গঢ়চিরৌলির আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা শিক্ষার আলোয়, প্রজেক্ট সঞ্জীবনীয় নতুন জীবন
আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | গঢ়চিরৌলি, মহারাষ্ট্র
শৈশব থেকেই বন্দুকের ছায়ায় বড় হওয়া গঢ়চিরৌলির প্রায় ১০৬ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী আজ শিক্ষার আলোয় এগিয়ে চলেছেন। এক সময় পড়াশোনার বদলে যুদ্ধের পাঠই তাঁদের জীবনের অংশ ছিল। সামাজিক শিক্ষা বা বিদ্যালয়ের পরিবেশ তাঁদের কাছে ছিল অচেনা। কিন্তু মহারাষ্ট্র সরকারের উদ্যোগে ‘প্রজেক্ট সঞ্জীবনী’র মাধ্যমে তাঁদের জীবন পাল্টানোর এক ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।
বন্দুক থেকে বইয়ের পথে
যেসব শিশু বন্দুক হাতে বড় হয়েছে, তারা আজ ব্ল্যাকবোর্ডে চক ধরছে। পেন-পেন্সিল আর খাতার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় ঘটছে। গঢ়চিরৌলির ঘন জঙ্গলে বড় হওয়া এই মানুষগুলো আগে অস্ত্র নিয়ে জীবন কাটালেও এখন শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইছে। তাঁদের অনেকেই প্রথমবারের মতো স্কুলের পরিবেশে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন।
'প্রজেক্ট সঞ্জীবনী': নতুন সূচনা
মহারাষ্ট্র সরকারের ‘প্রজেক্ট সঞ্জীবনী’ বিশেষভাবে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসনের জন্য তৈরি। এই প্রকল্পের অধীনে তাঁদের সাক্ষরতা, মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক পুনর্গঠনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসের ৮ তারিখ থেকে এই সাক্ষরতা অভিযান শুরু হয়েছে, যা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর তাদের জন্য পরীক্ষা নিয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। লক্ষ্য আগামী বছরের প্রথম পর্যায়ের মধ্যে সকলকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে তোলা।
স্বপ্নের শিক্ষাজীবন
এই উদ্যোগে যুক্ত অনেকেই শুধু প্রাথমিক সাক্ষরতা অর্জনের মধ্যেই থেমে থাকতে চান না। তাঁরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে চাকরির সুযোগ তৈরি করতে চান। কেউ কেউ বিস্মিত যে এভাবে জীবন বদলানো সম্ভব। তাঁদের অনেকের ভাষ্য, “আমরা কখনো ভাবিনি বন্দুক ছাড়িয়ে খাতা-কলম হাতে নেব।” শিক্ষা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সমাজে স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসার পথ খুঁজছেন।
প্রশাসনের আশাবাদ
মহারাষ্ট্র প্রশাসন এই প্রকল্পকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। তাঁরা বিশ্বাস করেন, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরে আসা সম্ভব। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করা এবং তাঁদের জন্য শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এই প্রকল্প শুধু সাক্ষরতা নয়, মানবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এক বড় পদক্ষেপ।
সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা
এই উদ্যোগ অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। যুদ্ধ, সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে বড় হওয়া শিশুদের জন্য শিক্ষা যে এক নতুন দিশা হতে পারে, তা এই প্রকল্প প্রমাণ করছে। সমাজের সহমর্মিতা ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এক নতুন জীবন শুরু করা সম্ভব—এটাই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় বার্তা।
গঢ়চিরৌলির আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের শিক্ষায় ফিরিয়ে এনে সমাজে স্বাভাবিকভাবে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টা আগামী প্রজন্মের জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন