ভোটমুখী বিহারে বিজেপির অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। দলের সিনিয়র নেতা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর কে সিংহ দাবি করেছেন, জন সুরাজ পার্টির প্রধান এবং ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর যে অভিযোগ তুলেছেন, তার জবাব দিতে হবে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ জায়সওয়াল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী-কে।
আর কে সিংহ বলেছেন, "প্রশান্ত কিশোর যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তাঁদের সামনে এসে উত্তর দিতে হবে। কারণ তাঁরা এটা করছেন না বলে দলের ক্ষতি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সম্রাট চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। উনি সামনে এসে ম্যাট্রিকুলেশনের সার্টিফিকেট দেখান। একইভাবে দিলীপ জায়সওয়ালের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।"
এই মন্তব্যগুলো দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব ও ভোটের আগে দলের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিহারের নির্বাচনের আগে এমন প্রকাশ্য বিবাদ দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
সোমবার খিদিরপুর 25 পল্লির পুজো উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, জিএসটি সংস্কারের কারণে রাজ্য সরকারের প্রায় 20 হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, যেখানে-যেখানে জিএসটি কমানো হয়েছে, তার পুরো টাকাই রাজ্যের পাওনা থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই সংস্কারের কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব খাতে কোনও প্রভাব পড়ে না।
মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও নিশানা করেছেন। তিনি বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকারের এর জন্য কোনো খরচ হয়নি। সব টাকা যাচ্ছে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে। ক্রেডিট নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকার, আত্মনির্ভরতার কথা বলছেন। টাকাটা দেবেন তো! আমাদের বাংলার মানুষ যাতে সুবিধা পায়, তার জন্য রাজ্যের কোষাগার থেকে প্রায় 20 হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হবে।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে ঘুরপথে ঘাটতি মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "এর জন্য দিল্লি সরকারের বা কোনো পার্টির কৃতিত্ব নেই। রাজ্য সরকারকে টাকা হারাতে হচ্ছে। রাজ্যের এই ক্ষতির জন্য কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। যেসব জিএসটি রাজ্য পায়, তার থেকেই টাকা কাটা হয়েছে।"
তিনি 100 দিনের কাজের বকেয়া অর্থের প্রসঙ্গও টেনেছেন। বলেন, "100 দিনের কাজসহ একাধিক প্রকল্পের বকেয়া অর্থ এখনও আটকে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল বারবার রাজ্যে এসে পরিদর্শন করছে। কিন্তু অন্য রাজ্যগুলিতে এ ধরনের ঘটনা হলে কারও নজরে পড়ে না।"
উল্লেখ্য, সোমবার থেকে নতুন জিএসটি রিফর্ম কার্যকর হয়েছে। কিছু পণ্যে জিএসটি কমানো হয়েছে, আবার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে জিএসটি শূন্য করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, "এখন থেকে দুই ধাপে কর আরোপ হবে—5 শতাংশ এবং 18 শতাংশ হারে। সাধারণ উপভোক্তাদের বোঝা হালকা হবে।" প্রধানমন্ত্রী এই পরিবর্তনকে 'অর্থ সাশ্রয়ের উৎসব' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানের ককপিটে ঢোকার চেষ্টা
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানের ককপিটে ঢোকার চেষ্টা
ছবি: এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ফ্লাইটের দৃশ্য
বেঙ্গালুরু থেকে বারাণসী যাওয়ার এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানে দুই যাত্রী ককপিট খোলার চেষ্টা করেন। জানা গিয়েছে, তারা সঠিক পাসওয়ার্ডও দিয়েছেন। হাইজ্যাকিং আশঙ্কায় পাইলট দরজা বন্ধ করে দেন।
ঘটনার পর পাইলট এটিসি (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) এবং পরে সিআইএসএফকে জানান। বারাণসী বিমানবন্দরে অবতরণের পর, ককপিট খোলার চেষ্টা করা দুই যাত্রীসহ মোট ৯ জনকে আটক করা হয়।
বিমানটিতে মোট 163 জন যাত্রী ছিলেন। বারাণসী পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অভিযুক্তরা দাবি করেছেন, তারা টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়েছিলেন এবং ভুল করে ককপিট খোলার চেষ্টা করেছেন। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা তদন্ত করছেন, তারা কোথা থেকে ককপিটের পাসওয়ার্ড পেয়েছিল তা খতিয়ে দেখছেন।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইটটি সকাল 8:14 মিনিটে বেঙ্গালুরু থেকে রওনা দেয়। নির্ধারিত সময়ে সকাল 10:45 মিনিটে বারাণসী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পাইলট সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে দুই যাত্রীকে গেটে দেখতে পান এবং হাইজ্যাকিং আশঙ্কায় গেট খোলেননি।
প্রকাশ্যে তৃণমূল নেতা বন্দুক ও কার্তুজ কেনাবেচা, বোলপুরে বিতর্ক
প্রকাশ্যে তৃণমূল নেতা বন্দুক ও কার্তুজ কেনাবেচা, বোলপুরে বিতর্ক
ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া দৃশ্য, বোলপুরের শিমুলিয়া গ্রাম
বোলপুরে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োতে দেখা গেছে, তৃণমূল নেতা দোলন শেখ প্রকাশ্যে বন্দুক ও কার্তুজ বিক্রির ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ভিডিয়োর সত্যতা এখনও ইটিভি ভারত যাচাই করেনি। পুলিশ ভিডিয়োটি খতিয়ে দেখছে। তৃণমূলের কোনও নেতা এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।
ভিডিয়োতে দেখা গেছে, শিমুলিয়া গ্রামের দোলন শেখ বাইকে বসে একটি প্লাস্টিক থেকে কার্তুজ বের করে একজনকে দিচ্ছেন। ২০টি বড় কার্তুজ গুনে একটি প্লাস্টিকে ভরে দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় এই ঘটনা ঘটার পর বিজেপি তৃণমূলকে সমালোচনা করেছে।
বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং বলেন, "ভিডিয়োটি ভেরিফাই করা হচ্ছে, তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" শ্যামাপদ মণ্ডল (বিজেপি) মন্তব্য করেছেন, "শেখ দোলন তৃণমূলের নেতা, প্রকাশ্যে অস্ত্র-কার্তুজ কেনাবেচা করছে, পুলিশ প্রশাসন এখনও চুপ।"
উল্লেখ্য, বীরভূমে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঘটনায় উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রামপুরহাট ও নানুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড, নলহাটিতে পাথর খাদানে ধস—এই আবহে প্রকাশ্য রাস্তায় অস্ত্র কেনাবেচা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
পুজো উদ্বোধনে আসছেন অমিত শাহ — সফরের তারিখ পিছিয়ে, ২৬ সেপ্টেম্বর দিল্লি মন্ত্রীর কলকাতা সফর
পুজো উদ্বোধনে আসছেন অমিত শাহ — সফরের তারিখ পিছিয়ে, ২৬ সেপ্টেম্বর দিল্লি মন্ত্রীর কলকাতা সফর
Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
আপডেট: 22 সেপ্টেম্বর 2025
শ্রেণি: রাজনীতি • সংস্কৃতি
/>
ফাইল ফটো: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (প্রতীকী)। ছবি: সংবাদসংস্থা।
পিছিয়ে গেল সফরের তারিখ। ২২ বা ২৩ সেপ্টেম্বর নয় — পুজো উদ্বোধন করতে আগামী শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 0
‘পশ্চিমবঙ্গ সংস্কৃতি মঞ্চ’ আয়োজিত (বকলমে রাজ্য বিজেপির উদ্যোগে) বিধাননগরের ‘পূর্বাঞ্চলীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র’ (ইজ়েডসিসি) যে দুর্গাপুজোর আয়োজন হচ্ছে, সেটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন তাঁরই করার কথা। একটি বিজেপি সূত্রের দাবি, কলকাতায় আরও দু’টি মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পারেন শাহ — একটি উত্তর কলকাতায়, অন্যটি দক্ষিণ কলকাতায়। 1
সংক্ষেপে — কী জানা যাচ্ছে
অফিশিয়ালি চূড়ান্ত সফরসূচি হাতে না-পাওয়া পর্যন্ত বিজেপি নেতৃত্ব এ নিয়ে কিছু বলেননি।
বিজেপি সূত্র বলছে — এবারে একটির বদলে তিনটি মণ্ডপ উদ্বোধন করতে পারেন শাহ।
গত বিধানসভা ভোটের আগে ২০২০ সালে ইজ়েডসিসি-তে প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছিল বিজেপি; পরের বছর বিধানসভা নির্বাচন থাকায় পুজোর আয়োজন সাড়ম্বরে হয়েছিল এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই পুজো উদ্বোধন করেছিলেন। ২০২৩ সালে শাহ কলকাতায় এসে দুর্গোৎসবের উদ্বোধন করেছিলেন — সেইবার তিনি উত্তর কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের (লেবুতলা পার্ক) পুজো উদ্বোধন করেছিলেন, যার উদ্যোক্তা বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ। 2
এবছরও নির্বাচনী পরবর্তী প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক মিলিয়ে পুজো উদ্বোধনকে একটি বড় আউটরিচ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুর লাগোয়া এলাকা ইত্যাদি নিয়ে রাজনীতিক মহলে নানা জল্পনা থাকলেও বিজেপি এখনই আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেয়নি। 3
নোট: এখানে উল্লিখিত তথ্যগুলো মূলত বিজেপি সূত্র এবং বিভিন্ন সংবাদসংস্থার রিপোর্টে ভিত্তি করে করা হয়েছে; চূড়ান্ত সফরসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলে প্রতিবেদন আপডেট করা হবে। 4
মাটিয়ালিতে ১১টি পরিবার তৃণমূলে যোগ — ডুয়ার্সে তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধিতে নতুন ধাক্কা
রিপোর্ট: রকি চৌধূরী, মাটিয়ালি
দুই দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ — মাটিয়ালিতে ১১টি পরিবার, ডুয়ার্সে তৃণমূলের শক্তি বাড়ল
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ · আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ · স্থানীয় সংবাদ
মাটিয়ালির মুন্সীধূরা এলাকায় রবিবার রাতে তৃণমূলে যোগদানকারী পরিবারের সদস্যরা দলীয় পতাকা হাতে নেন। (ছবি: স্থানীয় প্রতিনিধি)
মাটিয়ালি ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মুন্সীধূরা এলাকায় রবিবার রাতের এক সরল কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে ১১টি পরিবার তৃণমূলে যোগদান করেছেন। ওই পরিবারগুলো ছিল বিভিন্ন সময়ে সিপিআইএম এবং বিজেপির তালিকাভুক্ত—কিন্তু স্থানীয় মনোমালিন্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর তারা আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসলেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা এটিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডুয়ার্সে দলের শক্তি বাড়ানোর সূচনা বলে উল্লেখ করেছেন।
আরও খবর পড়ুন, নেপালের প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী কে গ্রেপ্তার এর দাবি জোরালো হচ্ছে
সংক্ষিপ্ত সারমর্ম
স্থান: মুন্সীধূরা, বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েত, মাটিয়ালি ব্লক
যোগদান অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সদস্য রেজাউল বাকী, মাটিয়ালি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হাসান হাবিবুল হোসেন এবং ব্লক তৃণমূলের স্মোমিতা কালান্দি উপস্থিত ছিলেন। স্মোমিতা কালান্দি যোগদানকারীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিলে উপস্থিত মনোরম চিত্রের সৃষ্টি হয়। যোগদানকারীরা জানান যে তারা পূর্বে তৃণমূলে ছিলেন, পরে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মতানৈক্যের কারণে অন্য দলে চলে যান; এখন নিজেদের ভুল বুঝে তারা ফিরে এসেছেন।
"আমরা নিজেদের ভুল বুঝেছি। স্থানীয় সমস্যার সঠিক সমাধান ও জনসেবার প্রতিশ্রুতির কারণে আমরা আবার তৃণমূলে যোগ দিলাম,"— একটি যোগদানকারী পরিবারে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি জানান।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদিও ১১টি পরিবার সংখ্যায় বড় না, তবুও প্রতীকী দিক থেকে এ ধরনের যোগদান দলের আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধির দিক নির্দেশ করে। মাটিয়ালি ও তার আশেপাশের এলাকায় দলগুলি—বিশেষত সিপিআইএম এবং বিজেপি—সংকটকালীন সময়ে ভোট ব্যাংক হারাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের সংগঠিত ভ্রামণ এবং পুনরায় ভিত্তি জোরদার করার প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
আরও খবর পড়ুন , আগামী লোকসভা নির্বাচনে কোন ভ্যাকান্সি নাই
স্মোমিতা কালান্দি সংবাদদাতাদের বলেন, "২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রত্যেকটি বুথ শক্তিশালী করা হবে। সোমবার ১১টি পরিবার যোগ দিল—এটি একটি অসম্পূর্ণ শুরু; আগামী দিনে আরও যোগদান হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণের মাঝেই দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করা।" তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় কাদেরা¬দের প্রতি দলীয় কাজ বাড়ানোর ইঙ্গিত রয়েছে।
অন্যদিকে, সিপিআইএম ও বিজেপি’র স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনার গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছেন। সিপিআইএমের এক স্থানীয় নেতা বলেন, "মানবিক ও পারিবারিক কারণে কখনো কখনো মানুষ দল পরিবর্তন করে। এটা স্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করবে—এমনটি মনে করি না।" বিজেপির স্থানীয় সুত্রও এক্ষেত্রে মৃদু প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "স্থানীয় ক্ষেত্রে পারফর্মেন্সের ভিত্তিতেই মানুষ সিদ্ধান্ত নেয়; আমরা আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করব।"
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ডুয়ার্স অঞ্চল—যেখানে জাতিগত-পশ্চিমবঙ্গীয় স্বাতন্ত্র্য, অভিবাসী কর্মীবাহিনী ও ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে রাজনীতিতে জটিলতা বিদ্যমান—সেখানে প্রতিটি ছোট মিড-সাইজ রাজনীতিক পরিবর্তনও বড় ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে যে কাউন্টি বা ব্লকগুলোর ফলাফল ঘুরি বড়—তাই দলেরা ক্ষুদ্র অংকের জয়-হারে নিজেদের কৌশল গঠন করে থাকেন।
এ ঘটনার প্রভাব কী হতে পারে?
স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী হতে পারে।
ভোটব্যাঙ্কে সামান্য কিন্তু লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে—বিশেষত মুন্সীধূরা ও আশেপাশের অঞ্চলে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলেরা তাদের স্ট্র্যাটেজি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যোগদানের পিছনে মূল অনুযোগ ছিল—পূর্বের দলের মধ্যে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সম্পর্ক, কাজের গতি ও সুবিধা বণ্টনে অনভিপ্রেত ব্যর্থতা। একজন প্রতিবেশী বলেন, "যেখানে আমাদের সমস্যার সমাধান দ্রুত হয় না, সেখানে মানুষ পরিবর্তিত সুবিধা খোঁজে। যদি নতুন যোগদানের পরে উন্নতি দেখা দেয় তবে সেটাই গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বাস্তব ফল।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বলছেন, ১১টি পরিবারের এই সিদ্ধান্তকে অনাবশ্যকভাবে একটি বড় রাজনৈতিক ইতিহাসে ফেললে ভুল হবে; তবে প্রতীকীভাবে এটি তৃণমূল কংগ্রেসের আঞ্চলিক কূটনীতির সফলতা বলে ধরা যায়। ২০২৬ বিধানসভায় যেখানে প্রতিটি আসনই গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে স্থানীয় মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দলগুলো এখনই মাঠে সক্রিয় হচ্ছে।
জেলা পর্যায়ের নেতারা বলছেন যে তারা আগামী কয়েক সপ্তাহে আরো প্রথাগত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনসেবামূলক উদ্যোগ চালাবে—যার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য শিবির, বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ ক্যাম্প ও শিক্ষা সহায়তা। এই ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় স্তরে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে বলে তারা আশাবাদী।
সমাপ্তিতে, মাটিয়ালির মুন্সীধূরা এলাকায় ১১টি পরিবারের তৃণমূলে পুনরায় যোগদান একটি স্থানীয় রাজনৈতিক ঘটনা হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব আছে—বিশেষত ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক-পরিবেশে। স্থানীয় প্রতিক্রিয়া, দলগুলোর কৌশল বদল এবং ভবিষ্যৎ যোগদানের সম্ভাব্যতাকে ধরে রেখে রাজনীতির ছোট ছোট ঢেউগুলো পরের কয়েক মাসে বড় আকার ধারণ করতে পারে।
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৪৭ PM IST | রিপোর্টার: ফারিয়া মন্ডল
হাইকোর্টে সিবিআই চার্জশিট ও মামলাকারীদের 'অযোগ্য'দের তালিকা জমা
পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার হাইকোর্টে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। মামলাকারীদের তরফ থেকে আদালতে পেশ করা হয়েছে তথাকথিত ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের একটি তালিকা। এর পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইও চার্জশিট জমা দিয়েছে। আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর সামনে এই তালিকা জমা পড়তেই প্রবল আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
আরো খবর পড়ুন , DA মামলায় সুপ্রিম কোর্টে লিখিত পেশ
চাকরিহারাদের আপত্তি
অযোগ্যদের তালিকা আদালতে জমা পড়ার পর চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁদের আইনজীবীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে তাঁদের আবারও বঞ্চিত হতে হচ্ছে। আদালত জানিয়েছে, চাকরিহারাদের আপত্তির বিষয়টি শোনা হবে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আগামী ২৯ অক্টোবর দুপুর দুটোয় এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
যোগ্য-অযোগ্য বিতর্ক
এর আগে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও একই ধরনের যোগ্য-অযোগ্য প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। আদালত প্রশ্ন তুলেছিল, কারা বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন আর কারা পাননি। গত অগাস্ট মাসে হাইকোর্টে শুনানির সময় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের একাংশের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, তাঁদের ক্লায়েন্টরা কোনও বিশেষ সুবিধা পাননি। কিন্তু নতুন চার্জশিটে উঠে এসেছে একাধিক ‘র্যাঙ্ক জাম্প’ এবং মেধা তালিকা উপেক্ষা করে নিয়োগের প্রমাণ।
আরো খবর পড়ুন , ভোটার আগে বাম শিবিরে বড়ো ধাক্কা
ডিপিএসসি নাকি সিলেকশন কমিটি?
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে আরেকটি গুরুতর প্রশ্ন—প্রাথমিকের নিয়োগপত্র দিয়েছে ডিপিএসসি (DPSC) না সিলেকশন কমিটি? কারণ, আইন অনুযায়ী জেলাভিত্তিক ডিপিএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। তবে, নিয়োগের সময় কার্যকরী ডিপিএসসির অস্তিত্ব ছিল কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। একক বেঞ্চ পূর্ব মেদিনীপুর সংক্রান্ত একটি মামলায় সম্প্রতি জানিয়েছিল, ডিপিএসসির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।
তথ্যবক্স:
- মামলার নাম: পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক টেট নিয়োগ দুর্নীতি মামলা
- প্রধান বিচারপতি: তপোব্রত চক্রবর্তী
- তদন্ত সংস্থা: সিবিআই
- পরবর্তী শুনানি: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২টা
- মামলাকারীদের আইনজীবী: বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সওয়াল
মামলার প্রধান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে স্পষ্টভাবে জানান, শুধুমাত্র টাকার লেনদেন নয়, মেধা তালিকা ভাঙচুর করাও দুর্নীতি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, বোর্ড সিলেকশন কমিটি গঠন করলেও সেটি কার্যত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। বোর্ড নিজস্ব নিয়মই অনুসরণ করেনি। যদি একজনও ‘মেরিট জাম্পিং’-এর ঘটনা ঘটে, তবে সেটি আদালতের সামনে আনা জরুরি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয়ভাবে যদি ডিপিএসসিগুলির ক্ষমতা প্রাথমিক বোর্ড নিজের হাতে নিয়ে নেয়, তবে নিয়োগপত্র জারি করেছে সিলেকশন কমিটি, ডিপিএসসি নয়। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েই নতুন প্রশ্ন উঠেছে। আদালত মনে করছে, পাবলিক এমপ্লয়মেন্ট সংক্রান্ত যেকোনও প্রক্রিয়ায় আরও বেশি দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন।
আগামী দিনের গুরুত্ব
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার এই নতুন মোড় নিঃসন্দেহে রাজ্য রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। ইতিমধ্যেই চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ নতুন করে আন্দোলনের পথে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, দুর্নীতির শিকার হয়ে তাঁরা চাকরি হারিয়েছেন। এখন যদি আদালত আবারও নিয়োগ তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তবে ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে, সিবিআই চার্জশিটে উল্লেখিত তথ্যে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে, একাধিক অযোগ্য প্রার্থী মেধার বাইরে গিয়ে চাকরি পেয়েছেন। এই তালিকা আদালতে পেশ হওয়ার ফলে অনেক নতুন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
উপসংহার
সবমিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা আবারও নয়া মোড় নিল। অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা জমা পড়ায় মামলার জটিলতা আরও বেড়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আইনজীবীদের সওয়াল এবং সিবিআই-এর চার্জশিট মিলিয়ে আগামী শুনানি (২৯ অক্টোবর) মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিহারা প্রার্থীর চোখ এখন আদালতের রায়ের দিকেই।
শেয়ার করুন:
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় রাজ্য সোমবার সুপ্রিম কোর্টে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছে। রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে — প্রায় ১০টি রাজ্যে ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) মেনে ডিএ দেওয়া হয় না। শুনানিতে তা আদালত জানতে চেয়েছিল এবং রাজ্যের লিখিত প্রস্তাবনাতেও এ তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংক্ষিপ্ত হাইলাইট
আদেশ (আন্তর্বর্তী)
ডিএ-র ২৫% বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সভা ও শুনানি
শুনানি শেষ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — রায় স্থগিত
রাজ্য দাবি
অর্থনৈতিক সঙ্কট ও বাজেটে বরাদ্দ না থাকার কারণে আরও সময় প্রয়োজন।
গত ৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মামলার শোনানি শেষ হয়েছে। বেঞ্চ রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে এবং বিভিন্ন পক্ষ লিখিত বক্তব্য দাখিলের সুযোগ দিয়েছিল। রাজ্য তার লিখিত জবাব আদালতে জমা দিয়েছে। মামলাকারী সরকারি কর্মচারীদের একাংশের আইনজীবী করুণা নন্দী আদালতে পাল্টা লিখিত বক্তব্য জমা দিতে চান; বেঞ্চ এক সপ্তাহ আগে সেই সময়সীমা জানিয়ে দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট পূর্বে রাজ্যকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল এবং এটি পূরণের জন্য ছয় সপ্তাহ সময়ও দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজ্য সেই পরিমাণ পরিশোধ করতে পারেনি এবং অতিরিক্ত ছয় মাস সময় চেয়ে আবেদন জানায়। আদালতে ওই আবেদন দেখেই বেঞ্চ আগস্ট মাসে শুনানি শুরু করে এবং পরে রায় পিছিয়ে যায়।
ঘটনার সময়রেখা (সংক্ষেপে)
২০২২: কলকাতা হাই কোর্ট সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে রায় দেয় — কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবি মানা হয়।
২০২৩-২০24: স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (এসএটি) ও উচ্চ আদালতের বিবেচনা।
২০২৫ (অগাস্ট-সেপ্টেম্বর): সুপ্রিম কোর্টে শুনানি; ৪–৭ অগাস্টে ধারাবাহিক শুনানি; ৮ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষ; রায় স্থগিত।
রাজ্যের যুক্তি ছিল যে মহার্ঘ (ডিএ) বাধ্যতামূলক নয় এবং এটি কর্মীদের মৌলিক অধিকার বলে গণ্য করা যায় না; কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক কাঠামোও ভিন্ন — তাই কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে তুলনা করা যুক্তিযুক্ত নয়। মামলাকারী পক্ষের বক্তব্য ছিল যে ডিএ নির্দিষ্ট সময়মতো দিতে হবে, এটি সরকারের নীতির অংশ; বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে ডিএ কার্যকারিতা বজায় রাখা প্রয়োজন এবং প্রয়োজনে বকেয়া কিস্তিতে দেওয়া হোক।
মামলাটি স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল, কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। কলকাতা হাই কোর্ট ২০২২ সালে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে রায় জানিয়েছিল। রাজ্য সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে গেলে সুপ্রিম কোর্ট গত কয়েক মাসে বিষয়টি শুনেছে ও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছেন।
জুবিনের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ অসম, রাষ্ট্রীয় শোক মঙ্গলবার পর্যন্ত
জুবিনের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ অসম
স্টাফ রিপোর্টার | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
গায়ক জুবিন গর্গের প্রয়াণে শোকে স্তব্ধ অসম
অসমে রাষ্ট্রীয় শোকের মেয়াদ আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে। আগামিকাল, মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে এই শোক পালন। সেইদিনই জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে রবিবার রাতেই জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। গোটা রাজ্য এখন শোকস্তব্ধ, শিল্পীর প্রয়াণে যেন থমকে গেছে অসমের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল।
প্রসঙ্গত, ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন জুবিন গর্গ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তর-পূর্ব ভারতসহ সমগ্র দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। সংগীতপ্রেমীরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না, প্রিয় শিল্পী আর নেই।
আরোও পড়ুন , তেলে বেগুনে জ্বলছে নেতানিয়াহু
অসম সরকার প্রথমে তিন দিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিল্পীর অবদান ও জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে রাষ্ট্রীয় শোকের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে মঙ্গলবার পর্যন্ত। ওইদিনই গৌহাটিতে রাজ্য সরকারের আয়োজনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
অসমের ‘রকস্টার’ থেকে কিংবদন্তি
জুবিন গর্গ শুধু অসম নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগীতজগতের অন্যতম প্রতীক। জনপ্রিয় এই গায়ক ১৯৭২ সালে অসমের শিবসাগরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা ছিল। শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেওয়ার পাশাপাশি তিনি আধুনিক গান, রক, লোকসংগীতসহ নানা ধারা আয়ত্ত করেন।
১৯৯০-এর দশকে জুবিন গর্গ যখন বলিউডে প্লেব্যাক শুরু করেন, তখন থেকেই তাঁর কণ্ঠস্বর সারা দেশে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ‘ইয়া আলি’, ‘ক্যায়সে ভূলোগে’, ‘চন্দনি রাত’, এবং আরও অনেক হিন্দি গানে তাঁর কণ্ঠ চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তবে তিনি কখনোই অসমের মাটির গানকে ভুলে যাননি। বরং অসমিয়া ভাষায় একের পর এক অ্যালবাম প্রকাশ করে স্থানীয় সংগীত সংস্কৃতিকে তিনি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন।
অসমের তরুণ প্রজন্মের কাছে জুবিন ছিলেন এক আদর্শ। তিনি শুধু গায়কই ছিলেন না, ছিলেন সুরকার, অভিনেতা, এবং সমাজকর্মীও। তাঁর গান ও উপস্থিতি রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
ভক্তদের আবেগ ও শোক
গায়ক জুবিন গর্গের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা অসম জুড়ে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাচ্ছেন, মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে চলছে স্মৃতিচারণ। কেউ কেউ লিখেছেন, "জুবিনদা আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।" আবার কেউ বলছেন, "অসমের সংগীতের প্রাণ হারালাম আমরা।"
আরও পড়ুন , ভোটের আগেই বিরোধী শিবিরে বড়ো ধাক্কা
গৌহাটির রাস্তায় ব্যানার-পোস্টারে ভরে গেছে। ভক্তদের চোখে অশ্রু আর ঠোঁটে প্রিয় গায়কের গান। অনেকে বলছেন, জুবিন ছিলেন শুধু শিল্পী নন, তিনি ছিলেন এক অনুভূতির নাম। তাঁর মৃত্যুতে অসমের সংগীত ভুবন এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে।
সরকার ও সমাজের প্রতিক্রিয়া
অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "জুবিন গর্গ কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি অসমের গর্ব। তাঁর প্রয়াণ আমাদের জন্য এক বিশাল ক্ষতি।" মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।
রাজনীতিবিদ, অভিনেতা, সংগীতশিল্পী—সবাই জুবিনের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। বলিউড থেকেও বহু শিল্পী তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইজরায়েল-হামাস সংঘাত: প্যালেস্তাইনের রাষ্ট্র মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইজরায়েল-হামাস সংঘাত: প্যালেস্তাইনের রাষ্ট্র মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
হামাসের বিরুদ্ধে দিন দিন তেলেবেগুনে জ্বলছে ইজরায়েল। আইডিএফ-এর বিমান ও স্থল হামলা গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি এমন যে, সাধারণ মানুষ ও শিশুদের জীবন এখন একেবারেই ঝুঁকিতে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, "হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত হামলা চলবে।"
গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইজরায়েলি বিমান হামলার দৃশ্য।
প্যালেস্তাইনের রাষ্ট্র স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন
হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "যতদিন না অবধি স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, আমাদের লড়াই চলবে।" এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারতসহ মোট ১৪২টি দেশ প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়ার সমর্থনে ভোট দিয়েছে। এর আগে ফ্রান্স, ব্রিটেন, কানাডা সহ আরও কিছু দেশ প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্র মর্যাদা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। বর্তমানে ব্রিটেন, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া প্যালেস্তাইনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি ও রাজনীতির প্রভাব
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "গোটা ঘটনায় জঙ্গি অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদীদের সুবিধা করা হয়েছে। তাদেরকে একপ্রকার উপহার দেওয়া হয়েছে। তবে প্যালেস্তাইনকে কখনও স্বাধীন রাষ্ট্র হতে দেব না।" তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় ইজরায়েলের হুঁশিয়ারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রসংঘের ভোটের বিস্তারিত
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটে ভারতসহ ১৪২টি দেশ প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার সমর্থনে ভোট দিয়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ১০টি দেশ, এবং ১২টি দেশ ভোট প্রদান করেনি। এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে এক ধরণের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও বিরোধ একসাথে ফুটে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটের মাধ্যমে প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্র মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ সম্ভবত ইজরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তবে বাস্তব ক্ষেত্রে তা সরাসরি হামলা বন্ধ করতে পারে কি না তা এখনও অজ্ঞাত।
মানবিক সংকট
গাজার শরণার্থী শিবিরে শিশুদের উপরও হামলা চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই গাজায় ইজরায়েলি হামলায় প্রায় ৬০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে শিশু ও নারী সংখ্যাও অনেক। সাধারণ মানুষদের উপর হামলার অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। বর্তমান পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয়ের দিকেই এগোচ্ছে, যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ছে।
শরণার্থী শিবিরে তৃষ্ণার্ত শিশুদের জন্য পানি ও খাদ্যের সংকট।
আরও দেশ স্বীকৃতি দিচ্ছে
বেলজিয়াম সম্প্রতি প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্র মর্যাদা দিয়েছে। এর আগে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও কানাডা ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি জানিয়েছিল। এখন সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছে পর্তুগাল। আন্তর্জাতিক মহলে এই বিষয়টি শোরগোল সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির উপর এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশ প্যালেস্তাইনের সমর্থনে অবস্থান নেওয়ায় ইজরায়েল-হামাস সংঘাতের আন্তর্জাতিক দিকও জোর পেয়েছে।
পরবর্তী পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে, সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ ভবিষ্যতের সংঘাত ও শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেলে প্যালেস্তাইনকে পূর্ণ রাষ্ট্র মর্যাদা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে, তবে তা তৎক্ষণাৎ সংঘাত বন্ধ করতে পারে না। ইজরায়েলি সেনার হামলা ও হামাসের প্রতিরোধ চলতে থাকবে এবং সাধারণ মানুষদের জীবন ঝুঁকিতে থাকবে।
বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করছেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।