স্মৃতি: রয়্যাল কিলিংয়ের আগুনে জ্বলেছিল কাঠমান্ডু
Y বাংলা ডেস্ক: লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল নানা জল্পনা। জন্ম নিচ্ছিল হাজারো থিয়োরি। আর পারদ চড়ছিল উত্তেজনার। কাঠমান্ডুর রাস্তায় বাড়ছিল উন্মত্ত জনতার ভিড়, ভাঙচুর, আগুন লাগানো। লাঠিচার্জেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ পুলিশ শেষ পর্যন্ত কাঁদানে গ্যাসের আশ্রয় নেয়। তাতে যেন আগুনে ঘি পড়ল। উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ল শহরের প্রতিটি মোড়ে।
Nepal protests Updates
ছবি: X
এত বছর পরেও একটা মুহূর্ত স্পষ্ট মনে আছে। দরবার মার্গের একদিকে ছেলেরা ইট–পাথর ছুড়ছে, আর উল্টোদিক থেকে পুলিশ ছুড়ছে টিয়ার গ্যাস এবং রাবার বুলেট। মাঝখানে আমি। চারদিকেই ধোঁয়া, আগুন আর চিৎকার। সেই সময় এক সুদর্শন পুলিশ অফিসার আমাকে দ্রুত নিরাপদ এক জায়গায় টেনে নিয়ে একটি হেলমেট দিয়ে বলেছিলেন, “পরে থাকুন।” তিনি যদি সে দিন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিতেন, তাহলে রক্তপাতের বিপুল সম্ভাবনা ছিল। রাস্তার বিভিন্ন অংশে জ্বলছিল আগুন। টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় গোটা এলাকা যেন এক বিশাল গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল।
পরবর্তী তিন–চারদিন এইভাবে চলল। প্রতিদিন সন্ধে ছ’টা থেকে ভোর ছ’টা পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকত। তার মধ্যেই একদিন কার্ফু অমান্য করে ক্যামেরা কাঁধে ঘোরার অপরাধে পুলিশ অশোকদাকে আটক করে সারা রাত থানায় রেখে দেয়। তখনকার দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল ত্রেতা যুগের মতো। মোবাইল ফোনের ব্যবহার এত সীমিত ছিল যে যোগাযোগের প্রায় কোনও পথই ছিল না। ফলে সারা রাত একফোঁটা খবরও পাইনি। নির্ঘুম রাতে বসে ভাবছিলাম, কী হতে পারে? কোথায় কার সঙ্গে যোগাযোগ করব? কীভাবে জানব পরিস্থিতি? ভোরের দিকে ছাড়া পেয়ে অশোকদা হোটেলে ফিরে স্বীকার করেছিল, “এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে রিস্ক নেওয়া ঠিক হয়নি।”
Nepal protests Updates – বর্ডার-চিত্র
বেলাগাম লুটপাট, প্রাণ হাতে পারাপার। তাও তো সেই কাঠমান্ডুর ক্রোধ ছিল রাজার প্রতি আবেগের কারণে। তখন মানুষের ক্ষোভের কারণ ছিল নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা, ঐতিহাসিক আঘাত। এবারের পরিস্থিতি আরও জটিল। ক্রোধ আরও গাঢ়। তার বহিঃপ্রকাশ আরও সাঙ্ঘাতিক। কত ক্ষণে, কত দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে তা এই মুহূর্তে অনুমান করা কঠিন। তবুও বলা যায়, যত কাণ্ড সেই কাঠমান্ডুতে! আগের ঘটনায় রাজাকে কেন্দ্র করে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সাধারণ মানুষের হতাশাকে কেন্দ্র করে। মানুষের মুখে মুখে ছড়াচ্ছে গুজব, নানা থিয়োরির জন্ম হচ্ছে। প্রশাসনের ওপর আস্থা কমছে। এবং এই উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামবে তা এখনই কেউ জানে না।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কিংবা আন্তর্জাতিক মহলের চাপ—সব কিছু মিলিয়ে কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। সাধারণ নাগরিকেরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা ভয়ে দোকান খুলতে পারছেন না। স্কুল–কলেজ বন্ধ। পরিবহন পরিষেবা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতির দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই উত্তেজনা সামাল দিতে হলে দ্রুত সমাধান দরকার। আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের নজরও এখন কাঠমান্ডুর দিকে। একদিকে নাগরিকের বিক্ষোভ, অন্যদিকে প্রশাসনের অনিশ্চয়তা—এই দ্বন্দ্বের মধ্যে কবে শান্তি ফিরবে তা এখনো অনিশ্চিত।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন