মালদা টাউনে রাজধানী এক্সপ্রেসের স্টপেজ: যাতায়াতের নতুন দিগন্ত খুলল উত্তরবঙ্গে
আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ১২:৩০
ছবি: মালদা টাউন স্টেশনে রাজধানী এক্সপ্রেসের স্টপেজের শুভারম্ভ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেমালদার রেল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
মালদা টাউন রেলস্টেশন দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এবার সেই স্টেশনের ইতিহাসে যুক্ত হলো আরও একটি মাইলফলক—সাইরাং (মিজোরাম) থেকে আনন্দ বিহার (নিউ দিল্লি)গামী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ। রবিবার মালদায় এই নতুন পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু সবুজ পতাকা নাড়িয়ে ট্রেনের শুভারম্ভ ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুরাতন মালদা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গোপালচন্দ্র সাহা, সমাজসেবী নীলাঞ্জন দাসসহ রেল বিভাগের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
রাজধানী এক্সপ্রেসের স্টপেজে মালদার গুরুত্ব
রাজধানী এক্সপ্রেস দেশের সবচেয়ে দ্রুতগামী এবং উন্নত পরিষেবার ট্রেনগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর স্টপেজ পাওয়া মানে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই নয়, পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় সহজ যোগাযোগ। আগে থেকেই মালদায় তেজস রাজধানী এক্সপ্রেসের স্টপেজ ছিল। এবার রাজধানী এক্সপ্রেস যুক্ত হওয়ায় মালদার যোগাযোগের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে। উত্তরবঙ্গের নাগরিকরা রাজধানী এক্সপ্রেসের মাধ্যমে দ্রুত দিল্লি ও অন্যান্য উত্তর ভারতের শহরে পৌঁছাতে পারবেন।
সাংসদ খগেন মুর্মুর প্রতিক্রিয়া
উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু এই পরিষেবাকে “মালদাবাসীর জন্য এক নতুন দিগন্ত” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “মালদাবাসী তথা উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য অত্যন্ত সুখবর এটি। এর ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এর জন্য বিশেষ ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। আমরা বর্তমানে দুটি রাজধানী এক্সপ্রেসের স্টপেজ পেয়েছি মালদায়।” তাঁর এই বক্তব্য মালদার নাগরিকদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করেছে।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুরাতন মালদার বিধায়ক গোপালচন্দ্র সাহা বলেন, “এই স্টপেজের মাধ্যমে মালদার সাধারণ মানুষ দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে আরও সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন। এটি উত্তরবঙ্গের জন্য বড় সুযোগ।” সমাজসেবী নীলাঞ্জন দাস আশা প্রকাশ করেন যে এই পরিষেবা মালদার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্যও সহায়ক হবে। রেল বিভাগের আধিকারিকরা জানান, স্টপেজ চালু হওয়ার পর মালদার যাতায়াত কাঠামো উন্নত হবে এবং নিরাপদ যাত্রার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আনন্দ
মালদার বাসিন্দারা এই নতুন স্টপেজকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দিল্লি ও অন্যান্য শহরের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়বে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজধানী এক্সপ্রেসের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি, উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য শহরে যাওয়া এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সুবিধা হবে। চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই পরিষেবা বড় ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা মনে করছেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী এক্সপ্রেসের স্টপেজ শুধু যাতায়াতের সুবিধা নয়, এটি মালদার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। পর্যটন বাড়লে স্থানীয় ব্যবসা যেমন হোটেল, পরিবহন, খুচরো ব্যবসায় উন্নতি হবে। উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প ও অন্যান্য পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে পারবে। রেল যোগাযোগ উন্নত হলে বিনিয়োগের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। ফলে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
নতুন যোগাযোগের পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকেও নজর
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, স্টপেজ চালুর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। উন্নত ট্র্যাক পর্যবেক্ষণ, যাত্রী পরিষেবা কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ, চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
উত্তরবঙ্গের জন্য এটি কেন বড় পদক্ষেপ
- রাজধানী এক্সপ্রেসের স্টপেজ মানে দ্রুত রাজধানীসহ অন্যান্য শহরের সঙ্গে যোগাযোগ।
- শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজ হবে।
- পর্যটনের উন্নয়ন হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
- স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
- উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেল পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে মালদায় যাত্রী পরিষেবা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো, অনলাইনে টিকিট পরিষেবা সহজ করা এবং রেলস্টেশনে বিশ্রামাগার, খাবারের দোকান, স্বাস্থ্য সহায়তা কেন্দ্র ইত্যাদি বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নজরদারি ক্যামেরা ও ট্রেন পরিচালনার আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা দরকার।
শেষ কথা
মালদা টাউনে রাজধানী এক্সপ্রেসের স্টপেজ চালু হওয়া উত্তরবঙ্গের জন্য এক বড় উন্নয়নের বার্তা। এটি শুধু যাতায়াত নয়, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিকদের সহযোগিতা, আধুনিক রেল পরিষেবা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে এই পরিষেবা উত্তরবঙ্গের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন