পাক সেনার কনভয়ে তালিবানের হামলা: ১৯ সেনা নিহত, ৪৫ জঙ্গির মৃত্যু
আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবি: তালিবান হামলার পর পাকিস্তানের সেনা কনভয়ের পরিস্থিতি।
ঘটনার বিবরণ
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে তালিবানদের হামলায় অন্তত ১৯ সেনার মৃত্যু এবং ৪৫ জঙ্গির নিহত হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্রের দাবি, পাক সেনা গত ১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় এবং জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। শনিবার ভোরে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা চালায় তালিবানদের জঙ্গিরা। গুলি চালিয়ে অস্ত্র ও ড্রোন দখল করে নেয় তারা। এই ঘটনায় সেনাদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং কাতার এই হামলায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা পাকিস্তানের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে। আন্তর্জাতিক মহলে এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেনা অভিযান ও হতাহতের সংখ্যা
- দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলায় ১২ সেনার মৃত্যু ও ৪ জন আহত।
- লাওয়ার ডিরে সংঘর্ষে ৭ সেনা ও ১০ জঙ্গির নিহত হওয়ার খবর।
- খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় ৪৫ জঙ্গির মৃত্যু এবং ১৯ সেনার নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত।
তালিবানের দাবি
তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা সেনা অভিযানের জবাব দিতে এই হামলা চালিয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তালিবানদের সক্রিয়তা বেড়েই চলেছে। ২০২১ সালে আফগান তালিবানের ক্ষমতায় আসার পর এই ধরনের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকার আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যাতে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা না করা হয়।
আগের ঘটনা
এর আগে বালোচিস্তানের তুবর্ত অঞ্চলে সাত বছরের শিশুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ, ওই শিশু মানবাধিকার কর্মীর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছিল। পাশাপাশি, গত মার্চ মাসে বালোচ লিবারেশন আর্মি জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন অপহরণ করে প্রায় ৫০০ যাত্রীকে পণবন্দি করেছিল। এতে সেনাকর্মীসহ অনেকেই আটকে পড়েছিলেন। পাকিস্তানে বিদ্রোহী কার্যকলাপ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্লেষণ
এই হামলা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তালিবানদের সক্রিয়তা শুধু সীমান্তবর্তী অঞ্চলেই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সেনাদের মনোবল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।






















