Sample Video Widget

Seo Services

Wednesday, 10 September 2025

মাথাপিছু ১৫–২০ কোটি টাকায় ভোট বিক্রির অভিযোগ! উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবিরে ফাটল চওড়া

মাথাপিছু ১৫–২০ কোটি টাকায় ভোট বিক্রির অভিযোগ! উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবিরে ফাটল চওড়া

মাথাপিছু ১৫–২০ কোটি টাকায় ভোট বিক্রির অভিযোগ! উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবিরে ফাটল চওড়া, তদন্তের দাবিতে সরব কংগ্রেস

নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর: দেশের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটির পর বিরোধী শিবিরের ভেতরেই ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণনের পক্ষে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন I.N.D.I.A জোটের কিছু সাংসদ ভোট দিয়েছেন বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এই ঘটনায় তদন্তের দাবি তুলেছেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মণীশ তিওয়ারি। পাশাপাশি ভোট কেনার অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ভোটাভুটির ফলাফলে দেখা যায়, মোট ৭৮১ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৭৬৮ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫টি ভোট বাতিল হয়। বৈধ ভোটের মধ্যে রাধাকৃষ্ণন পেয়েছেন ৪৫২টি এবং বিরোধী শিবিরের প্রার্থী সুদর্শন রেড্ডি পেয়েছেন ৩০০টি ভোট। NDA-র সদস্য সংখ্যা ছিল ৪২৭ এবং I.N.D.I.A-র ছিল ৩২৪। YSR কংগ্রেসের ১১ জন সদস্য যদি NDA-র পক্ষে ভোট দিতেন, তাহলে রাধাকৃষ্ণনের প্রাপ্ত ভোট হওয়ার কথা ছিল ৪৩৮। কিন্তু তিনি ৪৫২ ভোট পেয়েছেন—অর্থাৎ বাড়তি ১৪টি ভোট পড়েছে তাঁর পক্ষে। কোন কারণে ১৫টি ভোট বাতিল হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি বলেছেন, “ক্রস ভোটিং হয়ে থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা দরকার। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। সত্যতা প্রমাণিত হলে তদন্ত হওয়া উচিত।”

তৃণমূলের লোকসভা দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিতর্কে আগুনে ঘি ঢেলে বলেছেন, “গোপন ব্যালটে ভোট হওয়ায় নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন কারা ক্রস ভোট দিয়েছে। তবে আমি কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। জানতে পেরেছি, ভোট কিনতে মাথাপিছু ১৫–২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, তাঁর দল রেড্ডির পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে তিনি এটাও বলেছেন, “বিজেপির পক্ষ থেকে আবারও চেষ্টা হয়েছে। তবে গোপন ভোটের কারণে সবটাই জল্পনা। হতে পারে বিরোধী শিবিরের কিছু ভোট বাতিল হয়েছে, কিন্তু ক্রস ভোটিং হয়েছে কিনা বলা কঠিন। তবুও ৫-৭ জন সাংসদ ক্রস ভোটিং করে থাকতে পারেন।”

অভিষেক আরও বলেন, কিছু দল বিশেষ করে রাজ্যসভায় এমন সাংসদ আছে যারা নিজেদের দল থেকে নির্বাচিত হলেও বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। আম আদমি পার্টির এক সদস্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “বিক্রি হন তাঁরাই যারা বিক্রি হতে চান।”

এদিকে মহারাষ্ট্র থেকেও ক্রস ভোটিংয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। শরদ পওয়ার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির দিকে আঙুল তোলা হলেও সুপ্রিয়া সুলে তা নস্যাৎ করেন। তিনি বলেন, “গোপনে ভোট হওয়ায় এটা কীভাবে জানা যাচ্ছে? ভোট কারা দিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। মহারাষ্ট্রকে বদনাম করা হচ্ছে।”

রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব জানান, তাঁদের সাংসদরা বিরোধী প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন এবং কোনো গোলমাল হয়নি। তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দলের সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ন্ত বলেন, “যাঁরা অবৈধ ভোট দিয়েছেন তাঁরা শিক্ষিত না আহাম্মক? বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন, নাকি ভোট বিক্রি করেছেন? এটা গুরুতর। বিজেপি বিশ্বাসঘাতকতার বীজ বপন করেছে। সব এজেন্সি তাদের দাসত্ব করছে। ব্ল্যাকমেলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিরোধীদের বিদ্রূপ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “INDI জোটের সাংসদদের ধন্যবাদ যারা বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে NDA প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণনকে ভোট দিয়েছেন। NDA ঐক্যবদ্ধ এবং দক্ষ নেতৃত্বের পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করছে।”

বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার পরও কীভাবে ক্রস ভোটিংয়ের ঘটনা সামনে আসছে এবং এর পেছনে কতটা অর্থের লেনদেন জড়িত থাকতে পারে। বিরোধী শিবিরের ঐক্য নিয়ে সন্দেহ, ভোট কেনার অভিযোগ এবং তদন্তের দাবি—এসব নিয়ে আগামী দিনগুলো আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog