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ইস্তফাগুলি দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকির সংকেত।

বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে হামলা চালায়। সেখানে ব্যাপক লুটপাট হয় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলেও বিক্ষোভের তীব্রতা রোধ করা যায়নি। বহু মানুষ হতাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সেনার আবেদন: শান্তি বজায় রাখুন

নেপালের সেনাবাহিনী এই অস্থিরতার মাঝে দেশবাসীর কাছে এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। সেনার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “শান্তি বজায় রাখুন এবং আইনের পথে ফিরে আসুন।” তবে তারা ক্ষমতা গ্রহণ বা দেশ পরিচালনার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব শূন্য থাকার সুযোগে সেনাশাসনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সেনাবাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও তারা এখনও প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়নি। তবে যদি দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান না হয়, তাহলে সেনাশাসনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সংবিধান ও আইনের প্রশ্ন

নেপালের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে অন্তর্বর্তী শাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নিয়মাবলী অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন অপরিহার্য। অন্যথায় প্রশাসনিক শূন্যতা দেশের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে।

অনেকে আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক শূন্যতা এবং বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন চরমপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সেনাশাসনের সম্ভাবনা বাড়ে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগের কারণ।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

নেপালের এই সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য নেপালের রাজনৈতিক স্থিরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। প্রতিবেশী দেশগুলিও কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দ্রুত পুনরুদ্ধার চেয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব

রাজনৈতিক সংকটের কারণে নেপালের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ছে। বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ স্থগিত রেখেছেন। পর্যটন শিল্প, যা নেপালের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত, তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহল বলছে, প্রশাসনিক নেতৃত্ব না থাকলে আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যাহত হবে।

নেপালের সাধারণ মানুষের আশঙ্কা

রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। অনেকে কাজের জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। দোকানপাট অনেক জায়গায় বন্ধ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হামলার ভয়ে অনেকে বাড়ির বাইরে বেরোতে সাহস করছেন না। পাশাপাশি জরুরি পরিষেবা যেমন চিকিৎসা, পরিবহন এবং ব্যাংকিং খাতেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে?

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সেনাবাহিনী যদি প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করে, তবে সেটি গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য বিপজ্জনক বার্তা হতে পারে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলির আলোচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা গেলে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ, অর্থনৈতিক সংকট এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ—এই তিনের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে নেপালের রাজনৈতিক সংকট শুধু দেশটির জন্য নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত এবং গণতান্ত্রিক সমাধানই পারে পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog