নদিয়ার কালীগঞ্জে তমন্না খাতুনের খুনের মামলায় ৩৪০ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দিল পুলিশ
Y বাংলা ব্যুরো: নদিয়ার কালীগঞ্জে তমন্না খাতুনের নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্তে পুলিশের হাতে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ঘটনার প্রায় ৮২ দিনের মাথায় শনিবার আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে ৩৪০ পৃষ্ঠার বিশদ চার্জশিট। তমন্নার পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার হতে দেরি হয়েছে। চার্জশিটে মূল অভিযুক্ত দয়াল শেখসহ মোট ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ছবি: তমন্না খাতুনের স্মরণসভায় পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
চার্জশিটে কারা?
চার্জশিটে মূল অভিযুক্ত হিসেবে দয়াল শেখের নাম উঠে এসেছে। পাশাপাশি আরও ৯ জনের নাম রয়েছে। তারা হলেন – আনোয়ার শেখ, আদর শেখ, কালু ওরফে সুখলাল শেখ, সরিফুল শেখ, নবাব শেখ, হাবিবুল ওরফে রহিবুল শেখ, বিমল ওরফে আরফান শেখ এবং আবুল কাশেম। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯০, ১৯১(২), ১৯১(৩), ১১৮(২), ১০৯, ১০৩, ৩০৫ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি
তমন্নার মা সাবিনা বিবি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে অভিযুক্তরা অনেক দিন ধরেই গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেক অভিযুক্ত মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাঁর এফআইআরে মোট ২৪ জনের নামে অভিযোগ থাকলেও পুলিশ সকলকে গ্রেপ্তার করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক যোগসূত্রের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মূল অভিযুক্ত দয়াল শেখ তৃণমূলের স্থানীয় বুথ কমিটির সভাপতি। তাঁর ভাই আদর ও আনোয়ার শেখও নাকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। স্থানীয়দের দাবি, তারা এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিল। এমন অভিযোগের ফলে তমন্নার পরিবার দ্রুত বিচার চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
গত ২৩ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর স্থানীয় তৃণমূল সমর্থকেরা এক মিছিল বের করে। অভিযোগ, সেই মিছিল থেকেই তমন্নাদের বাড়ির দিকে বোমা ছোড়া হয়। বোমার আঘাতে তমন্নার মৃত্যু ঘটে। ফলে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের মধ্যে পরিবার নিরাপত্তার অভাব নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পুলিশের অবস্থান
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। চার্জশিটের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের কাছে নিয়মিত আপডেট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।
পরিবারের দাবি কঠিন শাস্তির
তমন্নার পরিবার অভিযুক্তদের কঠিন শাস্তির দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, পুরো এলাকার নিরাপত্তাহীনতার প্রতীক। তাই দ্রুত বিচার এবং শাস্তি নিশ্চিত না হলে মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে বলে তারা মনে করছেন।
আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপ
চার্জশিট জমা হওয়ার পর আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে সাক্ষ্য, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী শুনানি এগোবে। নিহতের পরিবারের পক্ষে আইনজীবীরা দ্রুত বিচার চেয়ে আবেদন করবেন। পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেআপডেট তারিখ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন