Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Thursday, 18 September 2025

শ্রমশ্রী’ প্রকল্পে বিভ্রান্তি: পরিযায়ী শ্রমিকদের নথিভুক্তকরণে অনিশ্চয়তা

‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পে বিভ্রান্তি: পরিযায়ী শ্রমিকদের নথিভুক্তকরণে অনিশ্চয়তা

‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পে বিভ্রান্তি: পরিযায়ী শ্রমিকদের নথিভুক্তকরণে অনিশ্চয়তা

🗓 আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পরিযায়ী শ্রমিকদের শ্রমশ্রী প্রকল্প

ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করা ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প।

বাংলার বহু শ্রমিক জীবিকার সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেন। অনেক সময় তাঁরা ভাষাগত কারণে, বিশেষ করে বাংলায় কথা বলার জন্য, নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হন। শুধু হেনস্থা নয়, অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নও তাঁদের সহ্য করতে হয়। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছেন এক নতুন উদ্যোগ—‘শ্রমশ্রী প্রকল্প’

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং তাঁদের বিকল্প রোজগারের সুযোগ তৈরি করা হবে। সরকারি নির্দেশ অনুসারে, প্রতিটি শ্রমিক মাসে ৫ হাজার টাকা অনুদান পাবেন। পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে তাঁরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।

📌 শ্রমশ্রী প্রকল্পের প্রধান সুবিধা:
✔️ মাসিক ৫০০০ টাকা সরকারি অনুদান
✔️ কারিগরি প্রশিক্ষণ
✔️ বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ
✔️ অনুদান পাওয়া যাবে বিকল্প রোজগার না হওয়া পর্যন্ত

কীভাবে নাম নথিভুক্ত করবেন?

সরকার জানিয়েছে, শ্রমশ্রী প্রকল্পে আবেদন করতে হলে শ্রমশ্রী মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। আবেদনকারীদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে যেখানে নাম, ঠিকানা, আধার নম্বর, ভোটার কার্ড নম্বর, রেশন কার্ড নম্বর, কর্মক্ষেত্রের তথ্য, পারিশ্রমিকের পরিমাণ এবং প্রয়োজনে পাসপোর্ট নম্বর জমা দিতে হবে।

যারা আগে থেকেই কর্মসাথী পোর্টালে নথিভুক্ত আছেন, তারা ইউজার আইডি বা ফোন নম্বর দিয়ে ‘Generate OTP’ অপশনে ক্লিক করে ভ্যালিডেট করতে পারবেন। আর যারা নতুন আবেদনকারী, তাঁদের ‘Register’ অপশনে গিয়ে ফোন নম্বর এবং ওটিপি ব্যবহার করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

তবুও বিভ্রান্তি

হাওড়ার শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লকের বাছরি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শ্যামসুন্দর মেটিয়া জানান, “মানুষ আমাদের কাছে আসছেন আবেদন করার জন্য, কিন্তু কীভাবে শ্রমশ্রী প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে হবে, আমরা নিজেরাও জানি না। ব্লক অফিসে এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা আসেনি।”

এতে বোঝা যাচ্ছে যে সরকারি ঘোষণা হলেও প্রশাসনিক স্তরে সঠিক গাইডলাইন এখনও নিচুতলায় পৌঁছয়নি। এর ফলে আবেদনকারীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

সরকারি অবস্থান

হাওড়া জেলা প্রশাসনের এক কর্তা অবশ্য দাবি করেছেন, এখন প্রায় প্রত্যেকের হাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং ইন্টারনেট রয়েছে। ফলে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে আবেদন করায় অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাওড়া জেলায় ইতিমধ্যেই এক হাজারেরও বেশি এবং হুগলিতে প্রায় ৯৬৫টি আবেদন জমা পড়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ অনুদানের টাকা পাননি।

প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মধ্যে

একজন সাধারণ পরিযায়ী শ্রমিক, যিনি দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ, তাঁর কাছে অ্যাপ ডাউনলোড, ওটিপি জেনারেট, নথি আপলোড করা—এসব বিষয় সহজ নয়। তাই তাঁদের দাবি, অফলাইন প্রক্রিয়া রাখা হোক যাতে ব্লক অফিস বা পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সরাসরি আবেদন করা যায়।

📌 প্রধান প্রশ্নসমূহ:
❓ শ্রমিকরা কীভাবে অ্যাপ ব্যবহার করবেন?
❓ অফলাইন আবেদন প্রক্রিয়া কি চালু হবে?
❓ অনুদান কবে থেকে হাতে পৌঁছাবে?
❓ কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যকরী হবে কবে থেকে?

ভবিষ্যতের দিশা

শ্রমশ্রী প্রকল্প নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ। তবে এর কার্যকরী বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সরকারি স্বচ্ছতা, সময়মতো অনুদান প্রদান এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির মানের উপর। পরিযায়ী শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁদের জন্য এই প্রকল্প যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি রাজ্যের একটি গেমচেঞ্জার উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

অক্সফোর্ডে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে ‘টিপ্পনি’ করেছিলেন চিকিৎসক, যৌন হেনস্থার অভিযোগে ব্রিটেনে তাঁর ৬ বছরের কারাদণ্ড

যৌন হেনস্থায় দোষী প্রমাণিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক অমল বসুকে ৬ বছরের কারাদণ্ড

যৌন হেনস্থায় দোষী প্রমাণিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক অমল বসুকে ৬ বছরের কারাদণ্ড

🗓️ আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ব্রিটেনে ভারতীয় চিকিৎসক অমল বসুর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা
ব্রিটেনে প্রিস্টন ক্রাউন কোর্টে দোষী সাব্যস্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক অমল বসু

Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: যৌন হেনস্থার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক অমল বসু। ব্রিটেনের প্রিস্টন ক্রাউন কোর্ট তাঁকে ৬ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ব্ল্যাকপুল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে দায়িত্বে থাকার সময় তিনি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাধিক মহিলা সহকর্মীকে শ্লীলতাহানি করেছিলেন।

কে এই অমল বসু?

অমল বসুর বয়স ৫৫ বছর। ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকপুল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে তিনি কার্ডিয়োভ্যাসকুলার সার্জারি বিভাগের প্রধান ছিলেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। হাসপাতালের একাধিক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী এবং নার্স অভিযোগ করেন, দায়িত্বের অপব্যবহার করে তাঁদের হয়রানি করতেন অমল বসু।

অভিযোগের ভিত্তিতে ইংল্যান্ড হেলথ সার্ভিস তাঁকে সাসপেন্ড করে। ২০২২ সালে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে আদালতে প্রমাণিত হয়, তিনি নিয়মিতভাবে মহিলা সহকর্মীদের শ্লীলতাহানি করতেন।

বিচারপতির মন্তব্য

বিচারপতি ইয়ান আনসওয়ার্থ শুনানি চলাকালীন অমল বসুর কার্যকলাপের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এমন চিকিৎসক আসলে ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা যৌন শিকারি।” বিচারপতি আরও বলেন, অমল একজন দক্ষ শল্য চিকিৎসক হলেও তাঁর অপরাধের গুরুত্ব কোনওভাবেই কমবে না।

অমল বসু সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকে একটি ডেলিভারি সংস্থায় কাজ করতেন। কিন্তু আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে কারাদণ্ডে পাঠানো হল।

অক্সফোর্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণে প্রতিবাদ

গত ২৭ মার্চ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে আমন্ত্রণ পান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাষণের সময় উপস্থিত কিছু দর্শক মমতার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁদের মধ্যে অমল বসুও ছিলেন। সিঙ্গুর থেকে শুরু করে আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা পর্যন্ত নানা বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এই রায়ের তাৎপর্য

ব্রিটেনে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কর্মরত চিকিৎসক বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য এই রায় এক বড় বার্তা। যৌন হেনস্থা বা ক্ষমতার অপব্যবহার কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের এই রায় নারী কর্মীদের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ট্রাম্পের ভারত প্রশংসা: মোদীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ

ট্রাম্পের ভারত প্রশংসা: মোদীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ

একদিনের হেরফের: ভারতের প্রতি ফের নরম সুর ট্রাম্পের

আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ট্রাম্প ও মোদী

ছবি: ট্রাম্প মোদীর সঙ্গে ফোনে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন

মোদীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও প্রশংসা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তার পরেই ট্রাম্প ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘ সময় ধরেই ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়টি আলোচিত। তবে একদিনের মধ্যেই ট্রাম্পের ভারত সমর্থনের রেশ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ব্রিটেন সফর এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি

সম্প্রতি ট্রাম্প ব্রিটেনে গিয়েছেন। সেখানে উইন্ডসর ক্যাসলে রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা তাঁকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। তিনি ভারত ও মোদীর সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভারতের খুব কাছের। ভারতের প্রধানমন্ত্রীরও খুব কাছের। কয়েক দিন আগেই আমি মোদীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের মধ্যে সত্যিই খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’

ভারত-রাশিয়া তেল লেনদেন নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

এর আগে ট্রাম্প ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর মধ্য দিয়ে ভারতের ওপর চাপও সৃষ্টি করেছিলেন। তবে বর্তমানে ট্রাম্প নিজেই মোদীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। ব্রিটেন থেকে তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়া থেকে তেল কিনছে। চিন এখন আমেরিকাকে অনেক বেশি শুল্ক দিচ্ছে। আমি যাদের জন্য লড়াই করছি, তারাই রাশিয়া থেকে তেল কিনছে। এখন তেলের দাম অনেক কমে গিয়েছে।’

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের ভারত-প্রীতি এবং মোদীর সঙ্গে সুসম্পর্ক আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের দাম, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো ভারতের জন্য ইতিবাচক সঙ্কেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তা

ট্রাম্পের মতে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক শুধুমাত্র কূটনৈতিক নয়, বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “আমি জানি ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শক্তিশালী। আমরা একে আরও সুদৃঢ় করতে চাই। মোদীজির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক দেশের জন্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।”

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ট্রাম্পের নতুন রূপরেখা ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষত বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও তেল বাজারে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে আগ্রহী।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

যাদবপুর ছাত্রী খুন মামলায় লালবাজারের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত

যাদবপুর ছাত্রী খুন মামলায় লালবাজারের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের রহস্যময় মৃত্যু: লালবাজারের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কলকাতা: লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের খুনের মামলায় তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ১৩ জন ছাত্র-ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে অনামিকার শেষ সময়ে যাঁদের সঙ্গে ছিলেন তাঁদেরও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সাত জন ছাত্রের সঙ্গে আলাদা আলাদা কথা বলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের অদূরে ইউনিয়ন রুম সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় অনামিকা উদ্ধার হন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামা ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানের দিন ঘটে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর যেখানে অনামিকা উদ্ধার হন

বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে মোট তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তদন্তকারীরা সব ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। তবে, যেই স্থানে ঘটনা ঘটে, সেখানে কোনও ক্যামেরা না থাকার কারণে সেখানকার সরাসরি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। লালবাজারের একটি সূত্র জানায়, যাঁদের ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে তাঁদের বয়ানও নেওয়া হবে। এছাড়াও গার্ড এবং শিক্ষককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মঙ্গলবার জল থেকে যে জুতো পাওয়া গিয়েছিল, পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানায়, সেটি অনামিকার। শুক্রবার আদালতে তাঁর বাবা সেই জুতো শনাক্ত করবেন। ম‍্যাজিস্ট্রেটের সামনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা নয়, অনামিকাকে পুকুরে ঠেলে খুন করা হয়েছে বলে তাঁর বাবা অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতেই লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ও হোমিসাইড শাখা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

অনামিকা ওইদিন একাই পুকুরের অদূরে শৌচাগারের দিকে গিয়েছিলেন। তদন্তের জন্য তাঁর মস্তিষ্কের ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামা ক্লাবের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিল, তারপরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

তদন্তের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যামেরা ফুটেজ ও উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীর সাক্ষ্য। পুলিশ সূত্রের খবর, অনামিকার শেষ সময়ে যাঁদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে, তাঁদের বয়ান নেওয়া হবে। গার্ড এবং শিক্ষকরা পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি সম্ভাব্য সূত্র খুঁটিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তের আওতায় যে ধাপগুলো নেওয়া হচ্ছে তা হলো: প্রথমে ১৩ জন ছাত্র-ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ, এরপর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, এবং তারপর জলের জুতো শনাক্তকরণ। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে হত্যার পদ্ধতি ও দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, অনামিকার সঙ্গে শেষ সময়ে দেখা ছাত্রদের নামও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায়। পুলিশ সেই সময়কার ঘটনার সঠিক সময়সীমা, উপস্থিতি এবং আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অচিরেই মামলার পরবর্তী ধাপের তথ্য সাংবাদিকদের জানানো হবে। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ প্রতিটি প্রমাণ ও সাক্ষ্য প্রাথমিকভাবে যাচাই করছে।

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সকল প্রমাণ এবং সাক্ষ্য সংগ্রহের পরে হত্যার প্রকৃত দিক উন্মোচিত হবে।

রাহুল গান্ধীর ভোট চুরি অভিযোগ: নির্বাচন কমিশন খারিজ করল

রাহুল গান্ধীর ভোট চুরি অভিযোগ: নির্বাচন কমিশন খারিজ করল

রাহুল গান্ধীর ভোট চুরি অভিযোগ: নির্বাচন কমিশন খারিজ করল

আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৯:৪৫

রাহুল গান্ধী সাংবাদিক বৈঠকে

ছবি: রাহুল গান্ধী সাংবাদিক বৈঠকে ভোট চুরি অভিযোগ তুলে ধরছেন

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ

প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন হাইড্রোজেন বোমা ফাটাবেন। সেই প্রতিশ্রুতিরক্ষা না-করলেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘ভোট চুরির প্রমাণ’ তুলে ধরলেন রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন যে কেন্দ্রীয়ভাবে সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ‘ভোট চুরি’র চেষ্টা কীভাবে ধরা পড়েছে, তা-ও তিনি প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া

নির্বাচন কমিশন রাহুলের অভিযোগকে ‘ভুল এবং ভিত্তিহীন’ হিসেবে খারিজ করেছে। তাদের বক্তব্য, অনলাইনে কেউ কোনও ভোটারের নাম বাদ দিতে পারেন না এবং কারও নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য অবশ্যই শোনা হয়। এছাড়া কর্নাটকের একটি বিধানসভা কেন্দ্রের নামোল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি।

কর্ণাটক অলন্দ বিধানসভা কেন্দ্রের উদাহরণ

রাতের দিকে কমিশন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর্নাটকের অলন্দ বিধানসভা এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অনলাইনে প্রায় ৬০১৮টি আবেদন জমা পড়েছিল। অধিকাংশ আবেদন সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কমিশন সবকটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেছে। দেখা গেছে, মাত্র ২৪টি আবেদন বৈধ এবং বাকি ৫৯৯৪টি ভুয়ো।

রাহুলের অভিযোগের বিস্তারিত

  • নির্দিষ্ট সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করে নকল আবেদন করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
  • অলন্দ কর্নাটক লোকসভা কেন্দ্র থেকে ৬০১৮টি ভোট মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল।
  • স্ক্রিনে কয়েকটি ফোন নম্বর প্রদর্শন করে দাবি করেছেন, বিভিন্ন রাজ্য থেকে ফর্ম পূরণ করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের ব্যাখ্যা

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০২৩ সালে অলন্দ বিধানসভা কেন্দ্রে যে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ‘ব্যর্থ’ চেষ্টা হয়েছিল তা স্বীকার করেছে। তবে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। এই বিষয়ে তদন্তের জন্য AIR দায়ের করা হয়েছে।

রাহুলের আক্রমণ

‘ভোট চুরি’ অভিযোগের সূত্র ধরে রাহুল নির্বাচন কমিশন এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “দেশে স্বচ্ছ এবং অবাধ নির্বাচনের বিষয়টি সুনিশ্চিত করার বদলে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে নির্বাচন কমিশন। যাঁরা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে খর্ব করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

ভোটার তালিকায় সংযোজন

মহারাষ্ট্রের রাজুরা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা তুলে ধরে রাহুল দাবি করেছেন, সেখানে অনলাইনে ৬৮৫০ জন ভোটারের নাম অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যেই ভোটার তালিকায় এই ধরনের সংযোজন-বিয়োজন চলমান আছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

#রাহুলগান্ধী #ভোটচুরি #নির্বাচনকমিশন #কর্ণাটক #ভোটারতালিকা #ভারত #নির্বাচন #রাজনীতি

ভারতের লক্ষ্য: বিশ্বের শীর্ষ ২০ ব্যাঙ্কের মধ্যে স্থান করে নেওয়া

ভারতের লক্ষ্য: বিশ্বের শীর্ষ ২০ ব্যাঙ্কের মধ্যে স্থান করে নেওয়া

ভারতের লক্ষ্য: বিশ্বের শীর্ষ ২০ ব্যাঙ্কের মধ্যে স্থান করে নেওয়া

আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:০৯

ভারতীয় ব্যাঙ্কের লক্ষ্য

ভারত সরকার চাইছে, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২০ ব্যাঙ্কের মধ্যে অন্তত দুটি ভারতীয় ব্যাঙ্কের স্থান নিশ্চিত হোক।

বিশ্বের শীর্ষ ব্যাঙ্কের তালিকায় প্রথম ২০টি ব্যাঙ্কের মধ্যে ভারতীয় ব্যাঙ্কের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ব্যাঙ্কগুলির তালিকার ১০০টি ব্যাঙ্কের মধ্যে ইতিমধ্যেই দুটি ভারতীয় ব্যাঙ্ক রয়েছে। একটির নাম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এবং অপরটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক এইচডিএফসি (HDFC)।

ভারতীয় ব্যাঙ্কের অবস্থান

বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি ব্যাঙ্কের মধ্যে একমাত্র ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক হল এসবিআই। বৈশ্বিক র‌্যাঙ্ক অনুসারে সম্পদের দিক থেকে এটি ৪৭তম স্থানে রয়েছে। আর HDFC ব্যাঙ্কের সম্পদ তালিকার নীচের দিকে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশীয় ব্যাঙ্কগুলির পুঁজিবৃদ্ধি অপরিহার্য। আর্থিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে আমেরিকা, চিন বা ইউরোপের ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তিকরণ

সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তিকরণের ফলে তাদের আর্থিক স্বাস্থ্য আগের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে। আর্থিক পরিষেবা দফতের সচিব এম নাগরাজু মনে করছেন, দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে গতি আনা, উদ্ভাবনে জোর দেওয়া এবং সামগ্রিকভাবে আর্থিক পরিষেবায় নেতৃত্ব প্রদানের সময় এসেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তিকরণের ফলে তাদের আর্থিক স্বাস্থ্য অনেক স্থিতিশীল হয়েছে।

'পিএসবি মন্থন' অনুষ্ঠান

দফতর আয়োজিত দু’দিনের ‘পিএসবি মন্থন’ অনুষ্ঠানে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের আর্থিক বৃদ্ধিতে গতি আনা, উদ্ভাবনে জোর দেওয়া এবং সামগ্রিকভাবে আর্থিক পরিষেবায় জোর দেওয়ার মতো পদক্ষেপের কথা উঠে এসেছে। গ্রাহক পরিষেবা, ব্যাঙ্ক পরিচালনা, উদ্ভাবনী ধারণা, ঋণ বৃদ্ধি, ঝুঁকি সামলানো এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের অংশ।

২০৪৭ সালের লক্ষ্য

কেন্দ্র ২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি ব্যাঙ্কের মধ্যে অন্তত একটি ভারতীয় ব্যাঙ্কের স্থান নিশ্চিত করতে চায়। এজন্য দেশে কমপক্ষে দুটি বিশ্বমানের ব্যাঙ্ক থাকা আবশ্যক। প্রধান আর্থিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশীয় ব্যাঙ্কগুলিকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

সংযুক্তিকরণের ইতিহাস

২০১৯ সালে সরকার কমপক্ষে ১০টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে একত্রিত করে চারটি বৃহৎ ব্যাঙ্ক তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। উদাহরণস্বরূপ, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) ও ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কমার্স (OBC) এবং ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (UBI) সংযুক্ত হয়ে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাঙ্ক তৈরি হয়।

কানাড়া ব্যাঙ্ক ও সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক মিলে দেশের চতুর্থ বৃহত্তম ঋণদাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, অন্ধ্র ব্যাঙ্ক এবং কর্পোরেশন ব্যাঙ্ক জোট বাঁধার পর ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক সৃষ্টি হয়। এছাড়া ইলাহাবাদ ব্যাঙ্ককে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের সঙ্গে সংযুক্ত করে তা সপ্তম বৃহত্তম ব্যাঙ্কে পরিণত হয়।

ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণের দ্বিতীয় ধাপ

২০১৭ সালে ভারতে ২৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ছিল। প্রথম ধাপের সংযুক্তিকরণের পরে দেশীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংখ্যা সাতটি বড় ও পাঁচটি ছোট ব্যাঙ্কে সীমিত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে ভারতের ব্যাঙ্কগুলিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতার যোগ্য করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য

২০৩৯ সালের মধ্যে ব্যাঙ্কগুলিকে অভ্যন্তরীণ পরিষেবার বদলে আন্তর্জাতিক পরিষেবা প্রদানে গুরুত্ব দিতে হবে। ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪.৫ লক্ষ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে। স্বাধীনতার ১০০ বছরে ‘বিকশিত ভারতের’ স্বপ্ন পূরণের জন্য দুটি বৃহৎ বিশ্বমানের ব্যাঙ্ক অপরিহার্য।

২০২৭ সালের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভারতকে প্রতি বছর SBI-কে ৩.১–৩.৬% হারে ব্যবসা বৃদ্ধি করতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কের ব্যবসা বৃদ্ধির তুলনায় ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলির লক্ষ্য বাড়ানো হয়েছে। SBI-র মোট সম্পদ ৮৭ হাজার কোটি ডলার, যা বিশ্বের ৪৩তম স্থানে। HDFC ব্যাঙ্কের মোট সম্পদ SBI-র অর্ধেকের কিছু বেশি।

চ্যালেঞ্জ ও পরামর্শ

বিশ্বমানের ব্যাঙ্ক গড়ে তোলার জন্য পরিচালনামূলক স্বায়ত্তশাসনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকায় পরিচালন বোর্ডের তদারকি জোরদার করতে হবে। স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসারে নির্দেশিকা তৈরি করা অপরিহার্য। ব্যাঙ্কগুলিকে নিজস্ব পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও পুঁজিবৃদ্ধিতে নজর দিতে হবে। ঋণের ক্ষেত্রে বৈচিত্র আনাও গুরুত্বপূর্ণ।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

পুরুলিয়ায় ভুয়ো নিয়োগ প্রতারণা চক্র, সরকারি মেল আইডি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি

পুরুলিয়ায় ভুয়ো নিয়োগ প্রতারণা চক্র, সরকারি মেল আইডি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি

পুরুলিয়ায় ভুয়ো নিয়োগ প্রতারণা চক্র, সরকারি মেল আইডি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি

আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পুরুলিয়ায় ভুয়ো নিয়োগ প্রতারণা

শুশুনিয়া একলব্য মডেল রেসিডেনসিয়াল স্কুলে ভুয়ো সরকারি মেল আইডি ব্যবহার করে নিয়োগ প্রতারণার চক্রান্ত ধরা পড়েছে।

Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: পুরুলিয়ার শুশুনিয়া একলব্য মডেল রেসিডেনসিয়াল স্কুলে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। সরকারি দফতরের ভুয়ো মেল আইডি ব্যবহার করে একটি প্রতারণা চক্র স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এক মহিলাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ।

প্রথম ঘটনার বিবরণ

ঘটনাটি ঘটেছে ২৬ অগাস্ট। ঐশ্বর্য চন্দ্র নামে এক মহিলা নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে স্কুলে হাজির হন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্বে কোনও নির্দেশ না থাকায় তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী দিন ২৮ অগাস্ট বিকেলে স্কুলের অফিসিয়াল মেল আইডি থেকে ওই মহিলার নিয়োগ সংক্রান্ত একটি চিঠি আসে।

ভুয়ো মেল আইডি ও বিভ্রান্তি

ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যে উপজাতি উন্নয়ন দফতের নামে একটি ভুয়ো মেল আইডি তৈরি করা হয় এবং রাজ্যের প্রধান সচিবের নাম ব্যবহার করে ওই মহিলার নামে নিয়োগের নির্দেশ পাঠানো হয়। এটি বুঝতে পেরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ ঊর্ধ্বতন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তারা নিশ্চিত হন, এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো চিঠি।

স্কুল অফিস

স্কুলের অফিসিয়াল মেলে ভুয়ো চিঠি পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেন।

পুলিশ তদন্ত

স্কুলের অধ্যক্ষ অজয় তিওয়ারি বোরো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যেই বোরো থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই প্রতারণা চক্রের হদিশ মেলাতে শিক্ষাবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষক মহলে প্রভাব

নিয়োগ সংক্রান্ত এই প্রতারণার ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিক্ষক মহলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ভুয়ো মেল আইডি ব্যবহার করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শিক্ষকরা নিরাপদ ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বিগ্ন।

সারসংক্ষেপ

  • ভুয়ো সরকারি মেল আইডি ব্যবহার করে প্রতারণা চক্র স্কুল ও একজন মহিলাকে বিভ্রান্ত করেছে।
  • ২৬ ও ২৮ অগাস্টে দুটি ভুয়ো চিঠি পাঠানো হয়েছে।
  • স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঊর্ধ্বতন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ ও পুলিশের দ্বারস্থ হয়।
  • বোরো থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
  • শিক্ষক মহলে নিরাপদ ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

গৌতম আদানি গোষ্ঠীকে সেবি ক্লিনচিট, হিন্ডেনবার্গের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত

গৌতম আদানি গোষ্ঠীকে সেবি ক্লিনচিট, হিন্ডেনবার্গের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত

গৌতম আদানি গোষ্ঠীকে সেবি ক্লিনচিট, হিন্ডেনবার্গের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত

আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গৌতম আদানি

সেবি তদন্ত শেষে গৌতম আদানি ও তার গোষ্ঠীকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে।

Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের বাজারে দুই বছর ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ধনকুবের গৌতম আদানির সংস্থা, অবশেষে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে। মার্কিন শেয়ার বিশ্লেষক সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ যে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল, তা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (Securities and Exchange Board of India) বিস্তারিত তদন্তের পর ক্লিনচিট দিয়েছে আদানি গোষ্ঠীকে।

হিন্ডেনবার্গের অভিযোগ ও বাজারে প্রভাব

২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি হিন্ডেনবার্গ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে দাবি করা হয়, আদানি সংস্থা দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কারচুপি করে নিজেদের নথিভুক্ত সংস্থাগুলির শেয়ার দর বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি, সেবির বিধি এড়িয়ে ভুঁইফোঁড় বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে শেয়ার কিনে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই রিপোর্ট প্রকাশের পর দেশের অভ্যন্তরে তো বটেই, আন্তর্জাতিক বাজারেও তীব্র প্রভাব পড়ে। আদানি সংস্থার শেয়ার হু হু করে পড়তে থাকে, এবং বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তির তালিকায় তার অবস্থানও হঠাৎ কমে যায়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয় সংস্থার।

সেবি তদন্ত ও ক্লিনচিট

আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর সেবি তদন্ত শুরু করে। আড়াই বছরের অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার, সেবি পৃথকভাবে দুটি অংশে বিশদ বিবৃতি প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়েছে যে, আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ ছিল—অভ্যন্তরীণ লেনদেন, বাজারে কারসাজি বা শেয়ারবাজারের নিয়ম লঙ্ঘন—সেগুলি সব ভিত্তিহীন।

হিন্ডেনবার্গের দাবি ছিল, আদানিরা অর্থ পাচারের জন্য কয়েকটি প্রাইভেট সংস্থা ব্যবহার করেছে। তবে সেবি জানায়, যে সময়ে ওই লেনদেন হয়েছিল, তখন সেই সময়ের আইন লঙ্ঘিত হয়নি। আইন পরে সংশোধিত হয়েছে। সেবি আরও নিশ্চিত করেছে যে, আদানি গোষ্ঠী সমস্ত ঋণ পরিশোধ করেছেন, বরাদ্দ অর্থ সঠিক কাজে ব্যবহার করেছেন এবং কোনো অনিয়ম হয়নি।

SEBI অফিস

সেবি অফিসে আড়াই বছরের তদন্ত শেষে প্রকাশিত ক্লিনচিট।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের অনুসন্ধান

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলও গঠন করা হয়েছিল। তাদের অনুসন্ধানও সেবির মতো ফলাফলের দিকে নির্দেশ করেছিল। তারা আদানির বিরুদ্ধে কোনও অনিয়মের প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

গৌতম আদানির প্রতিক্রিয়া

সেবি ক্লিনচিট দেওয়ার পর গৌতম আদানি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আমরা সবসময় বলে আসছি, হিন্ডেনবার্গের দাবি ভিত্তিহীন। এত দিনের তদন্তের পর সেবি-ও সেটাই বলল। স্বচ্ছতা এবং সততাই আদানি গোষ্ঠীর সম্পদ। এই ভুয়ো রিপোর্টটির জন্য যাঁদের ক্ষতি হয়েছে, যাঁরা টাকা হারিয়েছেন, আমরা তাঁদের জন্য গভীর ভাবে দুঃখিত। যাঁরা এভাবে ভুয়ো খবর ছড়ান, তাদের দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। ভারতের জনগণের প্রতি আমরা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’

আর্থিক ও বাজারের প্রভাব

হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট প্রকাশের পর আদানি গোষ্ঠী প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। সংস্থার শেয়ার বাজারে মান হ্রাস পেয়েছিল। তবে সেবির ক্লিনচিট ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ফলাফলের পর, বাজারে আস্থা ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

সারসংক্ষেপ

  • হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত।
  • সেবি আড়াই বছরের তদন্ত শেষে ক্লিনচিট দিয়েছে।
  • বিশেষজ্ঞ প্যানেলও আদানির বিরুদ্ধে কোনও অনিয়মের প্রমাণ খুঁজে পায়নি।
  • আর্থিক ক্ষতি ও শেয়ার দর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায়।
  • গৌতম আদানি স্বচ্ছতা ও সততার প্রমাণ দিয়েছেন।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইকে সাফাই দিতে হল খাজুরাহো মামলায় মন্তব্যের বিতর্কে

প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইকে সাফাই দিতে হল খাজুরাহো মামলায় মন্তব্যের বিতর্কে

প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইকে সাফাই দিতে হল খাজুরাহো মামলায় মন্তব্যের বিতর্কে

🗓 আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই

প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই বিতর্কিত মন্তব্যের পর সাফাই দিতে হল

ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহো জাভেরি মন্দিরে ৭ ফুট উঁচু বিষ্ণুমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার মামলায় প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই যে মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে অভিযোগ উঠেছে, বিচারপতির বক্তব্যে হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। তীব্র সমালোচনার মুখে প্রধান বিচারপতিকে সাফাই দিতে হয়েছে এবং বলেছেন, তিনি প্রত্যেক ধর্মকে সমানভাবে সম্মান করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট

খাজুরাহো মন্দিরের জাভেরি অংশে ক্ষতিগ্রস্ত বিষ্ণুমূর্তিটি মুগল আমলে দানবতী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য রাকেশ দেশাই নামের একজন ব্যক্তি আদালতে আবেদন জানান। তিনি জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন বারবার সমস্যার সমাধান চাইলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি Archaeological Survey of India-এর নজরে আনা হয়।

মামলার যুক্তি শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক নয়, বরং বহু মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগের সঙ্গে জড়িত। তাই মামলাকারী আশা করেছিলেন, শীর্ষ আদালত যেন হস্তক্ষেপ করে মূর্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।

প্রধান বিচারপতির মন্তব্য এবং প্রতিক্রিয়া

প্রধান বিচারপতি মামলাটিকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, এটি প্রচারের উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “এটা স্পষ্টই প্রচারের লোভে করা মামলা। বিষয়টি ASI-এর অধীনে পড়ে। তাছাড়া আপনি তো বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত। যান গিয়ে বিষ্ণুকেই বলুন, যদি তিনি কিছু করতে পারেন। যান প্রার্থনা করুন।”

এই মন্তব্যে আইনজীবী ও ধর্মীয় মহলের একাংশ আপত্তি জানান। তাঁদের যুক্তি, মন্তব্যটি হিন্দু ধর্মের দেবতাদের অপমান করেছে এবং সনাতন ধর্মের ভাবাবেগের পরিপন্থী। সামাজিক মিডিয়ায়ও ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়, যেখানে অনেকেই প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের সমালোচনা করেন।

আইনজীবীদের চিঠি ও সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ

কয়েকজন প্রবীণ আইনজীবী প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি লিখে দাবি করেন, মন্তব্যটি প্রত্যাহার করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনও শুরু হয়, যেখানে প্রধান বিচারপতির ইমপিচমেন্টের দাবিও উঠেছে। এ অবস্থায় বিচারপতি খানিকটা নতিস্বীকারের সুরে বলেন, “আমি যা বলেছি সেটা নির্দিষ্ট একভাবে ঘুরিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরা হচ্ছে। আমি সব ধর্মকেই সম্মান করি।”

কেন্দ্রের সমর্থন

এই বিতর্কে প্রধান বিচারপতির পাশে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সব ধর্মকে সম্মান করার বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেছেন। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বিচারপতির সমর্থন আইন এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সমাজ ও ধর্মের প্রভাব

খাজুরাহো মন্দির বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এর মতো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন শুধু পর্যটন নয়, বরং বহু মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দু। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক মূলত ধর্ম ও আইনের সংমিশ্রণে তৈরি। সমাজের একাংশ মনে করে, উচ্চ আদালতের নেতাদের মন্তব্য ধর্মীয় ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যদিকে আইনজীবী ও বিচারপতির সমর্থকরা মন্তব্যটি প্রসঙ্গ অনুযায়ী উপস্থাপন করেছেন বলে মনে করেন।

আইনি বিশ্লেষণ

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্ম সমানভাবে সম্মানিত। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিচারাধীন মামলার প্রেক্ষাপটে, তাই এটি ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় আক্রমণ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। তবে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় বিতর্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের ভিত্তি প্রকৃতপক্ষে মামলা প্রত্যাখ্যান ও বিষয়টি ASI-এর অধীনে রাখার জন্য।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধান বিচারপতির মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিচারপতির বক্তব্যকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। আইনজীবী ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, সামাজিক মিডিয়া প্রভাবিত হলে সমাজে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। প্রধান বিচারপতির স্পষ্টীকরণ এই উত্তেজনা কিছুটা কমিয়েছে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, খাজুরাহো বিষ্ণুমূর্তি মামলায় প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে ঘিরে প্রচার ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে তিনি সাফাই দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, তিনি সব ধর্মকে সম্মান করেন এবং মন্তব্যকে অযথা ঘুরিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সলিসিটর জেনারেল ও প্রবীণ আইনজীবীর সমর্থন তাঁর পাশে রয়েছে। এই বিতর্ক বিচারালয়, ধর্ম ও সমাজের সংমিশ্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

বিধান ভবন ভাঙচুর মামলায় জামিন পেলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং

বিধান ভবন ভাঙচুর মামলায় জামিন পেলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং

বিধান ভবন ভাঙচুর মামলায় জামিন পেলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং

🗓 আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বিজেপি নেতা রাকেশ সিং

বিধান ভবন ভাঙচুর মামলায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রাকেশ সিং

কলকাতার বিধান ভবন ভাঙচুর মামলা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে শুনানিতে বিজেপি নেতা রাকেশ সিং-এর জামিন মঞ্জুর হলেও, আপাতত তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। কারণ, তাঁর নামে আরও একাধিক মামলা রয়েছে, যার কারণে তাঁকে এখনই জেল হেফাজতে থাকতে হবে।

ঘটনার সূচনা

এই মামলার সূত্রপাত হয় বিহারে আয়োজিত কংগ্রেসের এক জনসভা থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, সভা চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করা হয়। সেই বক্তব্য ঘিরে বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। অভিযোগ, এর জেরেই কলকাতায় বিধান ভবনে হামলা চালানো হয়।

সেই সময়কার একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিও ফুটেজে রাকেশ সিংকেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। আর এখান থেকেই তাঁকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতার

ঘটনার পর থেকেই রাকেশ সিং পলাতক ছিলেন। তাঁকে না পেয়ে প্রথমে পুলিশ গ্রেফতার করে তাঁর ছেলে শিবম সিং-কে। পুলিশের দাবি, শিবমকেও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক করা হয় এবং পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উঠে আসে আরও তথ্য। তদন্তে জানা যায়, হামলার পরিকল্পনা এবং সংগঠনের ক্ষেত্রে রাকেশ সিংয়ের সরাসরি ভূমিকা ছিল। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে তাঁকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় কলকাতা পুলিশ।

এই ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে শিবম সিং ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন। কিন্তু রাকেশ সিংয়ের ক্ষেত্রে আইনি লড়াই আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আদালতের অবস্থান

বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে শুনানি চলাকালীন রাকেশ সিংয়ের জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় আপাতত তিনি জেল হেফাজতেই থাকবেন। এর অর্থ, রাকেশের আইনজীবীরা সাময়িক স্বস্তি পেলেও তাঁর মুক্তির সম্ভাবনা এখনই নেই।

বিচারকের মন্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় প্রতিটি মামলার ভিত্তিতে আলাদা শুনানি হবে। ফলে একটিতে জামিন পেলেও অন্য মামলার কারণে তাঁকে জেলে থাকতে হবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, এটি একটি “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা”। তাঁদের বক্তব্য, কংগ্রেস ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাজ্যের প্রশাসন বিজেপি নেতাদের হয়রানি করছে।

অন্যদিকে, কংগ্রেস ও তৃণমূলের দাবি, আইন অনুযায়ীই পদক্ষেপ করা হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে আইন তার বিচার করবে। রাজনৈতিক লাভ বা ক্ষতির জায়গা থেকে প্রশাসন কাজ করছে না।

সামাজিক প্রভাব ও জনমত

বিধান ভবনের মতো একটি ঐতিহাসিক ভবনে হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের মনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ এবং অপশব্দ প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে এই ধরনের সহিংসতার জন্ম হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মামলাকে ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ বলছেন, আইনের শাসন বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আবার কেউ মনে করছেন, প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করছে।

আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপ

রাকেশ সিং এবং তাঁর আইনজীবীরা এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। কারণ, প্রতিটি মামলার আলাদা শুনানি এবং প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার রায় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ভাবমূর্তিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, বিধান ভবন ভাঙচুর মামলায় রাকেশ সিংয়ের জামিন মঞ্জুর হলেও তাঁর মুক্তি আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। আরও একাধিক মামলা ঝুলে থাকায় তাঁর জেল হেফাজত অব্যাহত থাকবে। আদালতের কড়া অবস্থান এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে স্পষ্ট—এই মামলার প্রভাব আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Featured post

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট আজ, শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ তাঁর মালদা টাউন...

Search This Blog