Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Monday, 15 September 2025

যাদবপুর-আর জি কর ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু: নিস্তব্ধ শহর, সিলেক্টিভ প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্ন

যাদবপুর-আর জি কর ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু: নিস্তব্ধ শহর, সিলেক্টিভ প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্ন

যাদবপুর-আর জি কর ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু: নিস্তব্ধ শহর, সিলেক্টিভ প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার: শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে একের পর এক ট্র্যাজেডির পরও প্রতিবাদ নেই। নাগরিক সমাজের চোখে এটি প্রতিবাদের বাছাই করা রূপ। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি অনার্সের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডল রহস্যজনকভাবে মারা যান। শোক কাটতে না কাটতেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী অনিন্দিতা সোরেনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ পায়। নিহত অনিন্দিতার বাবা-মা খুনের অভিযোগ তোলেন এবং অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মালদহ মেডিক্যালের ছাত্র উজ্জ্বল সোরেনকে। এত বড় ঘটনা, তবুও শহরের রাস্তায় নেই কোনও শোকমিছিল, নেই প্রতিবাদ। নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন — প্রতিবাদ কি শুধু নির্বাচিত ঘটনায় হয়?

শহরে প্রতিবাদ নেই

শহরের রাস্তায় নেই প্রতিবাদ। দুই নামজাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রী মৃত্যুর পরও নিস্তব্ধতা।

নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া

শহরের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, প্রতিবাদীরা এখন বেছে বেছে প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের কথায়, “প্রতিবাদের নাম করে জনপ্রিয়তা বাড়ানোই যেন আসল উদ্দেশ্য ছিল। কাজ শেষ, স্পিকটি নট!” অনেকে বলছেন, গত বছর আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকেই এখন সিনেমা প্রমোশন বা ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত। নাগরিক সমাজের একাংশ হতবাক যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটেছে, সেখানে কোনও প্রতিবাদ নেই।

প্রতিবাদীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন

অভিনেত্রী সোহিনী সরকার এবং অভিনেতা কিঞ্জল নন্দ পুজোর আগে তাঁদের আসন্ন সিনেমার প্রমোশনে ব্যস্ত। অন্যদিকে, প্রাক্তন বাম নেতার কন্যা উষসী চক্রবর্তী সামাজিক মাধ্যমে ব্যস্ত রিল বানাতে। শ্রীলেখা মিত্র নিজের বিয়ের অ্যালবামের ছবি শেয়ার করলেও এই দুই ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় এক লাইনও লেখেননি। আসফাকুল্লা নাইয়া দুর্গাপুজোর আগে কাশফুলের মাঝে ঘুরে ভিডিও বানাচ্ছেন। এসব দেখে অনেকেই বলছেন, প্রতিবাদ শুধু আলোচনায় আসার মাধ্যম ছিল।

চিকিৎসক সমাজের নিস্তব্ধতা

চিকিৎসক সমাজের ক্ষেত্রেও একই দৃশ্য। ডা. সুবর্ণ গোস্বামী, ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. অনিকেত মাহাতো, ডা. দেবাশিস হালদার সহ বহু চিকিৎসক মুখ বন্ধ রেখেছেন। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে অনিন্দিতার সহপাঠীরা বলেছেন, “ওর জন্য একটি মোমবাতিও জ্বালানো হয়নি। কোনও শোকমিছিল হয়নি। প্রতিবাদের নামে রং দেখে ধিক্কার জানাই। কেন ওর জন্য ন্যায় চাইছে না সমাজ?”

রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা

রাজনৈতিক নেতৃত্বের আচরণও প্রশ্নের মুখে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়নে ক্ষমতায় থাকা বাম ছাত্র সংগঠনের নেতারা ছাত্রীর মৃত্যুর পর নীরব। বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় প্যালেস্টাইন নিয়ে বক্তব্য দিলেও যাদবপুর কিংবা আর জি কর নিয়ে একটিও মন্তব্য করেননি। একইভাবে দীপ্সিতা ধরও এই বিষয়ে নীরব। নাগরিক সমাজের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলে তাঁরা মুখ বন্ধ রেখেছেন।

প্রতিবাদের রাজনীতি: জনপ্রিয়তা নাকি ন্যায়বিচার?

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবাদের রাজনীতি জনপ্রিয়তা বাড়ানোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, প্রতিবাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসা। এখন যেখানে কাজ শেষ, সেখানে নীরবতা। নাগরিক সমাজের একাংশের মতে, প্রতিবাদীরা ন্যায়বিচারের দাবির চেয়ে নিজেদের ইমেজ নিয়ে বেশি ব্যস্ত। এতে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু আরও একবার ছায়ায় ঢাকা পড়ছে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ—এই দুটি নামজাদা প্রতিষ্ঠানেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা স্পষ্ট। নাগরিক সমাজের অনেকে বলছেন, শুধু শোক প্রকাশ করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনতে হবে। আন্দোলনের অভাব এই সমস্যাকে আরও গভীর করছে।

আমজনতার হতাশা

শহরের সাধারণ মানুষ হতাশ। তাঁদের মধ্যে অনেকে বলেছেন, “প্রতিবাদ শুধু সেলফির জন্য। আসল উদ্দেশ্য ছিল মিডিয়ায় আসা। এখন কেউ আর এগোচ্ছে না।” এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে নাগরিকরা আর প্রতিবাদের ভণ্ডামিতে বিশ্বাস রাখছেন না। তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া হোক।

উপসংহার

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় যে নীরবতা তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি সামাজিক সংকট নয়; এটি আমাদের প্রতিবাদ সংস্কৃতির গভীর রোগের লক্ষণ। জনপ্রিয়তা কেন্দ্রিক প্রতিবাদ, রাজনৈতিক হিসাব, এবং সামাজিক উদাসীনতা—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবি চাপা পড়ছে। নাগরিক সমাজের কাছে এটি এক সতর্কবার্তা—আমরা কাদের জন্য লড়ি, কেন লড়ি, এবং আমাদের প্রতিবাদ আদৌ কতটা অর্থবহ?

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ডালাসে ভারতীয় প্রৌঢ়ের খুনে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা – অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ডালাসে ভারতীয় প্রৌঢ়ের খুনে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা – অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ডালাসে ভারতীয় প্রৌঢ়ের খুনে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা – অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আমেরিকার ডালাসে এক হৃদয়বিদারক ও শিরদাঁড়া শীতল করা হত্যাকাণ্ড আলোড়ন ফেলেছে। ভারতীয় প্রৌঢ় চন্দ্র নাগামাল্লাইয়া, যিনি সেখানে একটি ছোট হোটেল পরিচালনা করতেন, তাঁকে প্রকাশ্য রাস্তায় নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রের সামনে মাথা কেটে নেওয়ার পর ছিন্ন মুণ্ডে লাথি মারতে মারতে অভিযুক্ত প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটতে থাকেন। এই ঘটনা শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র আলোড়ন তুলেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে ঘোষণা করেছেন।

ডালাসে ভারতীয় প্রৌঢ়ের খুনের দৃশ্য

ডালাসে চন্দ্র নাগামাল্লাইয়ার হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি

চন্দ্র নাগামাল্লাইয়া আমেরিকার ডালাস শহরে একটি ছোট হোটেল পরিচালনা করতেন। তাঁর সঙ্গে কর্মরত ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী কিউবার নাগরিক ইয়োরডানিস কোবোস-মার্টিনেজ়। জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর তাঁদের মধ্যে কোনো কারণে তীব্র বচসা বেঁধে যায়। সেই বচসার রেশ ধরে মার্টিনেজ় হঠাৎই চন্দ্র নাগামাল্লাইয়াকে আক্রমণ করেন। তাঁর মাথা ছিন্ন করে প্রকাশ্য রাস্তায় নিয়ে হাঁটেন এবং তা লাথি মারতে থাকেন। আশেপাশের মানুষ আতঙ্কে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

অভিযুক্তের পরিচয় ও অভিবাসন অবস্থা

তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত মার্টিনেজ় কিউবা থেকে আমেরিকায় প্রবেশ করেছিলেন। তাঁর কাছে বৈধ অভিবাসনের কাগজপত্র ছিল না। এর আগেও তিনি শিশু নির্যাতন, গাড়ি চুরি সহ একাধিক অপরাধে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তথাপি তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে পূর্ববর্তী প্রশাসন। ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “এই ব্যক্তি কখনও এখানে ঢুকতে পারার কথা ছিল না। তাঁর আগের অপরাধের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁকে আটকে রাখা যায়নি। কিউবাও তাঁকে চায় না।”

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যমে স্পষ্টভাবে লিখেছেন যে অবৈধ অভিবাসীদের প্রতি নরম হওয়ার দিন শেষ। তিনি বলেছেন, “আমেরিকাকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত করা হবে। এই খুনের অপরাধী আমাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” ট্রাম্প আরও বলেন, “আমার প্রশাসনের আধিকারিকেরা ভালো কাজ করছেন। আমেরিকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেব।” তাঁর বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, তিনি আগের প্রশাসনের শিথিলতা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমেরিকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এবং অপরাধীদের আটক না করতে পারার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ডালাসের ভারতীয় সম্প্রদায় এই হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস যোগাযোগ রেখেছে এবং তাঁদের সর্বাত্মক সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয় এবং বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। অনেকে অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করার দাবি তুলেছেন, আবার কেউ কেউ মানবাধিকার রক্ষায় নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতীয় সম্প্রদায়ের নেতারা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন।

আমেরিকার অভিবাসন নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অভিবাসন আইন কঠোর করার সুযোগ তৈরি করেছে। আগের প্রশাসনের শিথিল নীতির সমালোচনা করে ট্রাম্প কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অপরাধী অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কার এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যাচাই বাড়ানোর কথা বলতে পারেন। তাঁর সমর্থকরা ইতিমধ্যেই তাঁর কঠোর অবস্থানের প্রশংসা করছে। তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এর বিরোধিতা করছে। এই বিতর্ক আগামী নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিহতের পরিবার ও সম্প্রদায়ের শোক

চন্দ্র নাগামাল্লাইয়ার স্ত্রী এবং পুত্র এই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাঁদের সামনে এই নৃশংসতা ঘটায় তাঁদের গভীর শোক ও আতঙ্কে ভুগতে দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করছে। ডালাসের ভারতীয় সম্প্রদায় নিহতের স্মৃতিতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছে। এই হত্যাকাণ্ড তাঁদের মধ্যে এক গভীর নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে।

উপসংহার

ডালাসে চন্দ্র নাগামাল্লাইয়ার নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক গভীর সংকটের দিকে ইঙ্গিত করছে। ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য এই সংকট সমাধানে তাঁর দৃঢ়তা প্রকাশ করলেও তা নিয়ে মতভেদ থাকবেই। তবে একটাই নিশ্চিত — এই ঘটনা আমেরিকার অভিবাসন নীতির পুনর্মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ওম সাহানির অক্লান্ত পরিশ্রম – দেবের শাগরেদ থেকে নতুন উড়ান

ওম সাহানির অক্লান্ত পরিশ্রম – দেবের শাগরেদ থেকে নতুন উড়ান | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

ওম সাহানির অক্লান্ত পরিশ্রম – দেবের শাগরেদ থেকে নতুন উড়ান

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ওম সাহানির কঠোর পরিশ্রম

ওম সাহানি দুর্গাপুজো উপলক্ষে দুই ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কঠিন পরিশ্রম করছেন।

অবিরাম শ্রম আর আত্মনিবেদন

ছিপছিপে চেহারা, যেখানে বাড়তি মেদ নেই, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে পরিশ্রম করে প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন ওম সাহানি। তপ্ত অ্যাসবেসটসের ছাদে, গরম লোহার পাতের ওপর দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করেছেন তিনি। সহশিল্পীরাও এই তাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তবুও পিছু হটেননি তিনি।

দেবের সঙ্গে পর্দাভাগ

এই পুজোর আগে তিনি দেবের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রযোজক ও নায়কের সঙ্গে তাঁকে সর্বত্র দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি কারখানায় শ্রমিকের ভূমিকায় কাজ করছেন। ছেঁড়া জিন্স ও রুক্ষ চুলে কঠোর শ্রমের মধ্যে নিজেকে ঢেলে দিয়েছেন।

দুই ভিন্ন চরিত্রে অভিনয়

দেবের ছবির নাম ‘রঘু ডাকাত’। সেখানে ‘দুর্লভ রায়’ চরিত্রে অভিনয় করছেন ওম। পাশাপাশি, সলিলের ‘দুগ্গা’ ছবির আইটেম গানে নাচের দৃশ্যেও তাঁকে দেখা যাবে। একাধিক রূপ ধারণ করতে গিয়ে তাঁকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে।

প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকের জীবন

ভাদ্র মাসের রোদ, গরম ছাদ আর লোহার পাতের ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করা—এসবের মধ্যে অন্যরা অসুস্থ হলেও তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। তাঁর কথায়, দেবীর আশীর্বাদ পেয়েছেন বলেই এই কঠিন শ্রম করতে পেরেছেন।

দেবের নজরে ওম

‘নটী বিনোদিনী’ ছবিতে রুক্মিণী মৈত্রের প্রেমিকের ভূমিকায় অভিনয়ের পর দেব তাঁকে ফোন করেন। তাঁর অভিনয় দেবের নজরে আসে। সেই সুযোগে তিনি বড় পর্দায় নিজের দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হন।

নাচের প্রতি তাঁর অনুরাগ

‘গোত্র’ ছবির ‘রঙ্গবতী’ গানে তাঁর নাচ জনপ্রিয়তা পায়। দুর্গাপুজোর সময়ও সেই নাচ বাজে। আসন্ন ‘দুগ্গা’ ছবির আইটেম গানে নাচের সুযোগ পেয়ে তিনি তা গ্রহণ করেন। নৃত্য পরিচালকের নির্দেশে ঘাম ঝরিয়ে নেচেছেন।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন

নিজেকে ক্রমাগত ভাঙছেন বলে জানান তিনি। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় এবং আবার ছোটপর্দায় ফিরে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “ভাল, অন্য ধারার কাজ করে যাওয়াই আমার পাখির চোখ।” অন্য কিছু ভাবছেন না—নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করতে চান।

ভক্তদের জন্য বার্তা

দুর্গাপুজোর আগে তিনি দুই ভিন্ন রূপে দর্শকের সামনে আসবেন। তাঁর বিশ্বাস, তাঁর অভিনয় ও চলনবলন প্রমাণ করবে তাঁর শ্রম। তিনি দর্শকদের অনুরোধ করেছেন, সবটাই ছবিমুক্তির জন্য রেখে দিতে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

নেপালে আটকে তুফানগঞ্জের ২৫ শ্রমিক, পরিবারের উদ্বেগ চরমে ।

নেপালে আটকে তুফানগঞ্জের ২৫ শ্রমিক, পরিবারের উদ্বেগ চরমে | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

নেপালে আটকে তুফানগঞ্জের ২৫ শ্রমিক, পরিবারের উদ্বেগ চরমে

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

নেপালের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি: আটকে পড়া শ্রমিকদের দুর্দশা

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত প্রতিবেশী দেশ নেপালে আটকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের তুফানগঞ্জের নাটাবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ২৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক। নেপালের পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হওয়ায় তাঁদের কাজ বন্ধ, বাইরে বেরোনোর সুযোগ নেই এবং পর্যাপ্ত খাবারের সংকটের মুখে তাঁরা পড়েছেন। পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

কারা আটকে পড়েছেন?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাপাল মারা এবং বসপাড়া গ্রামের প্রায় ২৫ জন যুবক পেটের তাগিদে বহু বছর ধরে নেপালে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। এবছর দুর্গাপূজোর আগে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদে এবং চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে আটকে পড়েন। তাঁদের বেরোনোর পথ বন্ধ।

পরিবারের উদ্বেগ: ‘খাবার নেই, যোগাযোগ নেই’

তপশেল জমাদারের পরিবারের মতো অন্য পরিবারগুলিও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তাঁদের দাবি, “ছেলেরা বছরের পর বছর পরিশ্রম করে উপার্জন করে। হঠাৎ এই পরিস্থিতিতে তাঁদের কী হবে, কিছুই জানি না। যোগাযোগও বন্ধ। খাবার নেই। শুধু চাই সবাই সুস্থভাবে বাড়ি ফিরুক।” স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করার দাবি তুলেছেন।

নেপালে আটকে শ্রমিক

নেপালে আটকে থাকা তুফানগঞ্জের শ্রমিকদের দুরবস্থা দেখছে তাঁদের পরিবার

নেপালের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব

নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। প্রতিবাদ চলাকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং বাজারের অস্থিরতার ফলে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের কর্মস্থলে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়ি ফেরার সুযোগ নেই। তুফানগঞ্জের শ্রমিকরা এখন তাঁদের কর্মস্থলের মধ্যেই আটকে রয়েছেন।

সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন

শ্রমিকদের পরিবারগুলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, “আমাদের ছেলেরা দিনরাত পরিশ্রম করে। এই দুর্দিনে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো দরকার। নেপাল সরকারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে হবে।” স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর।

শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

শ্রমিকরা জানান, তাঁরা কাজ ছাড়া অন্য কোনও উপায়ে জীবিকা অর্জন করতে পারছেন না। বাইরে বেরোতে না পারায় বাজার থেকে খাবার কিনতেও পারছেন না। কারখানার মালিকপক্ষও কার্যত অচল। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাড়ির কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা জরুরি

এই ঘটনা শুধু তুফানগঞ্জের নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। তাঁরা বহু দূরে গিয়ে কাজ করেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তাঁদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

পরিবারের বার্তা: “তাড়াতাড়ি ফিরুক”

তুফানগঞ্জের নাটাবাড়ির গ্রামবাসীরা বলেছেন, “আমরা চাই আমাদের ছেলেরা সুস্থভাবে বাড়ি ফিরে আসুক। তাঁরা যেন নিরাপদে তাঁদের কাজ করতে পারেন। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।” পরিবারগুলোর চোখে শুধু আতঙ্ক নয়, অনিশ্চয়তা ও আশা মিলেমিশে রয়েছে।

মানবিক সহায়তার আহ্বান

স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, এই ধরনের সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানবিক বিপর্যয়। সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। খাদ্য, চিকিৎসা এবং যোগাযোগের ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক স্তরেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।

উদ্বিগ্ন পরিবার

শ্রমিকদের সুস্থ ফিরে আসার অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন পরিবার

শেষ কথা

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের জন্য দ্রুত মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তুফানগঞ্জের পরিবারগুলো চাইছে তাঁদের সন্তানরা যেন নিরাপদে ফিরে আসে। এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, শুধু সরকারের নয়, সমাজের সকলের সহযোগিতায়।


হ্যাশ ট্যাগ: `#নেপালে_আটকে_শ্রমিক #NepalCrisis #তুফানগঞ্জ #Tufanganj #পরিযায়ী_শ্রমিক #MigrantWorkers #মানবিক_সহায়তা #RefugeeSupport #শ্রমিক_নিরাপত্তা #LabourRights #WestBengal #বাংলার_খবর #EmergencyHelp #SocialJustice #HumanRights`

বাংলায় কথা বলায় নির্মাণ শ্রমিকের ওপর হামলা: উত্তর ২৪ পরগনায় আতঙ্ক

বাংলায় কথা বলায় নির্মাণ শ্রমিকের ওপর হামলা: উত্তর ২৪ পরগনায় আতঙ্ক | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

বাংলায় কথা বলায় নির্মাণ শ্রমিকের ওপর প্রাণঘাতী হামলা, সন্দেশখালিতে আতঙ্ক

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নির্মাণ শ্রমিকের ওপর হামলা

ছবি: বাংলায় কথা বলায় নির্মাণ শ্রমিক তপশেল জমাদারের ওপর হামলার ঘটনার পর গ্রামে ছড়িয়েছে শোক ও আতঙ্ক।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ঘটনার বিবরণ

বাংলায় কথা বলায় নির্মাণ শ্রমিক তপশেল জমাদারের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে টাটানগর স্টেশনে। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি ১ নং ব্লকের বয়েরমারি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তপশেল জমাদার কর্মসূত্রে ওড়িশায় যাচ্ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি গত পাঁচ বছর ধরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সাম্প্রতিককালে গ্রামে ফিরে আবার কাজে যাচ্ছিলেন।

বাংলায় কথা বলায় আঘাত

স্টেশনে নামার পর সহকর্মীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলছিলেন তপশেল। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকজন স্থানীয় যুবক তাঁদের ঘিরে ধরে হেনস্থা শুরু করে। তাঁরা বাংলায় কথা বলায় তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি করতে থাকে। তপশেল প্রতিবাদ করলে এক যুবক ধারালো অস্ত্র বার করে তাঁর গলায় কোপ দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।

গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে

ঘটনার পর গ্রামে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “আমাদের ছেলেরা কাজের খোঁজে বাইরে যায়। ভাষায় কথা বললেই এমন আক্রমণের শিকার হতে হয়—এটা খুব ভয়ঙ্কর।” তাঁরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। গ্রামে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

পরিবারের বক্তব্য

তপশেলের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, “বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। ভাষায় কথা বলার জন্য কটূক্তি আর প্রাণঘাতী হামলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটি বাংলাকে অপমান করা।” তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ন্যায়বিচার ও দ্রুত চিকিৎসা সাহায্য চেয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, তাঁদের ছেলের ওপর হামলার বিচার না হলে গ্রামে আরও অসন্তোষ ছড়াতে পারে।

প্রশাসনের ভূমিকা

ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে গ্রামবাসীরা মনে করছেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পুলিশ আহত শ্রমিকের পরিবারকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্টেশন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপদভাবে যাতায়াতের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

ভাষাগত বিদ্বেষ নিয়ে আলোচনা

ভাষাকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষ ও বিভাজন সমাজে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাজের খোঁজে বাইরে যাওয়া শ্রমিকরা ভাষার কারণে হামলার শিকার হলে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক শুভাশিস মুখার্জি বলেন, “ভাষা মানুষের পরিচয়ের অংশ। ভাষায় কথা বলায় আঘাত মানে মানুষের অস্তিত্বে আঘাত। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্পর্কের ওপর আঘাত।”

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন

তপশেলের পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ন্যায়বিচারের আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, আহত শ্রমিকের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার নিক এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিক। পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সমাজের কাছে বার্তা

ভাষাগত বিদ্বেষের মতো ঘটনায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে এই ধরনের হামলা রোধ করা সম্ভব। ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো এখন জরুরি। বাংলায় কথা বলার অপরাধে হামলার মতো ঘটনা সমাজে অসহিষ্ণুতার বার্তা দেয়। এটি মোকাবিলা করতে হলে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

উপসংহার

টাটানগরে বাংলায় কথা বলায় নির্মাণ শ্রমিকের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ভাষাগত বিদ্বেষের এক দৃষ্টান্ত। এটি কেবল ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ, সামাজিক সচেতনতা এবং ভাষার প্রতি সম্মান ছাড়া এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তপশেলের সুস্থতা কামনায় এবং ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে গোটা সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

হিন্দিভাষীদের উন্নয়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ: হিন্দি দিবসে শুভেচ্ছা ও উন্নয়নের রূপরেখা

হিন্দিভাষীদের উন্নয়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ: হিন্দি দিবসে শুভেচ্ছা ও উন্নয়নের রূপরেখা | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

হিন্দিভাষীদের উন্নয়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ: হিন্দি দিবসে শুভেচ্ছা ও উন্নয়নের রূপরেখা

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

হিন্দি দিবস পালন

ছবি: হিন্দি দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রকল্পে হিন্দিভাষীদের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টা।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

হিন্দি দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দি দিবসে তাঁর সরকারি সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সকল হিন্দিভাষী নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আজ হিন্দি দিবস। আমি আমার সকল হিন্দিভাষী ভাই-বোনকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। প্রতিবছরই আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে হিন্দি দিবস পালন করি। আমরা সব ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ভাষাগত ঐক্য, সহাবস্থান এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধার এক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উন্নয়নের পথে সমতা

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছেন যে, ২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যের হিন্দিভাষী নাগরিকদের উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভাষাগত বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষা, সরকারি সুযোগ এবং সামাজিক সুরক্ষায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, উন্নয়ন কোনও বিশেষ ভাষা বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সকলের জন্য।

হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি

রাজ্যের যেসব অঞ্চলে ১০ শতাংশের বেশি মানুষ হিন্দি ভাষায় কথা বলেন, সেখানে হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহার করার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্মে ভাষাগত অন্তর্ভুক্তির এই পদক্ষেপ নাগরিকদের জন্য পরিষেবা গ্রহণ সহজতর করেছে। বিভিন্ন সরকারি ফর্ম, নথি এবং সহায়তা পরিষেবায় হিন্দির ব্যবহার বেড়েছে। এতে বিশেষ করে শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের হিন্দিভাষী নাগরিকদের জন্য সুবিধা হয়েছে।

অন্য ভাষাগুলির স্বীকৃতি ও সমান গুরুত্ব

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র হিন্দি নয়, অন্যান্য ভাষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাঁওতালি, কুরুখ, কুরমালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরি, ওড়িয়া, পাঞ্জাবি, তেলুগু ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদরি ভাষার মানোন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ভাষাগত বৈচিত্র্যের মধ্যে সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ

শিক্ষাক্ষেত্রে হিন্দিভাষীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য। হাওড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়। বানারহাট এবং নকশালবাড়িতে হিন্দিমাধ্যম ডিগ্রি কলেজ তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন কলেজে হিন্দি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এখন হিন্দিতেও দেওয়া হচ্ছে। রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা হিন্দি ভাষায় মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারছেন।

হিন্দি শিক্ষার সুযোগ

ছবি: হিন্দিমাধ্যম কলেজ ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হিন্দিতে চালুর ফলে শিক্ষার্থীদের সুযোগ বেড়েছে।

সামাজিক সুরক্ষায় উদ্যোগ

অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত হিন্দিভাষী শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, আর্থিক সহায়তা এবং জরুরি অবস্থায় সরকারি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিকাঠামো উন্নয়ন: গঙ্গাসাগর মেলা সহ একাধিক প্রকল্প

গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে ওই অঞ্চলে উৎকৃষ্ট পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। হিন্দিভাষী এবং অন্যান্য অঞ্চলের তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে যাতায়াত, বিশ্রাম এবং চিকিৎসা পরিষেবা উন্নয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

ভাষার মাধ্যমে ঐক্য গড়ে তুলছে পশ্চিমবঙ্গ

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, ভাষাকে কেন্দ্র করে বিভেদ নয় বরং ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তুলতেই তাঁর প্রচেষ্টা। বিভিন্ন ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো এবং শিক্ষা, প্রশাসন ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সকল সম্প্রদায়কে এগিয়ে নেওয়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর মতে, ভাষার বৈচিত্র্য একটি সম্পদ, যা সমাজকে সমৃদ্ধ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

ভাষাবিদ ড. অরিন্দম চক্রবর্তী বলেন, “ভাষার বৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা সামাজিক অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য উদাহরণ। শিক্ষাক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবায় ভাষার ব্যবহার বাড়ানো একটি বড় অগ্রগতি।” একইভাবে সমাজবিদ ড. প্রিয়ঙ্কা সেন বলেন, “হিন্দিভাষী মানুষের উন্নয়নের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য কমানো সম্ভব। এই ধরনের প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহায্য করবে।”

উপসংহার

হিন্দি দিবসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন তা শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভাষাগত সমতা, শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা। সরকারি ভাষা হিসেবে হিন্দির ব্যবহার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি, পরীক্ষায় হিন্দির অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প—সব মিলিয়ে এটি এক উন্নয়নের মডেল। ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন নয়, বরং সকল সম্প্রদায়কে সমানভাবে উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা পশ্চিমবঙ্গকে আরও মানবিক এবং সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত করছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

অতিবৃষ্টিতে তিস্তার তাণ্ডব: উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভয়াবহ পরিস্থিতি | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

অতিবৃষ্টিতে তিস্তার তাণ্ডব: উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভয়াবহ পরিস্থিতি | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

অতিবৃষ্টিতে তিস্তার তাণ্ডব: উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভয়াবহ পরিস্থিতি

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

তিস্তা নদীতে বন্যা

ছবি: তিস্তা নদীর উপচে পড়া জল, আলিপুরদুয়ার-ফালাকাটা জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে পড়েছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ধ্বংসস্তূপে সিকিমের পশ্চিমাঞ্চল

সিকিমের পশ্চিমাঞ্চলে লাগাতার ভারী বৃষ্টির ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গ্যালশিং জেলার লুনজিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পাহাড় ধসে একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ধসে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি চারটি গবাদি পশুও মারা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কা এখনও প্রবল। বাসিন্দারা আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

তিস্তার জলস্তর বৃদ্ধি ও ডুয়ার্সে বিপর্যয়

ভুটানের পাহাড়ি অঞ্চলে লাগাতার বৃষ্টির ফলে তিস্তা নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়েছে। পাশাপাশি ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর প্রবল বর্ষণে নদী-নালা উপচে পড়েছে। আলিপুরদুয়ারের শীলবাড়ি হাট এলাকার সঞ্জয় নদী ফুলে ফেঁপে উঠে আশপাশের গ্রামগুলোতে জল ঢুকে পড়েছে। বন্যার জলে ভেসে গেছে অস্থায়ী ডাইভার্সন। ফলে আলিপুরদুয়ার থেকে ফালাকাটার জাতীয় সড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

ডুবে যাওয়া জাতীয় সড়ক

ছবি: জাতীয় সড়ক ডুবে যাওয়ায় পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা: রাতভর অন্ধকারে গ্রামগুলো

প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের কারণে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। আলিপুরদুয়ার জেলার অনেক গ্রামে রাতভর অন্ধকারে থাকতে হয়েছে বাসিন্দাদের। তবে জেলা বিদ্যুৎ দফতরের তৎপরতায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরও খুঁটি পরীক্ষা করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। আলিপুরদুয়ার থেকে ফালাকাটা যাওয়ার জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে অনেককেই কোচবিহার ঘুরে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। ফালাকাটা থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরের শীলবাড়ি হাট পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে অনেক শিক্ষার্থী ভোরেই বের হলেও, যাতায়াতের দুর্ভোগ তাঁদের আরও ক্লান্ত করেছে।

আর যারা একটু দেরিতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা আরও শোচনীয়। অসমাপ্ত সেতুর লোহার রড ধরে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে তাঁদের। শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত, ক্লান্ত এবং হতাশ। তাঁদের অনেকে পরীক্ষায় দেরিতে পৌঁছেছেন এবং কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরীক্ষার্থীরা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই সড়ক ও সেতুর কাজ অবহেলিত। বর্ষায় এই সমস্যাগুলি প্রকট হয়ে ওঠে। প্রতিবারই বৃষ্টির সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অথচ স্থায়ী সমাধান হয় না। বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা বিমল সরকার বলেন, “আমরা বারবার বলেছি এই রাস্তাটা ঠিক করার জন্য। কিন্তু কেউ শুনছে না। পরীক্ষার্থীরা যেন প্রাণ হাতে নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কাজ শেষ করা।”

প্রশাসনের বক্তব্য

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে। জাতীয় সড়কের বিকল্প রুট খোঁজা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা করার কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে তাঁরা স্বীকার করেছেন, অসমাপ্ত সেতুর কারণে দুর্ভোগ বাড়ছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ধস ও নদীর জলস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাগরিকদের সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় বহু এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. তাপস ঘোষ বলেন, “পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টির ফলে ভূমিধস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। নদী পাড়ে বসবাসকারী গ্রামগুলির জন্য এটি বড় বিপদ। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিবেশের প্রতি সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।”

আমরা কী করতে পারি?

  • পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
  • অসমাপ্ত সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা।
  • ধসপ্রবণ এলাকায় সতর্কতা ও দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা তৈরি করা।
  • বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে জরুরি দল গঠন করা।
  • নিয়মিত নদী ও পাহাড় পর্যবেক্ষণ করে দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা করা।

উপসংহার

অতিবৃষ্টির ফলে তিস্তা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, ধস, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে এবং প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

জন্মদিনে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সেনাকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের জয়

জন্মদিনে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সেনাকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের জয়

জন্মদিনে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সেনাকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের জয়

নবীন পাল, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০৫ am

পহেলগামের ঘটনার পর কেন ভারত ফের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলছে সেই প্রশ্ন বারবার উঠছিল। BCCI স্পষ্ট জানিয়েছিল, ICC ও ACC-র নিয়ম অনুযায়ী তারা ইভেন্ট বয়কট করতে পারে না। ফলে ভারত নিয়ম মেনে মাঠে নেমেছে এবং সফল হয়েছে। ম্যাচ জেতার পর অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তাঁর বক্তব্যে পহেলগামে জঙ্গি হামলায় নিহতদের কথা স্মরণ করেন।

সূর্যকুমার যাদব পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে
সূর্যকুমার যাদব পহেলগামের হামলায় নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সূর্য বলেন, “আমি কিছু বলতে চাইছি, বলার জন্য এটা সেরা মুহূর্ত। আমরা পহেলগামে জঙ্গি হামলায় নিহতদের পাশে আছি। তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। এই জয় দেশের সেনাবাহিনীকে উৎসর্গ করছি। আশা করি সেনাবাহিনী আমাদের আরও অনুপ্রেরণা দেবে।”

ম্যাচটি সূর্যের কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে। কারণ ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ ম্যাচের দিনই তাঁর জন্মদিন। অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দলকে নেতৃত্ব দিলেন এবং জয় পেলেন। দর্শকরা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালে তিনি বলেন, “দারুণ অনুভূতি এবং এটা জন্মদিনের দারুণ উপহার।”

BCCI ম্যাচ শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় পহেলগামে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার কথা জানায় এবং দলের একটি ছবি পোস্ট করে।

সূর্য আরও বলেন, “সবসময় জিততে চাই। যখন জিতি, সেটা অসাধারণ অনুভূতি। আমি সবসময় বক্স টিক করতে চেয়েছি এবং ম্যাচ শেষ করতে চেয়েছি—আজ সেটা করতে পেরেছি। পাকিস্তানকে অন্য যে কোনো প্রতিপক্ষের মতোই প্রস্তুতি নিয়ে খেলেছি। চ্যাম্পিয়ন দল যেমন খেলে, তেমন খেলেছি।”

এই ম্যাচে পাকিস্তানকে মাত্র ১২৭ রানে আটকে দেয় ভারত। স্পিনার কুলদীপের তিন এবং অক্ষরের এক উইকেটের দাপটে মাঝের ওভারে ম্যাচ নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয় ভারত। সূর্য বলেন, “আমি স্পিনের বড় ভক্ত, কারণ ওরা মাঝের সময়ে নিয়ন্ত্রণ আনে।”

ম্যাচের সেরা কুলদীপ বলেন, “পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছি। প্রথম বলে উইকেট নেয়ার পরিকল্পনা ছিল, সেটা সফল হয়েছে। তবে আরও উন্নতি করতে হবে।”

ভারতের পরবর্তী ম্যাচ ওমানের বিরুদ্ধে ১৯ সেপ্টেম্বর খেলা হবে।

সোশ্যাল শেয়ার করুন:
Facebook | Twitter | LinkedIn

📌 তথ্যবক্স

  • ম্যাচের তারিখ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • অধিনায়ক: সূর্যকুমার যাদব
  • বিশেষ দিন: সূর্যের জন্মদিন
  • ম্যাচ ফলাফল: ভারত জয়ী
  • সেরা খেলোয়াড়: কুলদীপ
  • পহেলগাম হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে
  • জয় সেনাবাহিনীকে উৎসর্গ

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসাম সফর: শিবভক্তির দাবি, কংগ্রেসকে আক্রমণ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসাম সফর: শিবভক্তির দাবি, কংগ্রেসকে আক্রমণ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি | Y বাংলা নিউজ

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসাম সফর: শিবভক্তির দাবি, কংগ্রেসকে আক্রমণ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার আসাম সফরে গিয়ে নিজের ভগবান শিবের ভক্ত হওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি তিনি বিরোধী দল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন এবং আসামের উন্নয়নের জন্য বড় বড় প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তাঁর ভাষণে উঠে আসে জনসাধারণের প্রতি তাঁর আস্থা, রাজনৈতিক আক্রমণ এবং উন্নয়নের লক্ষ্য। আসুন বিস্তারিতভাবে এই সফরের সব দিক তুলে ধরি।

শিবভক্তির দাবি ও বিরোধীদের কটাক্ষ

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “কেউ আমাকে যতই গালি দিক না কেন, আমি সমস্ত বিষ গিলে ফেলি।” তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্টভাবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। তিনি জানান, “আমার রিমোট কন্ট্রোল কেবল দেশের ১৪০ কোটি মানুষের। তারাই আমার প্রভু।” মোদী বলেন, বিরোধীরা তাঁকে আক্রমণ করলেও তিনি জনসাধারণের জন্য কাজ করে যাবেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং আসামের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।

ভূপেন হাজারিকাকে অপমানের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী মোদী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে তারা আসামের মহান শিল্পী ভূপেন হাজারিকাকে অপমান করেছে। তিনি বলেন, বিজেপির সরকার আসামের ঐতিহ্যবাহী ব্যক্তিত্বদের সম্মান দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর ভাষণে তিনি দাবি করেন, আসামের উন্নয়ন এবং সংস্কৃতি রক্ষায় বিজেপির সরকার কাজ করছে।

জনসাধারণই ঈশ্বর – মোদীর বক্তব্য

মোদী বলেন, “আমার কাছে, জনসাধারণই আমার ঈশ্বর। আমার আত্মা যদি ঈশ্বরের কাছে পৌঁছার পর তাঁর কণ্ঠস্বর প্রকাশ করতে না পারে, তাহলে অন্য কোথায় তা প্রকাশ করবে?” তিনি বলেন, তাঁর কাছে কোনো রিমোট কন্ট্রোল নেই, কেবল দেশের জনগণই তাঁর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। এই বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।

আসামের উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

প্রধানমন্ত্রী মোদী দারাং অঞ্চলে ৬,৩০০ কোটি টাকার স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পাশাপাশি গুয়াহাটি রিং রোড প্রকল্পের কাজের সূচনা করেন। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে আসামের যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হবে বলে জানানো হয়।

অপারেশন সিঁদুরের পর প্রথম আসাম সফর

তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুরের পর এটি আমার প্রথম আসাম সফর।” তাঁর ভাষণে উঠে আসে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের মধ্যকার সমন্বয়। মোদী জানান, আসামের মানুষ দেশের উন্নয়নের অংশীদার এবং বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার তাদের পাশে আছে।

ইন্ডিয়া জোটের বিরোধিতা

মোদী উল্লেখ করেন যে বিহারের দ্বারভাঙ্গায় ভোটার অধিকার যাত্রার সময় তাঁকে এবং তাঁর মাকে কটূক্তি করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর বিজেপি একটি FIR দায়ের করে। মোদী এটিকে বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সাধারণ মানুষ এই ধরনের আচরণ প্রত্যাখ্যান করবে।

আসামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা

তিনি বলেন, “ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল দেশ এবং আসাম তার মধ্যে অন্যতম। একসময় উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে লড়াই করলেও আজ আসামের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে।” এই সাফল্যের জন্য তিনি আসামের জনগণ ও বিজেপির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

রাজনৈতিক বার্তা ও জনআস্থা

মোদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আসামের উন্নয়ন কেবল সরকারের পরিকল্পনা নয়, বরং জনসাধারণের কঠোর পরিশ্রম ও বিশ্বাসের ফল। তিনি বলেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আসামের উন্নয়নে জনগণের সমর্থন বাড়ছে। আসামের জনগণ উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে এগিয়ে এসেছে।

বাংলা, রাজনীতি ও জাতীয় উন্নয়নের সমন্বয়

মোদীর ভাষণে উঠে আসে উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার গুরুত্ব। তিনি জানান, বিজেপির লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জন এবং আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো। এই সফর আসামের পাশাপাশি পূর্ব ভারতের উন্নয়নে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে।

উপসংহার

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসাম সফর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিবভক্তির কথা বলে তিনি বিরোধীদের কটাক্ষ করেন এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসামের জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আসামের উন্নয়নের এই রূপরেখা দেশের পূর্বাঞ্চলে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

এই সফর কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং উন্নয়ন, সংস্কৃতি এবং জনআস্থার এক সমন্বিত প্রচেষ্টা। আসামের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মোদীর এই সফর গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Sunday, 14 September 2025

এসএসসির দ্বিতীয় দফায় ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীর ঢল | দীনেশের বক্তব্য

এসএসসির দ্বিতীয় দফায় ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীর ঢল | দীনেশের বক্তব্য

এসএসসির দ্বিতীয় দফায় ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীর ঢল, বেকারত্ব নিয়ে দীনেশের ক্ষোভ

এসএসসির দ্বিতীয় দফায় রবিবার একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে নবম-দশমের পরীক্ষার দিনও ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের কার্যত ঢল নেমেছিল বাংলায়। কলকাতা থেকে জেলা— পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিহার, উত্তরপ্রদেশের পরীক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আজও সেই একই দৃশ্য। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, দিল্লি থেকে বহু পরীক্ষার্থী এসেছেন।

ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীর ভিড়
পরীক্ষাকেন্দ্রে ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের ভিড় – প্রতীকী ছবি

উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ থেকে আসা দীনেশকুমার পাল জানিয়েছেন, পিএইচডি, এমফিল করার পরেও চাকরি নেই। যখন যেখানে চাকরির পরীক্ষার খবর শুনেছেন, ছুটে গেছেন। তাঁর সিট পড়েছে যাদবপুর বিদ্যাপীঠে।

“গোটা দেশ ধর্ম নিয়ে মেতে আছে। বেকারত্ব নিয়ে কারও কোনও মাথাব্যথা নেই। ৪-৫ হাজার টাকার চাকরি হাতে গুঁজে দিয়ে ঢোল পিটিয়ে বলছে, কত চাকরি হয়েছে। শিক্ষিত লোকজন বেকার, অথচ বেআইনি পথে চাকরি হয়ে যাচ্ছে। গোটা দেশের ছবিটাই এক।” – দীনেশ

তিনি আরও বলেন, “যে রাজ্যেই যান, ছবি এক। তবে উত্তরপ্রদেশের অবস্থা খুবই খারাপ। ২০১৮ সালের পরে কোনো নিয়োগ নেই। এত বড় রাজ্য আমাদের উত্তরপ্রদেশ। সেখানে ২-৩ হাজার শূন্য পদে কী হবে? তাই আমরা পিএইচডি করে নেট কোয়ালিফাই করে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরছি। গোটা দেশে ঘুরছি চাকরির জন্য।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর ১০ শতাংশই ছিলেন ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থী। বেকারত্বের এই চাপ যে কত গভীর, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে দীনেশের বক্তব্যে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Featured post

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট আজ, শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ তাঁর মালদা টাউন...

Search This Blog