Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Wednesday, 10 September 2025

ষড়যন্ত্র হয়েছে”, বহিরাগত শক্তিকে দুষলেন দিলীপ ঘোষ – নেপাল অস্থিরতা নিয়ে তীব্র মন্তব্য

Gen Z বিপ্লবে উত্তাল নেপাল, ইস্তফা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ওলি – ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে

Gen Z বিপ্লবে উত্তাল নেপাল, ইস্তফা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ওলি – ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

স্থান: কলকাতা / কাঠমান্ডু

Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিনদিন সংকটজনক হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের অর্থাৎ ‘Gen Z’-এর নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রবল চাপের মুখে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। নেপালের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা শুধু সেই দেশের জন্য নয়, প্রতিবেশী ভারতেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ নেপালের সংকট নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অন্তর্নিহিত সমস্যা তো রয়েইছে, তবে বহিরাগত শক্তির হাতও রয়েছে। এর ফলে দেশগুলো আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় পড়তে পারে।”

📌 নেপালের রাজনৈতিক সংকটের পটভূমি

গত কয়েক মাস ধরেই নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছিল। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে শহরাঞ্চলের শিক্ষিত যুবসমাজ, প্রশাসনিক দুর্বলতা, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। ৪ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডু সরকার হঠাৎ করে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রামসহ প্রায় সব বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অভিযোগ করা হয়, এই সংস্থাগুলি নেপাল সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত নয় এবং নিরাপত্তার কারণে তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

সরকার ৭ দিনের মধ্যে প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিলেও, একটিও সংস্থা তা মানেনি। ফলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে সোমবার হাজার হাজার মানুষ রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন দ্রুতই উত্তপ্ত রূপ নেয়। মঙ্গলবার রাতের মধ্যে তা হিংসাত্মক চেহারা গ্রহণ করে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন। জনরোষ বাড়তে থাকায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বাধ্য হন পদত্যাগ করতে।

📌 Gen Z আন্দোলনের কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব এবং শিক্ষা-সংকট দীর্ঘদিন ধরে জমে ছিল। সোশ্যাল মিডিয়া তাদের মত প্রকাশের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছিল। হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ আন্দোলনের পেছনে বড় কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহিরাগত শক্তি এই আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হওয়ায় বিদেশি প্রভাব বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

📌 ভারতের উদ্বেগ

নেপালের এই অস্থিরতা ভারতের জন্যও একটি বড় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে শরণার্থী প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য, পর্যটন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন:

“গত পাঁচ থেকে সাত বছরে ভারতের প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে এরকম পরিস্থিতি হয়েছে। এর পিছনে অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি বহিরাগত শক্তির ইন্ধন রয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত শান্তি ফিরুক, এটিই আমরা চাই।”

তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল থেকে মানুষ ভারতে প্রবেশ করতে পারে। নিরাপত্তার বিষয়েও নজরদারি বাড়াতে হবে।”

📌 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নেপালের এই সংকট দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। পাশাপাশি চীনের প্রভাব, বিদেশি অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক গ্রুপগুলির ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

📌 অর্থনৈতিক প্রভাব

নেপালের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কায় পড়তে পারে। পর্যটন খাত ইতিমধ্যেই ক্ষতির মুখে। বহু ছোট ব্যবসা বন্ধ হওয়ার মুখে। শিক্ষিত তরুণরা কাজ হারিয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে পণ্যের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় ভারত ও নেপালের ব্যবসায়ী মহল উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক অর্থনীতি আরও খারাপ হতে পারে।

📌 নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, অস্থিরতা চলতে থাকলে সন্ত্রাসবাদী বা সংগঠিত অপরাধমূলক চক্র সক্রিয় হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত সীমান্ত, অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ বাণিজ্য এই অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, “নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সীমান্ত অঞ্চলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।”

📌 রাজনৈতিক সমাধানের পথ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নেপালের বর্তমান সংকট সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, তরুণদের সঙ্গে সংলাপ, অর্থনৈতিক প্যাকেজ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। ভারতে বসবাসকারী নেপালি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

নেপালের প্রতিবাদে তরুণদের মিছিল
কাঠমান্ডুর রাস্তায় হাজার হাজার Gen Z তরুণ প্রতিবাদে নেমেছেন সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদে।
দিলীপ ঘোষ প্রাতঃভ্রমণে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন
বিজেপির নেতা দিলীপ ঘোষ প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে নেপালের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাংলার অর্থনীতিকে বদলে দিয়েছে

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাংলার অর্থনীতিকে বদলে দিয়েছে | Y বাংলা নিউজ

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাংলার অর্থনীতিকে বদলে দিয়েছে, বললেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ডিরেক্টর

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন
গ্রামীণ মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: বাংলার অর্থনীতিতে মহিলাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এক বড় ভূমিকা পালন করছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। মঙ্গলবার বীরভূমের সিউড়িতে একটি ব্যাংক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এই প্রকল্পের প্রশংসা করেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ডিরেক্টর সুধাংশু প্রসাদ। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাংলার অর্থনীতিকে অনেকটাই পালটে দিয়েছে।”

পাঁচ কোটি নতুন অ্যাকাউন্ট, ২৫ হাজার কোটি জমা

তিনি জানান, বাংলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে পাঁচ কোটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছেন মহিলারা। এই নতুন অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা জমা পড়ছে। তাঁর কথায়, “সব ব্যাংক মিলিয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে প্রস্তুত। কারণ, মহিলারা কখনও ঋণখেলাপি হন না।”

ব্যাংক গ্রাহকদের সচল রাখতে ‘রি-কেওয়াইসি’ কার্যক্রম

অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল দশ বছরের পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জন্য ‘রি-কেওয়াইসি’ আবেদন গ্রহণ। ব্যাংক প্রতিনিধিদের মধ্যে বলবীর সিং, অনির্বাণ দত্ত, অঞ্জলি কুমার, প্রণব বিশ্বাস এবং সঞ্জীব কুমার উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত: ঝুঁকি বহুল, মাঝারি ঝুঁকি এবং কম ঝুঁকি। বর্তমানে কম ঝুঁকির গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

বাংলায় এখনও প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহকের কেওয়াইসি জমা পড়েনি। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ডিরেক্টর বলেন, “টাকা ছাড়াও এখন গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এতে তাঁরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। পাশাপাশি দু’লাখ টাকার জীবন বিমা, অটল পেনশন, সুরক্ষা বিমা এবং জীবনজ্যোতি বিমার সুবিধা পাবেন।”

ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষার সতর্কতা

তিনি ব্যাংক গ্রাহকদের সতর্ক করে বলেন, “ব্যক্তিগত কোনও তথ্য ব্যাংকের বাইরে কোথাও দেবেন না। কোনও ওটিপি কাউকে শেয়ার করবেন না। টাকা খোয়া গেলে দ্রুত ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।” এই বক্তব্য গ্রাহকদের নিরাপদ ব্যাংকিং নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থনীতির শক্তি হিসেবে মহিলারা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প গ্রামীণ মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তাঁদের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খুলতে উৎসাহিত করছে। এর ফলে তাঁরা ঋণ সুবিধা, বিমা, পেনশনসহ একাধিক আর্থিক সুরক্ষা পেয়ে আত্মনির্ভর হচ্ছেন। বাংলার অর্থনীতিতে এটি দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা শিক্ষার আলোয়, প্রজেক্ট সঞ্জীবনীয় নতুন জীবন

গঢ়চিরৌলির আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা শিক্ষার আলোয়, প্রজেক্ট সঞ্জীবনীয় নতুন জীবন

গঢ়চিরৌলির আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা শিক্ষার আলোয়, প্রজেক্ট সঞ্জীবনীয় নতুন জীবন

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | গঢ়চিরৌলি, মহারাষ্ট্র

আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা স্কুলে শিক্ষাগ্রহণ করছেন
আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা পেন, খাতা নিয়ে ক্লাসে বসেছেন — নতুন জীবন শুরু

শৈশব থেকেই বন্দুকের ছায়ায় বড় হওয়া গঢ়চিরৌলির প্রায় ১০৬ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী আজ শিক্ষার আলোয় এগিয়ে চলেছেন। এক সময় পড়াশোনার বদলে যুদ্ধের পাঠই তাঁদের জীবনের অংশ ছিল। সামাজিক শিক্ষা বা বিদ্যালয়ের পরিবেশ তাঁদের কাছে ছিল অচেনা। কিন্তু মহারাষ্ট্র সরকারের উদ্যোগে ‘প্রজেক্ট সঞ্জীবনী’র মাধ্যমে তাঁদের জীবন পাল্টানোর এক ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।

বন্দুক থেকে বইয়ের পথে

যেসব শিশু বন্দুক হাতে বড় হয়েছে, তারা আজ ব্ল্যাকবোর্ডে চক ধরছে। পেন-পেন্সিল আর খাতার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় ঘটছে। গঢ়চিরৌলির ঘন জঙ্গলে বড় হওয়া এই মানুষগুলো আগে অস্ত্র নিয়ে জীবন কাটালেও এখন শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইছে। তাঁদের অনেকেই প্রথমবারের মতো স্কুলের পরিবেশে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন।

'প্রজেক্ট সঞ্জীবনী': নতুন সূচনা

মহারাষ্ট্র সরকারের ‘প্রজেক্ট সঞ্জীবনী’ বিশেষভাবে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসনের জন্য তৈরি। এই প্রকল্পের অধীনে তাঁদের সাক্ষরতা, মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক পুনর্গঠনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসের ৮ তারিখ থেকে এই সাক্ষরতা অভিযান শুরু হয়েছে, যা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর তাদের জন্য পরীক্ষা নিয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। লক্ষ্য আগামী বছরের প্রথম পর্যায়ের মধ্যে সকলকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে তোলা।

স্বপ্নের শিক্ষাজীবন

এই উদ্যোগে যুক্ত অনেকেই শুধু প্রাথমিক সাক্ষরতা অর্জনের মধ্যেই থেমে থাকতে চান না। তাঁরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে চাকরির সুযোগ তৈরি করতে চান। কেউ কেউ বিস্মিত যে এভাবে জীবন বদলানো সম্ভব। তাঁদের অনেকের ভাষ্য, “আমরা কখনো ভাবিনি বন্দুক ছাড়িয়ে খাতা-কলম হাতে নেব।” শিক্ষা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সমাজে স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসার পথ খুঁজছেন।

প্রশাসনের আশাবাদ

মহারাষ্ট্র প্রশাসন এই প্রকল্পকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। তাঁরা বিশ্বাস করেন, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরে আসা সম্ভব। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করা এবং তাঁদের জন্য শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এই প্রকল্প শুধু সাক্ষরতা নয়, মানবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এক বড় পদক্ষেপ।

সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা

এই উদ্যোগ অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। যুদ্ধ, সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে বড় হওয়া শিশুদের জন্য শিক্ষা যে এক নতুন দিশা হতে পারে, তা এই প্রকল্প প্রমাণ করছে। সমাজের সহমর্মিতা ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এক নতুন জীবন শুরু করা সম্ভব—এটাই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় বার্তা।

গঢ়চিরৌলির আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের শিক্ষায় ফিরিয়ে এনে সমাজে স্বাভাবিকভাবে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টা আগামী প্রজন্মের জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

স্মৃতি: রয়্যাল কিলিংয়ের আগুনে জ্বলেছিল কাঠমান্ডু

স্মৃতি: রয়্যাল কিলিংয়ের আগুনে জ্বলেছিল কাঠমান্ডু

স্মৃতি: রয়্যাল কিলিংয়ের আগুনে জ্বলেছিল কাঠমান্ডু

Y বাংলা ডেস্ক: লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল নানা জল্পনা। জন্ম নিচ্ছিল হাজারো থিয়োরি। আর পারদ চড়ছিল উত্তেজনার। কাঠমান্ডুর রাস্তায় বাড়ছিল উন্মত্ত জনতার ভিড়, ভাঙচুর, আগুন লাগানো। লাঠিচার্জেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ পুলিশ শেষ পর্যন্ত কাঁদানে গ্যাসের আশ্রয় নেয়। তাতে যেন আগুনে ঘি পড়ল। উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ল শহরের প্রতিটি মোড়ে।

Nepal protests Updates

ছবি: X

এত বছর পরেও একটা মুহূর্ত স্পষ্ট মনে আছে। দরবার মার্গের একদিকে ছেলেরা ইট–পাথর ছুড়ছে, আর উল্টোদিক থেকে পুলিশ ছুড়ছে টিয়ার গ্যাস এবং রাবার বুলেট। মাঝখানে আমি। চারদিকেই ধোঁয়া, আগুন আর চিৎকার। সেই সময় এক সুদর্শন পুলিশ অফিসার আমাকে দ্রুত নিরাপদ এক জায়গায় টেনে নিয়ে একটি হেলমেট দিয়ে বলেছিলেন, “পরে থাকুন।” তিনি যদি সে দিন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিতেন, তাহলে রক্তপাতের বিপুল সম্ভাবনা ছিল। রাস্তার বিভিন্ন অংশে জ্বলছিল আগুন। টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় গোটা এলাকা যেন এক বিশাল গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল।

পরবর্তী তিন–চারদিন এইভাবে চলল। প্রতিদিন সন্ধে ছ’টা থেকে ভোর ছ’টা পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকত। তার মধ্যেই একদিন কার্ফু অমান্য করে ক্যামেরা কাঁধে ঘোরার অপরাধে পুলিশ অশোকদাকে আটক করে সারা রাত থানায় রেখে দেয়। তখনকার দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল ত্রেতা যুগের মতো। মোবাইল ফোনের ব্যবহার এত সীমিত ছিল যে যোগাযোগের প্রায় কোনও পথই ছিল না। ফলে সারা রাত একফোঁটা খবরও পাইনি। নির্ঘুম রাতে বসে ভাবছিলাম, কী হতে পারে? কোথায় কার সঙ্গে যোগাযোগ করব? কীভাবে জানব পরিস্থিতি? ভোরের দিকে ছাড়া পেয়ে অশোকদা হোটেলে ফিরে স্বীকার করেছিল, “এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে রিস্ক নেওয়া ঠিক হয়নি।”

Nepal protests Updates – বর্ডার-চিত্র

বেলাগাম লুটপাট, প্রাণ হাতে পারাপার। তাও তো সেই কাঠমান্ডুর ক্রোধ ছিল রাজার প্রতি আবেগের কারণে। তখন মানুষের ক্ষোভের কারণ ছিল নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা, ঐতিহাসিক আঘাত। এবারের পরিস্থিতি আরও জটিল। ক্রোধ আরও গাঢ়। তার বহিঃপ্রকাশ আরও সাঙ্ঘাতিক। কত ক্ষণে, কত দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে তা এই মুহূর্তে অনুমান করা কঠিন। তবুও বলা যায়, যত কাণ্ড সেই কাঠমান্ডুতে! আগের ঘটনায় রাজাকে কেন্দ্র করে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সাধারণ মানুষের হতাশাকে কেন্দ্র করে। মানুষের মুখে মুখে ছড়াচ্ছে গুজব, নানা থিয়োরির জন্ম হচ্ছে। প্রশাসনের ওপর আস্থা কমছে। এবং এই উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামবে তা এখনই কেউ জানে না।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কিংবা আন্তর্জাতিক মহলের চাপ—সব কিছু মিলিয়ে কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। সাধারণ নাগরিকেরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা ভয়ে দোকান খুলতে পারছেন না। স্কুল–কলেজ বন্ধ। পরিবহন পরিষেবা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতির দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই উত্তেজনা সামাল দিতে হলে দ্রুত সমাধান দরকার। আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের নজরও এখন কাঠমান্ডুর দিকে। একদিকে নাগরিকের বিক্ষোভ, অন্যদিকে প্রশাসনের অনিশ্চয়তা—এই দ্বন্দ্বের মধ্যে কবে শান্তি ফিরবে তা এখনো অনিশ্চিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

নেপালে সাংবিধানিক সঙ্কট: ইস্তফা, বিক্ষোভ এবং সেনা শাসনের আশঙ্কা

নেপালে সাংবিধানিক সঙ্কট: ইস্তফা, বিক্ষোভ এবং সেনা শাসনের আশঙ্কা

একটির পর একটি ইস্তফা, নেপালে সেনাশাসনের আশঙ্কা তীব্র

Y বাংলা ডেস্ক: নেপাল এখন এক গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ইস্তফার পর এবার রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলও পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনায় প্রশাসনিক নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে বিক্ষোভকারীদের হামলা, লুটপাট এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা। নেপালের সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের কাছে হিংসা বন্ধের আবেদন জানালেও ক্ষমতা কার হাতে থাকবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা করেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নেপালে সেনাশাসনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ইস্তফা: সংকটের কেন্দ্রবিন্দু

রাজনৈতিক অস্থিরতার এক চরম পরিস্থিতির মুখে পড়েছে নেপাল। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল অস্থির। নানা দলীয় দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক সমস্যা এবং শাসনব্যবস্থায় আস্থাহীনতা দেশটিকে দুর্বল করে তুলেছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কেপি শর্মা ওলির ইস্তফা এবং তার পরপরই রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের পদত্যাগ দেশটিকে এক সাংবিধানিক শূন্যতায় ফেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ইস্তফাগুলি দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকির সংকেত।

বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে হামলা চালায়। সেখানে ব্যাপক লুটপাট হয় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলেও বিক্ষোভের তীব্রতা রোধ করা যায়নি। বহু মানুষ হতাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সেনার আবেদন: শান্তি বজায় রাখুন

নেপালের সেনাবাহিনী এই অস্থিরতার মাঝে দেশবাসীর কাছে এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। সেনার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “শান্তি বজায় রাখুন এবং আইনের পথে ফিরে আসুন।” তবে তারা ক্ষমতা গ্রহণ বা দেশ পরিচালনার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব শূন্য থাকার সুযোগে সেনাশাসনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সেনাবাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও তারা এখনও প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়নি। তবে যদি দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান না হয়, তাহলে সেনাশাসনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সংবিধান ও আইনের প্রশ্ন

নেপালের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে অন্তর্বর্তী শাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নিয়মাবলী অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন অপরিহার্য। অন্যথায় প্রশাসনিক শূন্যতা দেশের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে।

অনেকে আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক শূন্যতা এবং বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন চরমপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সেনাশাসনের সম্ভাবনা বাড়ে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগের কারণ।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

নেপালের এই সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য নেপালের রাজনৈতিক স্থিরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। প্রতিবেশী দেশগুলিও কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দ্রুত পুনরুদ্ধার চেয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব

রাজনৈতিক সংকটের কারণে নেপালের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ছে। বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ স্থগিত রেখেছেন। পর্যটন শিল্প, যা নেপালের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত, তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহল বলছে, প্রশাসনিক নেতৃত্ব না থাকলে আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যাহত হবে।

নেপালের সাধারণ মানুষের আশঙ্কা

রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। অনেকে কাজের জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। দোকানপাট অনেক জায়গায় বন্ধ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হামলার ভয়ে অনেকে বাড়ির বাইরে বেরোতে সাহস করছেন না। পাশাপাশি জরুরি পরিষেবা যেমন চিকিৎসা, পরিবহন এবং ব্যাংকিং খাতেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে?

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সেনাবাহিনী যদি প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করে, তবে সেটি গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য বিপজ্জনক বার্তা হতে পারে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলির আলোচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা গেলে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ, অর্থনৈতিক সংকট এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ—এই তিনের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে নেপালের রাজনৈতিক সংকট শুধু দেশটির জন্য নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত এবং গণতান্ত্রিক সমাধানই পারে পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

বাংলাদেশি বলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের কেন্দ্রকে তীব্র প্রশ্ন

বাংলাদেশি বলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের কেন্দ্রকে তীব্র প্রশ্ন

‘কাউকে কি এভাবে বলতে পারেন বাংলাদেশি?’ – কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র প্রশ্ন কেন্দ্রের উদ্দেশে

Y বাংলা ডেস্ক: নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিতর্ক, মানবাধিকার এবং আইনের লঙ্ঘন – এই তিনের কেন্দ্রে উঠে এল দিল্লির ঘটনাটি। কাজের উদ্দেশ্যে পরিবারসহ দিল্লিতে গিয়েছিলেন বীরভূমের দুই পরিবার। অথচ তাঁদের আটক করে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করা হয় এবং মাত্র দু’দিনের মধ্যে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনায় এবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চের শুনানিতে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যা দেশের নাগরিকত্ব আইন ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।

ঘটনার পটভূমি

বীরভূম জেলার দুই পরিবার কাজের সন্ধানে দিল্লি গিয়েছিলেন। তাঁদের আটকের পরে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করা হয়। এন কাটজু মার্গ থানায় আটক রাখার কয়েকদিন পরেই তাঁদের জোর করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আত্মীয়রা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। তাঁরা আদালতের কাছে আবেদন জানান, যেন ওই দুই পরিবারকে ফেরত এনে তাঁদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

বিচারপতির কঠিন প্রশ্ন

শুনানির সময় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী কেন্দ্রের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, “২৪ জুন অর্ডার হল, আর মাত্র দু’দিনের মধ্যে এদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিলেন? কীভাবে এত তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলেন এরা বাংলাদেশি?” আদালতের বক্তব্য, আইনের ২১ নম্বর ধারায় অন্তত ৩০ দিন আটক রেখে তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে। তা না মানা কেন?

বিচারপতি আরও বলেন, “শীর্ষ আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে। একজন স্পেশাল ইনফর্মারের কথায় ভিত্তি করে কীভাবে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করলেন? কাউকে কি এভাবে বলা যায় ‘বাংলাদেশি’?” এই মন্তব্য কেন্দ্রের আইনজীবীকে কার্যত কোণঠাসা করে।

কেন্দ্রের আইনজীবীর যুক্তি ও আদালতের প্রতিক্রিয়া

কেন্দ্রের আইনজীবী অশোক চক্রবর্তী বলেন, “মামলাটি দিল্লিতে রয়েছে। এরা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য লুকিয়েছে। তাই এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নেই।” তাঁর সওয়াল শুনে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আপনি কি মনে করেন যদি এরা কলকাতায় আটক হত, তাহলে শুধু এই আদালত শুনানি করত? বহিষ্কৃত ব্যক্তির কি আর কোনও সমাধান নেই?”

অন্যদিকে আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী বলেন, “এরা আজ পর্যন্ত হলফনামায় বলেননি যে তাঁরা বাংলাদেশি নাগরিক নন।” বিচারপতির পাল্টা মন্তব্য, “অর্ডারে আপনার অফিসার লিখেছেন বাংলাদেশি বস্তি থেকে আনা হয়েছে। তাহলে আপনি কারণ জানাতে বাধ্য। কোথায় ভিত্তি নিয়ে তাঁদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন?”

মানবাধিকার বনাম নিরাপত্তা – আদালতের অবস্থান

আদালত স্পষ্ট জানায়, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে অন্য দেশের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। আইনের বিধান অনুসারে যথাযথ তদন্ত ছাড়া কোনও ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। বিচারপতির বক্তব্য, “নিরাপত্তার প্রশ্ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই মানবাধিকার রক্ষাও সমান জরুরি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নামে আইনের পথ এড়ানো যায় না।”

এখানে আদালতের অবস্থান পরিষ্কার – সন্দেহভাজন হলেও অন্তত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নাগরিকত্ব যাচাই করতে হবে। অন্যথায় এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

ঘটনাটি শুধু আইনি নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকত্ব নিয়ে এই ধরনের তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দেশের রাজনৈতিক বিভাজন বাড়াতে পারে। একদিকে নিরাপত্তার যুক্তি, অন্যদিকে মানবাধিকারের প্রশ্ন – দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখাই সরকারের দায়িত্ব। আদালত এই ভারসাম্য রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র বলেন, “কাউকে তার পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়ে ফেরত পাঠানো শুধু মানবাধিকার নয়, বিচারব্যবস্থার ওপরও আঘাত।” আদালত মনে করছে, নাগরিকত্ব নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে প্রশাসনের ওপর বিশ্বাস নষ্ট হয়।

পরবর্তী শুনানি ও সম্ভাব্য নির্দেশ

শুনানির শেষে আদালত মামলার গ্রহণযোগ্যতা সরিয়ে রাখলেও আগামী বৃহস্পতিবার আবার শুনানির দিন ধার্য করেছে। আদালতের পক্ষ থেকে মামলাকারী আইনজীবীকে প্রশ্ন করা হয়েছে, “আপনারা বহিষ্কারের অর্ডার চ্যালেঞ্জ করেননি কেন? না করলে আদালত কী ভিত্তিতে শুনানি করবে?” আদালত চাইছে এই মামলার প্রক্রিয়াগত ও আইনি ভিত্তি পরীক্ষা করতে।

আইনি মহলের মতে, আগামী শুনানিতে আদালত কেন্দ্রের আইনজীবীকে আরও কঠিন প্রশ্ন করতে পারে। একই সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় নতুন দিশা দেখাতে পারে। মানবাধিকার সংস্থা এবং আইনজীবীরা আদালতের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বক্তব্য শুনতে হবে। আইনের ধারা অনুযায়ী আটক রেখে তদন্ত না করলে তা আইনের অপব্যবহার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি এর আগে বহুবার বলেছে, দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং নাগরিকত্বের নামে তাড়াহুড়ো করা মানবাধিকারের পরিপন্থী। আদালতের এই অবস্থান মানবাধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

RRB Group D পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, বিস্তারিত জেনে নিন

RRB Group D পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, বিস্তারিত জেনে নিন

প্রকাশ্যে এল RRB গ্রুপ ডি পরীক্ষার তারিখ, জানুন সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রকাশ্যে এল রেলওয়ে নিয়োগ বোর্ডের (RRB) গ্রুপ ডি পরীক্ষার তারিখ। আগামী ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হচ্ছে পরীক্ষা, যা ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত একাধিক শিফটে চলবে। এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন প্রায় ১.০৮ কোটি প্রার্থী। শূন্য পদ রয়েছে মোট ৩২,৪৩৮টি। পরীক্ষা সংক্রান্ত সময়সূচি, পরীক্ষার বিষয়বস্তু, শহর নির্ধারণ, অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড এবং PET পরীক্ষার নিয়মসহ যাবতীয় তথ্য এখানে তুলে ধরা হল।

পরীক্ষার সময়সূচি ও কাঠামো

RRB গ্রুপ ডি CBT পরীক্ষা ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হবে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন শিফটে চলবে। প্রতিদিন তিনটি শিফটে পরীক্ষা নেওয়া হবে:

  • প্রথম শিফট: সকাল ৯:০০ – রিপোর্টিং ৭:৩০, গেট বন্ধ ৮:৩০
  • দ্বিতীয় শিফট: দুপুর ১২:৪৫ – রিপোর্টিং ১১:১৫, গেট বন্ধ ১২:১৫
  • তৃতীয় শিফট: বিকেল ৫:০০ – রিপোর্টিং ৩:৩০, গেট বন্ধ ৪:০০

প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে নির্ধারিত সময় মেনে পরীক্ষাস্থলে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে।

পরীক্ষার বিষয়বস্তু

পরীক্ষায় মোট প্রশ্ন হবে চারটি প্রধান বিভাগ থেকে:

  • সাধারণ বিজ্ঞান
  • অংক ও গণিত
  • সাধারণ অ্যাফেয়ার্স ও জেনারেল নলেজ
  • রিজনিং বা যুক্তি ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রতিটি বিভাগ থেকে প্রশ্ন থাকবে এবং পরীক্ষার উদ্দেশ্য হল প্রার্থীদের সাধারণ দক্ষতা যাচাই করা। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ন্যূনতম নম্বর অর্জন বাধ্যতামূলক।

সিটি স্লিপ ও অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড

পরীক্ষার ১০ দিন আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সিটি স্লিপ প্রকাশ করা হবে। এতে পরীক্ষার শহরের নাম আগে থেকেই জানানো হবে, যাতে ভ্রমণের পরিকল্পনা সহজ হয়। পরীক্ষার ৪ দিন আগে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড লিংক সক্রিয় হবে।

প্রার্থীরা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে rrbcdg.gov.in অথবা সংশ্লিষ্ট RRB আঞ্চলিক ওয়েবসাইট থেকে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। সেখানে পরীক্ষার কেন্দ্রের ঠিকানা, শিফট সময় এবং অন্যান্য নির্দেশাবলী উল্লেখ থাকবে।

শহর নির্বাচন ও কেন্দ্র নির্ধারণ

অনলাইনে ফর্ম পূরণের সময় প্রার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী পরীক্ষার শহর নির্বাচন করতে পারবেন। তবে পরীক্ষার আসল কেন্দ্রের ঠিকানা অ্যাডমিট কার্ডে প্রকাশ করা হবে। এর পাশাপাশি পরীক্ষার দিন ও সময় সংক্রান্ত তথ্য সেখানে উল্লেখ থাকবে। পরীক্ষার শহর আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে যাতে প্রার্থীরা যাতায়াতের পরিকল্পনা করতে পারেন।

PET পরীক্ষার নিয়মাবলী

CBT পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরে Physical Efficiency Test (PET) পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এই পরীক্ষায় পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীদের জন্য আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য:

  • পুরুষ প্রার্থীদের জন্য: ১০০০ মিটার দৌড় ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে শেষ করতে হবে। এছাড়া ৩৫ কেজি ওজন নিয়ে দুই মিনিটে নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে।
  • মহিলা প্রার্থীদের জন্য: ১০০০ মিটার দৌড় ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে শেষ করতে হবে। এছাড়া ২০ কেজি ওজন নিয়ে ১০০ মিটার দৌড় দুই মিনিটে শেষ করতে হবে।

PET পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই পরবর্তী ধাপে প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগোবে। এই পরীক্ষা শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর সংখ্যা

এই বছর প্রায় ১.০৮ কোটি প্রার্থী RRB Group D পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা পরিচালনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও রেলওয়ে নিয়োগ বোর্ড সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরীক্ষাকেন্দ্র, সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষাকে নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পরীক্ষার আগে সময়সূচি বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পরীক্ষার দিনের সকালে তাড়াহুড়ো করলে শেষ মুহূর্তের চাপ বাড়ে এবং ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পরীক্ষার্থীদের পরামর্শ:

  • পরীক্ষার দিন অন্তত এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রস্থলে পৌঁছান।
  • প্রয়োজনীয় নথি – অ্যাডমিট কার্ড, পরিচয়পত্র ইত্যাদি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন।
  • পরীক্ষার বিষয় অনুযায়ী সময় ভাগ করে পড়াশোনা করুন।
  • শারীরিক পরীক্ষার জন্য আগে থেকেই অনুশীলন শুরু করুন।
  • সর্বশেষ সময় পর্যন্ত প্রযুক্তি আপডেট – যেমন অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডের লিংক পরীক্ষা করুন।

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিডিওকে তালাবন্দি করলেন গ্রামবাসীরা

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিডিওকে তালাবন্দি করলেন গ্রামবাসীরা

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিডিওকে তালাবন্দি করলেন গ্রামবাসীরা

Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের নারমা গ্রামপঞ্চায়েতের মাগুরিয়াতে মঙ্গলবার এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় প্রশাসন। ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবিরে হঠাৎ হাজির হয়ে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে গ্রামবাসীরা বিডিও কৌশিক প্রামাণিককে তালাবন্দি করেন। প্ল্যাকার্ড হাতে মহিলারা জবাব চান—“কানাইসাগর গ্রামে রাস্তা হয়নি কেন? জবাব চাই!” উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়।

ঘটনার বিস্তারিত

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ কেন্দ্রে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিডিও কৌশিক প্রামাণিক, পঞ্চায়েত প্রধান শতরূপা মাইতি নায়েকসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই শিবিরে দলে দলে মহিলারা হাজির হন। হাতে প্ল্যাকার্ড—তাতে লেখা, “কানাইসাগর গ্রামে রাস্তা হয়নি কেন জবাব চাই, জবাব দাও।” গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বহুবার আবেদন জানানো হলেও রাস্তা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে তাঁরা প্রশাসনের সামনে সরাসরি জবাব চাইতে হাজির হন।

হঠাৎ করেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা বিডিওকে ঘিরে ধরেন এবং তাঁকে অফিসের ভিতরে তালাবন্দি করে রাখেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিডিও, পঞ্চায়েত প্রধানসহ প্রশাসনের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকেন। পরে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও গ্রামবাসীদের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় থাকে। বিডিও বাইরে বেরোলে মহিলারা প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁকে কার্যত ধাওয়া করেন।

গ্রামবাসীদের দাবি

গ্রামের মানুষের বক্তব্য পরিষ্কার। তাঁদের অভিযোগ, কানাইসাগর গ্রামে বহুদিন ধরে রাস্তা সংস্কারের কাজ হয়নি। বর্ষাকালে কাদায় ভরা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা বাজারে যাতায়াত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে রাস্তা সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে তাঁরা সরাসরি প্রশাসনের কাছে জবাব দাবি করেন।

এক মহিলা বিক্ষোভকারী বলেন, “আমরা বহুবার আবেদন জানিয়েছি। কাজ হয়নি। আজ আর অপেক্ষা করতে পারলাম না। আমাদের পাড়ার উন্নয়ন চাই। না হলে প্রতিদিন দুর্ভোগে থাকতে হবে।” তাঁর বক্তব্যে গ্রামীণ মানুষের হতাশা এবং প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পরে বিডিও কৌশিক প্রামাণিক বলেন, “রাস্তা নিয়ে মানুষের একটি দাবি ছিল। আগে কখনও কেউ দাবি জানায়নি। হঠাৎ এসে বিক্ষোভ দেখায়। তবুও আমরা তথ্য নিয়েছি। রাস্তাটি ছোট হলে দ্রুত সংস্কার করা হবে। বড় হলে একটু সময় লাগতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “দৌড়ে পালাইনি। গাড়িতে উঠতে গিয়েছিলাম।” তাঁর বক্তব্যে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা দেখা যায়।

পঞ্চায়েত প্রধান শতরূপা মাইতি নায়েক এই বিক্ষোভকে ‘চক্রান্ত’ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, “চক্রান্ত না-হলে বিডিও-কে তালাবন্দি করে রাখেন? আলোচনায় বসতে রাজি হননি কেউ। এই ধরনের অশান্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।” তিনি জানান, রাস্তা সংস্কারের কাজ ‘পথশ্রী’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসারে কাজ হবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এদিকে বিরোধী শিবির এই বিক্ষোভের পাশে দাঁড়িয়েছে। নারায়ণগড়ের বিজেপি নেতা গৌরীশঙ্কর অধিকারী বলেন, “এখানে আমাদের সংগঠনের এত জোর কোথায় যে হঠাৎ করে দু’শো মহিলা নিয়ে জমায়েত করতে পারব? ওই এলাকার একাধিক রাস্তা খারাপ। তাই স্থানীয় মহিলারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।” তাঁর বক্তব্যে গ্রামীণ উন্নয়ন ঘিরে প্রশাসনের ব্যর্থতার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

রাজনৈতিক মহলের মতে, গ্রামীণ সমস্যা অবহেলার ফলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। বিক্ষোভ সংগঠিত না হলেও প্রকৃত সমস্যা বাস্তব এবং এর সমাধান জরুরি। গ্রামবাসীদের দাবি অগ্রাহ্য করলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের আশঙ্কা রয়েছে।

গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবতা

পথশ্রীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারের কথা বলা হলেও অর্থ বরাদ্দ, প্রকল্পের অগ্রাধিকার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে কাজ আটকে যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, বহু প্রকল্প কাগজে থাকলেও বাস্তবে অগ্রগতি কম। গ্রামীণ মানুষের অভিযোগ, তাঁরা সরকারি দপ্তরে আবেদন করলেও নজর দেওয়া হয় না।

এই বিক্ষোভ দেখিয়ে দিল গ্রামীণ সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া জরুরি। শুধু প্রকল্প ঘোষণাই নয়, মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতবিরোধ আরও তীব্র হতে পারে। গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ, প্রকল্পের বাস্তবায়নের স্পষ্ট সময়সীমা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা না গেলে এই ধরনের বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামীণ অঞ্চলে উন্নয়নের দাবিকে গুরুত্ব না দিলে তা বৃহত্তর গণঅসন্তোষে রূপ নিতে পারে। প্রশাসনের উচিত জনমতের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে কাজ করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন উদ্যোগ নেওয়া।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

নেপালের অস্থিরতা ও ভারতের উদ্বেগ: Gen Z বিক্ষোভে উত্তাল প্রতিবেশী দেশ

নেপালের অস্থিরতা ও ভারতের উদ্বেগ: Gen Z বিক্ষোভে উত্তাল প্রতিবেশী দেশ

নেপালের অস্থিরতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ: Gen-Z বিক্ষোভে ভেঙে পড়েছে রাজধানী কাঠমাণ্ডু

Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: সোশাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। Gen-Z তরুণদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি অফিসে আগুন, শহরজুড়ে কারফিউ এবং সহিংসতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পুরো মন্ত্রিসভার পদত্যাগ দেশকে আরও সংকটে ফেলেছে। প্রতিবেশী হিসেবে ভারত নজর রাখছে পরিস্থিতির দিকে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

Gen-Z বিক্ষোভের পটভূমি

নেপালের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে Gen-Z, শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল। সোশাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। কিছুদিন আগে সোশাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হলে প্রতিবাদ আরও ব্যাপক হয়। এখন, হাজার হাজার তরুণ রাস্তায় নেমে এসেছে। তাদের দাবি শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা।

বিক্ষোভের প্রথম দিকে শান্তিপূর্ণ হলেও, পরবর্তীতে তা সহিংস রূপ ধারণ করে। রাজধানী কাঠমাণ্ডু সহ বহু শহরে সরকারি অফিসে আগুন দেওয়া হয়। পরিবহন বন্ধ, দোকানপাট বন্ধ, হাসপাতালগুলোতে জরুরি পরিষেবা সংকটে পড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

সরকার পতনের নাটকীয়তা

বিক্ষোভের চাপের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নেপালি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি হেলিকপ্টারে চড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার ফলে প্রশাসনিক কাঠামো অচল হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও তাতে পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতি ছাড়া স্থায়ী সমাধান আসেনি।

রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সেনাশাসনের সম্ভাবনা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়ালেও নেপালি প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে। তবে রাজনৈতিক শূন্যতার ফলে চরমপন্থী গোষ্ঠী এবং ভারত-বিরোধী শক্তি সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

ভারতের উদ্বেগ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রতিবেশী দেশের সংকটে ভারতের দৃষ্টি ছিল শুরু থেকেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোশাল মিডিয়ায় নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “নেপালের স্থিতিশীলতা, উন্নতি এবং শান্তিরক্ষা ভারতের প্রাথমিক গুরুত্ব। আমার নেপালি ভাই-বোনেদের কাছে আবেদন, আপনারা শান্তির পক্ষে থাকুন।” তিনি তরুণদের প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার জন্য জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকেন।

ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যে নেপালে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে। কাঠমাণ্ডু এবং অন্যান্য শহরে কারফিউ জারি হওয়ায় যাতায়াত সীমিত হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের নেপাল সফর এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়াও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে যাতে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ভারত-বিরোধী গোষ্ঠীগুলি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

ভারতের অবস্থান: শান্তি বজায় রাখা, হস্তক্ষেপ নয়

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও সরাসরি হস্তক্ষেপের পথে এগোতে চাইছে না। ভারতের লক্ষ্য হচ্ছে স্থিতিশীল প্রতিবেশী বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নেপালি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তারা কোনো পক্ষের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়াতে আগ্রহী নয়। বরং শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের পক্ষে কাজ করতে চায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেপালের এই অস্থিরতা শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দেশটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির জন্য অপরিহার্য। ভারতের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে নেপালের স্থিতিশীলতা ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি: কী হতে পারে?

বিশ্লেষণ বলছে, নেপালে একাধিক রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে। নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির মধ্যস্থতার প্রস্তাবও আসতে পারে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আহ্বান জানাতে পারে।

ভারত ইতিমধ্যেই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে। প্রয়োজনে মানবিক সহায়তা পাঠানো হতে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নেপালের রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এদিকে, নেপালের সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। কেউ বিক্ষোভের পক্ষে, কেউ আবার সহিংসতার বিরুদ্ধে। শান্তি ফিরিয়ে আনতে নাগরিক সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত যুবসমাজের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এটি দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক দাবি তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, নেপালের অস্থিরতা শুধু রাজনৈতিক সংকট নয়—এটি মানবিক, সামাজিক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক গভীর চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেশী হিসেবে ভারত সবরকম সহযোগিতা, সতর্কতা এবং কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে শান্তির পথে এগিয়ে যেতে চাইছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Tuesday, 9 September 2025

ইলিশ নিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ! ডায়মন্ড হারবারে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা

ইলিশ নিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ! ডায়মন্ড হারবারে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা

ইলিশ নিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ! ডায়মন্ড হারবারে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা

Y বাংলা ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়েছে। ইলিশ (Hilsa Fish) নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলে মাছ পরিবহনকারী ছোটো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশ গাড়ি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা তোলা আদায় করছে। দাবি মতো অর্থ না দিলে মাছ ভর্তি গাড়ি আটকে রেখে পরে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

ভিডিও পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ

সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে দেখা যায় ইলিশ ভর্তি একটি গাড়িকে আটক রাখা হয়েছে। ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন: “ডায়মণ্ড হারবার মডেল – তোলাবাজ পুলিশের ইলিশ চুরি!!! মমতা পুলিশের তোলাবাজি দিনকে দিন দুর্নীতির নতুন শৃঙ্গ উত্তরণ করছে। সরকারি বেতনে অসন্তুষ্ট এই আদ্যোপান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত তথাকথিত ‘আইন রক্ষক’-দের দল নিজেরাই চৌর্যবৃত্তির পথ অবলম্বন করছে। ডাকাত সম্রাটের ডায়মন্ড হারবার মডেল এই চুরির সাম্রাজ্য বিস্তার করছে।”

গাড়ি আটকে ইলিশ বিক্রি: অভিযোগের বিস্তারিত

শুভেন্দুর অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবারের মাছের আড়ৎ থেকে ইলিশ মাছ কিনতে যাওয়া ছোটো ছোটো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশের দাবি মতো তোলা দিতে না পারলে তাদের গাড়ি আটকে রাখা হয়। পুলিশ দাবি করছে ব্যবসায়ীরা নাকি ছোট ইলিশ কিনেছে এবং সে জন্য তাদের আটক রাখা হচ্ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা জানান তারা বড় ইলিশ কিনেছেন, ছোট ইলিশ নয়। তবুও পুলিশ তাদের কথা শুনছে না।

তিনি আরও লিখেছেন: “মগরা হাট থানার এক আধিকারিক সৈকত রায় একটি ইলিশ মাছ ভর্তি গাড়ি আটক করেন। মাছ ব্যবসায়ীরা তার দাবি মতো টাকা দিতে পারেননি। তারা জানান, তারা ছোটো ইলিশ কিনেননি। তবুও পুলিশ কর্ণপাত না করে গাড়িটি আটক রাখে। দিনশেষে তোলা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে আধিকারিক নিজেই গাড়ির ইলিশ বিক্রি করতে যান। ব্যবসায়ীরা সেখানে হাতে নাতে ধরে ফেলে এবং বিক্ষোভ দেখান। তাদের অভিযোগ, ইতিমধ্যেই দুই পেটি ইলিশ মাছ চুরি করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

বিরোধী দলনেতা সরাসরি রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদান্যতায় এই রাজ্যের পুলিশ এখন ‘তোলাবাজ পুলিশ’-এর শিরোপা পেয়েছে। পুলিশ আর অপরাধী ধরার জন্য নয়, তোলাবাজির জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তায় যত্রতত্র ট্রাক বা ছোটো বাণিজ্যিক গাড়ি থেকে তোলা আদায় করাই তাদের প্রধান কাজ। অর্থ দিতে না পারলে গাড়ির মাল চুরি করে বাজারে বিক্রি করছে। এটাই ডায়মন্ড হারবার মডেল।”

তিনি আরও বলেন, “এই সরকারকে তাড়াতেই হবে। নচেৎ বাংলার জনগণকে আরো কী দেখতে হবে তা ঈশ্বর ছাড়া কেউ জানে না।”

মাছ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের কাছে অর্থ না থাকায় তারা পুলিশের দাবি মতো টাকা দিতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, মাছের গাড়ি আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ গাড়ির মাল বিক্রি করতে গেলে ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। কেউ কেউ দাবি করেন যে পুলিশ ইতিমধ্যেই মাছ সরিয়ে বিক্রি করেছে। বাজারে তাদের ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং অনেকে বাধ্য হয়ে ব্যবসা ছাড়ার কথা ভাবছেন।

রাজনীতির উত্তাপ বাড়ছে

এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী দল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করছে। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনার নিন্দা ছড়াচ্ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন

আইনশৃঙ্খলার এমন অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, যদি পুলিশ প্রশাসন নিজেই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ দুটিই প্রশ্নের মুখে পড়বে। মাছ ব্যবসায়ীদের মতো নিম্ন আয়ের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজ্যের শাসক দল দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে আসছে। কিন্তু বিরোধী দলের অভিযোগ প্রমাণ হলে তা প্রশাসনের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা কেবলমাত্র আইন ভঙ্গ নয়, বরং মানুষের বিশ্বাসের সংকট তৈরি করছে। সাধারণ নাগরিক পুলিশের ওপর আস্থা হারাতে পারেন।

আগামী দিনে কী হতে পারে?

বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে বিরোধী দলের আন্দোলন, গণমাধ্যমের নজরদারি এবং মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই দাবি করছেন স্বাধীন তদন্ত ও পুলিশি সংস্কার জরুরি।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog