দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু, রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা
আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ছবি: ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রস্তুতি – নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের দৃশ্য
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর কী?
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – এসআইআর) হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল, আপডেট এবং প্রযুক্তিনির্ভরভাবে যাচাই করা হয়। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতে, প্রকৃত ভোটার যাতে তালিকায় যুক্ত থাকেন এবং অপ্রাসঙ্গিক বা মিথ্যা নাম বাদ দেওয়া যায়, তার জন্য এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিহারে এই প্রক্রিয়ার সময় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারের সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ
কমিশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় দিল্লিতে। সেখানে সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। যদিও তালিকা সংশোধনের প্রকৃত কাজ শুরু হবে অক্টোবরে, তবে নির্দিষ্ট দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। দেশের সব রাজ্য একযোগে প্রক্রিয়া শুরু করবে, নাকি প্রথমে ভোট আসন্ন রাজ্যগুলিতে শুরু হবে, তা স্পষ্ট নয়।
কোন কোন রাজ্য আগে শুরু করতে পারে?
আগামী বছরে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও পন্ডিচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। ফলে এই রাজ্যগুলিতে এসআইআর আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজনৈতিক বিরোধিতা বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আপত্তি
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি বলেন, "এসআইআর ২-৩ মাসের কাজ নয়। এটা করতে গেলে ২-৩ বছর সময় লাগে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে।" তাঁর এই অভিযোগ নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তৃণমূল নেতৃত্ব আগেও একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। তবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যে রাজ্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও কর্মীবাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিহারের অভিজ্ঞতা – ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ
বিহারে এসআইআর চালু হওয়ার সময় প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে। যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি ছিল, মিথ্যা বা অপ্রাসঙ্গিক নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত ভোটারদের তালিকা সঠিক রাখা হয়েছে। কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, অতীতে যেমন ২০০২ সালে বাংলায় ৪ কোটি ৫৮ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল, তেমন ভুল যাতে আর না হয়, তার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
প্রযুক্তির ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
এসআইআর প্রক্রিয়ায় এবার উন্নত সফটওয়্যার, বায়োমেট্রিক যাচাই, আধুনিক ডেটা বিশ্লেষণ এবং অনলাইনে যাচাই করার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকা এমনভাবে সাজানো যাতে প্রকৃত নাগরিকরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান এবং ভোট কারচুপি কমানো যায়। তবে রাজনৈতিক মেরুকরণ, তথ্য যাচাইয়ের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা এই প্রক্রিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এই প্রক্রিয়া বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে।
রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা
মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির ফলে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই বিরোধী দলগুলো কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে কমিশন জানিয়েছে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে এই সংশোধন করা হবে। তবুও নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধিতা বাড়লে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হতে পারে।
ভবিষ্যতের জন্য কী বার্তা?
ভোটার তালিকার নির্ভুলতা শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই প্রভাবিত করে না, বরং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছতা বজায় রেখে তালিকা সংশোধন হলে ভোটারের আস্থা বাড়বে। তবে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এই প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দিতে পারে। কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল প্রশাসনিক দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ভারসাম্য বজায় রেখে তালিকা সংশোধন করা।
আমরা নজর রাখছি এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে। আপডেট পেতে চোখ রাখুন Y বাংলায়।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন