পুজোর আগে চাকরির খুশির হাওয়া, উৎকর্ষ বাংলার উদ্যোগে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩১৭ জনের হাতে নিয়োগপত্র
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর
মেদিনীপুর: পুজোর আগে জেলার যুব সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের হাওয়া। রাজ্য সরকারের উদ্যোগ ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিম মেদিনীপুরের ৩১৭ জন যুবক-যুবতী হাতে পেয়েছেন চাকরির নিয়োগপত্র। জেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। পুজোর আগেই এই সুখবর পাওয়ায় তরুণরা আনন্দে আত্মহারা। এর আগেও জেলার বিভিন্ন জায়গায় জব ফেয়ার হয়েছে এবং বহু যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। তবে এবার নিয়োগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
উৎসবের আগেই সুখবর
রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন বিভাগের সহযোগিতায় মেদিনীপুর শহরের রাঙামাটি সরকারি আই.টি.আই-তে অনুষ্ঠিত হয় এই চাকরির মেলা। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরি, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) কেম্পা হোন্নাইয়াহ এবং অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর এমপ্লয়মেন্ট অনুপকুমার মণ্ডলসহ জেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজ হাতে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগপত্র তুলে দেন।
চাকরির মেলায় অংশগ্রহণ
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের এই চাকরির মেলায় অংশ নেয় মোট ৩৭টি শিল্প সংস্থা। প্রায় ১,০০০ চাকরিপ্রার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে দক্ষতা যাচাইয়ের পর ৩১৭ জনকে সরাসরি নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আরও ১২৪ জনকে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ের জন্য রাখা হয়েছে।
ছবি
পশ্চিম মেদিনীপুরে উৎকর্ষ বাংলার চাকরির মেলায় নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে খুশির হাসি যুবকদের মুখে। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের ভূমিকা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ২০১৬ সালে শুরু হয় ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য জেলার যুবক-যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। গত কয়েক বছরে পশ্চিম মেদিনীপুরসহ বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার তরুণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে অনেকেই আনন্দে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। অনেকে জানান, “পুজোর আগেই চাকরির সুখবর পেয়ে পরিবারের সবাই খুশি।” কেউ কেউ বলেন, “উৎকর্ষ বাংলার মতো প্রকল্প আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের জন্য আশীর্বাদ।” জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতেও এই ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর জন্য আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মাসগুলোতেও বিভিন্ন জায়গায় চাকরির মেলা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ চালু থাকবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার যুবকদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী বছরে আরও বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের এই উদ্যোগ পুজোর আগেই একটি বড় উৎসবের পরিবেশ তৈরি করেছে। চাকরি পাওয়ার মাধ্যমে তরুণরা আত্মবিশ্বাস অর্জন করছেন এবং পরিবারগুলিও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন