অসমে তীব্র ভূমিকম্প: উত্তরবঙ্গসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল কেঁপে উঠল
আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫:৩০
ছবি: অসমে ভূমিকম্পের পরে আতঙ্কিত নাগরিকরা বাইরে বেরিয়ে আসছেন।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেভূমিকম্পের সময় ও মাত্রা
রবিবার বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে অসমে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৯। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল গুয়াহাটি ও তেজপুরের মাঝে ঢেকিয়াজুলি এলাকা। কম্পনটির কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে।
উত্তরবঙ্গসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আতঙ্ক
ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিংসহ বিভিন্ন জেলা কেঁপে ওঠে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। যদিও কম্পনের মাত্রা তুলনামূলক মাঝারি হলেও, দিনের আলোয় আচমকা ভূকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গেও কম্পনের অনুভূতি
ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া পর্যন্ত। যদিও এখানে কম্পনের মাত্রা তুলনায় অনেক কম ছিল, তবুও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন অফিস, স্কুল ও আবাসিক এলাকায় কম্পনের কারণে কিছু সময়ের জন্য আলো-ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতিবেশী দেশগুলিতেও প্রভাব
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট এবং নরসিংদী এলাকায় মৃদু কম্পনের অনুভূতি হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে। নেপালের কিছু পার্বত্য অঞ্চলে কম্পনের টের পাওয়া গেছে। ভুটানের কিছু এলাকা থেকেও কম্পনের খবর আসছে। যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা
- কোচবিহারের এক বাসিন্দা বলেন: "হঠাৎ করে সব কাঁপতে শুরু করল। আমরা ভয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম। যদিও কিছুক্ষণ পর আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যায়।"
- কলকাতার বেহালা এলাকার এক বাসিন্দা জানান: "প্রথমে বুঝতে পারিনি। তারপর আলো দুলতে শুরু করল। বাচ্চারা চিৎকার করতে শুরু করে। আমরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসি।"
- ঢাকার সিলেট অঞ্চলের একজন বলেন: "মৃদু ঝাঁকুনির মতো লেগেছিল। সবাই দরজা-জানালা খুলে বাইরে চলে আসে। বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও নেই।"
প্রাথমিক তথ্য ও প্রশাসনের সতর্কতা
রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। তবুও সকল নাগরিককে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় আফটারশকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
উত্তরবঙ্গের জেলা প্রশাসন এলাকায় জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত রেখেছে। মেডিকেল টিম এবং উদ্ধারকারী দল সতর্ক অবস্থায় আছে। পুলিশ প্রশাসন বাসিন্দাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
ভূমিকম্প কেন হয়?
ভূমিকম্প সাধারণত পৃথিবীর অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে হয়। ভারতীয় প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে ভূমিকম্প বেশি হয়। অসম, উত্তরবঙ্গ, নেপাল, ভুটান এই প্লেট সংযোগের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকটি ছোট কম্পনের সম্ভাবনা থাকে।
সরকারি নির্দেশিকা
- ভূমিকম্প অনুভূত হলে শান্ত থাকুন।
- বাড়ির নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন।
- লিফট ব্যবহার করবেন না।
- বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করুন।
- আফটারশকের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
বিশেষজ্ঞদের মত
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত সক্রিয়। অসম ও পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্প হওয়া নতুন নয়। তবে ৫.৯ মাত্রার এই কম্পন মাঝারি হলেও, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট। ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার প্রয়োজন।
আপনি কীভাবে সাহায্য করতে পারেন?
আপনি যদি ভূমিকম্পে আক্রান্ত এলাকায় থাকেন তবে প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুসরণ করুন। গুজব ছড়াবেন না। সামাজিক মাধ্যমে যাচাই না করা তথ্য শেয়ার করবেন না। যাদের সাহায্য দরকার তাদের পাশে দাঁড়ান।
আমাদের সঙ্গে থাকুন
ভূমিকম্প সংক্রান্ত সর্বশেষ খবর, নিরাপত্তা নির্দেশিকা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। আমরা আপনাকে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন