বাংলায় কথা বলায় নির্মাণ শ্রমিকের ওপর প্রাণঘাতী হামলা, সন্দেশখালিতে আতঙ্ক
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবি: বাংলায় কথা বলায় নির্মাণ শ্রমিক তপশেল জমাদারের ওপর হামলার ঘটনার পর গ্রামে ছড়িয়েছে শোক ও আতঙ্ক।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেঘটনার বিবরণ
বাংলায় কথা বলায় নির্মাণ শ্রমিক তপশেল জমাদারের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে টাটানগর স্টেশনে। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি ১ নং ব্লকের বয়েরমারি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তপশেল জমাদার কর্মসূত্রে ওড়িশায় যাচ্ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি গত পাঁচ বছর ধরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সাম্প্রতিককালে গ্রামে ফিরে আবার কাজে যাচ্ছিলেন।
বাংলায় কথা বলায় আঘাত
স্টেশনে নামার পর সহকর্মীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলছিলেন তপশেল। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকজন স্থানীয় যুবক তাঁদের ঘিরে ধরে হেনস্থা শুরু করে। তাঁরা বাংলায় কথা বলায় তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি করতে থাকে। তপশেল প্রতিবাদ করলে এক যুবক ধারালো অস্ত্র বার করে তাঁর গলায় কোপ দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।
গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে
ঘটনার পর গ্রামে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “আমাদের ছেলেরা কাজের খোঁজে বাইরে যায়। ভাষায় কথা বললেই এমন আক্রমণের শিকার হতে হয়—এটা খুব ভয়ঙ্কর।” তাঁরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। গ্রামে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
পরিবারের বক্তব্য
তপশেলের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, “বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। ভাষায় কথা বলার জন্য কটূক্তি আর প্রাণঘাতী হামলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটি বাংলাকে অপমান করা।” তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ন্যায়বিচার ও দ্রুত চিকিৎসা সাহায্য চেয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, তাঁদের ছেলের ওপর হামলার বিচার না হলে গ্রামে আরও অসন্তোষ ছড়াতে পারে।
প্রশাসনের ভূমিকা
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে গ্রামবাসীরা মনে করছেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পুলিশ আহত শ্রমিকের পরিবারকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্টেশন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপদভাবে যাতায়াতের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
ভাষাগত বিদ্বেষ নিয়ে আলোচনা
ভাষাকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষ ও বিভাজন সমাজে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাজের খোঁজে বাইরে যাওয়া শ্রমিকরা ভাষার কারণে হামলার শিকার হলে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক শুভাশিস মুখার্জি বলেন, “ভাষা মানুষের পরিচয়ের অংশ। ভাষায় কথা বলায় আঘাত মানে মানুষের অস্তিত্বে আঘাত। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্পর্কের ওপর আঘাত।”
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন
তপশেলের পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ন্যায়বিচারের আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, আহত শ্রমিকের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার নিক এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিক। পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সমাজের কাছে বার্তা
ভাষাগত বিদ্বেষের মতো ঘটনায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে এই ধরনের হামলা রোধ করা সম্ভব। ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো এখন জরুরি। বাংলায় কথা বলার অপরাধে হামলার মতো ঘটনা সমাজে অসহিষ্ণুতার বার্তা দেয়। এটি মোকাবিলা করতে হলে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
উপসংহার
টাটানগরে বাংলায় কথা বলায় নির্মাণ শ্রমিকের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ভাষাগত বিদ্বেষের এক দৃষ্টান্ত। এটি কেবল ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ, সামাজিক সচেতনতা এবং ভাষার প্রতি সম্মান ছাড়া এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তপশেলের সুস্থতা কামনায় এবং ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে গোটা সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন