Sample Video Widget

Seo Services

Wednesday, 10 September 2025

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিডিওকে তালাবন্দি করলেন গ্রামবাসীরা

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিডিওকে তালাবন্দি করলেন গ্রামবাসীরা

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিডিওকে তালাবন্দি করলেন গ্রামবাসীরা

Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের নারমা গ্রামপঞ্চায়েতের মাগুরিয়াতে মঙ্গলবার এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় প্রশাসন। ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবিরে হঠাৎ হাজির হয়ে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে গ্রামবাসীরা বিডিও কৌশিক প্রামাণিককে তালাবন্দি করেন। প্ল্যাকার্ড হাতে মহিলারা জবাব চান—“কানাইসাগর গ্রামে রাস্তা হয়নি কেন? জবাব চাই!” উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়।

ঘটনার বিস্তারিত

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ কেন্দ্রে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিডিও কৌশিক প্রামাণিক, পঞ্চায়েত প্রধান শতরূপা মাইতি নায়েকসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই শিবিরে দলে দলে মহিলারা হাজির হন। হাতে প্ল্যাকার্ড—তাতে লেখা, “কানাইসাগর গ্রামে রাস্তা হয়নি কেন জবাব চাই, জবাব দাও।” গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বহুবার আবেদন জানানো হলেও রাস্তা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে তাঁরা প্রশাসনের সামনে সরাসরি জবাব চাইতে হাজির হন।

হঠাৎ করেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা বিডিওকে ঘিরে ধরেন এবং তাঁকে অফিসের ভিতরে তালাবন্দি করে রাখেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিডিও, পঞ্চায়েত প্রধানসহ প্রশাসনের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকেন। পরে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও গ্রামবাসীদের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় থাকে। বিডিও বাইরে বেরোলে মহিলারা প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁকে কার্যত ধাওয়া করেন।

গ্রামবাসীদের দাবি

গ্রামের মানুষের বক্তব্য পরিষ্কার। তাঁদের অভিযোগ, কানাইসাগর গ্রামে বহুদিন ধরে রাস্তা সংস্কারের কাজ হয়নি। বর্ষাকালে কাদায় ভরা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা বাজারে যাতায়াত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে রাস্তা সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে তাঁরা সরাসরি প্রশাসনের কাছে জবাব দাবি করেন।

এক মহিলা বিক্ষোভকারী বলেন, “আমরা বহুবার আবেদন জানিয়েছি। কাজ হয়নি। আজ আর অপেক্ষা করতে পারলাম না। আমাদের পাড়ার উন্নয়ন চাই। না হলে প্রতিদিন দুর্ভোগে থাকতে হবে।” তাঁর বক্তব্যে গ্রামীণ মানুষের হতাশা এবং প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পরে বিডিও কৌশিক প্রামাণিক বলেন, “রাস্তা নিয়ে মানুষের একটি দাবি ছিল। আগে কখনও কেউ দাবি জানায়নি। হঠাৎ এসে বিক্ষোভ দেখায়। তবুও আমরা তথ্য নিয়েছি। রাস্তাটি ছোট হলে দ্রুত সংস্কার করা হবে। বড় হলে একটু সময় লাগতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “দৌড়ে পালাইনি। গাড়িতে উঠতে গিয়েছিলাম।” তাঁর বক্তব্যে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা দেখা যায়।

পঞ্চায়েত প্রধান শতরূপা মাইতি নায়েক এই বিক্ষোভকে ‘চক্রান্ত’ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, “চক্রান্ত না-হলে বিডিও-কে তালাবন্দি করে রাখেন? আলোচনায় বসতে রাজি হননি কেউ। এই ধরনের অশান্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।” তিনি জানান, রাস্তা সংস্কারের কাজ ‘পথশ্রী’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসারে কাজ হবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এদিকে বিরোধী শিবির এই বিক্ষোভের পাশে দাঁড়িয়েছে। নারায়ণগড়ের বিজেপি নেতা গৌরীশঙ্কর অধিকারী বলেন, “এখানে আমাদের সংগঠনের এত জোর কোথায় যে হঠাৎ করে দু’শো মহিলা নিয়ে জমায়েত করতে পারব? ওই এলাকার একাধিক রাস্তা খারাপ। তাই স্থানীয় মহিলারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।” তাঁর বক্তব্যে গ্রামীণ উন্নয়ন ঘিরে প্রশাসনের ব্যর্থতার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

রাজনৈতিক মহলের মতে, গ্রামীণ সমস্যা অবহেলার ফলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। বিক্ষোভ সংগঠিত না হলেও প্রকৃত সমস্যা বাস্তব এবং এর সমাধান জরুরি। গ্রামবাসীদের দাবি অগ্রাহ্য করলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের আশঙ্কা রয়েছে।

গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবতা

পথশ্রীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারের কথা বলা হলেও অর্থ বরাদ্দ, প্রকল্পের অগ্রাধিকার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে কাজ আটকে যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, বহু প্রকল্প কাগজে থাকলেও বাস্তবে অগ্রগতি কম। গ্রামীণ মানুষের অভিযোগ, তাঁরা সরকারি দপ্তরে আবেদন করলেও নজর দেওয়া হয় না।

এই বিক্ষোভ দেখিয়ে দিল গ্রামীণ সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া জরুরি। শুধু প্রকল্প ঘোষণাই নয়, মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতবিরোধ আরও তীব্র হতে পারে। গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ, প্রকল্পের বাস্তবায়নের স্পষ্ট সময়সীমা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা না গেলে এই ধরনের বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামীণ অঞ্চলে উন্নয়নের দাবিকে গুরুত্ব না দিলে তা বৃহত্তর গণঅসন্তোষে রূপ নিতে পারে। প্রশাসনের উচিত জনমতের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে কাজ করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন উদ্যোগ নেওয়া।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog