Sample Video Widget

Seo Services

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Friday, 12 September 2025

শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল কলকাতা হাই কোর্ট

শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল কলকাতা হাই কোর্ট, সেনাকর্মীদের ধরনা নিয়ে তোলপাড়

শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল কলকাতা হাই কোর্ট, সেনাকর্মীদের ধরনা নিয়ে তোলপাড়

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

সেনাকর্মীদের ধরনা মঞ্চে আদালতের সতর্কবার্তা
ধর্মতলায় সেনাকর্মীদের ধরনা মঞ্চ নিয়ে আদালতের সতর্কবার্তা ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতি।

আদালতের নির্দেশ অমান্য: নতুন বিতর্ক

কলকাতা হাই কোর্ট সম্প্রতি রাজ্যের বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ধর্মতলায় সেনাকর্মীদের ধরনা মঞ্চে রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণ না করার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও সেখানে উপস্থিতির অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার আদালতে রাজ্যের তরফে আদালত অবমাননার আবেদন জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, শুভেন্দু অধিকারীসহ কয়েকজন নেতার উপস্থিতি আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের সমান। যদিও পাল্টা যুক্তিতে বলা হয়, তিনি মঞ্চে ওঠেননি এবং নির্দেশ জানতে পেরে ঘটনাস্থল ছাড়েন। তবুও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

ধর্মতলায় সেনাকর্মীদের ধরনা: পটভূমি

ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তার অভিযোগ সামনে এনে গত ১ সেপ্টেম্বর ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধরনা মঞ্চ শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদে বসেন। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সেই মঞ্চ খুলে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপ নিয়ে তৎক্ষণাৎ রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে সেনাবাহিনী এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের জবাবে সেনাকর্মীরা প্রতিবাদ করেন এবং আদালতের দ্বারস্থ হন।

আদালতের শর্ত: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নিশ্চিত করতে নিয়ম কড়াকড়ি

আদালত অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের প্রতিবাদে সহানুভূতি প্রকাশ করলেও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নিশ্চিত করতে একাধিক শর্ত আরোপ করেন। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দেন, সর্বাধিক ২০০-২৫০ জন সেনাকর্মী ধরনা মঞ্চে অংশ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল বা নেতাদের সেখানে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়। আদালতের এই নির্দেশের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিবাদকে রাজনৈতিক রঙ না দিতে এবং শান্তির পরিবেশ বজায় রাখা।

শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং তাঁর জবাব

রাজ্যের অভিযোগে বলা হয়, শুভেন্দু অধিকারীসহ অনেক নেতা ধরনা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। যদিও তাঁর আইনজীবীর দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর নির্দেশ জানতে পেরে চলে যান। আদালতের কাছে এই যুক্তি পেশ করলেও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সন্তুষ্ট হননি। তিনি মন্তব্য করেন, “আপনাদের বলা উচিত ছিল প্রতিবাদে শুধুমাত্র সেনাকর্মীরা অংশ নেবেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে আদালত মেনে নেবে না।” আদালতের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে ভবিষ্যতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিচারকের কঠোর সতর্কবার্তা

বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, “আদালতের সহানুভূতি অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের প্রতি আছে। তবে নির্দেশ মানতে হবে। আদালতের সঙ্গে জাগলারি করলে সমস্যা হবে। ভবিষ্যতে রং না দেখে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেটা শাসক হোক বা বিরোধী।” আদালতের এই বক্তব্য রাজনীতির অন্দরমহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গেরুয়া শিবিরের জন্য এটি বিশেষভাবে অস্বস্তিকর।

রাজনীতির উত্তাপ: আদালতের নির্দেশ মানা হবে কি?

আদালতের নির্দেশের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দল অভিযোগ করছে, আদালতের শর্ত অনুসরণ করেও তাঁদের প্রতিবাদ ঠেকানো হচ্ছে। অন্যদিকে শাসক দলের নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাকর্মীদের ব্যবহার করা ঠিক নয়। রাজ্য প্রশাসন সতর্ক যে আন্দোলনের নামে অরাজকতা ছড়ানো হতে পারে। ফলে আদালতের নির্দেশ মানা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

জনমনে প্রতিক্রিয়া

সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালতের এই পদক্ষেপে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, সেনাকর্মীদের প্রতিবাদ হওয়া উচিত, তবে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ঠিক নয়। আবার অন্যরা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতারা সেনাকর্মীদের পিছনে আশ্রয় নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের এই হস্তক্ষেপ আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য প্রয়োজনীয়।

আগামী দিনের জন্য সতর্কবার্তা

বিচারকের এই সতর্কবার্তা শুধু একটি আন্দোলনের ক্ষেত্রে নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিবাদ, গণআন্দোলন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য করা হলে প্রতিবাদ সংগঠকদের সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা—আইনের সীমা লঙ্ঘন করলে কঠোর পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।

শেষ কথা

কলকাতা হাই কোর্টের এই নির্দেশ ও সতর্কবার্তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সেনাকর্মীদের আন্দোলনের পেছনে সহানুভূতি থাকলেও আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সীমারেখা অতিক্রম করা যাবে না। শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া সতর্কবার্তা বিরোধী শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে, অন্যদিকে শাসক দল এই ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে। আগামী দিনগুলোতে আদালতের নির্দেশ পালিত হবে কি না তা নিয়েই নজর থাকবে সবার।


বীরভূমে পাথরখাদানে ধস: ছয় শ্রমিকের মৃত্যু, আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়

বীরভূমে পাথরখাদানে ধস: ছয় শ্রমিকের মৃত্যু, আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়

বীরভূমে পাথরখাদানে ধস: ছয় শ্রমিকের মৃত্যু, আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

পাথরখাদানে ধসের পর উদ্ধার কাজ
নলহাটির বাহাদুরপুর পাথরখাদানে ধসে পড়ে ছয় শ্রমিকের মৃত্যু। উদ্ধারকার্যে তৎপর পুলিশ ও স্থানীয়রা।

বীরভূম: পুজোর মুখে আবারও এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বাংলার শ্রমজীবী মানুষের জীবনে গভীর ক্ষতের দাগ ফেলে দিল। বীরভূমের নলহাটির বাহাদুরপুর এলাকায় একটি পাথরখাদানে ধসে পড়ে ছয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় জখম হয়েছে আরও চারজন। আহতদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে পুলিশ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

এদিন সকাল থেকেই শ্রমিকরা পাথর কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। খাদানের একাংশে হঠাৎ দুপুরের দিকে মাটি হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বহু শ্রমিক ওই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। আশপাশের শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত সাহায্যের জন্য পুলিশকে খবর দেন। নলহাটি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।

উদ্ধার অভিযান

প্রথম ধাপে ঘটনাস্থল থেকেই পাঁচ শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও একজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত চারজনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। খাদানের মধ্যে আরও কেউ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাথর ও মাটি সরিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন।

দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রশ্ন

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, বর্ষায় ভারী বৃষ্টির ফলে খাদানের মাটি নরম হয়ে পড়েছিল। সেই কারণে শ্রমিকরা কাজ করার সময় খাদানের একাংশ ধসে পড়ে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শ্রমিকরা কি হেলমেট, নিরাপত্তা জাল বা অন্য কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করছিলেন? দুর্ঘটনার পর থেকে এই নিয়ে শ্রমিক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

নিরাপত্তার অভাব কি এই বিপর্যয়ের কারণ?

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, খাদানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অপর্যাপ্ত। যথাযথ প্রশিক্ষণ বা সরঞ্জাম ছাড়া শ্রমিকরা বিপজ্জনক স্থানে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় প্রশাসনিক নজরদারিও ছিল না। খাদানের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নিয়ম না মেনে কাজ করা হচ্ছিল কিনা তা তদন্তের বিষয়।

শ্রমিকদের পরিবারে শোকের ছায়া

মৃতদের পরিবারগুলিতে কান্নার রোল উঠেছে। পুজোর আগে পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যদের হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। প্রশাসন দ্রুত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাঁদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার ছায়া স্পষ্ট। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা প্রতিদিন এই খাদানে কাজ করতে ভয় পেতাম। কেউ শুনছিল না।”

পুলিশের তদন্ত

নলহাটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি খাদানের মালিক ও অন্যান্য কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে খাদানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শ্রমিকদের উপস্থিতির তালিকা, এবং কাজের পরিবেশ পরীক্ষা করছে। খাদান পরিচালনাকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। বহু শ্রমিক খাদানে কাজ করতে অনিচ্ছুক। দুর্ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার জন্য খাদানের মালিকপক্ষের গাফিলতি দায়ী। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিয়ম কড়াকড়ি করার দাবি উঠেছে।

পুজোর আগে বিপর্যয়

পুজোর আনন্দের মধ্যে এই দুর্ঘটনা এক তীব্র শোকের বার্তা নিয়ে এসেছে। শ্রমিকদের পরিবারগুলো উৎসবের আনন্দের বদলে দুঃখ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপত্তার অভাব এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। এই দুর্ঘটনা বাংলায় খনি ও খাদানগুলির নিরাপত্তা নিয়ম আরও কড়াকড়ি করার দাবি জোরালো করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

বাংলায় আগামী বিধানসভা নির্বাচন: তৃণমূল বনাম মানুষের লড়াই তৈরি করছে বিজেপি

বাংলায় আগামী বিধানসভা নির্বাচন: তৃণমূল বনাম মানুষের লড়াই তৈরি করছে বিজেপি

বাংলায় আগামী বিধানসভা নির্বাচন: তৃণমূল বনাম মানুষের লড়াই তৈরি করছে বিজেপি

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

বিজেপি বনাম তৃণমূল নির্বাচন প্রস্তুতি
বিজেপির কৌশল: তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ তুলে ধরতে চাইছে দল।

নয়াদিল্লি: বাংলার আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হচ্ছে। শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘মানুষ বনাম শাসক দল’ এই ন্যারেটিভ তৈরি করতে মরিয়া হয়েছে বিজেপি। সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে ভোটের লড়াইকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলির দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখাতে চাইছে না দলটি। বরং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তুলে ধরে গণআন্দোলনের রূপ দিতে চাইছে তারা।

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য: সব ইস্যুর কেন্দ্রে ‘মানুষ’

রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব এখন একধরনের নতুন রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মালদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা কিংবা অন্য কোনও সামাজিক ইস্যু—প্রতিটি ক্ষেত্রেই শমীক ভট্টাচার্য একটাই বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, বাংলায় নির্বাচন হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস বনাম সাধারণ মানুষের লড়াই। গণভোটে বাংলার মানুষ তৃণমূলকে উৎখাত করবে—এই ধারণা ছড়িয়ে দিতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে বিজেপি।

দলীয় দ্বন্দ্ব সামলে ভোটের মাঠে নামা

তবে বিজেপির এই কৌশল সহজ হবে না। আদি ও নব্য বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কলহ ভোটের ময়দানে দলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এই নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে যে, বাংলায় তৃণমূলের মতো শক্তিশালী সংগঠনের বিরুদ্ধে এই বিভক্ত অবস্থায় নির্বাচনী লড়াই কতটা কার্যকর হবে। ফলে এই দুর্বলতাকে পাশ কাটাতে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদের ভাষা তৈরি করতে চাইছে বিজেপি।

বাংলা-বাঙালি ইস্যু বিজেপির জন্য মাথাব্যথা

বাংলাভাষীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এনে তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বিজেপিকে ‘বাংলা বিরোধী’ রাজনৈতিক দল হিসেবে তুলে ধরছে। ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের ওপর আক্রমণ নিয়ে তৃণমূল যে আন্দোলন শুরু করেছে, তা রাজ্যের বহু মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে—বিজেপি কি বাংলার স্বার্থ রক্ষা করছে? এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপির জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রণকৌশল: তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘জনতার প্রতিবাদ’ তৈরি

বাংলার মানুষের মধ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভকে সামনে এনে বিজেপি ভোটের মাঠে নতুন বার্তা ছড়াতে চাইছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, বেকারত্ব ইত্যাদি তুলে ধরে শাসক দলকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে তারা। পরিকল্পনা হচ্ছে ভোটের আগে গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় সংগঠনের বিস্তার, জনসংযোগ কর্মসূচি, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার এবং গণবিক্ষোভ সংগঠিত করা। এইভাবে ভোটকে তৃণমূল বনাম মানুষের লড়াইয়ে পরিণত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

রাজনৈতিক সমালোচকদের মতামত

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে বিজেপি পিছিয়ে পড়বে—এই আশঙ্কা থেকেই তারা ‘মানুষের ক্ষোভ’ কেন্দ্র করে ভোটের কৌশল নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূলের শক্তিশালী সংগঠন ও জনপ্রিয়তা অগ্রাহ্য করে শুধুমাত্র নেতিবাচক প্রচারে ভোট জয় সম্ভব হবে না। ফলে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে নির্বাচনী আলোচনাকে নতুন দিকে নিতে চাইছে বিজেপি।

গণমাধ্যম ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের পরিকল্পনা

রাজ্য বিজেপি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেছে। ভিডিও ক্লিপ, পোস্টার, অনলাইন আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে তৃণমূল সরকারের দুর্বলতা। পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প, আলোচনা সভা এবং কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে তারা। ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ’ শিরোনামে একাধিক ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।

ভোটারদের মধ্যে বিভক্তির আশঙ্কা

তবে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলার মানুষের বাস্তব সমস্যা কি শুধুমাত্র তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে সীমাবদ্ধ? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বন্যা, মূল্যবৃদ্ধি—এসবের সমাধান নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ভাষা ইস্যু কেন্দ্র করে বিভক্তির রাজনীতি জনমানসে স্থায়ী সমর্থন গড়ে তুলবে কি না তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

শেষ কথা

বাংলায় আগামী নির্বাচনের আগে বিজেপির এই কৌশল রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তৃণমূলের সংগঠনের শক্তি, বাংলার মানুষের বাস্তব চাহিদা এবং বিজেপির ভেতরের দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে ভোটের ফলাফল অনুমান করা কঠিন। তবুও নির্বাচনের ময়দানে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে ‘মানুষ বনাম শাসক’ এই ন্যারেটিভ গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই স্থির করবে এই কৌশল কতটা সফল হতে পারে।


📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর

👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

পুজোর আগে চাকরির খুশির হাওয়া, উৎকর্ষ বাংলার উদ্যোগে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩১৭ জনের হাতে নিয়োগপত্র

পুজোর আগে চাকরির খুশির হাওয়া, উৎকর্ষ বাংলার উদ্যোগে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩১৭ জনের হাতে নিয়োগপত্র

পুজোর আগে চাকরির খুশির হাওয়া, উৎকর্ষ বাংলার উদ্যোগে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩১৭ জনের হাতে নিয়োগপত্র

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর

মেদিনীপুর: পুজোর আগে জেলার যুব সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের হাওয়া। রাজ্য সরকারের উদ্যোগ ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিম মেদিনীপুরের ৩১৭ জন যুবক-যুবতী হাতে পেয়েছেন চাকরির নিয়োগপত্র। জেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। পুজোর আগেই এই সুখবর পাওয়ায় তরুণরা আনন্দে আত্মহারা। এর আগেও জেলার বিভিন্ন জায়গায় জব ফেয়ার হয়েছে এবং বহু যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। তবে এবার নিয়োগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

উৎসবের আগেই সুখবর

রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন বিভাগের সহযোগিতায় মেদিনীপুর শহরের রাঙামাটি সরকারি আই.টি.আই-তে অনুষ্ঠিত হয় এই চাকরির মেলা। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরি, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) কেম্পা হোন্নাইয়াহ এবং অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর এমপ্লয়মেন্ট অনুপকুমার মণ্ডলসহ জেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজ হাতে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগপত্র তুলে দেন।

চাকরির মেলায় অংশগ্রহণ

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের এই চাকরির মেলায় অংশ নেয় মোট ৩৭টি শিল্প সংস্থা। প্রায় ১,০০০ চাকরিপ্রার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে দক্ষতা যাচাইয়ের পর ৩১৭ জনকে সরাসরি নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আরও ১২৪ জনকে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ের জন্য রাখা হয়েছে।

ছবি

উৎকর্ষ বাংলার চাকরির মেলা

পশ্চিম মেদিনীপুরে উৎকর্ষ বাংলার চাকরির মেলায় নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে খুশির হাসি যুবকদের মুখে। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের ভূমিকা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ২০১৬ সালে শুরু হয় ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য জেলার যুবক-যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। গত কয়েক বছরে পশ্চিম মেদিনীপুরসহ বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার তরুণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া

নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে অনেকেই আনন্দে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। অনেকে জানান, “পুজোর আগেই চাকরির সুখবর পেয়ে পরিবারের সবাই খুশি।” কেউ কেউ বলেন, “উৎকর্ষ বাংলার মতো প্রকল্প আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের জন্য আশীর্বাদ।” জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতেও এই ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর জন্য আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মাসগুলোতেও বিভিন্ন জায়গায় চাকরির মেলা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ চালু থাকবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার যুবকদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী বছরে আরও বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উপসংহার

পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের এই উদ্যোগ পুজোর আগেই একটি বড় উৎসবের পরিবেশ তৈরি করেছে। চাকরি পাওয়ার মাধ্যমে তরুণরা আত্মবিশ্বাস অর্জন করছেন এবং পরিবারগুলিও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে।

পঞ্জাব সীমান্তে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় ধৃত দুই দুষ্কৃতী

পঞ্জাব সীমান্তে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় ধৃত দুই দুষ্কৃতী

পঞ্জাব সীমান্তে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় ধৃত দুই দুষ্কৃতী

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | ফাজিলিকা, পঞ্জাব

চণ্ডীগড়: ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে আবারও পাকিস্তানের শয়তানি কার্যকলাপের চিত্র ধরা পড়েছে। পঞ্জাবের ফাজিলিকা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) ও পঞ্জাব পুলিশের বিশেষ অপারেশন সেল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র – যা নাশকতা এবং জঙ্গি কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

অস্ত্র উদ্ধার: কী মিলল ধৃতদের কাছ থেকে?

গ্রেফতারকৃত দুই দুষ্কৃতীর কাছ থেকে যা উদ্ধার হয়েছে তা উদ্বেগজনক:

  • ✅ ২৭টি অত্যাধুনিক পিস্তল
  • ✅ ৫৪টি ম্যাগাজিন
  • ✅ ৪৭০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ

এর পাশাপাশি গতকাল মধ্যরাতে একই এলাকায় আরও একটি অভিযান চালানো হয়। তেহ কালান্দারে পরিচালিত এই অভিযানে আরও উদ্ধার হয়:

  • ✅ ১৬টি পিস্তল
  • ✅ ৩৮টি ম্যাগাজিন
  • ✅ ১৮৪৭ রাউন্ড কার্তুজ
  • ✅ একটি মোটরসাইকেল

📸 ছবি

ফাজিলিকা সীমান্তে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র

ফাজিলিকা সীমান্তে ধৃত দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে উদ্ধার অস্ত্র। বিএসএফ ও পঞ্জাব পুলিশের যৌথ অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।

ধৃতদের জেরা: কী জানাল বিএসএফ?

বিএসএফের ইন্টেলিজেন্স শাখার মতে, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী গ্রামে অস্ত্র পাচারের কাজে যুক্ত ছিল। তাদের কাছ থেকে জানা গেছে:

  • ✔ ওপার পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে নির্দিষ্ট যোগাযোগের মাধ্যমে অস্ত্র ভারতে পাঠানো হত।
  • ✔ রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া ছিল মূল লক্ষ্য।
  • ✔ স্লিপার সেলের সদস্যদের হাতে অস্ত্র পৌঁছে দিয়ে নাশকতা চালানোই ছিল উদ্দেশ্য।
  • ✔ পহেলগাঁওসহ অন্যান্য এলাকায় হামলার জন্যও অনুরূপ অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল।

অস্ত্র পাচারের রুট: কীভাবে কাজ করত নেটওয়ার্ক?

প্রাথমিক তথ্য বলছে, অস্ত্র পাচারের রুট নিম্নরূপ ছিল:

  1. পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অস্ত্র সংগ্রহ
  2. সীমান্তবর্তী জলাভূমি বা কৃষিজমির মধ্য দিয়ে রাতের বেলা প্রবেশ
  3. সীমান্তের ভারতীয় গ্রামে পৌঁছে দেওয়া
  4. সেখানে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়া
  5. নাশকতা বা জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার

বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, “অস্ত্র পাচারের এই নেটওয়ার্ক বহুদিন ধরে সক্রিয়। তবে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের হামলার আগেই অস্ত্র জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।”

পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যোগ?

২০২৫ সালে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায় যে জঙ্গি হামলা হয়েছিল, সেটির সঙ্গে এই অস্ত্র পাচারের যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। হামলার সময় জঙ্গিরা একইভাবে পাকিস্তান থেকে অস্ত্র নিয়ে ঢুকেছিল। পরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ‘অপারেশন শিবশক্তি’ চালিয়ে তাদের নির্মূল করা হয়। তদন্তকারীরা বলছেন, সেই হামলার সময়ও অনুরূপ রুট ব্যবহার করা হয়েছিল।

নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

এই ঘটনায় কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে:

  • ✔ সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচার রোধ করা
  • ✔ স্লিপার সেল সক্রিয় হওয়ার আগেই তাদের শনাক্ত করা
  • ✔ গ্রামীণ এলাকার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া
  • ✔ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা
  • ✔ স্থানীয়দের সচেতন করা

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু সীমান্ত সমস্যা নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এই চক্র ভাঙা কঠিন।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

পঞ্জাব পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল এক বিবৃতিতে বলেছেন,

“আমরা সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে নজরদারির আওতায় এনেছি। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এই ধরনের অনুপ্রবেশ ও অস্ত্র পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিএসএফের এক মুখপাত্র বলেন,

“আমরা সীমান্ত নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছি। আন্তর্জাতিক মদতে নাশকতা রোধে স্থানীয় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং কেন্দ্রের সহযোগিতায় দ্রুত অভিযান চালানো হচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞ মতামত

সামরিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) অরিন্দম সেন বলেন,

“পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভারতের নিরাপত্তায় ছিদ্র খোঁজার চেষ্টা করছে। অস্ত্র পাচার সেই চেষ্টার বড় অংশ। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উন্নত প্রযুক্তির নজরদারি এবং গ্রামীণ জনতার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ইন্দ্রাণী দত্ত বলেন,

“সীমান্ত সমস্যা শুধু সামরিক নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণেও এই ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের বিচ্ছিন্নতা কমাতে হবে।”

আগামী পদক্ষেপ

  • ✔ গ্রেফতারকৃতদের আরও জেরা চলছে
  • ✔ অস্ত্র পাচারের বড় নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে অভিযান জোরদার
  • ✔ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে নজরদারি বাড়ানো
  • ✔ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার
  • ✔ আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের মদতে অস্ত্র পাচার নিয়ে প্রতিবাদ জানানো

✅ উপসংহার

পঞ্জাব সীমান্তে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার এবং পাকিস্তানের মদতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা নিয়ে এই ঘটনাটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। সীমান্ত রক্ষা, গোয়েন্দা তৎপরতা, স্থানীয় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমন্বয়ে এই ধরনের নাশকতা রুখে দিতে হবে। বিএসএফ ও পঞ্জাব পুলিশের এই সফল অভিযানে বড় ধরনের হামলার আগে অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়েছে—তবে চ্যালেঞ্জ এখনো শেষ নয়।

আপডেট তারিখ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রতিবেদক: Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো, ফাজিলিকা, পঞ্জাব

দাগিদের টাকা ফেরত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তাড়া, রাজ্যের ব্যাখ্যা চাইছে আদালত

SSC Recruitment Case: দাগিদের টাকা ফেরত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তাড়া, রাজ্যের ব্যাখ্যা চাইছে আদালত

SSC নিয়োগ দুর্নীতির টাকা ফেরত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তাড়া, রাজ্যের ব্যাখ্যা চাইছে আদালত

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০০ IST

SSC নিয়োগ দুর্নীতির শুনানি

ছবির ক্যাপশন: স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতির শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের তাগিদে আলোড়ন ছড়িয়েছে রাজ্যে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বলবৎ, তবু টাকা ফেরত নয়

স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল—যাঁরা দাগি, যাঁরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের বেতন দ্রুত সুদসহ ফেরত দিতে হবে। এই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টেও বলবৎ রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে জেলাশাসকদের মাধ্যমে টাকা ফেরতের যে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, তা এখনও শুরু হয়নি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। আদালত জানতে চেয়েছে—কখন, কীভাবে টাকা ফেরতের কাজ শুরু হবে।

সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা

শুনানির সময় রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান, এখনও পর্যন্ত টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এই বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালত প্রশ্ন তোলেন, নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া শুরু হল না। রাজ্যকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় এবং দ্রুত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিরা বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ অর্থহীন হয়ে পড়বে।”

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে SSC

স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষায় দাগিদের উপস্থিতি নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠে। গত রবিবার নবম-দশমের পরীক্ষা হয়েছে, আগামী রবিবার একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষা। অভিযোগ আছে, কিছু অযোগ্য প্রার্থী পরীক্ষায় বসেছেন। সুপ্রিম কোর্ট এই অভিযোগের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে। আদালতের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা জরুরি।

রাজ্যের যুক্তি বনাম আদালতের অবস্থান

রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তদন্ত চলছে এবং সময় লাগছে। কিন্তু আদালত তা মানতে রাজি নয়। বিচারপতিরা স্পষ্ট বলেন, “দাগিদের টাকা ফেরত দেওয়া না হলে, এটি শুধু অর্থনৈতিক অনিয়ম নয়, যুব সমাজের ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।” আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্যের আইনজীবী বলেন, কখন এবং কীভাবে প্রক্রিয়া শুরু হবে তা জানানো হবে। আদালত আবারও জানিয়েছে—দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দুর্নীতির সামাজিক প্রভাব

এই নিয়োগ দুর্নীতি শুধু কিছু ব্যক্তির আর্থিক সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বৃহত্তর সামাজিক বিশ্বাসের ওপর আঘাত হানছে। বহু শিক্ষার্থী বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় বসে, অথচ দুর্নীতির কারণে প্রকৃত যোগ্যরা সুযোগ হারাচ্ছে। অভিভাবকেরাও আতঙ্কিত। আদালতের ভাষায়, এটি “হাজার হাজার যুবকের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা।” ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

প্রশাসনের সামনে চ্যালেঞ্জ

রাজ্য সরকারের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়েছে। প্রথমত, নির্দেশ মেনে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা। দ্বিতীয়ত, নতুন পরীক্ষায় অযোগ্য প্রার্থীদের প্রবেশ রোধ করা। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার, পরীক্ষায় কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুব সমাজের দাবি

চাকরির সুযোগ সীমিত হওয়ায় এবং দুর্নীতির কারণে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। বহু শিক্ষার্থী সুস্পষ্ট দাবি তুলেছেন—স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, দোষীদের শাস্তি দিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়ে আন্দোলনের আকারও নিয়েছে। আদালতের কঠোর মনোভাব যুব সমাজের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।

আগামী শুনানি ও আদালতের নির্দেশ

  • রাজ্য সরকারকে দ্রুত টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
  • প্রক্রিয়ার অগ্রগতি আদালতে জানাতে হবে।
  • অযোগ্য প্রার্থীর পরীক্ষায় বসা নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
  • স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে কঠোর পদক্ষেপ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

আইনজ্ঞরা বলছেন, আদালতের তাগিদ প্রশাসনের জন্য একটি সতর্কবার্তা। দেরি হলে শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, প্রশাসনের প্রতি আস্থাও নষ্ট হবে। অন্যদিকে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে কাজ করা গেলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির সুযোগ কমবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিরোধী দলগুলি এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করছে। তাদের বক্তব্য—রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা আদালতের কঠোর মনোভাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনরোষ বাড়বে।

পরবর্তী পদক্ষেপের প্রত্যাশা

বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের মতে, আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করা এবং পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধ করাই রাজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি বিভাগগুলিকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে এবং ডিজিটাল নজরদারি বাড়িয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। এছাড়া নাগরিকদের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট প্রকাশ করাও জরুরি।

এইভাবে সুপ্রিম কোর্টের তাগিদ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির গুরুত্ব আবার সামনে আনল।

নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত ছ’মাসে শেষ করতে হবে, CBI-কে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত ছ’মাসে শেষ করতে হবে, CBI-কে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত ছ’মাসে শেষ করতে হবে, CBI-কে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, বিকেল ৪:০০ IST

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

ছবির ক্যাপশন: পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

তদন্ত শেষ করতে ছ’মাসের নির্দেশ

পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত ছ’মাসের মধ্যে শেষ করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI-কে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি অতুল এস চান্দুকরের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত জানিয়েছে, তদন্ত শেষ করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলতে হবে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত আদালতে জানাতে হবে।

জামিনের আবেদন খারিজ

মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অয়ন শীল জামিনের জন্য শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর আইনজীবী যুক্তি দেন, অন্যান্য দুর্নীতির মামলায় যেমন শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে, তেমনই তাঁর মক্কেলকেও জামিন দেওয়া হোক। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদন খারিজ করে জানায়, এখনই তাঁকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। আদালত বলে, “ওএমআর শিটে কারচুপি হয়েছে, হাজার হাজার যুবকের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।” আদালতের মতে, এই ধরনের দুর্নীতি শুধু একজনের নয়, বৃহত্তর সামাজিক ক্ষতির কারণ।

ওএমআর শিট ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ

তদন্তের সূত্রপাত হয়েছিল স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায়। সেই তদন্তে অয়ন শীলকে প্রথম গ্রেফতার করে CBI। পরে তাঁর সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় বহু ওএমআর শিট। এই নথিপত্রের ভিত্তিতে পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, অয়নের সংস্থা নিয়োগের ক্ষেত্রে ওএমআর পরীক্ষার দায়িত্বে ছিল। ফলে পরীক্ষায় কারচুপি করে অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

CBI-র পাল্টা যুক্তি

অয়ন শীলের আইনজীবী আদালতে বলেন, মোট ১৬টি পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চলছে, যেখানে একটি পুরসভার চার্জশিট জমা পড়েছে। তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে CBI পাল্টা যুক্তি দেয়, তদন্তে বিপুল তথ্য উঠে আসছে এবং দুর্নীতির ব্যাপকতা বিবেচনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করা প্রয়োজন। আদালতের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবী বলেন, “ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, অনেক তথ্য উঠে আসছে।” আদালত তদন্ত শেষ করতে ছ’মাস সময়সীমার নির্দেশ দেন।

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর প্রসঙ্গ

অয়ন শীলের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জামিন দেওয়া হয়েছে। সেই রকম শর্তসাপেক্ষে তাঁর মক্কেলকেও জামিন দিতে হবে। কিন্তু আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি এবং বলেন, প্রতিটি মামলার প্রেক্ষাপট আলাদা। তদন্তের স্বার্থে জামিন দেওয়া হবে না। ছ’মাস পরে পরিস্থিতি বিচার করে আবার আবেদন করতে বলা হয়েছে।

যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য অনুযায়ী, এই নিয়োগ দুর্নীতির ফলে হাজার হাজার যুবকের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। চাকরির স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে। আদালত আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরীক্ষায় কারচুপি ও টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে বহু তরুণ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাচ্ছে। তাই তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

আদালতের নির্দেশ এবং পরবর্তী ধাপ

  • CBI-কে ছ’মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলা হয়েছে।
  • অয়ন শীলের জামিনের আবেদন আপাতত খারিজ।
  • ছ’মাস পরে আবার আবেদন করা যাবে।
  • তদন্তের অগ্রগতি আদালতে জানাতে হবে।

রাজনীতি ও জনমনে প্রতিক্রিয়া

এই মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্য জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি দুর্নীতির দায় নিয়ে তীব্র সমালোচনা করছে। অনেকেই দাবি করছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিক ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়োগ দুর্নীতির মতো ঘটনা যুব সমাজের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করছে এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থা নষ্ট করছে।

মানসিক ও সামাজিক প্রভাব

চাকরির ক্ষেত্রে অনিয়ম, পরীক্ষায় কারচুপি এবং অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ তরুণদের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ এবং বিশ্বাসহীনতা বাড়াচ্ছে। পরিবারগুলোও আতঙ্কিত। যারা বহু বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তারা মনে করছে তাদের পরিশ্রম ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যুবকদের জন্য কাউন্সেলিং এবং সমর্থনের ব্যবস্থা করার কথা বলছেন।

সরকারের ভূমিকা

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, স্বচ্ছ নিয়মাবলি তৈরি এবং পরীক্ষার সময় কঠোর নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বিরোধীরা বলছে, কেবল পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়, দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

যাদবপুরে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু: ‘বিশেষ বন্ধু’র আবেগঘন পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন

যাদবপুরে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু: ‘বিশেষ বন্ধু’র আবেগঘন পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন

যাদবপুরে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু: ‘বিশেষ বন্ধু’র আবেগঘন পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, দুপুর ১:২০ IST

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

ছবির ক্যাপশন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিলপাড় এলাকা, যেখানে উদ্ধার হয়েছিল অনামিকা মণ্ডলের দেহ।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ঘটনার সারাংশ

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আবারও সংবাদ শিরোনামে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চার নম্বর গেটের কাছে ঝিলপাড় এলাকা থেকে উদ্ধার হয় ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃতদেহ। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শোক, আতঙ্ক ও নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। এখনও পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। লালবাজারের হোমিসাইড শাখা এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে।

বিশেষ বন্ধুর পোস্ট: আবেগ, অনুশোচনা নাকি রহস্য?

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার ভোর পাঁচটা নাগাদ অনামিকার এক ‘বিশেষ বন্ধু’ তাঁর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে আবেগমথিত বক্তব্য প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি লেখেন:

“আমার ভালবাসায় নিশ্চয়ই কোন খামতি ছিল। আমার পূর্বজন্মের নিশ্চয়ই ছিল কোনও পাপ। তাই শুধু আমাকে না, সকলকে ছেড়ে চলে গেলি। আর কোনও কথা নেই। রাগ নেই। হেসেও উঠবি না আর। আমাকে এই নরক থেকে নিয়ে যেতে পারতিস মিষ্টু।”

এই পোস্ট ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে প্রেমজনিত হতাশা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ সন্দেহ করছেন এটি হয়তো গভীর মানসিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁর বক্তব্য তদন্তের স্বার্থে বিবেচনায় নেবেন। তবে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় অনামিকা কোথায় ছিলেন বা কেন ঝিলপাড়ে গিয়েছিলেন, তা তাঁর জানা নেই।

অনামিকা মণ্ডল: পরিবারের শোক এবং সহপাঠীদের প্রতিক্রিয়া

অনামিকার মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহপাঠীরা বলেন, অনামিকা ছিল হাসিখুশি, মেধাবী এবং সহৃদয়। পরিবারের সদস্যরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হবে। তাঁরা তদন্তে পূর্ণ স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

তদন্তের অগ্রগতি

  • লালবাজার হোমিসাইড শাখা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
  • ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
  • বিশেষ বন্ধুর পোস্ট সমাজমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে, তদন্তে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
  • বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণ: প্রেম, মানসিক চাপ নাকি অন্য কিছু?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে পড়ুয়াদের ওপর একাধিক চাপ থাকে—শিক্ষাগত প্রত্যাশা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক সমস্যা এবং সামাজিক চাপ। অনামিকার ক্ষেত্রে এই পোস্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি হয়তো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে এটি নিশ্চিত নয় যে তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে ঘটেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনা আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই দাবি করছেন ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং ব্যবস্থা নেই এবং একাকীত্ব ও বিষণ্ণতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

পরবর্তী করণীয়

  1. ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃতি নিশ্চিত হবে।
  2. বিশেষ বন্ধুর বয়ান পুলিশ সংগ্রহ করছে।
  3. বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি চালু হতে পারে।
  4. পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তদন্ত এগোবে।

সমাজের দায়িত্ব

অনামিকার মৃত্যু আমাদের সামনে তুলে ধরেছে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চূড়ান্ত সচেতনতার অভাব। সম্পর্কের টানাপোড়েন বা একাকীত্ব কখনও কখনও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই পরিবার, বন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—সবাইকে এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়াতে হবে। কেউ সমস্যায় পড়লে তাকে সমর্থন দেওয়া এবং পেশাদার সাহায্য নেয়ার সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের কর্তব্য।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ওই জায়গা আমাদের’: প্যালেস্টাইন নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থান, পশ্চিমা দেশগুলির প্রতিক্রিয়া তীব্র

‘ওই জায়গা আমাদের’: প্যালেস্টাইন নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থান, পশ্চিমা দেশগুলির প্রতিক্রিয়া তীব্র

‘ওই জায়গা আমাদের’: প্যালেস্টাইন নিয়ে অবস্থান জানালেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

নেতানিয়াহুর প্যালেস্টাইন সংক্রান্ত বক্তব্য

প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে নেতানিয়াহু বললেন, “ওই এলাকা আমাদের”—আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

নেতানিয়াহুর স্পষ্ট বার্তা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “কখনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না। এই জায়গাটি আমাদের। আমরা আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের ভূমি এবং আমাদের নিরাপত্তা রক্ষা করব।” তাঁর এই মন্তব্য পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের প্রসঙ্গে আসে।

ওয়েস্টল্যান্ডে বসতি সংক্রান্ত চুক্তি

ওয়েস্টল্যান্ড অঞ্চলে এক বসতি সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু এই বক্তব্য দেন। তিনি শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের ‘ঐতিহ্য, ভূমি এবং নিরাপত্তা’ রক্ষায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই ঘোষণার মধ্যে E1 প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

E1 প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক বিরোধিতা

ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের মালে আদুমিম বসতিতে প্রায় ৩,৪০০ নতুন আবাসনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই বসতি স্থাপন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়েছে। E1 প্রকল্পের মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীরকে দ্বিখণ্ডিত করা হবে এবং প্রস্তাবিত প্যালেস্টাইনের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। ১৯৬৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই বসতি স্থাপন কার্যক্রম অবৈধ বলে মনে করা হয়।

পশ্চিমা দেশের চাপ এবং জাতিসংঘে স্বীকৃতি উদ্যোগ

ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলি এই মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ব্রিটেন ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের অবসান না হলে তারা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আন্তর্জাতিক মহলে এই বসতি স্থাপন প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলের এনজিও পিস নাউ সতর্ক করে জানিয়েছে, E1 অঞ্চলে অবকাঠামোগত কাজ কয়েক মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে এবং এক বছরের মধ্যে আবাসন নির্মাণ শুরু হতে পারে। আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে এই প্রকল্প এগিয়ে গেলে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বনাম গণতান্ত্রিক দাবি

নেতানিয়াহুর বক্তব্য নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পেলেও মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক দাবির দিক থেকে তা সমালোচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবনা অনুযায়ী অধিকৃত ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন অবৈধ। তবুও, নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে দেশের ঐতিহ্য ও নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরেছেন।

ভবিষ্যৎ উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক সংকট

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকল্প কার্যকর হলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়বে। জাতিসংঘে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলির চাপ এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার যুক্তির সংঘাত আগামীদিনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে।

উপসংহার

নেতানিয়াহুর বক্তব্য প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা, ঐতিহ্য ও ভূখণ্ড রক্ষার যুক্তির পাশাপাশি মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমা দেশগুলির চাপ, জাতিসংঘের ভূমিকা এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—সব মিলিয়ে ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

নবান্ন অভিযানে নিষেধাজ্ঞা জারি করল রাজ্য সরকার

নবান্ন অভিযানে নিষেধাজ্ঞা জারি করল রাজ্য সরকার – হাওড়ায় স্ট্যান্ডার্ড ওপারেটিং প্রসিডিওর ঘোষণা

নবান্ন অভিযানে নিষেধাজ্ঞা জারি করল রাজ্য সরকার – হাওড়ায় স্ট্যান্ডার্ড ওপারেটিং প্রসিডিওর ঘোষণা

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

নবান্ন অভিযান নিয়ন্ত্রণ

নবান্ন অভিযানের জেরে পরিবহণ বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার।

নবান্নের সামনে প্রতিবাদ নিষিদ্ধ

রাজ্য সরকার নবান্ন অভিযানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। হাওড়া পুলিশ আজ একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, নবান্নের সামনে প্রতিবাদ, ধরনা, মিটিং বা মিছিল করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, নবান্ন রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর এবং সেখানে সব সময় ১৬৩ ধারা (বিএনএসএস) কার্যকর থাকে। ফলে নবান্নের অভিমুখে যে কোনো আন্দোলন, মিছিল বা সভা-সমাবেশ আইনত নিষিদ্ধ।

স্ট্যান্ডার্ড ওপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) ঘোষণা

হাওড়া জুড়ে এই ধরনের প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণে একটি স্ট্যান্ডার্ড ওপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবহণ বিপর্যয় কমাতে প্রশাসনের এই উদ্যোগ। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের আন্দোলন যাতে শহরের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত না করে সে দিকে নজর রাখতে হবে।

হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত হাইকোর্টে একটি আবেদন জানান। তাঁর দাবি ছিল, প্রতিবাদ ও অবস্থান গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তিনি আদালতে বলেন, প্রতিবার নবান্ন অভিযান হলে হাওড়ার প্রায় ৪০ লক্ষ বাসিন্দার জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, পরিবহণ কেন্দ্র সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। হাওড়া স্টেশন, শালিমার স্টেশন, ময়দান মেট্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ ক্ষেত্র বিপর্যস্ত হয়। ফরশর রোড থেকে জি টি রোড এবং কোনা এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন।

হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যের হলফনামা তলব

এই মামলার শুনানির সময় হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামা তলব করেন। আদালত জানতে চান, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের কোনো স্ট্যান্ডার্ড ওপারেটিং প্রসিডিওর রয়েছে কি না। আদালতের এই নির্দেশের পরেই হাওড়া পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসন মিলিতভাবে এসওপি ঘোষণা করে।

নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানোই মূল লক্ষ্য

সরকারের মতে, নবান্ন অভিযান বা প্রতিবাদ আন্দোলনের কারণে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া নাগরিকদের জন্য বড় সমস্যা। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রভাবিত হয়। তাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানো এবং পরিবহণ ব্যবস্থা সচল রাখা।

গণতান্ত্রিক অধিকার বনাম জনস্বার্থ

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকা উচিত বলে অনেকে মত প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে, নাগরিকের নিরাপত্তা, পরিবহণের স্থিতিশীলতা এবং জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে প্রশাসনের দাবি। দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবহণ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের প্রভাব

প্রতিবাদ বা মিছিলের সময় হাওড়ায় যানজটের কারণে হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হয়। স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। রেলস্টেশন ও মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে ওঠে। ব্যবসায়িক কাজকর্মও স্থবির হয়ে পড়ে। প্রশাসনের মতে, নাগরিকদের জীবনযাত্রায় এই চাপ কমানোই এসওপির প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রশাসনের আশ্বাস

হাওড়া পুলিশ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো প্রতিবাদ যাতে জনস্বার্থ বিঘ্নিত না করে সেই দিকে নজর রাখা হবে। পাশাপাশি আইন মেনে চলা এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখার জন্য সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের নির্দেশিকা নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে সাহায্য করবে। তবে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই এই সমস্যার সমাধানের পথ।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog