Sample Video Widget

Seo Services

Monday, 15 September 2025

অতিবৃষ্টিতে তিস্তার তাণ্ডব: উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভয়াবহ পরিস্থিতি | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

অতিবৃষ্টিতে তিস্তার তাণ্ডব: উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভয়াবহ পরিস্থিতি | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

অতিবৃষ্টিতে তিস্তার তাণ্ডব: উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভয়াবহ পরিস্থিতি

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

তিস্তা নদীতে বন্যা

ছবি: তিস্তা নদীর উপচে পড়া জল, আলিপুরদুয়ার-ফালাকাটা জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে পড়েছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ধ্বংসস্তূপে সিকিমের পশ্চিমাঞ্চল

সিকিমের পশ্চিমাঞ্চলে লাগাতার ভারী বৃষ্টির ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গ্যালশিং জেলার লুনজিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পাহাড় ধসে একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ধসে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি চারটি গবাদি পশুও মারা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কা এখনও প্রবল। বাসিন্দারা আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

তিস্তার জলস্তর বৃদ্ধি ও ডুয়ার্সে বিপর্যয়

ভুটানের পাহাড়ি অঞ্চলে লাগাতার বৃষ্টির ফলে তিস্তা নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়েছে। পাশাপাশি ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর প্রবল বর্ষণে নদী-নালা উপচে পড়েছে। আলিপুরদুয়ারের শীলবাড়ি হাট এলাকার সঞ্জয় নদী ফুলে ফেঁপে উঠে আশপাশের গ্রামগুলোতে জল ঢুকে পড়েছে। বন্যার জলে ভেসে গেছে অস্থায়ী ডাইভার্সন। ফলে আলিপুরদুয়ার থেকে ফালাকাটার জাতীয় সড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

ডুবে যাওয়া জাতীয় সড়ক

ছবি: জাতীয় সড়ক ডুবে যাওয়ায় পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা: রাতভর অন্ধকারে গ্রামগুলো

প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের কারণে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। আলিপুরদুয়ার জেলার অনেক গ্রামে রাতভর অন্ধকারে থাকতে হয়েছে বাসিন্দাদের। তবে জেলা বিদ্যুৎ দফতরের তৎপরতায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরও খুঁটি পরীক্ষা করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। আলিপুরদুয়ার থেকে ফালাকাটা যাওয়ার জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে অনেককেই কোচবিহার ঘুরে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। ফালাকাটা থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরের শীলবাড়ি হাট পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে অনেক শিক্ষার্থী ভোরেই বের হলেও, যাতায়াতের দুর্ভোগ তাঁদের আরও ক্লান্ত করেছে।

আর যারা একটু দেরিতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা আরও শোচনীয়। অসমাপ্ত সেতুর লোহার রড ধরে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে তাঁদের। শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত, ক্লান্ত এবং হতাশ। তাঁদের অনেকে পরীক্ষায় দেরিতে পৌঁছেছেন এবং কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরীক্ষার্থীরা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই সড়ক ও সেতুর কাজ অবহেলিত। বর্ষায় এই সমস্যাগুলি প্রকট হয়ে ওঠে। প্রতিবারই বৃষ্টির সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অথচ স্থায়ী সমাধান হয় না। বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা বিমল সরকার বলেন, “আমরা বারবার বলেছি এই রাস্তাটা ঠিক করার জন্য। কিন্তু কেউ শুনছে না। পরীক্ষার্থীরা যেন প্রাণ হাতে নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কাজ শেষ করা।”

প্রশাসনের বক্তব্য

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে। জাতীয় সড়কের বিকল্প রুট খোঁজা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা করার কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে তাঁরা স্বীকার করেছেন, অসমাপ্ত সেতুর কারণে দুর্ভোগ বাড়ছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ধস ও নদীর জলস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাগরিকদের সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় বহু এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. তাপস ঘোষ বলেন, “পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টির ফলে ভূমিধস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। নদী পাড়ে বসবাসকারী গ্রামগুলির জন্য এটি বড় বিপদ। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিবেশের প্রতি সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।”

আমরা কী করতে পারি?

  • পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
  • অসমাপ্ত সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা।
  • ধসপ্রবণ এলাকায় সতর্কতা ও দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা তৈরি করা।
  • বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে জরুরি দল গঠন করা।
  • নিয়মিত নদী ও পাহাড় পর্যবেক্ষণ করে দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা করা।

উপসংহার

অতিবৃষ্টির ফলে তিস্তা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, ধস, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে এবং প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট আজ, শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ তাঁর মালদা টাউন...

Search This Blog