Gen Z বিপ্লবে উত্তাল নেপাল, ইস্তফা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ওলি – ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে
আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
স্থান: কলকাতা / কাঠমান্ডু
Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিনদিন সংকটজনক হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের অর্থাৎ ‘Gen Z’-এর নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রবল চাপের মুখে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। নেপালের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা শুধু সেই দেশের জন্য নয়, প্রতিবেশী ভারতেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ নেপালের সংকট নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অন্তর্নিহিত সমস্যা তো রয়েইছে, তবে বহিরাগত শক্তির হাতও রয়েছে। এর ফলে দেশগুলো আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় পড়তে পারে।”
📌 নেপালের রাজনৈতিক সংকটের পটভূমি
গত কয়েক মাস ধরেই নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছিল। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে শহরাঞ্চলের শিক্ষিত যুবসমাজ, প্রশাসনিক দুর্বলতা, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। ৪ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডু সরকার হঠাৎ করে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রামসহ প্রায় সব বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অভিযোগ করা হয়, এই সংস্থাগুলি নেপাল সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত নয় এবং নিরাপত্তার কারণে তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
সরকার ৭ দিনের মধ্যে প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিলেও, একটিও সংস্থা তা মানেনি। ফলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে সোমবার হাজার হাজার মানুষ রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন দ্রুতই উত্তপ্ত রূপ নেয়। মঙ্গলবার রাতের মধ্যে তা হিংসাত্মক চেহারা গ্রহণ করে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন। জনরোষ বাড়তে থাকায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বাধ্য হন পদত্যাগ করতে।
📌 Gen Z আন্দোলনের কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব এবং শিক্ষা-সংকট দীর্ঘদিন ধরে জমে ছিল। সোশ্যাল মিডিয়া তাদের মত প্রকাশের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছিল। হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ আন্দোলনের পেছনে বড় কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহিরাগত শক্তি এই আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হওয়ায় বিদেশি প্রভাব বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
📌 ভারতের উদ্বেগ
নেপালের এই অস্থিরতা ভারতের জন্যও একটি বড় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে শরণার্থী প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য, পর্যটন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন:
“গত পাঁচ থেকে সাত বছরে ভারতের প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে এরকম পরিস্থিতি হয়েছে। এর পিছনে অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি বহিরাগত শক্তির ইন্ধন রয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত শান্তি ফিরুক, এটিই আমরা চাই।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল থেকে মানুষ ভারতে প্রবেশ করতে পারে। নিরাপত্তার বিষয়েও নজরদারি বাড়াতে হবে।”
📌 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নেপালের এই সংকট দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। পাশাপাশি চীনের প্রভাব, বিদেশি অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক গ্রুপগুলির ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
📌 অর্থনৈতিক প্রভাব
নেপালের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কায় পড়তে পারে। পর্যটন খাত ইতিমধ্যেই ক্ষতির মুখে। বহু ছোট ব্যবসা বন্ধ হওয়ার মুখে। শিক্ষিত তরুণরা কাজ হারিয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে পণ্যের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় ভারত ও নেপালের ব্যবসায়ী মহল উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক অর্থনীতি আরও খারাপ হতে পারে।
📌 নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, অস্থিরতা চলতে থাকলে সন্ত্রাসবাদী বা সংগঠিত অপরাধমূলক চক্র সক্রিয় হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত সীমান্ত, অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ বাণিজ্য এই অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, “নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সীমান্ত অঞ্চলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।”
📌 রাজনৈতিক সমাধানের পথ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নেপালের বর্তমান সংকট সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, তরুণদের সঙ্গে সংলাপ, অর্থনৈতিক প্যাকেজ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। ভারতে বসবাসকারী নেপালি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে





















