ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর পদত্যাগ দাবি নিয়ে ফ্রান্স উত্তাল, গ্রেপ্তার অন্তত ২০০
আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ছবি: ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ চলছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত
বুধবার সকাল থেকেই ফ্রান্স উত্তাল। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে জনগণ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কারণ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেবাস্তিয়াঁ লুকোনুকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার পর থেকেই নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। লুকোনুর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনতা তাঁকে বিরোধিতা করেন। এর ফলে নানা স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়।
‘Bloquons Tout’ – অবরোধের ডাক
বিক্ষোভকারীরা “Bloquons Tout” অর্থাৎ “সব কিছু অবরোধ করে দিন” স্লোগান তুলে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁরা দাবি করেন, ম্যাক্রঁ পদত্যাগ করুন এবং দেশের জনগণের মতামতকে সম্মান দিন। নানা শহরে রাস্তা অবরোধ, গণপরিবহনে আগুন, ট্রেনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
গ্রেপ্তার অন্তত ২০০ জন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে শক্তি প্রয়োগ করে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ২০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্যারিসসহ অন্যান্য শহরে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায় ৮০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। প্যারিসেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার নিরাপত্তারক্ষী।
রাজনৈতিক পটভূমি
গত সোমবার আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাসোঁয়া বাইরু পদত্যাগ করেন। এর পর ম্যাক্রঁ তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেবাস্তিয়াঁ লুকোনুকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন। মাত্র ৩৯ বছর বয়সী লুকোনু গত দুই বছরের মধ্যে ফ্রান্সের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নিয়োগের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভের লক্ষ্য এবং জনগণের দাবি
বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জনস্বার্থ উপেক্ষা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ম্যাক্রঁ জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন এবং নতুন নেতৃত্ব চাই। তাঁরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। আন্দোলনের নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে এই বিক্ষোভ শুধু পদত্যাগ দাবির জন্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্যও।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রিটেইল্যু বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিদ্রোহের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।” তাঁর দাবি, এই আন্দোলন দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নাগরিকদের আইন মানতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ম্যাক্রঁর অবস্থান
বিক্ষোভের মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ স্পষ্ট করেছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। ২০২২ সালে ফের নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি ওঠে। তবে তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করতে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাঁর অবস্থান দৃঢ় রেখেছেন। ম্যাক্রঁ জানান, দেশের সমস্যা সমাধানে তিনি কাজ করবেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় অটল থাকবেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্সের এই পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতির নজর কেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন নেতা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থাগুলি শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান অশান্তি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ফ্রান্সের অর্থনীতি, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আমরা নজর রাখছি ফ্রান্সের রাজনৈতিক এই সংকটের প্রতিটি ধাপে। Y বাংলায় থাকুন, আপডেট জানুন।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন