Sample Video Widget

Seo Services

Friday, 12 September 2025

বাংলায় আগামী বিধানসভা নির্বাচন: তৃণমূল বনাম মানুষের লড়াই তৈরি করছে বিজেপি

বাংলায় আগামী বিধানসভা নির্বাচন: তৃণমূল বনাম মানুষের লড়াই তৈরি করছে বিজেপি

বাংলায় আগামী বিধানসভা নির্বাচন: তৃণমূল বনাম মানুষের লড়াই তৈরি করছে বিজেপি

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

বিজেপি বনাম তৃণমূল নির্বাচন প্রস্তুতি
বিজেপির কৌশল: তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ তুলে ধরতে চাইছে দল।

নয়াদিল্লি: বাংলার আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হচ্ছে। শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘মানুষ বনাম শাসক দল’ এই ন্যারেটিভ তৈরি করতে মরিয়া হয়েছে বিজেপি। সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে ভোটের লড়াইকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলির দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখাতে চাইছে না দলটি। বরং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তুলে ধরে গণআন্দোলনের রূপ দিতে চাইছে তারা।

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য: সব ইস্যুর কেন্দ্রে ‘মানুষ’

রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব এখন একধরনের নতুন রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মালদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা কিংবা অন্য কোনও সামাজিক ইস্যু—প্রতিটি ক্ষেত্রেই শমীক ভট্টাচার্য একটাই বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, বাংলায় নির্বাচন হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস বনাম সাধারণ মানুষের লড়াই। গণভোটে বাংলার মানুষ তৃণমূলকে উৎখাত করবে—এই ধারণা ছড়িয়ে দিতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে বিজেপি।

দলীয় দ্বন্দ্ব সামলে ভোটের মাঠে নামা

তবে বিজেপির এই কৌশল সহজ হবে না। আদি ও নব্য বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কলহ ভোটের ময়দানে দলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এই নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে যে, বাংলায় তৃণমূলের মতো শক্তিশালী সংগঠনের বিরুদ্ধে এই বিভক্ত অবস্থায় নির্বাচনী লড়াই কতটা কার্যকর হবে। ফলে এই দুর্বলতাকে পাশ কাটাতে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদের ভাষা তৈরি করতে চাইছে বিজেপি।

বাংলা-বাঙালি ইস্যু বিজেপির জন্য মাথাব্যথা

বাংলাভাষীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এনে তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বিজেপিকে ‘বাংলা বিরোধী’ রাজনৈতিক দল হিসেবে তুলে ধরছে। ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের ওপর আক্রমণ নিয়ে তৃণমূল যে আন্দোলন শুরু করেছে, তা রাজ্যের বহু মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে—বিজেপি কি বাংলার স্বার্থ রক্ষা করছে? এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপির জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রণকৌশল: তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘জনতার প্রতিবাদ’ তৈরি

বাংলার মানুষের মধ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভকে সামনে এনে বিজেপি ভোটের মাঠে নতুন বার্তা ছড়াতে চাইছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, বেকারত্ব ইত্যাদি তুলে ধরে শাসক দলকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে তারা। পরিকল্পনা হচ্ছে ভোটের আগে গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় সংগঠনের বিস্তার, জনসংযোগ কর্মসূচি, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার এবং গণবিক্ষোভ সংগঠিত করা। এইভাবে ভোটকে তৃণমূল বনাম মানুষের লড়াইয়ে পরিণত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

রাজনৈতিক সমালোচকদের মতামত

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে বিজেপি পিছিয়ে পড়বে—এই আশঙ্কা থেকেই তারা ‘মানুষের ক্ষোভ’ কেন্দ্র করে ভোটের কৌশল নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূলের শক্তিশালী সংগঠন ও জনপ্রিয়তা অগ্রাহ্য করে শুধুমাত্র নেতিবাচক প্রচারে ভোট জয় সম্ভব হবে না। ফলে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে নির্বাচনী আলোচনাকে নতুন দিকে নিতে চাইছে বিজেপি।

গণমাধ্যম ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের পরিকল্পনা

রাজ্য বিজেপি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেছে। ভিডিও ক্লিপ, পোস্টার, অনলাইন আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে তৃণমূল সরকারের দুর্বলতা। পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প, আলোচনা সভা এবং কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে তারা। ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ’ শিরোনামে একাধিক ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।

ভোটারদের মধ্যে বিভক্তির আশঙ্কা

তবে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলার মানুষের বাস্তব সমস্যা কি শুধুমাত্র তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে সীমাবদ্ধ? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বন্যা, মূল্যবৃদ্ধি—এসবের সমাধান নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ভাষা ইস্যু কেন্দ্র করে বিভক্তির রাজনীতি জনমানসে স্থায়ী সমর্থন গড়ে তুলবে কি না তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

শেষ কথা

বাংলায় আগামী নির্বাচনের আগে বিজেপির এই কৌশল রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তৃণমূলের সংগঠনের শক্তি, বাংলার মানুষের বাস্তব চাহিদা এবং বিজেপির ভেতরের দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে ভোটের ফলাফল অনুমান করা কঠিন। তবুও নির্বাচনের ময়দানে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে ‘মানুষ বনাম শাসক’ এই ন্যারেটিভ গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই স্থির করবে এই কৌশল কতটা সফল হতে পারে।


📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর

👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog