রাষ্ট্রসংঘে সুইজারল্যান্ডের খোঁচায় পাল্টা দিল ভারত, পাকিস্তানকেও আক্রমণ
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: রাষ্ট্রসংঘে আলোচনার সময় ভারতীয় প্রতিনিধির পাল্টা বক্তব্য
রাষ্ট্রসংঘে বিতর্কের সূত্রপাত
রাষ্ট্রসংঘে সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি ভারতের সংখ্যালঘু অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “ভারতে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা উচিত এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ভারতকে উদ্যোগী হতে হবে।” সুইজারল্যান্ডের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও ভারত পাল্টা জবাব দিতে পিছিয়ে থাকেনি।
ভারতের পাল্টা বার্তা
ভারতের প্রতিনিধি ক্ষিতিজ তিয়াগি সুইজারল্যান্ডের বক্তব্যের তীব্র জবাব দেন। তিনি বলেন, “বর্ণবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য এবং গোষ্ঠীভীতির মতো সমস্যায় জর্জরিত সুইজারল্যান্ড। তাদের উচিত আগে নিজ দেশের সমস্যাগুলি সমাধান করা।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় গণতন্ত্র ভারত। বহুত্ববাদের ভিত্তিতে এখানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই অন্য দেশের কাছ থেকে উপদেশ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।”
ভারতের সহায়তার বার্তা
ক্ষিতিজ তিয়াগি আরও জানান, “ভারতের দরজা সবসময় খোলা আছে। যদি সুইজারল্যান্ড সত্যিই তাদের সমস্যাগুলি সমাধান করতে চায়, ভারত তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।” তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি করেছে।
পাকিস্তানকেও আক্রমণ
সুইজারল্যান্ডের পাশাপাশি পাকিস্তানকেও আক্রমণ করেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, “পহেলগাঁও হামলার যোগ্য জবাব আমরা দিয়েছি। সন্ত্রাসে মদত দেওয়া কোনও দেশের কাছ থেকে আমরা উপদেশ শুনতে রাজি নই। সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কোনও দেশের নির্দেশ গ্রহণ করব না। ভারত তার নাগরিকদের রক্ষায় অটল সংকল্প নিয়ে এগোবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনও আপস করবে না।” তিনি আরও পাকিস্তানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে তোপ দাগেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টা বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করবে। সংখ্যালঘু অধিকার বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না ভারতের নেতৃত্ব। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভারতীয় কূটনীতির কঠিন বার্তা।
ভারতের বহুত্ববাদের ওপর জোর
ভারতের প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন, ভারতের গণতন্ত্র বহুত্ববাদকে সম্মান করে। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ মিলেমিশে বাস করেন। আন্তর্জাতিক মহলে এই বার্তা ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সংখ্যালঘু সুরক্ষায় ভারতের অবস্থান
সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় ভারত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আইন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ক্ষিতিজ তিয়াগির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরে থেকে নির্দেশ বা সমালোচনা গ্রহণের প্রয়োজন নেই। বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলে ভারত তা দিতে প্রস্তুত।
আগামী দিনের সম্ভাবনা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমালোচনার মুখেও ভারতের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেশীয় ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে





















