হিন্দিভাষীদের উন্নয়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ: হিন্দি দিবসে শুভেচ্ছা ও উন্নয়নের রূপরেখা
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবি: হিন্দি দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রকল্পে হিন্দিভাষীদের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টা।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেহিন্দি দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দি দিবসে তাঁর সরকারি সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সকল হিন্দিভাষী নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আজ হিন্দি দিবস। আমি আমার সকল হিন্দিভাষী ভাই-বোনকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। প্রতিবছরই আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে হিন্দি দিবস পালন করি। আমরা সব ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ভাষাগত ঐক্য, সহাবস্থান এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধার এক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উন্নয়নের পথে সমতা
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছেন যে, ২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যের হিন্দিভাষী নাগরিকদের উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভাষাগত বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষা, সরকারি সুযোগ এবং সামাজিক সুরক্ষায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, উন্নয়ন কোনও বিশেষ ভাষা বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সকলের জন্য।
হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি
রাজ্যের যেসব অঞ্চলে ১০ শতাংশের বেশি মানুষ হিন্দি ভাষায় কথা বলেন, সেখানে হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহার করার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্মে ভাষাগত অন্তর্ভুক্তির এই পদক্ষেপ নাগরিকদের জন্য পরিষেবা গ্রহণ সহজতর করেছে। বিভিন্ন সরকারি ফর্ম, নথি এবং সহায়তা পরিষেবায় হিন্দির ব্যবহার বেড়েছে। এতে বিশেষ করে শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের হিন্দিভাষী নাগরিকদের জন্য সুবিধা হয়েছে।
অন্য ভাষাগুলির স্বীকৃতি ও সমান গুরুত্ব
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র হিন্দি নয়, অন্যান্য ভাষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাঁওতালি, কুরুখ, কুরমালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরি, ওড়িয়া, পাঞ্জাবি, তেলুগু ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদরি ভাষার মানোন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ভাষাগত বৈচিত্র্যের মধ্যে সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ
শিক্ষাক্ষেত্রে হিন্দিভাষীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য। হাওড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়। বানারহাট এবং নকশালবাড়িতে হিন্দিমাধ্যম ডিগ্রি কলেজ তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন কলেজে হিন্দি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এখন হিন্দিতেও দেওয়া হচ্ছে। রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা হিন্দি ভাষায় মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারছেন।
ছবি: হিন্দিমাধ্যম কলেজ ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হিন্দিতে চালুর ফলে শিক্ষার্থীদের সুযোগ বেড়েছে।
সামাজিক সুরক্ষায় উদ্যোগ
অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত হিন্দিভাষী শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, আর্থিক সহায়তা এবং জরুরি অবস্থায় সরকারি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিকাঠামো উন্নয়ন: গঙ্গাসাগর মেলা সহ একাধিক প্রকল্প
গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে ওই অঞ্চলে উৎকৃষ্ট পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। হিন্দিভাষী এবং অন্যান্য অঞ্চলের তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে যাতায়াত, বিশ্রাম এবং চিকিৎসা পরিষেবা উন্নয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
ভাষার মাধ্যমে ঐক্য গড়ে তুলছে পশ্চিমবঙ্গ
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, ভাষাকে কেন্দ্র করে বিভেদ নয় বরং ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তুলতেই তাঁর প্রচেষ্টা। বিভিন্ন ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো এবং শিক্ষা, প্রশাসন ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সকল সম্প্রদায়কে এগিয়ে নেওয়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর মতে, ভাষার বৈচিত্র্য একটি সম্পদ, যা সমাজকে সমৃদ্ধ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ভাষাবিদ ড. অরিন্দম চক্রবর্তী বলেন, “ভাষার বৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা সামাজিক অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য উদাহরণ। শিক্ষাক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবায় ভাষার ব্যবহার বাড়ানো একটি বড় অগ্রগতি।” একইভাবে সমাজবিদ ড. প্রিয়ঙ্কা সেন বলেন, “হিন্দিভাষী মানুষের উন্নয়নের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য কমানো সম্ভব। এই ধরনের প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহায্য করবে।”
উপসংহার
হিন্দি দিবসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন তা শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভাষাগত সমতা, শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা। সরকারি ভাষা হিসেবে হিন্দির ব্যবহার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি, পরীক্ষায় হিন্দির অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প—সব মিলিয়ে এটি এক উন্নয়নের মডেল। ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন নয়, বরং সকল সম্প্রদায়কে সমানভাবে উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা পশ্চিমবঙ্গকে আরও মানবিক এবং সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত করছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন