Sample Video Widget

Seo Services

Tuesday, 9 September 2025

ইলিশ নিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ! ডায়মন্ড হারবারে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা

ইলিশ নিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ! ডায়মন্ড হারবারে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা

ইলিশ নিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ! ডায়মন্ড হারবারে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা

Y বাংলা ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়েছে। ইলিশ (Hilsa Fish) নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলে মাছ পরিবহনকারী ছোটো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশ গাড়ি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা তোলা আদায় করছে। দাবি মতো অর্থ না দিলে মাছ ভর্তি গাড়ি আটকে রেখে পরে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

ভিডিও পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ

সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে দেখা যায় ইলিশ ভর্তি একটি গাড়িকে আটক রাখা হয়েছে। ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন: “ডায়মণ্ড হারবার মডেল – তোলাবাজ পুলিশের ইলিশ চুরি!!! মমতা পুলিশের তোলাবাজি দিনকে দিন দুর্নীতির নতুন শৃঙ্গ উত্তরণ করছে। সরকারি বেতনে অসন্তুষ্ট এই আদ্যোপান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত তথাকথিত ‘আইন রক্ষক’-দের দল নিজেরাই চৌর্যবৃত্তির পথ অবলম্বন করছে। ডাকাত সম্রাটের ডায়মন্ড হারবার মডেল এই চুরির সাম্রাজ্য বিস্তার করছে।”

গাড়ি আটকে ইলিশ বিক্রি: অভিযোগের বিস্তারিত

শুভেন্দুর অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবারের মাছের আড়ৎ থেকে ইলিশ মাছ কিনতে যাওয়া ছোটো ছোটো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশের দাবি মতো তোলা দিতে না পারলে তাদের গাড়ি আটকে রাখা হয়। পুলিশ দাবি করছে ব্যবসায়ীরা নাকি ছোট ইলিশ কিনেছে এবং সে জন্য তাদের আটক রাখা হচ্ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা জানান তারা বড় ইলিশ কিনেছেন, ছোট ইলিশ নয়। তবুও পুলিশ তাদের কথা শুনছে না।

তিনি আরও লিখেছেন: “মগরা হাট থানার এক আধিকারিক সৈকত রায় একটি ইলিশ মাছ ভর্তি গাড়ি আটক করেন। মাছ ব্যবসায়ীরা তার দাবি মতো টাকা দিতে পারেননি। তারা জানান, তারা ছোটো ইলিশ কিনেননি। তবুও পুলিশ কর্ণপাত না করে গাড়িটি আটক রাখে। দিনশেষে তোলা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে আধিকারিক নিজেই গাড়ির ইলিশ বিক্রি করতে যান। ব্যবসায়ীরা সেখানে হাতে নাতে ধরে ফেলে এবং বিক্ষোভ দেখান। তাদের অভিযোগ, ইতিমধ্যেই দুই পেটি ইলিশ মাছ চুরি করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

বিরোধী দলনেতা সরাসরি রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদান্যতায় এই রাজ্যের পুলিশ এখন ‘তোলাবাজ পুলিশ’-এর শিরোপা পেয়েছে। পুলিশ আর অপরাধী ধরার জন্য নয়, তোলাবাজির জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তায় যত্রতত্র ট্রাক বা ছোটো বাণিজ্যিক গাড়ি থেকে তোলা আদায় করাই তাদের প্রধান কাজ। অর্থ দিতে না পারলে গাড়ির মাল চুরি করে বাজারে বিক্রি করছে। এটাই ডায়মন্ড হারবার মডেল।”

তিনি আরও বলেন, “এই সরকারকে তাড়াতেই হবে। নচেৎ বাংলার জনগণকে আরো কী দেখতে হবে তা ঈশ্বর ছাড়া কেউ জানে না।”

মাছ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের কাছে অর্থ না থাকায় তারা পুলিশের দাবি মতো টাকা দিতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, মাছের গাড়ি আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ গাড়ির মাল বিক্রি করতে গেলে ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। কেউ কেউ দাবি করেন যে পুলিশ ইতিমধ্যেই মাছ সরিয়ে বিক্রি করেছে। বাজারে তাদের ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং অনেকে বাধ্য হয়ে ব্যবসা ছাড়ার কথা ভাবছেন।

রাজনীতির উত্তাপ বাড়ছে

এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী দল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করছে। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনার নিন্দা ছড়াচ্ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন

আইনশৃঙ্খলার এমন অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, যদি পুলিশ প্রশাসন নিজেই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ দুটিই প্রশ্নের মুখে পড়বে। মাছ ব্যবসায়ীদের মতো নিম্ন আয়ের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজ্যের শাসক দল দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে আসছে। কিন্তু বিরোধী দলের অভিযোগ প্রমাণ হলে তা প্রশাসনের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা কেবলমাত্র আইন ভঙ্গ নয়, বরং মানুষের বিশ্বাসের সংকট তৈরি করছে। সাধারণ নাগরিক পুলিশের ওপর আস্থা হারাতে পারেন।

আগামী দিনে কী হতে পারে?

বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে বিরোধী দলের আন্দোলন, গণমাধ্যমের নজরদারি এবং মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই দাবি করছেন স্বাধীন তদন্ত ও পুলিশি সংস্কার জরুরি।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog