Sample Video Widget

Seo Services

Saturday, 13 September 2025

সোনারপুরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে সিপিএমের বিক্ষোভ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

সোনারপুরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে সিপিএমের বিক্ষোভ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

সোনারপুরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে সিপিএমের বিক্ষোভ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সোনারপুর থানায় বিক্ষোভ

ছবি: সোনারপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সিপিএম কর্মী ও সমর্থকেরা।

বিক্ষোভের পটভূমি

সোনারপুরে সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এলাকায় অপরাধের ঘটনা বাড়ছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে রাজনৈতিক সংগঠনগুলির মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শনিবার সন্ধ্যায় সিপিএমের উদ্যোগে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল করে থানার সামনে পৌঁছান এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি থানায় একটি দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়।

সিপিএমের বক্তব্য

বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন সিপিএমের স্থানীয় নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সোনারপুরে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অপরাধের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ নীরব দর্শক। প্রশাসনের এই উদাসীনতা মানা যায় না।” তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে যে, শুধু সাম্প্রতিক অপরাধ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

দাবিপত্রে কী বলা হয়েছে?

দাবিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এলাকায় অপরাধের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে। রাতের বেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, এবং থানায় অভিযোগ গ্রহণে দ্রুততার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের উদাসীনতা রোধে নিয়মিত নজরদারি এবং নাগরিকদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর দাবি তুলেছে দলটি।

“প্রশাসনের উদাসীনতা শুধু আইন ভঙ্গের সুযোগ তৈরি করছে না, সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার মনোভাব তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি সহ্য করা যাবে না।”

স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, নারী নিরাপত্তার অভাবসহ একাধিক অপরাধ বাড়ছে। বিশেষ করে রাতের সময় এলাকায় অন্ধকার ও নিরাপত্তার অভাবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ নিলেও কার্যকরী পদক্ষেপের অভাব, দ্রুত অভিযানের অভাব, এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে শিথিলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সিপিএমের অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা প্রায় নিষ্ক্রিয়। অপরাধ ঘটলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ জানানো হলেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া মিলছে না। এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতির অভাব এবং অভিযানের ধীরগতি মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

রাজনৈতিক বার্তা

এই বিক্ষোভ কেবল একটি প্রশাসনিক সমস্যার প্রতিবাদ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। স্থানীয় নাগরিকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের নিরাপত্তার দাবিকে সামনে এনে দলটি প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করতে চাইছে। পাশাপাশি জনমত সংগঠিত করতে এবং পুলিশের উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তীব্র করতে এই আন্দোলনকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি শুধু অপরাধ বৃদ্ধির কারণ নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিরাপত্তার অভাব মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনের উচিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা, কমিউনিটি পুলিশিং চালু করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে নাগরিকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা। রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিবাদ এই সমস্যাকে আলোচনার কেন্দ্রে আনতে সাহায্য করছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে থানার কর্মকর্তারা অভিযোগ ও দাবিপত্র গ্রহণ করেছেন। আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান শুরু হবে এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। প্রশাসনের কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ

সিপিএম নেতৃত্ব জানিয়েছেন, দাবিপত্র জমা দেওয়ার পর তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল স্তরে চাপ সৃষ্টি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

উপসংহার

সোনারপুরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগে সিপিএমের বিক্ষোভ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, এটি নাগরিক নিরাপত্তার দাবিকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা সরকারের কাছে সতর্কবার্তা। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নাগরিকরা তাঁদের নিরাপত্তার অধিকার নিয়ে সচেতন হচ্ছে এবং প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করছে।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট আজ, শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ তাঁর মালদা টাউন...

Search This Blog