দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে বন্ধুকে কুপিয়ে খুন: ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে ভয়ঙ্কর ঘটনা
Y বাংলা ডেস্ক: শুক্রবার দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে ঘটে গেল এক শিহরণ জাগানো খুনের ঘটনা। বন্ধু মনজিত যাদবকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করল রানা সিং। এই ঘটনায় গোটা এলাকা স্তম্ভিত। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন থেকেই এই পরিকল্পিত হামলার সূত্রপাত। পুলিশের হাতে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। কীভাবে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটল, কারা জড়িত, তদন্তে কী মিলল—এসব নিয়েই বিস্তারিত প্রতিবেদন।
ছবি: ঘটনাস্থল – দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশন
ঘটনার পটভূমি
শুক্রবার মনজিত যাদব পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনই কি মূল কারণ?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিউশন ব্যাচের এক বান্ধবীকে কেন্দ্র করেই দুই বন্ধুর মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। রানা সিংয়ের সঙ্গে ওই মেয়েটির ভালো সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। অন্যদিকে মনজিত যাদব নাকি সেই মেয়েটিকে কটূক্তি করেছিল। এই ঘটনা থেকেই দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, মনজিতের এই আচরণে গভীর ক্ষোভ জন্মায় রানার মধ্যে। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই রাগ থেকেই পরিকল্পিতভাবে মনজিতের উপর হামলার ছক কষেছিল রানা।
সিসিটিভি ফুটেজে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশের হাতে এসেছে একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ। ফুটেজে দেখা গেছে, মনজিত পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে একাধিকবার রানার সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়েছে। ঘটনাস্থলে হামলার আগে একাধিকবার তর্ক হয়েছে। তদন্তকারীরা সহপাঠীদের বয়ান, মোবাইল লোকেশন এবং ফুটেজ মিলিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি পূর্ব পরিকল্পিত হামলা।
গ্রেপ্তার রানা সিং
শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত রানা সিংকে হাওড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অনুমান, খুনের পর সে অন্য রাজ্যে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তবে সিসিটিভির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়। তার বাড়ি আলমবাজার এলাকায়।
নাবালক নয়, কঠোর শাস্তির দাবি
রানা সিংয়ের বয়স ১৮ হওয়ায় তাকে নাবালক হিসেবে দেখার দাবি ওঠে। কিন্তু মনজিতের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বয়সের কারণে অপরাধ যেন হালকাভাবে না দেখা হয়। কঠোর শাস্তির মাধ্যমে যেন বিচার নিশ্চিত করা হয়।” তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য
তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা সহপাঠীদের বয়ান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণ করছি। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দ্বন্দ্ব থেকেই এই হামলার সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তদন্ত চলমান।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত। বহু মানুষ বলছেন, “বন্ধুত্বের মতো সম্পর্কের মধ্যে এমন চরম সহিংসতা দেখিনি।” কেউ কেউ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে—সহপাঠীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেন আরও বিপজ্জনক দিকে না যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সম্পর্কের দ্বন্দ্ব দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং বাধ্যতামূলক করা দরকার। পাশাপাশি পারিবারিক সমর্থন ও স্কুলের নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।
আগামী পদক্ষেপ
- পুলিশ আরও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে।
- সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে।
- সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে।
- রানার উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনার খতিয়ান তুলে ধরা হবে আদালতে।
- মনজিতের পরিবারের দাবি অনুযায়ী কঠোর শাস্তির আবেদন করা হবে।
আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন